আমি এমন একটি চাকরি করি, যেখানে আমাকে বিভিন্ন গাড়িতে স্টিকার লাগাতে হয়। অনেক সময় সেই স্টিকারগুলোতে মানুষের ছবি থাকে, এমনকি নারীদের ছবিও থাকে। এই পরিস্থিতিতে আমার উপার্জন বা এই কাজটি ইসলাম অনুযায়ী বৈধ (জায়েজ) কি না?
আপনার প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার আগে আমরা ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে বিষয়টি বিশ্লেষণ করছি। আপনি যে কাজটি করছেন, সেটি যদি সরাসরি হারাম (নিষিদ্ধ) কোনো কাজের সাথে জড়িত থাকে, তাহলে তা জায়েজ নয়। নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো—
ইসলামে ছবি সংক্রান্ত বিধান
ইসলামে প্রাণী ও মানুষের ছবি তৈরি, প্রদর্শন ও সংরক্ষণ করা সাধারণত নিষিদ্ধ। বিশেষ করে যদি ছবিটি ফিতনা (অশ্লীলতা বা কামোত্তেজনা) সৃষ্টির কারণ হয়, তবে তা আরও গুরুতর। হাদিস শরিফে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “যে ব্যক্তি ছবি তৈরি করে, কিয়ামতের দিন তাকে শাস্তি দেওয়া হবে এবং তাকে বলা হবে, ‘তুমি যা তৈরি করেছ, তাতে প্রাণ সঞ্চার করো।’” (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৫৯৫৮)
আপনার কাজের প্রসঙ্গ
আপনি গাড়িতে স্টিকার লাগান। যদি স্টিকারগুলোর মধ্যে মানুষের ছবি, বিশেষ করে নারীদের ছবি থাকে এবং সেই ছবিগুলো ফিতনা সৃষ্টির সম্ভাবনা রাখে, তাহলে সেই কাজ করা জায়েজ নয়। কারণ এটি অশ্লীলতা বা অশোভনীয়তা প্রচারের সহযোগিতা করার নামান্তর। কুরআনে আল্লাহ বলেন, “সৎকর্ম ও তাকওয়ায় তোমরা একে অপরের সহযোগিতা করো, আর পাপ ও সীমালঙ্ঘনে একে অপরের সহযোগিতা করো না।” (সুরা মায়িদা : ২)
আলোচ্য বিষয়ে ফতোয়া
ইসলামি ফিকাহের আলোকে, এমন কাজ করা যেখানে গাড়িতে নারীদের ছবি সংবলিত স্টিকার লাগানো হয়, তা নাজায়েজ। যদি ঐ স্টিকারগুলোতে অন্য কোনো প্রাণীর ছবি বা অশ্লীল চিত্র থাকে, সেটিও নাজায়েজ। হানাফি মাজহাবের ফতোয়া গ্রন্থসমূহে এসেছে, “মানুষ বা প্রাণীর ছবি যুক্ত বস্তু তৈরি, বিক্রি বা ব্যবহার করা হারাম।” (ফাতাওয়া তাতারখানিয়া, ১৮/২১১)
উপার্জনের বৈধতা
যেহেতু আপনার কাজটি এমন একটি বস্তু (যাতে নারীদের ছবি আছে) স্থাপনের সাথে জড়িত যা শরিয়তে নিষিদ্ধ, তাই এই কাজ থেকে অর্জিত উপার্জনও নাজায়েজ। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলা পবিত্র এবং পবিত্র বস্তু ছাড়া কিছু কবুল করেন না। তিনি মুমিনদেরকেও তাই আদেশ দিয়েছেন, যা নবীদেরকে আদেশ দিয়েছেন।” (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২২৪)
পরামর্শ
আপনার জন্য উত্তম হবে, যদি এই কাজটি চালিয়ে যেতে চান, তাহলে আপনার প্রতিষ্ঠানের সাথে কথা বলে দেখুন যে, তারা যেন প্রাণী বা নারীর ছবি ছাড়া স্টিকার ব্যবহার করে। যদি তা সম্ভব না হয়, তাহলে অন্য কোনো বৈধ ও হালাল পেশা গ্রহণ করার চেষ্টা করুন। ইসলামে হালাল রিজিকের গুরুত্ব অপরিসীম।
রেফারেন্স
- সুরা মায়িদা (৫:২)
- সহিহ বুখারি, হাদিস : ৫৯৫৮
- সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২২৪
- ফাতাওয়া তাতারখানিয়া, ১৮/২১১
আল্লাহ তাআলা আপনাকে হালাল রিজিক দান করুন এবং হারাম থেকে দূরে রাখুন। (আমিন)
Model: deepseek-v4-flash | Token: 1989 | Input: 152 | Output: 1837 | Cost: $0.000566 | Cost BDT: ৳0.07