🏠 Home

iFatwa Q&A (Hanafi Fiqh)

আসসালামুআলাইকুম । আমার ২য় বেবি হয়েছে দুই মাস বয়স আজকে। ২৭ দিন মোটামুটি ব্লিডিং ছিল অল্প অল্প করে। এর পর ১৫ দিন ভালো থেকে আবার খুব সামান্য পরিমাণ করে ব্লিডিং ছিল ৬ দিন এর মতো ।তখন হায়েয ভেবে নামাজ পরিনি। এখন আবার ১১ দিন পর গতকাল থেকে ব্লিডিং হচ্ছে এখন নরমাল পিরিয়ড হলে যেমন হয় সেরকম ব্লিডিং। আমার প্রশ্ন হচ্ছে এখন কি তাহলে হায়েয হয়েছে ধরব আগে কি তাহলে ইস্তেহাজা ছিল বুঝতেছিনা। নামাজ পড়বো কিনা এ অবস্থায় ।অনুগ্রহ করে জানালে উপকার হতো।
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

প্রশ্নের বিবরণ অনুসারে, আপনার অবস্থাটি নিম্নরূপ:

- সন্তান প্রসবের পর ২৭ দিন পর্যন্ত হালকা রক্তপাত হয়েছে (এটি নিফাসের অংশ ছিল)।

- তারপর ১৫ দিন সম্পূর্ণ পবিত্র ছিলেন।

- এরপর ৬ দিন খুব সামান্য রক্তপাত হয়েছে, যা আপনি হায়েয ভেবে নামাজ পড়েননি।

- তারপর আবার ১১ দিন পবিত্র ছিলেন (মোট ১৫ দিনের কম পবিত্রতা)।

- এখন আবার নরমাল পিরিয়ডের মতো রক্তপাত শুরু হয়েছে।

হানাফি ফিকহের মূলনীতি:

১. নিফাস (প্রসবোত্তর রক্ত) সর্বোচ্চ ৪০ দিন পর্যন্ত হয়। আপনার ক্ষেত্রে ২৭ দিন নিফাস ছিল, যা সঠিকভাবে শেষ হয়েছে।

২. নিফাসের পর পবিত্রতা লাভের পর যদি ১৫ দিন বা তার বেশি পবিত্রতা থাকে, তারপর আসা রক্ত হায়েয হিসেবে গণ্য হবে। কিন্তু আপনার ক্ষেত্রে দ্বিতীয়বার রক্ত আসার (৬ দিনের রক্ত) পর মাত্র ১১ দিন পবিত্রতা থেকে আবার রক্ত এসেছে, যা ১৫ দিনের কম। তাই এই শেষ রক্তটি পূর্ববর্তী রক্তের (৬ দিনের) সাথে মিলিয়ে একই হায়েযের অংশ হবে না, বরং এটি ইস্তেহাজা (অবিরত রক্ত বা অস্বাভাবিক রক্ত) হিসেবে গণ্য হবে।

৩. হানাফি মতে, হায়েযের সর্বনিম্ন সময় ৩ দিন এবং সর্বোচ্চ ১০ দিন। দুটি হায়েযের মধ্যে পবিত্রতার সর্বনিম্ন ব্যবধান ১৫ দিন। সুতরাং, ১১ দিন পবিত্রতা যথেষ্ট নয় বলে নতুন রক্তকে হায়েয ধরা যাবে না।

আপনার করণীয়:

- আপনি বর্তমানে যে রক্তপাত দেখছেন (যা নরমাল পিরিয়ডের মতো বলে মনে হচ্ছে), তা ইস্তেহাজা হিসেবে গণ্য হবে, কারণ আগের ৬ দিনের রক্তের পর পবিত্রতা মাত্র ১১ দিন (১৫ দিনের কম) হয়েছে। তাই এখন যে রক্ত আসছে, তা হায়েয নয়।

- ফলে আপনার নামাজ, রোজা, কুরআন স্পর্শ করা ইত্যাদি সব ইবাদত করতে হবে এবং রক্তের উপস্থিতিতেই নামাজ পড়তে হবে। তবে প্রত্যেক ফরজ নামাজের জন্য নতুন অজু করতে হবে। ওযু করার পর রক্ত বের হলে ওযু ভেঙে যায়, তাই নামাজের সময় শুরু হলে অজু করে নামাজ পড়বেন। জামাআতে নামাজ পড়া জায়েয আছে, তবে শরয়ী ওজর হিসেবে বিবেচিত হবে।

- আগের ৬ দিনের রক্তের ব্যাপারে: আপনি তখন হায়েয ভেবে নামাজ পড়েননি, সেটা সঠিক ছিল। কিন্তু এখন বুঝতে পারছেন যে ওই ৬ দিনের পর ১১ দিন পবিত্রতা থেকে আবার রক্ত এসেছে, তাই ওই ৬ দিনের রক্তও ইস্তেহাজা হতে পারে? আসলে প্রথম ৬ দিনের রক্ত হায়েয ছিল না, কারণ তা নিফাসের পর ১৫ দিন পবিত্রতার পর এসেছিল? হ্যাঁ, সেই ৬ দিনের রক্ত হায়েয হওয়ার সম্ভাবনা আছে, কারণ নিফাসের পর ১৫ দিন পবিত্রতার পর এসেছিল। কিন্তু তারপর ১১ দিন পবিত্রতা থেকে আবার রক্ত আসায় বোঝা যায় যে ওই ৬ দিনের রক্তও হয়তো হায়েয ছিল না, বরং ইস্তেহাজা। তবে আরও সহজ নিয়ম: যেহেতু এখন রক্ত থেমে যাওয়ার পর ১৫ দিন পূর্ণ না হতেই আবার রক্ত এসেছে, তাই পুরো ঘটনাটিকে আমি ইস্তেহাজার সাথে সম্পর্কিত মনে করি। তবে সবচেয়ে নিরাপদ পন্থা হলো: আপনি নিফাসের (৪০ দিন) পর থেকে হায়েযের নিয়ম অনুসরণ করবেন। আপনার হায়েযের অভ্যাস (আগের পিরিয়ডের দিনসংখ্যা) জানা থাকলে সেটাই মানবেন। যদি অভ্যাস না থাকে, তাহলে বর্তমান রক্ত শুরু হওয়ার পর ১০ দিন পর্যন্ত হায়েয ধরে নামাজ ছেড়ে দিতে পারতেন, কিন্তু যেহেতু ১১ দিন পবিত্রতা থাকার পর এসেছে, সেটি হায়েয হতে পারে না। তাই আমি দ্বিতীয় ব্যাখ্যা দিচ্ছি:

সুন্নাহ সম্মত সমাধান: আপনি বর্তমান রক্তকে হায়েয ধরে নিন (কারণ এটি নরমাল পিরিয়ডের মতো), এবং ১০ দিনের বেশি না হলে পুরো সময় নামাজ ছেড়ে দিন। কিন্তু ১০ দিনের বেশি হলে প্রথম ১০ দিন হায়েয, বাকি দিন ইস্তেহাজা। তবে এ ক্ষেত্রে আগের ৬ দিনের রক্তের সাথে এর সম্পর্ক নেই। কারণ আগের রক্ত ছিল ৬ দিন, তারপর ১১ দিন পবিত্রতা (যা হায়েযের পবিত্রতার জন্য যথেষ্ট), তাই এটি নতুন হায়েয। হানাফি মতে, ১৫ দিন পবিত্রতা থাকলে নতুন হায়েয শুরু হয়। কিন্তু এখানে ১১ দিন পবিত্রতা, যা ১৫ দিনের কম, তাই এটি নতুন হায়েয নয়। বরং আগের রক্তের ধারাবাহিকতা? তবে আগের রক্ত ৬ দিন ছিল, যা ১০ দিনের কম, তাই তা হায়েয ছিল। তারপর ১১ দিন পবিত্রতা আসলে, তা যদি ১৫ দিনের বেশি হতো তাহলে নতুন হায়েয হতো। কিন্তু ১১ দিন হওয়ায় তা অসম্পূর্ণ পবিত্রতা। তাই সব মিলিয়ে একে ইস্তেহাজা মনে করাই উচিত।

চূড়ান্ত ফতোয়া:

আপনার বর্তমান অবস্থা ইস্তেহাজা। আপনার নামাজ, রোজা ও অন্যান্য ইবাদত করতে হবে। রক্ত বের হওয়ার কারণে অজু ভেঙে যায়, তাই প্রত্যেক নামাজের সময় নতুন অজু করে নামাজ পড়বেন। রক্তে কাপড় নাপাক হবে, তবে মাজুর (ওজরগ্রস্ত) হিসেবে আপনি নামাজ পড়তে পারবেন। যতক্ষণ রক্ত চলবে, ততক্ষণ এই নিয়ম মানবেন। আর যদি একবার ১৫ দিন পূর্ণ পবিত্রতা পান, তারপর রক্ত আসে, তাহলে সেটি হায়েয হবে।

দলিল:

- সহিহ বুখারি, হাদিস নং ৩২৬: হায়েয ও ইস্তেহাজার বিবরণ।

- ফাতহুল কাদির (হানাফি ফিকহ): ইস্তেহাজায় নামাজ পড়া ফরজ এবং ওযু করতে হবে।

- দারুল উলুম দিওবন্দের ফতোয়া: নিফাস ও ইস্তেহাজা সম্পর্কিত।

সোর্স লিংক (www.ifatwa.info):

[ইস্তেহাজা ও হায়েযের নিয়ম](https://ifatwa.info/2021/02/20/%E0%A6%87%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A7%87%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A6%9C%E0%A6%BE-%E0%A6%93-%E0%A6%B9%E0%A6%BE%E0%A7%9F%E0%A7%87%E0%A6%9C%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%A7%E0%A6%BE%E0%A6%A8/)

বিঃদ্রঃ আপনার অবস্থা জটিল মনে হলে দয়া করে নিকটস্থ আলিমের পরামর্শ নিন। আল্লাহ আপনাকে ধৈর্য দান করুন।



Model: deepseek-v4-flash | Token: 4785 | Input: 258 | Output: 4527 | Cost: $0.001384 | Cost BDT: ৳0.18