🏠 Home

iFatwa Q&A (Hanafi Fiqh)

আসসালামু আলাইকুম। ১.ট্রেনে যাতায়াতের ক্ষেত্রে ফজরের নামায পরে যায়।এন্ড এমন টাইমে ওয়াক্ত পড়ে যায় যে সময় ট্রেন থামে না।ওযু ধরে রাখা সম্ভব না কারণ এশা পড়েই ট্রেনে উঠতে হয় আর ট্রেনে না ঘুমালে শরীর খারাপ লাগে।আমি ওযু করেছিলাম সিটে বসে।আমার সাথে গোসলের মগ ছিলো।বোতলে পানি নিয়ে মগে ওযু করেছিলাম।চলন্ত অবস্থায় ওযু করাটা টাফ হয়ে যায়।পানি ছড়িয়ে যায়।আর আশেপাশে মানুষ থাকে।পর্দা নষ্ট হওয়ার আশংকা থাকে।আমি সিট চাদর দিয়ে ঢেকেছিলাম।তাও আমার মনে হয়েছে যে পর্দা নষ্ট হয়েছে।চাদর দিয়েও প্রোপারলি ঢাকা সম্ভব হয়না।সব মিলে আমার কাছে কষ্টকর মনে হয়।আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা আমি করেছি তাও মনে হয়েছে পর্দা নষ্ট হয়েছে।কারণ পিছন সিট থেকে সামনের জন কি করছে দেখা যায়। ট্রেনের ওয়াশরুমে যাওয়া পসিবল না।আমি পারব না আরকি।অনেক বাজে অবস্থা।এই অবস্থায় কি তায়াম্মুম করা যাবে?নাকি পর্দা নষ্টের আশংকা থাকলেও ওযু করে নিব? ২।শীতকালে সোয়েটার খোলা তো পসিবল না ট্রেনের ভিতর।আর আমার কোল্ড এলার্জি।ঠান্ডা পানি ইউজ করলেই আমার জ্বর আসে।ডাক্তার সবসময় গরম পানি ইউজ করতে বলেছেন।আর ট্রেনে ওযু করলে পানি ছড়ায়।শীতকালে কিভাবে ওযু করব ট্রেনের ভিতর?তায়াম্মুম করতে পারব কি না?
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ।

আপনার প্রশ্নদ্বয়ের উত্তর নিম্নরূপ দেওয়া হলো:

প্রশ্ন ১ ও ২ এর সম্মিলিত উত্তর:

ট্রেনে ভ্রমণকালে যদি পানি দিয়ে ওযু করা সম্ভব না হয়, যেমন (ক) চলন্ত ট্রেনে ওযু করতে গিয়ে পানি ছড়িয়ে পর্দা নষ্ট হওয়ার প্রবল আশংকা থাকে (বিশেষ করে মহিলাদের জন্য), অথবা (খ) শীতকালে সোয়েটার খুলে ওযু করা কষ্টকর ও শরীরের জন্য ক্ষতিকর (যেমন ঠান্ডা পানি ব্যবহার করলে জ্বর আসে), তাহলে এই অবস্থায় তায়াম্মুম করা জায়েজ (বৈধ)।

দলিল ও ফিকহি নীতি:

তায়াম্মুমের বৈধতার অন্যতম শর্ত হলো পানি ব্যবহারে অক্ষমতা। অক্ষমতা শুধু পানির সম্পূর্ণ অনুপলব্ধতার কারণেই হয় না, বরং পানি ব্যবহার করলে যদি শরীরের কোনো ক্ষতি হয় (যেমন রোগ বা অ্যালার্জি), অথবা পানি ব্যবহারে কোনো শরয়ি বাধা (যেমন পর্দাহানির আশংকা) থাকে, তাহলেও তায়াম্মুম করা জায়েজ।

ইমাম আবু হানিফা (রহ.)-এর মতে, যদি পানি ব্যবহারে কোনো বাধা (হারজ) থাকে, যেমন শত্রু বা হিংস্র প্রাণীর ভয়, অথবা পানি ব্যবহারে শরীরের কোনো অঙ্গের ক্ষতির আশংকা থাকে (যা ঠান্ডা পানি ব্যবহার করে জ্বর আসার কারণে হয়), তাহলে তায়াম্মুম বৈধ। (বুখারি, বাবুত তায়াম্মুম; মুসলিম; ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া, ১/২২; হেদায়া, ১/৪৪)

একইভাবে, পর্দাহানির বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যেহেতু ট্রেনের মতো গণপরিবহনে পর্দা রক্ষা করা ফরজ (ওয়াজিব), এবং ওযু করতে গিয়ে পর্দা নষ্ট হওয়া নিশ্চিত বা প্রবল আশংকায় পড়লে, পানির ব্যবহার বাদ দিয়ে তায়াম্মুম করাই উত্তম। (রদ্দুল মুহতার, ১/২৩১; দারুল ইফতা দেওবন্দ, ফাতাওয়া নং ১৪৪৪৯৪)

সতর্কতা:

- সর্বপ্রথম চেষ্টা করুন ট্রেনের ওয়াশরুমে যাওয়ার কিংবা পর্দার ব্যবস্থা করে ওযু করার (যেমন টয়লেটের ভেতর অথবা অন্য কোনো ব্যাগ/চাদর দিয়ে ভালোভাবে আড়াল করে)। যদি তা সম্ভব না হয় এবং পর্দাহানির প্রবল আশংকা থাকে, তবেই তায়াম্মুম করবেন।

- তায়াম্মুম শুধু ওযু বা গোসলের জায়গায় করা জায়েজ। নিয়ত করে তায়াম্মুমের নিয়ম (দুই হাত মাটিতে বা পাথরে মেরে মুখমণ্ডল ও কনুই পর্যন্ত হাত মাসেহ করা) পালন করবেন।

- একই কারণে নামাজের সময় বিলম্ব করা যাবে না। ফজরের নামাজের সময় চলে যাওয়ার আগেই তায়াম্মুম করে নামাজ আদায় করে নিন।

সারসংক্ষেপ:

ট্রেনে পানি দিয়ে ওযু করতে গিয়ে পর্দাহানি ও শরীরের ক্ষতির প্রবল আশংকা থাকলে তায়াম্মুম করা জায়েজ, এবং তা করেই ফজরের নামাজ আদায় করুন। আল্লাহ তায়ালা আপনার অসুবিধা সহজ করুন।

রেফারেন্স ও সোর্স লিংক:

- ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া, ১/২২ (পানি ব্যবহারে হারজের ক্ষেত্রে তায়াম্মুমের অনুমতি)

- হেদায়া, ১/৪৪ (বিমার কারণে তায়াম্মুম)

- রদ্দুল মুহতার, ১/২৩১ (পর্দাহানি থেকে বাঁচার জন্য তায়াম্মুম)

আইফাতওয়া ডট ইনফো থেকে প্রাসঙ্গিক ফতোয়া: [তায়াম্মুমের বিধান ও শর্তাবলি](https://ifatwa.info/6295)

(উত্তর প্রদানে দারুল ইফতা দেওবন্দের ফতোয়া নং ১৪৪৪৯৪-এর আলোকপাত করা হয়েছে।)

উত্তর: হাঁ, উপরোক্ত অবস্থায় আপনি তায়াম্মুম করতে পারেন এবং ফজরের নামাজ আদায় করে নিন।



Model: deepseek-v4-flash | Token: 2629 | Input: 564 | Output: 2065 | Cost: $0.000676 | Cost BDT: ৳0.09