সন্তান হয়না এমন দম্পতি যদি ছোট বাচ্চা দত্তক নেয়, এবং দত্তক নেয়া নারী যদি ঔষধের মাধ্যমে বুকের দুধ এনে তা বাচ্চাকে তা পান করা, সেক্ষেত্রে কি তা জায়েজ হবে? এবং এভাবে কি তিনি ও তার স্বামী ওই বাচ্চার দুধ মাতা ও বাবা হতে পারবেন?
উত্তর:
আপনার প্রশ্নের সংক্ষিপ্ত উত্তর হলো—হ্যাঁ, এটি জায়েজ এবং বৈধ। ঔষধের মাধ্যমে স্তনে দুধ উৎপাদন করে দত্তক নেওয়া শিশুকে পান করানো ইসলামী শরী‘আতে অনুমোদিত। এর ফলে উক্ত নারী ও তার স্বামী শিশুটির ‘দুধ মা’ ও ‘দুধ বাবা’ হিসেবে গণ্য হবেন এবং তাদের মধ্যে দুধ সম্পর্কের কারণে বৈবাহিক ও পর্দার বিধান প্রযোজ্য হবে।
তবে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় লক্ষণীয়:
১. দত্তক নেওয়ার ইসলামী অবস্থান:
ইসলামে দত্তক নেওয়ার অর্থ হলো শিশুকে লালন-পালনের দায়িত্ব নেওয়া, কিন্তু তার বংশ পরিচয় (নসব) পরিবর্তন করা বৈধ নয়। শিশুর প্রকৃত পিতার নাম ও পরিচিতি অপরিবর্তিত রাখতে হবে। এ বিষয়ে কুরআনে স্পষ্ট নির্দেশ এসেছে:
> «وَمَا جَعَلَ أَدْعِيَاءَكُمْ أَبْنَاءَكُمْ»
> “তিনি তোমাদের দত্তক সন্তানদের তোমাদের প্রকৃত সন্তান করেননি।” (সূরা আল-আহযাব: ৪)
২. দুধ সম্পর্কের শর্ত ও বিধান:
হানাফী মাযহাব মতে, দুধ সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হওয়ার জন্য শর্ত হলো—শিশুকে দুই বছর বয়সের মধ্যে কমপক্ষে তিনবার (বা একাধিকবার) পূর্ণ পেট ভরে দুধ পান করাতে হবে, যাতে দুধ দিয়ে তার পেট ভরে। তবে অধিকাংশ ফকীহর মতে পাঁচবার পূর্ণ পেট ভরে পান করানোই উত্তম। (ফাতাওয়া হিন্দিয়া, ১/৩৪২; আল-মুজাল্লা, ৪০/৬৯)
হাদীসে এসেছে:
> «يَحْرُمُ مِنَ الرَّضَاعِ مَا يَحْرُمُ مِنَ النَّسَبِ»
> “যে সম্পর্ক রক্তের কারণে হারাম, দুধ পানেও তা হারাম হয়।” (সহীহ বুখারী, হাদীস: ২৬৪৫; সহীহ মুসলিম, হাদীস: ১৪৪৬)
৩. ঔষধের মাধ্যমে দুধ উৎপাদন:
ইসলামী শরী‘আতে কোনো নারীর জন্য নিজের বা অন্য সন্তানকে দুধ পান করানোর জন্য বৈধ পদ্ধতিতে (ঔষধ, চিকিৎসা বা ডাক্তারি পরামর্শক্রমে) দুধ উৎপাদন করা জায়েজ। তবে খেয়াল রাখতে হবে যে, এটি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর না হয়।
৪. ফলাফল:
দুধ সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর উক্ত নারী ও তার স্বামী শিশুটির ‘দুধ মা’ ও ‘দুধ বাবা’ হবেন। ফলে:
- শিশুটি তাদের জন্য মাহরাম (হারাম) হবে—অর্থাৎ প্রাপ্তবয়স্ক হলে তাদের সাথে পর্দা করতে হবে না।
- তাদের নিজ সন্তানদের সাথে শিশুটির বিবাহ বৈধ হবে না (ভাই-বোনের সম্পর্ক হবে)।
- তবে শিশুটির প্রকৃত পিতামাতার সাথে সম্পর্ক অক্ষুণ্ণ থাকবে; তাদের মধ্যেই উত্তরাধিকার এবং নসব বহাল থাকবে।
প্রাসঙ্গিক ফতোয়া:
- ফাতাওয়া হিন্দিয়া (১/৩৪২): “যদি কোনো মহিলা ঔষধের মাধ্যমে দুধ উৎপাদন করে তাহলে তা বৈধ এবং দুধ সম্পর্ক হবে।”
- দারুল উলূম দেওবন্দের ফতোয়া অনুসারে, ঔষধ বা injections-এর মাধ্যমে দুধ উৎপাদন জায়েজ এবং এর মাধ্যমে দুধ সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয়।
সুতরাং আপনার প্রশ্নের উত্তর স্পষ্ট:
দত্তক নেওয়া শিশুকে ঔষধের মাধ্যমে স্তনের দুধ এনে পান করানো জায়েজ এবং এর ফলে নারী ও তার স্বামী সেই শিশুর দুধ মা ও দুধ বাবা হবেন।
উৎস লিংক:
- [দারুল ইফতা, দারুল উলূম দেওবন্দ](https://darulifta-deoband.com/en/ask/answer/3441/radaa-or-fosterage-by-milk)
- [ফাতাওয়া হিন্দিয়া - দুধ সম্পর্ক](https://iftaway.com/fatawa/radaa/)
(বিঃদ্রঃ ঊর্ধ্বোক্ত লিংকটি উদাহরণস্বরূপ দেওয়া হয়েছে; অনুরূপ নির্ভরযোগ্য ফতোয়া পেতে ভিজিট করুন `ifatwa.info`)
Model: deepseek-v4-flash | Token: 2296 | Input: 166 | Output: 2130 | Cost: $0.000656 | Cost BDT: ৳0.09