🏠 Home

iFatwa Q&A (Hanafi Fiqh)

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহ। একজন ব্যক্তি তার কিছু ব্যাংক ঋণ রেখে মারা যান, সম্পত্তি হিসেবে তার বাড়ি রয়েছে যা বিক্রি করে তাঁর ওয়ারিশ গণ মৃত ব্যক্তির ঋণ শোধ করে ঋণ এবং সুদ থেকে মুক্ত হতে চাচ্ছেন। এক্ষেত্রে, যারা বাড়ি টি কিনবে, তারা যদি রেজিস্ট্রি করানোর সময় সেখানে মূল দাম এর চেয়ে কম উল্লেখ করে (যাতে রেজিস্ট্রি খরচ কম লাগে), আর ওয়ারিশ গণ যদি সেখানে সাক্ষ্য দেয়, তাহলে কি তা হারাম হবে? যেহেতু ঋণ টি মৃত ব্যক্তির, আবার সুদ এর সাথে সম্পর্কিত যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। সমস্ত কিছু বিবেচনা করে একটা সমাধান চাচ্ছি ইন শা আল্লাহ্।
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته

প্রশ্নটির উত্তর নিম্নরূপ:

মৃত ব্যক্তির ঋণ পরিশোধ করা তার ওয়ারিশদের উপর কর্তব্য। বিশেষ করে যখন ঋণটি ব্যাংকের (যা সুদের সাথে জড়িত), তখন মূল ঋণ ও যে সুদ বেড়েছে তা উভয়ই পরিশোধ করতে হবে। যেহেতু মৃত ব্যক্তি জীবিত অবস্থায় সুদ সম্বলিত লেনদেন করেছেন, তার সম্পত্তি থেকে তা আদায় করা ওয়ারিশদের দায়িত্ব। হাদিসে এসেছে, "মুমিনের আত্মা তার ঋণ পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত বন্দী থাকে" (তিরমিজি, হাদিস: ১০৭৮)।

এখন প্রশ্ন হলো, বাড়িটি বিক্রি করার সময় রেজিস্ট্রিতে প্রকৃত মূল্যের চেয়ে কম দাম উল্লেখ করা এবং ওয়ারিশদের সাক্ষ্য দেওয়া—এটি শরিয়তসম্মত হবে কি? উত্তর হলো: এটি হারাম ও গুনাহের কাজ। কারণ ইসলামে সত্য কথা বলা ও প্রতারণা থেকে বিরত থাকা ফরজ। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, "হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং সত্য কথা বলো" (সূরা আহযাব: ৭০)। রেজিস্ট্রিতে কম দাম দেখানো সরকারি নিয়মের প্রতারণা এবং কর ফাঁকির অন্তর্ভুক্ত, যা জুলুম ও অন্যায়। হাদিসে এসেছে, "যে ব্যক্তি প্রতারণা করে সে আমার উম্মতের মধ্যে গণ্য নয়" (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১০২)।

ওয়ারিশদের সাক্ষ্য দেওয়ার ক্ষেত্রেও একই বিধান: তারা যদি জেনেশুনে মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়, তবে তা কবিরা গুনাহ। আল্লাহ তাআলা বলেন, "তোমরা মিথ্যা সাক্ষ্য থেকে দূরে থাকো" (সূরা হজ্জ: ৩০)। সুতরাং কোনোভাবেই এ কাজ বৈধ হবে না।

সমাধান: ওয়ারিশদের উচিত বাড়িটি প্রকৃত মূল্যে নিবন্ধন করানো। যদিতে রেজিস্ট্রি খরচ বেশি হয়, তবুও তা আদায় করা জরুরি, কারণ হারাম উপায়ে খরচ বাঁচানো জায়েজ নয়। ঋণ পরিশোধের জন্য উত্তম পন্থা হলো:

১. বাড়ি বিক্রি করে ঋণের মূল টাকা ও সুদসহ পুরো টাকা ব্যাংকে পরিশোধ করে দেন।

২. এরপর মৃত ব্যক্তির জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করুন এবং তওবা করুন।

৩. ভবিষ্যতে সুদি লেনদেন থেকে বিরত থাকার সংকল্প করুন।

উল্লেখ্য: ব্যাংকের সুদ নাজায়েজ হলেও মৃত ব্যক্তির দায়িত্ব থেকে ওয়ারিশদের মুক্ত হতে হলে পুরো টাকা পরিশোধ করতে হবে। তবে ওয়ারিশদের নিজেদের পক্ষ থেকে সুদ পরিশোধের গুনাহ হবে না, বরং এটি মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে জরুরি আদায়।

রেফারেন্সসমূহ:

- সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১০২ (প্রতারণা নিষিদ্ধ)

- সূরা হজ্জ: ৩০ (মিথ্যা সাক্ষ্য নিষিদ্ধ)

- ফাতাওয়া শামী (ইবনে আবেদীন), ৫/২৬৮ (ঋণ পরিশোধের বাধ্যবাধকতা)

- আল-আশবাহ ওয়ান-নাযাইর, পৃ. ১২৩ (মৃত ব্যক্তির ঋণ)

বিস্তারিত জানতে দেখুন: [https://ifatwa.info/1234](https://ifatwa.info/1234) (অনুগ্রহ করে প্রকৃত লিংক সংযুক্ত করুন)।

আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে সত্য পথে চলার তাওফিক দিন। আমিন।



Model: deepseek-v4-flash | Token: 1849 | Input: 301 | Output: 1548 | Cost: $0.000495 | Cost BDT: ৳0.06