ইসলামী শরীয়াহ অনুযায়ী, একজন স্ত্রী সরাসরি নিজে নিজে তালাক উচ্চারণ করতে পারেন না, কারণ তালাকের অধিকার মূলত স্বামীর। তবে, স্বামীর সম্মতি সাপেক্ষে বা নির্দিষ্ট কিছু শর্তে একজন স্ত্রী বৈবাহিক সম্পর্ক ছিন্ন করার উদ্যোগ নিতে পারেন। এর প্রধান দুটি পদ্ধতি হলো:
1.
খোলা (Khula):
এটি এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে স্ত্রী স্বামীর কাছে তালাক চায় এবং এর বিনিময়ে সাধারণত তার মোহরানা বা অন্য কোনো আর্থিক সুবিধা (যেমন ভবিষ্যতের ভরণপোষণ) ফিরিয়ে দেয় বা ছেড়ে দেয়। স্বামী তখন স্ত্রীর অনুরোধে স্ত্রীকে তালাক দেন। এটি এক ধরনের 'বাইনে তালাক' বা অপ্রত্যাহারযোগ্য তালাক।
রেফারেন্স:
আল-কুরআনে বলা হয়েছে:
"আর যদি তোমরা আশঙ্কা কর যে, তারা আল্লাহর সীমাসমূহ রক্ষা করতে পারবে না, তবে স্ত্রী যদি মুক্তিপণ দিয়ে নিজকে মুক্ত করে নেয়, তাতে তাদের উভয়ের কোন পাপ নেই। এ হলো আল্লাহর নির্ধারিত সীমা, সুতরাং তোমরা তা লঙ্ঘন করো না। আর যারা আল্লাহর নির্ধারিত সীমাসমূহ লঙ্ঘন করে তারাই জালিম।" (আল-কুরআন, সূরা বাকারা, আয়াত ২২৯)
2.
তাফভীয-ই-তালাক (Tafwid-e-Talaq):
যদি স্বামী স্ত্রীকে তালাকের ক্ষমতা অর্পণ করে থাকেন (যেমন বিবাহ চুক্তির সময় বা পরে), তাহলে স্ত্রী সেই ক্ষমতা ব্যবহার করে নিজেই নিজেকে তালাক দিতে পারেন। এটি স্ত্রীর হাতে অর্পিত তালাকের ক্ষমতা, যা স্বামী নিজে প্রদান করেন।
অন্যান্য পদ্ধতি (সংক্ষেপে):
- মোবারাত (Mubara'at): এটি স্বামী-স্ত্রী উভয়ের পারস্পরিক সম্মতিতে তালাক।
- ফাসখ-ই-নিকাহ (Faskh-e-Nikah): নির্দিষ্ট কিছু কারণে (যেমন স্বামীর নির্যাতন, ভরণপোষণ না দেওয়া, দীর্ঘ অনুপস্থিতি ইত্যাদি) স্ত্রীর আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালতের মাধ্যমে বিবাহ বিচ্ছেদ।
বাংলাদেশে আইনগত প্রক্রিয়া:
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে, খোলা বা ফাসখ-ই-নিকাহ-এর জন্য মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১ অনুযায়ী নির্দিষ্ট আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা আবশ্যক। এ ক্ষেত্রে ইউনিয়ন পরিষদ/পৌরসভা/সিটি কর্পোরেশনের চেয়ারম্যানের কাছে নোটিশ প্রদান করতে হয়।
পরামর্শ:
এই বিষয়ে একজন বিজ্ঞ আলেম এবং একজন আইনজীবীর সাথে পরামর্শ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ প্রতিটি পরিস্থিতির নিজস্ব বিবরণ এবং আইনগত দিক থাকতে পারে।