ইফতওয়া.ইনফো (ifatwa.info) এবং হানাফী ফিকহের নির্ভরযোগ্য গ্রন্থ অনুযায়ী, রোজার প্রধান কারণগুলো নিম্নরূপ:
1.
ইচ্ছাকৃতভাবে পানাহার করা: কোনো ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে খাদ্য, পানীয়, বা ঔষধ গ্রহণ করলে রোজা ভেঙে যায়।
2.
ইচ্ছাকৃতভাবে সহবাস করা: দিনের বেলায় রোজার অবস্থায় ইচ্ছাকৃতভাবে স্ত্রী সহবাস করলে রোজা ভেঙে যায়।
3.
ইচ্ছাকৃত বমি করা: যদি ইচ্ছাকৃতভাবে মুখ ভরে বমি করা হয়, তবে রোজা ভেঙে যায়। তবে অনিচ্ছাকৃতভাবে বমি হলে বা মুখ ভরে না হলে রোজা ভাঙ্গে না। যদি অনিচ্ছাকৃত বমি মুখ ভরে আসে এবং তা গিলে ফেলা হয়, তাহলেও রোজা ভেঙে যাবে।
4.
ঋতুস্রাব (Menstruation) বা নিফাস (Post-natal bleeding): দিনের বেলায় কোনো নারীর ঋতুস্রাব বা নিফাস শুরু হলে রোজা ভেঙে যায়, এমনকি সূর্যাস্তের এক মুহূর্ত আগেও যদি এটি ঘটে।
5.
ইচ্ছাকৃতভাবে এমন কিছু গিলে ফেলা যা সাধারণত খাওয়া হয় না: যেমন পাথর, মাটি, কাগজ, বা পশমের মতো জিনিস ইচ্ছাকৃতভাবে গিলে ফেললে রোজা ভেঙে যায়।
6.
নাক বা কানের ড্রপ ব্যবহার করা (যদি তা গলা পর্যন্ত পৌঁছে): যদি নাক বা কানের ড্রপ ব্যবহার করা হয় এবং এর স্বাদ বা প্রভাব গলা পর্যন্ত অনুভূত হয়, তবে রোজা ভেঙে যায়।
রোজা ভাঙার পরিণতি:
- উপরিউক্ত কারণগুলির মধ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে পানাহার করা এবং সহবাস করার ক্ষেত্রে কাযা (একটি রোজার পরিবর্তে একটি রোজা রাখা) ও কাফফারা (৬০টি রোজা রাখা বা এর পরিবর্তে ৬০ জন মিসকিনকে খাবার দেওয়া) উভয়ই ওয়াজিব হয়।
- অন্যান্য কারণগুলির ক্ষেত্রে (যেমন ঋতুস্রাব, ইচ্ছাকৃত বমি, ইত্যাদি) শুধুমাত্র কাযা ওয়াজিব হয়, কাফফারা নয়।
রেফারেন্স:
- আল-ফাতাওয়া আল-হিন্দিয়্যাহ (আলমগিরী), কিতাবুস্ সাওম, বাবু মা ইউফসিলুস্ সাওমা ওয়া মা লা ইউফসিলুহু।