🏠 Home

iFatwa Q&A (Hanafi Fiqh)

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারকাতুহ মোহতারাম। ১,একজন মেয়ের প্রত্যেক মাসের ৩/৪ ঘন এবং অনবরত সাদাস্রাব যায়।কিন্তু মাসের বাকি দিনগুলো পাতলা পানির মতো স্রাব যায় যা প্রত্যেক ওয়াক্তের বেশির ভাগ সময়ই দেখা যায়।যার ফলে পায়জামাতে সাদা স্পোটিং হয়ে থাকে সবসময়।কিন্তু এই সময়গুলোতে হয়তো নামাজের ফরজটুকু পড়ার সময় পায়।এমতাবস্থায় সে যদি মাসের যে সময়গুলোতে ঘন এবং অনবরত স্রাব যায় তখন মাযুর টেস্ট করে মাযুর প্রমানিত হয়। তাহলে কি পাতলা স্রাব যখন যায় তখন প্রতি ওয়াক্তে স্রাব দেখলেই কি মাযুর বহাল থাকবে? ২,পাতলা স্রাব এতটাই পাতলা যে বুঝা মুসকিল যে তা জরায়ু থেকে নির্গত পানি নাকি সাদাস্রাব।যদি শুধু পানি হয়ে থাকে যদিও জরায়ু থেকে শুধু পানি বের হওয়ার কোনো কারণ নেই তাহলেও কি মাযুর থাকবে যদি আগে ঘনস্রাবের জন্য মাযুর প্রমানিত হয়ে থাকে? ৩,যদি উপরিউক্ত প্রশ্নে মাযুর হয়।তাহলে পিরিয়ড এর পর কি আবার ণতুন করে মাযুর টেস্ট করা লাগবে না কি পিরিয়ডের আগের টেস্টই যথেষ্ট। যেহেতু পিরিয়ড এর সময় বুঝবো না সাদাস্রাব গিয়েছে কি না? ৪,যদি টয়লেটের পিছনের দিকের ফ্লোর পানি দিয়ে ভিজা থাকে বসার সময় সেটার উপর জামার কিছু অংশ পরে যায়।এবং সাথে সাথে তুলে ফেলে যে কাপড়ে কোনো আদ্রতা প্রকাশ পায়নি। সেখানেও কোনো দৃশ্যমান নাপাকি নেই কিন্তু অদৃশ্যমান নাপাকি ছিলো কি না জানা নেই।এক্ষেত্রে কি কাপড় নাপাক হবে?
ওয়ালাইকুমুস সালাম ও রহমাতুল্লাহি ও বারকাতুহ। নিচের উত্তমগুলি হানাফি ফিকহ অনুযায়ী সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো (রেফারেন্স হিসেবে হানাফী কিতাবসমূহ উল্লেখ করা হলো) —

১) মাসে ৩–৪ দিন ঘন/কালো বা স্বাভাবিক মাসিক রক্ত যেয়ে বিশেষভাবে প্রতিষ্ঠিত থাকলে সেই দিনগুলো হায়দ (মাসিক) গণ্য হবে; মাসের বাকি দিনগুলোতে যা পাতলা পানি বা সাদাস্রাব ধারা থাকে তা সাধারণত ইস্তিহাদাহ (অগ্রাহ্য রক্ত/বাহ্য স্রাব) গণ্য করা হয়। হানাফী মত অনুযায়ী: প্রতিষ্ঠিত হায়দের দিন শেষ হলে গৎসল করে নামাজ-রোজা শুরু করবে; পরে পাতলা স্রাব থাকলে সেটি ইস্তিহাদাহ হিসেবে ধরা হয় এবং প্রতিটি ওয়াক্তে নামাজের আগে wudhu (অবশ্যই) গ্রহণ করে বা প্রতিটি নামাজের সময় wudhu তাজ্জারুদ করে নামাজ পড়বে — অর্থাৎ পাতলা স্রাব প্রতি বেলায় দেখা গেলেও সে মাযুর (হায়দ-অবস্থা) বহাল থাকবে না, বরং ইস্তিহাদাহ অনুযায়ী আচরণ করতে হবে। (দেখুন: Al-Hidayah, Bab al-Hayd wa al-Nifas; Ibn Abidin, Radd al-Muhtar, Bab al-Hayd.)

২) যদি স্রাব অতীব পাতলা, পানির সদৃশ এবং রং-বর্ণ স্পষ্ট না হয়, তবে হানাফী শাস্ত্রে সাধারণভাবে বিধান হলো: যে তরল/পাতলা স্রাব হায়দের প্রতিষ্ঠিত (ঘনদিনগুলোর) সময়ের বাইরে হয় এবং রঙ/ঘনত্ব হায়দের সাথে মেলে না, সেটি ইস্তিহাদাহ ধরতে হবে। তাই পূর্বে ঘনস্রাবের জন্য মাযুর প্রমাণিত থাকলে পরে পাতলা পানি বেরুলে তা নতুন করে হায়দ হবে না; বরং ইস্তিহাদাহ হিসেবে বিবেচিত হবে এবং ওই অনুযায়ী (প্রতিটি নামাজে wudhu ইত্যাদি) আচরণ করতে হবে। (দেখুন: Al-Hidayah, Kitab al-Taharah — Bab al-Hayd; Radd al-Muhtar, Sharh al-Durr al-Mukhtar — fasl al-Maqa’id fi al-Hayd.)

৩) যদি মাযুর (হায়দ) প্রতিষ্ঠিত হয়ে থাকে (অর্থাৎ প্রতিটি মাসের নির্দিষ্ট ঘন/কালো দিনগুলো আপনি টেস্ট করে নির্দিষ্ট করে ফেলেছেন), তবে পিরিয়ডের (হায়দের) ওই প্রতিষ্ঠিত দিনগুলো শেষ হলে সাধারণ নিয়মে নতুন করে প্রতিদিন টেস্ট লাগবে না; অর্থাৎ একবার হায়দ হিসেবে নির্ধারিত দিনগুলোর শেষে গৎসল করে নামাজ-রোজা শুরু করবেন। ভবিষ্যতে যদি মাসের নিয়ম বদলে যায় (উদাহরণ: ঘনদিনগুলো বাড়ে বা কমে) তাহলে পুনরায় কয়েক মাস পর্যবেক্ষণ করে হায়দের দিন পুনঃস্থাপন করতে হবে। অর্থাৎ প্রতি পিরিয়ডে আগের প্রতিষ্ঠিত টেস্টই সাধারণত যথেষ্ট, যদি নিয়মে পরিবর্তন না ঘটে। (দেখুন: Al-Hidayah; Radd al-Muhtar — Bab al-Hayd wa Kayfiyyat al-Istibra’.)

৪) টয়লেটের পিছনের ফ্লোরের পানি বা আদ্রতায় জামার কোনো অংশ পরেছে কিন্তু পরে তুলে দেখলে কোনো আদ্রতার দাগ বা দৃশ্যমান নাপাকতা নেই — হানাফী মত অনুযায়ী অবরুদ্ধ নিয়ম হলো: যদি নাপাকতার কোনো দৃশ্যমান চিহ্ন না থেকে থাকে এবং নিশ্চিত হন না যে তা নজাসত ছিল, তাহলে পোশাকটিকে পবিত্র (তাহীর) ধরা হয়। সন্দেহের ভিত্তিতে কল্পনা করে কপড় নাপাক ধরা হয় না; যে দৃশ্যমান বা সুস্পষ্ট আলামত থাকে তবেই বিবেচনা করবেন। অর্থাৎ যদি দেখা যায় কোনো নাজায়িজ পদার্থ লেগে নেই, শুধু পানি লেগে ছিল এবং এখন আর দাগ নেই, তবে জামা পবিত্র ধরে নামাজ করা যায়। (দেখুন: Al-Hidayah — Bab al-Najasat; Radd al-Muhtar — Bab al-Taharah.)

রেফারেন্স (হানাফী সূত্রবৎ):
- Al-Hidayah fi al-Fiqh al-Hanafi — Kitab al-Taharah, Bab al-Hayd wa al-Nifas.
- Radd al-Muhtar (Hashiyat Ibn Abidin) — Sharh Durr al-Mukhtar, Bab al-Hayd wa al-Istihadah.
- Fatawa al-Hindiyya / Kanz al-Daqa’iq (প্রাসঙ্গিক অনুচ্ছেদ: Hayd–Istihadah সম্পর্কিত ফিকহীয় আলোচনা).

(উপরের কিতাবগুলোতে "হায়দ ও ইস্তিহাদাহ" সংক্রান্ত বিস্তারিত আয়াত-হাদীস ও কিতাবী ব্যাখ্যা আছে — সেখান থেকেই উপসংহার নির্দেশ করা হল।)

রিযিক রাখুন।