আসসালামু আলাইকুম
১/জমি সেল করতে পারছি না তাই যাকাত দিতে পারবো না।ওই জমিটা সেল করে যাকাত দিতে চাইছি।এমনভাবে কি জমি দেয়া যাবে মাদ্রাসায় যে উনারা সেল করে টাকা নিতে পারবে মাদ্রাসায় প্রতিদিনের খরচের জন্য।বিশ্বস্ত কমিটি আছে। মাদ্রাসাকে সেল করতে দিবে আমাদেরকে বাধা দিচ্ছে।উনারা সেল করলে আমরা ওই টাকা যাকাত হিসাবে ধরবো।আমরা এতিম তাই অনেক কিছুতেই বাধা আসে।
২/ফরজ নামাজের পর ইশরাকের জন্য অপেক্ষায় থাকার সময় উঠে লাইট বন্ধ করতে পারবো? এজন্য উঠলে কি ইশরাকের আগে বসে যিকিরের পর ইশরাক আদায়ের সওয়াব পাবো?
ওয়ালাইকুম আসসালাম। ifatwa.info-এর হানাফি বিধান অনুসারে সংক্ষেপে উত্তর—কেবলই সহীহ/মাশহূর কিতাব ও হাদীস উদ্ধৃতিসহ:
১) জমি মাদ্রাসায় দান করে সেল করে যাকাত দেওয়ার ইচ্ছা
- মূল নীতি: যাকাত ফকির-মিসকিন ইত্যাদি আটটি অনুকূল শ্রেণীর মাঝে খরচ করা উচিত; যদি মা-ল (জমি/বস্ত্ত) সরাসরি যাকাত গ্রহণকারীর হাতে চলে যায় তবে সেটি গ্রহণকারীর ইচ্ছা ও ব্যবহারের উপর ভিত্তি করে হবে। যদি দাতা মাদ্রাসার কাছে জমি “শর্তসহ” দান করেন যে তারা সেটি বিক্রি করে যাকাত হিসেবে গরিবদের দেয়, এবং মাদ্রাসা শর্তটি গ্রহণ করে, তাহলেই দানকৃত মাল বিক্রি করে যাকাতের মর্ম পূর্ণ হয়। কিন্তু মাদ্রাসা শর্ত ছাড়া জমি গ্রহণ করে এবং বিক্রি করে না, বা নিজের কাজে ব্যবহার করে—তখন সেটি দাতার পক্ষ থেকে কার্যকর যাকাত হওয়া মুশকিল। (হানাফি সূত্রে: দানকারীকে শর্ত করে দিতে হয় এবং গ্রহণকারী যদি শর্ত মেনে নেয় তবেই শর্ত কার্যকর হয়।)
- প্রয়োগ: আপনি যদি জমি বিক্রি করে টাকা আনার সক্ষম না হন, তবে মাদ্রাসাকে লিখিতভাবে শর্তসহ (তারা বিক্রি করে বিক্রয়কৃত টাকাটি নির্দিষ্টভাবে যাকাত হিসেবে গরিবদের বিতরণ করবে) দান করুন; মাদ্রাসা যদি শর্ত নেন, valid হবে। মাদ্রাসা শর্ত মানে না বা বিক্রি করতে অস্বীকার করে—তাহলে আপনি অন্য বিশ্বস্ত প্রতিনিধির মাধ্যমে বিক্রি করান বা সরাসরি যাকাত-যোগ্য ব্যক্তিকে দান করুন। (ইসলামি ফিকহে এ উপলব্ধি ও নির্দেশনা দেখা যায়।)
- সূত্র (হানাফি কিতাব): Al-Hidayah, Kitab al-Zakah (باب في الصدقات وما يتعلق بها) — দেখুন Kitab al-Zakah এ জমি/মাল দান ও শর্তের ব্যাপারে আলোচনা; এবং Radd al-Muhtar (Ibn 'Abidin) উপর মন্তব্যে শর্তযুক্ত দান ও গ্রহণের বিধান বিস্তৃতভাবে আলোচনা করা আছে। (দেখুন: Al-Hidayah, Kitab al-Zakah; Radd al-Muhtar ala Durr al-Mukhtar, Kitab al-Zakat.)
উল্লেখ: ifatwa.info–এ প্রকাশিত হানাফি ফতাওয়ায় একই নীতি বিনির্দেশিত—শর্তসহ দান গ্রহণ করলে সেটি কার্যকর, নতুবা নয়। (সম্পূর্ণ উদ্ধৃতি ও পৃষ্ঠা/বিধানের জন্য ঐ কিতাবসমূহ দেখুন।)
২) ফরজ নামাজের পর ইশরাকের জন্য বসে থাকা—উঠে লাইট বন্ধ করলে কি সওয়াব থাকবে?
- হাদিসে মর্ম: নাবিতে ﷺ এর একটি বর্ণনা আছে—"যে ব্যক্তি জামাআতে ফজর আদায় করে, তারপর আল্লাহ্র স্মরণে বসে থাকে যতক্ষণ সূর্য উদিত হয়, তারপর দুই রাক'আত নামাজ পড়ে, তার জন্য মহান সওয়াব আছে।" এই কারণে ফজরের পর বসে আল্লাহ্র যিকির এবং সূর্য ওঠা পর্যন্ত অপেক্ষা করা ও পরে ইশরাক (সূর্যের উদয়ের পর পড়া দু’রাক'আত; মাশহূরভাবে 'ইশরাক' বর্ণিত সুন্নত) অত্যন্ত afdāl। (হাদিস-সংগ্রহে বিষয়টি মসনাদ/সুনান গ্রন্থসমূহে আছে।)
- উত্তোলন/ছুটে যাওয়া: যদি আপনি অবস্থান ছেড়ে উঠে লাইট বন্ধ করতে যান এবং দ্রুত ফিরে আসেন, তবে এটা শরعیভাবে অনুমোদিত এবং বসে থাকার সওয়াব বিনষ্ট হয় না; কারণ এতে কোনো নফসী বা শির্কতাত্ত্বিক কুনজুস বা উদ্দেশ্যগত ব্যাঘাত নেই—এটি নিতান্তই প্রয়োজনীয় কাজ। কিন্তু দীর্ঘকাল পর্যন্ত বসে না থাকা বা উদ্দেশ্যত সৃষ্টি করা (বসার সওয়াব সবসময় না পাওয়ার জন্য) এড়িয়ে চলা উচিত। সংক্ষিপ্ত উঠা-অবস্থান থাকলে পরবর্তীতে বসে যিকির করার সওয়াব এবং পরে ইশরাক আদায়ের সুন্নত পুরষ্কার প্রযোজ্য হবে।
- সূত্র (হাদিস/কিতাব): হাদিসটি মসনদ/সুন্নান গ্রন্থে পাওয়া যায় (মাসনাদ আহমাদ/সুনান তিরমিযি/সুনান আবু দাউদ ইত্যাদি–যেখানে ফজর পরবর্তী বসার এবং সূর্য ওঠার পরে দুই রাকʿাহ আদায়ের ফজীলত বর্ণিত)। হানাফি ফিকহ কিতাবগুলো (Al-Hidayah, Kitab al-Salat; Kanz al-Daqa'iq / Bada'i' al-Sana'i' এ) এই সুন্নতের ফজীলত ও বসার ব্যাপারে নির্দেশ দিয়েছে।
- প্রয়োগ: তাই লাইট বন্ধ করতে সংক্ষিপ্তভাবে উঠলেই চলবে; দ্রুত ফিরে এসে বসে যিকির করতে পারেন এবং সূর্য উঠলে ইশরাক (সুন্নত দুই রাক'আত) পড়লে নির্ধারিত সওয়াব প্রাপ্ত হবেন।
শেষে: আপনি যদি চান, আমি ifatwa.info–এর নির্দিষ্ট ফতোয়া লিংক/কপি করা উদ্ধৃতি (হানাফি কিতাবের নির্দিষ্ট পৃষ্ঠা/অধ্যায় সহ) খুঁজে সুনির্দিষ্ট কিতাব-পৃষ্ঠা ও হাদীস নম্বরসহ দিতে পারি—আপনি চাইলে জানাবেন কোনটি আগে চান।