🏠 Home

iFatwa Q&A (Hanafi Fiqh)

আমার স্বামী ২ য় বিয়ে করছে আমার সাথে স্বাভাবিক আচরন করে না আবার বেনামাজি,আমি বিয়েটা মানতে পারছি না,আমি মানসিকভাবে ভেঙে পরেছি, কিন্তু বাচ্চাদের জন্য ডিভোরস নিতে পারছি না।এখন আমি কি করতে পারি,২য় বিয়ের সমস্ত তথ্য লোপাট করে দিয়েছে এবং খাওয়া পড়া দিয়ে সবাইকে আই ওয়াশ করে কিন্তু মানসিকভাবে কষ্ট দিচ্ছে
আপনার যন্ত্রণার জন্য দুঃখিত। নিচে ইফতাও.ইনফো (হানাফী ফিকহ) অনুযায়ী করণীয় সংক্ষেপে ও হাদিস/কিতাব উদ্ধৃতির সঙ্গে দেওয়া হলো — (হুকুম/পরামর্শ ইসলামিক অনুশাসন ও ফিকহের উপর ভিত্তি করে):

কার্যকরী ধাপসমূহ (প্রায়োগিক):
- প্রথমে সন্ধান ও পরামর্শ: স্বামীকে শান্তভাবে বোঝানোর চেষ্টা করুন; পারিবারিক সালিশ বা দুই পক্ষের সম্মানিত জাতীয়/স্থানীয় বয়সোদ্দিষ্টদের (শোরা) মাধ্যমে মধ্যস্থতা করান। ইসলামে সালিশ-ইখলোস প্রযোজ্য (استوصوا بالنساء خيرا — হাদিস, দিকে দেখুন)।
- ন্যায় ও রক্ষার দাবী: যদি স্বামীর আচরণ নির্যাতন, অবহেলা, কিংবা ধর্মীয় কর্তব্য (বেনামাজি) ও মানসিক অত্যাচার এমন হয় যে আপনার জীবন-মান ও বিবাহিত অধিকার ক্ষুণ্ণ হচ্ছে, তাহলে আপনি ফৌজদারী বা শারঈ আদালতে (কাজী/শরীয়ত কোর্ট) ফাসখ (বিবাহবিচ্ছেদ অনুরোধ judicial annulment) বা বেতনভুক্তি/খোরাক-বাসস্থান ইত্যাদি দাবী করতে পারেন — হানাফী শিক্ষায় এমন পরাধীনতার জন্য বিচারিক বিচ্ছেদ প্রযোজ্য।
- খুলা: স্বামী সম্মত হলে খুলা (স্ত্রী দ্বারা বিবাহবিচ্ছেদের বিনিময়ে মেহর বা অন্যান্যের ফেরত) গ্রহণ করতে পারেন; যদি স্বামী সম্মত না হন, তখন আদালতের কাছে অভিযোগ করে বিচার নিয়ে নিতে হবে।
- প্রমাণ সংগ্রহ: মানসিক নির্যাতন, লুকানো দ্বিতীয় বিবাহ, খাদ্য-অর্থ দিয়ে শান্ত রাখার আচার-আচরণ ইত্যাদি যেন প্রমাণ থাকে (প্রসঙ্গভিত্তিক কথা, সাক্ষী, চিকিৎসা নথি, মেসেজ ইত্যাদি) — আদালতে কাজে লাগবে।
- সন্তানদের হিফাজত ও Nafaqah: শিশুদের বিষয়ে হানাফী ফিকহ অনুযায়ী মাতার অধিকার ও বাবার নফাকাহ (maintenance) রাখার দাবি করতে পারেন; আদালত সন্তানদের মায়ের কাছে রাখাভোগ্য পরিবেশন ও বাবার অর্থায়ন নির্ধারণ করবে।
- নিরাপত্তা ও মানসিক সহায়তা: আপনার জীবন-মান ও মানসিক সুস্থতা গুরুত্বপূর্ণ; নিকট আত্মীয় বা বিশ্বস্ত নারীর সাহায্য নিন এবং প্রয়োজনে চিকিৎসা/মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা গ্রহণ করুন।

ফিকহি মাপকাঠি (হানাফী দিক):
- যদি স্বামী নফাকাহ (খাওয়া-দাওয়া, আবাস) দেয় কিন্তু ধারাবাহিকভাবে আপনার জীবনে কষ্ট দেয় এবং ইসলামি দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ (উদাহরণ: ধারাবাহিক বেনামাজি, নুশূজ/অবহেলা) — তবে এই অবস্থা ফাসখের কারণ হতে পারে। হানাফী মুফাসসিররা বলেন যে বিবাহ শুধুমাত্র আদি আর্থিক সেবা নয়; শারীয়তানুযায়ী মেয়ের ইজ্জত-সম্মান রক্ষা করাও দায়িত্ব। (দায়িত্ব-অধিকার বিষয়ে হানাফী বইগুলোয় পরামর্শ আছে)।
- খুলা এবং ফাসখ আলাদা: খুলায় স্বামীর সম্মতি দরকার; ফাসখে কাজী/শরীয়ত আদালত স্বীয় বিচারে স্ত্রীকে বিবাহ থেকে মুক্ত করতে পারে যদি আদালত দেখায় স্বামীর অত্যাচার/অবহেলা/ধর্মবিরুদ্ধ আচরণ মেয়ের সহ্য করার বাইরে।

হাদিস/কিতাব উদ্ধৃতি (সংক্ষিপ্ত উল্লেখ):
- "لا ضرر ولا ضرار" — (হাদিস উল্লিখিত, سنت ابن ماجہ এবং অন্যান্য গ্রন্থে বিবৃত) — অর্থ: ক্ষতি করা এবং প্রতিশোধমূলক ক্ষতি করা হারাম।
- "استوصوا بالنساء خيرا" — (সুন্নাহ-উক্তি; নারীদের সঙ্গে উত্তম আচরণ করো) — (সুনান গ্রন্থে পাওয়া যায়)।
- "من لا يرحم لا يرحم" — (مَنْ لاَ يَرْحَمْ لاَ يُرْحَمْ) — (সাহিহ বুখারি ও অন্যান্য গ্রন্থে) — অর্থ: যে দয়া করে না তাকে অনুকম্পা করা হবে না।
- "خيركم خيركم لأهله" — (بخاري ইত্যাদি) — পরিবারে উত্তম আচরণকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

(উপরের হাদিসগুলি সুস্পষ্ট নৈতিক-আদর্শ প্রদান করে; বিশদ ফিকহি সিদ্ধান্ত কোর্ট-শরীয়ত বা মুফতীর ফتوয়ার মাধ্যমে নির্ধারণ করা উচিত।)

সংক্ষিপ্ত উপসংহার:
- প্রথমে সালিশ ও শান্তিপূর্ণ সমাধান চেষ্টা করুন; কিন্তু যদি আচরণ মানসিক ও সামাজিকভাবে ক্ষতিকর হয়, তাহলে শারীয়ত আদালতে (কাজী/ইসলামিক কোর্ট) ফাসখ/বিচ্ছেদের জন্য মামলা করুন এবং সন্তানদের হেফাজত ও নফাকাহ নিশ্চিত করুন। আপনার নিরাপত্তা ও মানসিক সুস্থতা অগ্রাধিকার পাবে; ইসলাম অত্যাচারকে স্বীকৃতি দেয় না (لا ضرر…; استوصوا بالنساء خيرا ইত্যাদি হাদিসানুযায়ী)।

বিস্তারিত ফিকহি ও আইনি সাহায্যের জন্য স্থানীয় হানাফী মুফতিকে দেখতে পারেন বা ifatwa.info-র নির্দিষ্ট ফতাওয়া অংশ পরামর্শ হিসেবে অনুসরণ করুন।