আস সালামু আলাইকুম। আমার হায়েজ হয়েছে এখন সূরা আলাকের লাস্ট আয়াত পরেছি অনেকবার এবং শুনেছিও। এরজন্য আমি কি হায়েজ অবস্থাতে-ই সিজদা দিবো? বা করণীয় কি এরজন্য? হায়েজ অবস্থায়ও পরেছিলাম কারণ পড়া দিতে হবে তাই।
ওয়ালাইকুমুস সালাম। (iftawa.info — hanafi ফিকহ অনুযায়ী)
সংক্ষিপ্ত জবাব:
- হায়েজ অবস্থায় সিজদার (সাজদাত্-তিলাওয়াহ) করা যাবে না। হায়েজ পুরুষ ও মুসলিমা দু’জনের জন্যই নামাজ ও নামাজসংক্রান্ত ইবাদত যেমন সিজদা-ইত্যাদি যা নামাজের সংগে সম্পর্কিত, সে সব থেকে রেহাই প্রদান করে; অতএব সিজদা-তিলাওয়াহও করা যাবে না। যদি হায়েজের সময় কোন কারণে আপনি কোরআন পাঠ করে থাকেন বা শুনে থাকেন, সেজন্য পরবর্তীতে কোন ক্বদা বা বদল করতে হবে না কেবল সেই সিজদা করা ছিল সুন্নত—ইহা ফরজ নয় এবং হায়েজের কারণে ত তবব গ্রহণযোগ্য নন বলে বাদ যায়।
হুক্মের উৎস (হানাফী):
- Al-Hidayah (Sharh Bidaya al-Mubtadi) — Kitab al-Salat: হায়েজ অবস্থায় নামাজ ও নামাজসংক্রান্ত সিজদা সম্বন্ধে নির্দেশনা। (হারিসুল কিতাব এ অংশে হায়েজ ব্যক্তির নামাজী নিষেধাবলী বর্ণিত আছে।)
- Radd al-Muhtar (Ibn `Abidin, Hashiyat) — Kitab al-Salat: হায়েজ কনিষ্ঠাবস্থায় ইবাদত-সংক্রান্ত ফতাওয়া ও বর্ণনা।
সাহিহ হাদীস (সাজদার সুন্নৎ প্রতিষ্ঠার জন্য; হায়েজ বিষয়ে নির্দেশ এ ফিকহী কিতাবগুলিতে আলোচনা করা হয়েছে):
- Sahih Muslim — Kitab al-Salat: রিসালায় সাজদাত্-তিলাওয়াহের বর্ণনা (হাদিসগুলোর মাধ্যমে সাজদার সুন্নত প্রতিষ্ঠিত)।
প্রয়োগ/কার্যকর নির্দেশ:
- আপনি হায়েজ অবস্থায় সিজদা দেবেন না। নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে (যেমন পড়াশোনার কারণে মুখে আওড়ানো বা শ্রবণ) কোরআন স্মরণ বা পাঠ করতে পারেন (হানাফী রায় অনুযায়ী সাধারণত স্মরণে পাঠ করা যায়); কিন্তু সিজদা করা মান্য নয়।
- পরবর্তীতে যখন সুস্থ/পবিত্র অবস্থায় ফিরে আসবেন, এমন কোন ক্বদা নাই যে আপনি মিস করা সাজদাগুলো পরে করবেন — কারণ ইহা সুন্নতীয় নয়, ক্বদা আওর কফারা নেই।
সূত্র: উপরে বর্ণিত Hanafi কিতাবগুলোর Kitab al-Salat অংশে হায়েজ ও সিজদার বিধান বিস্তারিত আছে (Al-Hidayah; Radd al-Muhtar)। এছাড়া সাজদার সুন্নত প্রতিষ্ঠার জন্য Sahih Muslim-এ সংশ্লিষ্ট হাদীস রয়েছে।