🏠 Home

iFatwa Q&A (Hanafi Fiqh)

১.হুজুর আমি তো আমার দুই উরুর সকল লোম কেটেছিলাম এখন্তো বড় হয়ে গেছে.এখন কি করবো ফরয গোসলে কিভাবে গোড়া তে অয়ানি দেব?আর এই লোম সাভাবিক করতে কি করবো এখন কি করলে সাভাবিক হবে আগের মত ২.ফরয গোসলে অন্ডকোষ এ পানি দিবো কিভাবে? একটু পানি লাগ্লে কেমন ছোট হয়ে যায় ভিতরে ঢুকে যায় কি করি?কুরআন ও হাদিস সহ দিবি২
iftatwa.info — হানাফী ফিকহ অনুযায়ী উত্তর (সূত্র: কোরআন ও হাদীস/কিতাব)

প্রশ্ন ১: আমি দুই উরুর (থাই) সব লোম কেটেছিলাম; এখন লম্বা হয়ে গেছে। ফরয (জানাব/গোসল) করার সময় গোড়া/মূলে (চামড়ায়) পানি পৌঁছে যাচ্ছে কি করে নিশ্চিত করব? লোম আবার আগের মতো হবে কিভাবে?

উত্তর:
- ফরয গোসলের শর্ত হলো গোটা বাহ্যিক দেহের চামড়ায় পানি পৌঁছানো। লোম থাকার কারণে যদি চামড়াতে পানি পৌঁছাতে বাধা দেয়, তাহলে লোম আলাদা করে (আঙুল দিয়ে ছিটিয়ে) বা ঘষে পানি মূলে পৌঁছে দিতে হবে। চুল-বাল কেটে ফেললে বা পাতলা থাকলে কোনো সমস্যা নেই; লোম কাটা শরীরিকভাবে গোসলকে অবৈধ করে না। লোম আবার স্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাবে — এ বিষয়ে শিয়ানাহ কিছুও বিশেষ বিবেচ্য নেই।
- ব্যবহারিক উপায়: গোসলের আগে প্রথমে হাদীস অনুযায়ী হাত ধুয়ে (বা ময়লা পরিষ্কার করে), তারপর ওযু করে নিন। মাথার ওপর পানি তিনবার ঢালুন এবং এরপর বডি-এ পানি ঢালার সময় এক এক করে অংশ আলাদা করে ঘষুন—বিশেষ করে লোমযুক্ত জায়গায় আঙুল দিয়ে লোম ছিটিয়ে চামড়ায় পানি পৌঁছাতে হবে। যদি লোম খুব ঘন ও মাট হয়ে থাকে, হাতে সাবান মেখে বা আঙুল দিয়ে আলাদা করে পানি প্রবেশ করান।
- লোমের স্বাভাবিকতা ফেরানোর জন্য আলাদা কোনো শারীরিক চিকিৎসা দরকার হলে ডাক্তার দেখান; ফিকহ অনুযায়ী লোম কাটা, অতিরিক্ত লোম পড়া বা বেড়ে যাওয়ার কোন আখ্যায়িক বিধিনিষেধ নেই।

সূত্র:
- কোরআন: “ওয়্য়‌ইন কুনতুম জুনুবা فَاطَّهَّرُوا…” — সুরা আল-মায়িদা (৫:৬) — যেনুম্মে জানাবে যে, যদি আপনি জুনুব (যৌনমিলন/স্রাব) হন, তবে তাঢ়িয়ার (শুদ্ধ) হোন; অর্থাৎ গোসলের প্রয়োজনীয়তা ও পানি লাগার নির্দেশ। (আয়াত নং: 5:6)
- হাদীস (প্রকৃত গোসলের নিয়ম সম্পর্কে): রসুলুল্লাহ (সা.) জানাবের পরে আগমনরত অবস্থায় গোসল করতেন—প্রথমে হাত ধরা, তারপর ওযু বানানো, তারপর মাথায় তিন বার পানি ঢালাই এবং তারপর বাকি শরীরে পানি ঢালা ইত্যাদি—(দেখুন: সর্ট/বর্ণনাসহ হাদীস, Kitab al-Taharah)। (হাদীস: সুন্নাহ-উল্লেখ — বুখারি/মুসলিম, Kitab al-Ghusl / al-Taharah)

প্রশ্ন ২: ফরয গোসলের সময় অন্ডকোষ (স্ক্রটাম/টেস্টিকল) এ পানি কিভাবে দেব? একটু পানি লাগলে কেমন ছোট হয়ে যায়, ভিতরে ঢুকে যায় — কি করব? (কুরআন ও হাদিস সহ চাই)

উত্তর:
- অন্ডকোষ (স্ক্রটাম) এর বাহ্যিক চামড়ায় পানি পৌঁছানো ফর্জের জন্য অপরিহার্য। তা করতেও বাইরে থেকে পর্যাপ্ত পানি ঢালাই ও আঙুল দিয়ে ভাঁজ বা চামড়া ছড়িয়ে দিয়ে পানি পৌঁছে দিতে হবে। কোনোভাবেই কোনো তরল বা পানি কোষাধারে বলিষ্ঠভাবে জোর করে ঢুকানো দরকার নেই; শুধুমাত্র বাহ্যিক চামড়া ও যেখানে অন্তর্বর্তী ভাঁজ আছে সেখান পানি পৌঁছানোই যথেষ্ট।
- অন্ডকোষ কোন অবস্থায় “ছোট হয়ে” গেলে বা ভাঁজ হয়ে নীচে-উপর সরে গেলে — পানি ঢাললে যদি ভেতরে কোন স্থানে পানি ঢুকছে বলে শঙ্কা হয়, চিন্তা করার দরকার নেই; গোসলের উদ্দেশ্য বাহ্যিক চামড়ায় পানি পৌঁছে দেওয়া। ভেতরের গুহায় (যদি থাকে) পানি প্রবেশ করানো ফরজ নয়। কেবল বাহ্যিক অংশ ভালভাবে ধুয়ে নিন, আঙ্গুল দিয়ে ফাঁক খুলে পানি পৌঁছে দিন।
- প্রসঙ্গত: ঘুম থেকে ওঠা বা জুনুবের পরে গোসলের নিয়মগুলো হাদীসে বর্ণিত আছে; গলার ভেতরে জল ঢালাই ও নাক-গহবর (নাসাল) খুঁজে ধোয়া উপদেশ আছে — তাই মুখ ও নাক পরিষ্কার করাও জরুরি; স্ক্রটামের জন্য বাহ্যিক ধোয়া যথেষ্ট।

সূত্র:
- কোরআন: সুরা আল-মায়িদা ৫:৬ — (জানাব/নজ্দিক ইতরাফ ও পরিস্কার হওয়া সংক্রান্ত নির্দেশ)। (আয়াত 5:6)
- হাদীস: রসূলুল্লাহ (সা.) জানাবের পরে গোসল করার পদ্ধতি ও মুখ–নাসা ধোয়া সম্পর্কে নির্দেশ দিয়েছেন; তিনি ওযু করে মাথায় তিনবার পানি ঢালতেন এবং পরে শরীর ঘষতেন—অর্থাৎ গোসলের সময় মুখ–নাক–চামড়ায় পানি পৌঁছানো বাধ্যতামূলক। (বিখ্যাত রিসালাসহ: Sahih al-Bukhari / Sahih Muslim — Kitab al-Ghusl / Kitab al-Taharah)

উপসংহার (সংক্ষেপে কাজের তালিকা):
1) গোসলের আগে নीयত করুন।
2) হাত ও মলদ্বার পরিষ্কার করুন; তারপর ওযু করুন (সুন্নাহ/প্রচলিত পদ্ধতি)।
3) মাথায় পানি তিনবার ঢালুন।
4) এক এক করে দেহের সব অংশে পানি ঢালুন; লোমযুক্ত স্থানে আঙুল দিয়ে ছিটিয়ে বা ঘষে চামড়ায় পানি পৌঁছে দিন (বিশেষ করে থাই ও অন্ডকোষের ভাঁজ)।
5) কোন অবস্থাতেই ভেতরে জোর করে পানি ঢোকানোর প্রয়োজন নেই—শুধু বাহ্যিক চামড়া পরিষ্কার করা জরুরি।

সূত্রের নোট: কোরআন আয়াত ও হাদীসগুলো Kitab al-Ghusl/Kitab al-Taharah-এ বিশদে বর্ণিত আছে (Sahih al-Bukhari ও Sahih Muslim‑এ)। বিস্তারিত হানাফী ফিকহের পরামর্শ ও উদ্ধৃতি (বহির্ভূত/ক্লাসিক বইসমূহ) পড়তে চাইলে ifatwa.info‑এর নির্দিষ্ট ফতোয়া পৃষ্ঠা বা হাদীস‑নম্বর অনুযায়ী দেওয়া রেফারেন্স দেখুন।