ফরয গোসলে অনেক পানি খরচ করি আমি।মনে হয় শরীর ভিজে নাই।তাই বার বার পানি ঢালী। এতে কি অপচয় হয়।এতে ফরয গোসলে অপচয় করলেও কি গোনাহ হয়?আমাকে ফরয গোসল করার নিয়ম বল?আর অপচয় করা নিয়েও বল।কুরআন,হাদিস থেলে
(ifatwa.info — হানাফী শরঈরূপে)
প্রশ্নের সংক্ষিপ্ত উত্তর:
- ফরয গোসল করতে গিয়ে প্রয়োজনের অতিরিক্ত পানি ব্যবহার করা অবাঞ্ছিত ও বর্জনীয়; কিন্তু দরকারেই যদি বারবার পানি ঢালতে হয় যাতে গোসল সত্যিই সম্পূর্ণ হয়, তা গোনাহ হবেনা। ইসলাম অতিরিক্ত অপচয় (Isrāf) নিন্দা করে — কুরআনে এ বিষয়ে হুকুম আছে (সুরা ইসরা/বনাই 17:26-27)।
- হাদিসে বলা হয়েছে: “অবশ্যই পানিতে অপচয় করো না — অহরাহরেয়, এমনকি নদীর পাড়ে থাকলেও।” (Sunan Ibn Mājah, Kitāb al-Tahārah, Hadith no. 425) — তাই অপ্রয়োজনীয় অপচয় ত্যাগ করা উচিত।
ফরয (واجب) গোসলের মূল শর্ত (হানাফী মত অনুযায়ী, সংক্ষিপ্তভাবে):
1) নিয়া (ইচ্ছা — অন্তরে) করা যে গোসল ফারজ করছেন (বিশেষ নথিতে 'নিয়ত' ফরজ হওয়া শর্ত হিসেবে গণ্য)।
2) গোটা বাহ্যিক দেহে পানি পৌঁছানো — যে কোনো একটি বাহ্যিক অংশ শুকনো থাকলে গোসল সম্পূর্ণ হয় না। বিশেষভাবে চামড়া ও চুলের নীচে পানি পৌঁছানো নিশ্চিত করতে হবে (চুলের ভেতর পানি না গেলে চুল কাঁপিয়ে বা কফফ দিয়ে পানি পৌঁছে দিতে হবে)।
3) সাধারণভাবে গোসলের ক্রম (হানাফী রীতিতে প্রচলিত, নিতান্তই কার্যকর পদ্ধতি): আগে হাত-কাটা ধুয়ে নিন, প্রয়োজনীয় মলিনতা সরান; তারপর গোসলের উদ্দেশ্য নিয়ে পানি ঢালতে শুরু করুন — প্রথমে মাথায় পানি ঢালুন (একাধিক বার প্রয়োজনমত), এরপর দেহে বাম/ডান দিক দিয়ে পানি ঢালুন ও শরীর ঘষে পানি যেন প্রতিটি অংশে পৌঁছে। একবার পানি দিয়ে পুরো দেহ ভেজালে গোসল বহুলাংশে মঞ্জুর। (গোষলসম্পর্কিত প্রামাণ্য বর্ণনা: Sahīh al-Bukhārī — Kitāb al-Janābah/ al-Ghusl; Sahīh Muslim — Kitāb al-Tahārah; দেখুন সংশ্লিষ্ট গোসল-হাদিস)
প্রয়োজনে পানি বারবার ঢাললে কি গোনাহ হবে?
- না, যদি আপনি নিশ্চিত করতে চান যে পানি দেহের প্রতিটি অংশে পৌঁছাচ্ছে এবং গোসলের ফরয শর্ত পূরণ হচ্ছে, তখন অতিরিক্ত পানি ব্যবহার করা যাতে গোসল সম্পূর্ণ হয় — তা গোনাহ নয়।
- কিন্তু যখন পরিষ্কারভাবে গোসল সম্পূর্ণ করা সম্ভব, তখন অপ্রয়োজনীয়ভাবে বারবার পানি ঢালা (অর্থাৎ অতিরিক্ত অপচয়) নিষেধ। যে হাদিসটি পূর্বে উল্লেখ করা হয়েছে সেটি অপচয় নিন্দা করে (Sunan Ibn Mājah, Hadith no. 425)। একই মর্মে কুরআনও অপচয় ত্যাগ করার নির্দেশ দেয় (Al-Isrā 17:26-27)।
পানি সংকট থাকলে কি করণীয়?
- যদি পানি ততটা পাওয়া না যায় যে গোসল ফরয শর্ত পূরণ হয়, অথবা পানি পাওয়া হলেও ব্যবহার করলে অযথা অপচয় হবে, তখন শরীয়ত অনুযায়ী তায়ামুম গ্রহণ করা যায় (কয়েকটি শর্তসহ)। তায়ামুম সম্পর্কিত বিধান ও পদ্ধতি কোরআন ও হাদিসে নেই; ফিকহি কিতাবগুলোতে এর বিস্তারিত আছে (উদাহরণ: Sahīh al-Bukhārī, Kitāb al-Tahārah; Sahīh Muslim)।
সংক্ষেপে করণীয় (প্রায়োগিক নির্দেশ):
- গোসলের সময় প্রথমে পায়ে ও শরীরের মলিনতা সরান; নিয়া করুন; মাথা ও চুলসহ সমগ্র দেহে পানি ঢালুন; যদি কোথাও পানি না গিয়েছে মনে হয়, হাত দিয়ে ঘষে পানি পৌঁছে দিন; একবার গোসল করে সম্পূর্ণ না হলে প্রয়োজনমত আবার পানি ঢালতে পারেন।
- চেষ্টা করুন অপ্রয়োজনীয়ভাবে পানি অপচয় না করতে — যদি গোসল সম্পূর্ণ করা সম্ভব ততটাই পানি ব্যবহার করুন; আর বেশি বেশি ঢালার অভ্যাস পরিহার করুন।
রেফারেন্স (কোরস বা হাদিস/কিতাব নির্দিষ্ট):
- কোরআন: Al-Isrā (17):26-27 — অপচয়-বিরোধী আয়াত।
- Hadith: “لا تُسْرِفُوا فِي الْمَاءِ وَلَوْ عَلَى النَّهْرِ” — Sunan Ibn Mājah, Kitāb al-Tahārah, Hadith no. 425.
- Ghusl-related narrations and rulings: Sahīh al-Bukhārī (Kitāb al-Janābah / al-Ghusl) ও Sahīh Muslim (Kitāb al-Tahārah) — গোসল ও তহরীড়ের হাদিস ও বিধি বর্ণনা করে।
(উল্লেখ্য: উপরের কিতাব/হাদিসের নাম ও হাদিস নং দেওয়া হল; বিস্তারিত প্রয়োগ-বিধি জানার জন্য নির্ভরযোগ্য হানাফী ফিকহ-গ্রন্থ ও স্থানীয় পণ্ডিত/মুফতি’র ফতোয়া দেখুন।)