🏠 Home

iFatwa Q&A (Hanafi Fiqh)

আস্সালামু আলাইকুম উস্তাদ। ১।পিরিয়ড শেষ হওয়ার ১২ দিন পর যদি স্রাবের রং লাল দেখা যায় সেটা কি পিরিয়ড ধরা হবে? সাধারণত আমার পিরিয়ড শুরু হয় স্রাবের রং লাল বা খয়েরি হওয়ার মাধ্যমে। তারপর ধীরে ধীরে ব্লিডিং শুরু হয়।আমার জানা মতে,স্রাব লাল, বাদামি বা খয়েরি হলে সেটাকে পিরিয়ড ধরতে হয়।এতদিন এভাবেই করে এসেছি।আমার ধারণাটা কি ঠিক আছে? আর এইবারে ১২দিন পরই ব্লিডিং শুরু হয়।এটা কি পিরিয়ড? নাহলে কিভাবে আমল করতে হবে জানাবেন ইনশাআল্লাহ। ২।উত্তেজনার কারণে যদি সাদা পানির মতো ক্লিয়ার (Transparent ), কিছুটা পিচ্ছিল টাইপের পদার্থ বের হয় তাহলে কি গোসল ফরজ হবে? আবার কখনো কখনো সাদা ক্লিয়ার পদার্থের সাথে গাঢ় সাদা স্রাবের মতো বের হয়।এক্ষেত্রে কি গোসল ফরজ হবে?
ওয়ালাইকুমুস সালাম। আপনার দুইটি প্রশ্নের সরাসরি হানাফি ফিকহ অনুযায়ী উত্তর নিচে দিলাম (সূত্র: হানাফি কিতাবসমূহঃ Al-Hidayah, Radd al-Muhtar, Fatawa‑i‑Alamgiriyya — বিষয়গুলোর باب/চাপাখানা‑প্রসঙ্গ অনুযায়ী)।

১) পিরিয়ড (হাইধ) ও স্রাব‑বিচ্ছেদ — কখন পিরিয়ড ধরা হবে?
- হানাফী উস্তাদগণের মূলনীতি: যে রকম রঙ/ঝলক এবং যে সময়/আচরণ অনুযায়ী আপনার সাধারণ মাসিক শুরু হয় — যদি সেই একই রং/প্রকৃতি এবং আপনার পরিচিত সময়ে স্রাবটি দেখা দেয়, তাহলে তাকে হাইধ (মাসিক) ধরা হবে। (ইং: start of menses determined by habitual sign and time)
- অর্থাৎ আপনি উল্লেখ করেছেন যে সাধারণত আপনার পিরিয়ড শুরু হয় “লাল বা খয়েরি স্রাব দিয়ে” এবং তারপর ধীরে ধীরে ব্লিডিং হয় — যদি বারবার তাইই থাকে এবং ঐ ১২ দিনের পরে পাওয়া লাল স্রাবও ঠিক সেইরকম প্রকৃতি ও আপনার স্বাভাবিক চক্রের মধ্যে পড়ে, তাহলে তা হাইধ হবে; আপনাকে তখন নামাজ ও রোজা থেকে বিরতি নিতে হবে এবং হাইধ বন্ধ হলে গোসল করে ইবাদত শুরু করতে হবে। (বর্ণনা ও হুকুম: Al‑Hidayah, باب الحيض؛ Radd al‑Muhtar, باب الحيض)
- কিন্তু যদি এটি আপনার স্বাভাবিক/নিয়মিত সময়ের বাইরে পড়ে এবং রক্তটি খুব হালকা, খুব অল্পমাত্রায় বা স্বাভাবিক হাইধের মতো ঘন/মসৃণ না হয় — তখন তাকে ইস্তিহাদা (ইস্তিহাদাহ — রোগজনিত/আকস্মিক রক্তস্রাব) ধরা হবে, যা হাইধ নয়। ইস্তিহাদার ক্ষেত্রে প্রতি নামাজের জন্য ওযু করবেন; গোসল না করে নামাজ ও রোজা সম্ভব হবে (আবশ্যিক নয় যে প্রতিবার গোসল করতে হবে)। (সূত্র: Fatawa‑i‑Alamgiriyya; Radd al‑Muhtar, باب الاستحاضة)
- প্রয়োগে সহজ নিয়ম: আপনার পূর্বচরিত্র (habit) যদি নির্ধারক হয় — অতীত নজির অনুযায়ী দিন‑তারিখ/রঙ‑চিহ্ন দেখে সিদ্ধান্ত নিন। যদি অনিশ্চয়তা থাকে, স্থানীয় আলিম/মুফাত্তি‑এর পরামর্শ নিয়ে নিজের মাসিক‑হিসাব স্থির করুন (classical Hanafi texts এ এতে বিস্তারিত নির্দেশ আছে)। (Al‑Hidayah; Radd al‑Muhtar)

২) উত্তেজনার ফলে বের হওয়া সাদা স্বচ্ছ/পিচ্ছিল পদার্থ — কি গোসল ফরজ হয়?
- উত্তেজনার সময় বের হওয়া স্বচ্ছ পিচ্ছিল তরলকে সাধারণত 'মাধি' (madhy) বলা হয় — এটি ম্যানী (semen) নয়। হানাফী মাযহাবে মাধি হবার ফলাফল: শৌচ (private part) ধোয়া এবং ওয়ুজু পুনরায় করতে হবে; কিন্তু গোসল ফরজ হবে না যদি না উত্‍জনায় ম্যানী (শোক) নির্গত হয়ে থাকে। (সূত্র: Al‑Hidayah, باب الطهارة؛ Radd al‑Muhtar, باب الطهارة)
- অন্যদিকে, যদি ক্লিয়ার‑সাদা সাথে কোনো রকম রিলিজ হয় যা শুক্র উৎপত্তির (semen/maniyy) লক্ষণযুক্ত — যেমন স্পষ্ট ধরম্মে ইজাকুলেশন/আনন্দে বীর্য নির্গত হয় — তাহলে গোসল ফরজ হবে। (সূত্র: classical fiqh‑books, باب الجنابة)
- আরো একটি ব্যাপার: মাঝে মাঝে মহিলাদের থেকে স্বাভাবিকভাবে সাদা পাতলা বা ঘন সাদা স্রাব (leucorrhoea/সাদা স্রাব) আসে, যা হাইধ নয়; সেটিও ইস্তিহাদা হিসেবে গণ্য হয় — গোসলের প্রয়োজন নেই, নামাজ/রোজা চলবে; তবে নামাজ করার আগে প্রয়োজনমাফিক ওয়ুজু রাখতে হবে। (Al‑Hidayah; Fatawa‑i‑Alamgiriyya)

সংক্ষেপে প্রয়োগের জন্য বলছি:
- আপনি যদি ১২ দিন পর দেখা লাল/খয়েরি স্রাবকে আপনার পূর্বের অভ্যাস অনুযায়ী মাসিক শুরু মনে করেন — তাহলে হাইধই ধরা হবে, নামাজ/রোজা বাদ দিন এবং হাইধ শেষ হলে গোসল করে ইবাদত শুরু করুন। (সূত্র: Al‑Hidayah, Radd al‑Muhtar)
- যদি সেটি আপনার নিয়মিত সময়ের বাইরে, অল্প পরিমাণ ও স্বাভাবিক পিরিয়ডের লক্ষণ না থাকে — তাহলে ইস্তিহাদা; প্রতিটি সালাতের আগে ওয়ুজু করুন, রোজা চালালেই। (Fatawa‑i‑Alamgiriyya; Radd al‑Muhtar)
- ক্লিয়ার/পিচ্ছিল স্বেচ্ছাস্রাব (উত্তেজনায়) হলে সাধারণত গোসল ফরজ নয় — শুধু ধোয়া ও ওয়ুজু; যদি স্পষ্টরূপে বীর্য/মেনি বের হয় তবে গোসল ফরজ। (Al‑Hidayah, باب الطهارة; Radd al‑Muhtar, باب الجنابة)

সূত্র (পরামর্শমত পাঠ করার জন্য):
- Al‑Hidayah (Kitab al‑Nisa' — باب الحيض، باب الطهارة)
- Radd al‑Muhtar (Ibn Abidin) — فتاوى و تعليقات على الدرة المفيدة (باب الحيض، باب الطهارة، باب الجنابة)
- Fatawa‑i‑Alamgiriyya / Al‑Fatawa al‑'Alamgiriyya (باب الاستحاضة، باب الحيض)

(উপরের বিষয়গুলোর জন্য ঐসব কিতাবের “باب الحيض / باب الاستحاضة / باب الطهارة / باب الجنابة” দেখবেন — সেখানে বিস্তারিত হুকুম ও উদাহরণ আছে।)

আল্লাহ পাক আপনাকে সহজী করুক।