একজন ব্যাক্তি বলেছে সে নাকি কুরআনের আয়াত দিয়ে মানুষকে বশ করতে পারে। আসলেই কি এটা কখন সম্ভব।তার থেকে কি ফতোয়া নেওয়া যাবে
সংক্ষেপে উত্তর (হানাফী মত অনুসারে, ifatwa.info-এর নির্দেশে):
1) কুরআনের আয়াত কৌতুক-ভাবেই কারো ওপর জাদু করে “বশ” করা—মানুষকে জবর করে ঈমান বা ইচ্ছা বদলানো—মানুষের শক্তিতে সম্ভব নয়; কেবল আল্লাহই মানুষের অন্তর বদলান। (কিতাবের নির্দেশ: আল কোরআন 2:256 — “لا إِكْرَاهَ فِي الدِّينِ” — দ্বীনে জবর সম্ভব নয়।)
2) Sihr/জাদু বাস্তব ও বিপজ্জনক: কুরআন সরাসরি জাদু-শিক্ষা ও তার ক্ষতি সম্পর্কে সতর্ক করেছে, তাই কেউ যদি বলেই যে সে কুরআনের আয়াত দিয়ে অবৈধভাবে মানুষের ইচ্ছা জোর করে নিয়ন্ত্রণ করছে, তা সন্দেহজনক ও সম্ভবত জাদুবিদ্যার বা জাল দাবির সমমনা। (সূত্র: আল কোরআন 2:102 — জাদু শেখা ও ক্ষতির কথা উল্লেখ রয়েছে।)
3) কুরআন পাঠ বা দোয়া (রুকইয়াহ) দ্বারা বরং সুরক্ষা ও শفا লাভ সম্ভব — তবে তা শুধুমাত্র আল্লাহর ইচ্ছায় হয় এবং শির্ক বা কালে জুজুরি অর্থাৎ আল্লাহ ছাড়াও কাউকে অনুরোধ/বিনীতভাবে জাদুবল ক্ষমতা আখ্যা দিলে তা মেনে নেবেন না। রুকইয়াহর জন্য কোরআনের আয়াত যেমন আল-ফালাক (113) ও আন-নাস (114) ব্যবহৃত হওয়ার উদাহরণ কোরআনে বিদ্যমান। (সূত্র: আল কোরআন 113–114)
4) ফতোয়া নেওয়া যাবে কি? — যদি সেই ব্যক্তি অজ্ঞ, দ্বিধাহীনভাবে অলৌকিক ক্ষমতার দাবিদার, কিংবা শির্ক-সংলগ্ন কাজ করে, তাহলে তাঁর কাছ থেকে ফতোয়া নেওয়া ঠিক নয়। ফতোয়া নেওয়া উচিত যোগ্য, পরিচিত ও বিশ্বস্ত হানাফী আলেম বা স্বীকৃত মুফতির কাছ থেকে। সন্দেহ থাকলে স্থানীয় বিশ্বস্ত মসজিদ/ঐতিহ্যবাহী হানাফী ফতোয়া কেন্দ্র বা ifatwa.info-র মতো স্বীকৃত সূত্রের পরামর্শ নিন।
সূত্র (ক্বরআন থেকে):
- আল-বাকারা 2:102
- আল-বাকারা 2:256
- আল-ফালাক 113
- আন-নাস 114
(উপরোক্ত ব্যাখ্যাগুলো হানাফী মসলকে উপস্থাপনা ও কোরআনিক আদেশ অনুযায়ী; বিস্তারিত বা ব্যক্তিগত নির্দেশের জন্য স্থানীয় যোগ্য মুফতির কাছে পরামর্শ নিন।)