🏠 Home

iFatwa Q&A (Hanafi Fiqh)

একজন যাএাবাড়ি মাদ্রাসার ফতোয়া বিভাগে নিযুক্ত ব্যাক্তি উনি মানুষকে বশ করে কবিরাজি করে কিনা সেটা কি জিগাস করা দরকার কারন মানুষকে বশ নাকি কুফুরি ব্যতিত করা যায় না।আর যারা কুফুরি করে তাদের থেকে ফতোয়া নেওয়া যায় না।এজন্য কি জিগাস করতে হবে।নাকি না করলেও সমস্যা নাই
উত্তর (হানাফি ফিকহ অনুসারে) —

সংক্ষেপে: যদি মাদ্রাসার ফতোয়া বিভাগে নিযুক্ত ব্যক্তি প্রকৃতভাবে কুফরীয় কাজ (যেমন সরাসরি ঈমানবিরোধী কর্ম বা খোলাখুলি শির্ক/কুফর) করছে বা খোলাখুলি মায়াবিদ্যা/সাহরি (sihr) করে এবং নিজে তা কুফর বলে স্বীকার করে, তবে তার থেকে ফতোয়া গ্রহণ করা যায় না। কিন্তু কেবল সন্দেহ বা গুজব থাকলে—বিশেষত প্রমাণ না থাকলে—তার ফতোয়া গ্রহণে কোন বাধা নেই; কারণ সাধারণত “যেকোনো ব্যক্তিকে মুসলিম ধরে নেওয়া” এবং “ই’ত্যমান (certainty) সংশয়ের দ্বারা নষ্ট হয় না”—এই usūl-i-fiqh-এর নীতির ভিত্তিতে সন্দেহের কারণে পূর্বধারণা বাদ দেয়া যায় না। তাই প্রমাণ না থাকলে জিজ্ঞাসা করা জরুরি না; প্রমাণ বা খোলাখুলি কুফরের উপস্থিতি পেলে সেই ব্যক্তির ফতোয়া অবলম্বন করা জায়েজ নয় এবং অন্য উপযুক্ত আলীমের কাছে যাওয়া উচিত।

রেফারেন্স (হাদীস/কিতাব ও হানাফি উসূল/ফিকহ-এর সূত্র হিসেবে):
- এই নীতি — “اليقين لا يزول بالشك” (ইত্যমান সংশয়ে নষ্ট হয় না) — উসূলো-ফিকহের প্রতিষ্ঠিত নীতি; হানাফী উদ্ধৃতি ও প্রয়োগ ক্লাসিক্যাল ফিকহ গ্রন্থে পাওয়া যায় (উসূল-এ-ফিকহের কিতাবসমূহ)।
- কুফর/আরাধ্য কর্ম করলে ব্যক্তির ইসলামী মর্যাদা ও তার ফতোয়ার অব্যাহত মাত্রা নিয়ে হানাফী ফতোয়া গ্রন্থে ব্যাখ্যা রয়েছে (মুসলমানরা সাধারণত রাদ্দ-আল-মুতহার, হিদায়াহ, ফতাওয়া-হিন্দিয়া ইত্যাদি ক্লাসিক্যাল হানাফী গ্রন্থে দেখেন)।
- জাদু/সাহরি সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-সংক্রান্ত বর্ণনা এবং চিকিৎসা/রুকইয়ার কার্যাবলী সম্পর্কে হাদীস এবং চিকিৎসা-বিষয়ক সাহবী/তাবিউন আদলে আলোচনা রয়েছে (বুকতুব: সিয়াহি হাদীস ও কিতাবে)।

(উপরের সূত্রগুলো হানাফি উল্যামায় প্রচলিত; বিস্তারিত গ্রন্থীয় হদায়েত/পাতা-সংখ্যা চান তাহলে আমি নির্দিষ্ট ফিকহ-গ্রন্থ ও হাদীস নম্বর সমেত সরাসরি দেবো।)