🏠 Home

iFatwa Q&A (Hanafi Fiqh)

আমার ঘুম হয় না আয়াতুল কুরসি আমল কুরসি, আমার প্রশ্ন হল ঘুমের জন্য কি মেডিটেশন করা যাবে
ifatwa.info অনুযায়ী হানাফি সংক্ষিপ্ত উত্তর:

হ্যাঁ, ঘুমের জন্য কিছু নির্দিষ্ট ধরনের মেডিটেশন করা জায়েজ (বৈধ), তবে শর্ত হলো এটি অবশ্যই শিরক, বিদ’আত বা ইসলামের মৌলিক বিশ্বাসের পরিপন্থী কোনো কিছু থেকে মুক্ত থাকতে হবে।

বিশদ ব্যাখ্যা:
ঘুমের জন্য মেডিটেশন বলতে যদি শ্বাস-প্রশ্বাসের দিকে মনোযোগ দেওয়া, শরীরকে শিথিল করা, মনকে অপ্রয়োজনীয় চিন্তা থেকে মুক্ত রাখা, অথবা আল্লাহ তা'আলার সৃষ্টি নিয়ে ইতিবাচক চিন্তা করা বোঝায়, তাহলে এটি কেবল জায়েজই নয়, বরং উপকারীও হতে পারে। কারণ ইসলাম স্বাস্থ্য ও সুস্থতাকে উৎসাহিত করে।

তবে, যে বিষয়গুলো থেকে অবশ্যই বিরত থাকতে হবে:
1. অমুসলিম ধর্মীয় বিশ্বাস বা আচার: যদি মেডিটেশনে কোনো অমুসলিম দেব-দেবী, মন্ত্র, প্রতীক বা এমন কোনো দর্শন জড়িত থাকে যা ইসলামের তাওহীদ (একত্ববাদ) ধারণার পরিপন্থী, তাহলে তা সম্পূর্ণরূপে হারাম হবে।
2. পূজা বা উপাসনার উদ্দেশ্য: যদি মেডিটেশনকে কোনো অমুসলিম সত্তার উপাসনা বা আধ্যাত্মিক পথ হিসেবে দেখা হয়, তাহলে তা জায়েজ নয়।
3. ইসলামী আমলের বিকল্প ভাবা: এটি যেন আয়াতুল কুরসি, যিকির, দু'আ বা অন্যান্য সুন্নাহসম্মত আমলের বিকল্প হিসেবে না হয়, বরং সহায়ক হিসেবে গ্রহণ করা যেতে পারে।

সুতরাং, যদি মেডিটেশনকে শুধুমাত্র একটি মানসিক এবং শারীরিক শিথিলতার কৌশল হিসেবে ব্যবহার করা হয় যা মনকে শান্ত করে এবং ঘুমের সহায়ক হয়, এবং এর মধ্যে কোনো হারাম উপাদান না থাকে, তাহলে এটি জায়েজ।

১টি রেফারেন্স:
ইসলামে কোনো বিষয় যা শিরক বা বিদ’আত মুক্ত এবং শারীরিক বা মানসিক উপকারে আসে, তা সাধারণত জায়েজ। (দেখুন: আল-আশবাহ ওয়ান-নাযাইর, সাইয়্যিদ আহমদ হামাউই রচিত, কায়দা নং: ১ – "আল-আস্লু ফিল আশইয়া'ই আল-ইবাহাহ হাত্তা ইয়াদুল্লাহু দালিলুন আলাত তাহরিম।" অর্থাৎ, বস্তুর মৌলিক বিধান হলো বৈধতা যতক্ষণ না তার হারাম হওয়ার ব্যাপারে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়।)