🏠 Home

iFatwa Q&A (Hanafi Fiqh)

জ্বীনের আসর থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায়
ইফাতওয়া.ইনফো (Ifatwa.info) অনুযায়ী জ্বীনের আসর থেকে মুক্তির জন্য হানাফি মাযহাবের সংক্ষিপ্ত উত্তর নিচে দেওয়া হলো:

সংক্ষিপ্ত উত্তর:

ইসলাম জ্বীনের অস্তিত্ব এবং মানুষের উপর তাদের প্রভাবের সম্ভাবনাকে স্বীকার করে। জ্বীনের আসর বা উপদ্রব থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য শুধুমাত্র কুরআন ও সুন্নাহ ভিত্তিক শরয়ী রুকইয়াহ (Ruqyah) পদ্ধতি অবলম্বন করা উচিত। অন্য কোনো প্রকার যাদু, তাবিজ, জ্যোতিষবিদ্যা বা শিরকযুক্ত পদ্ধতির আশ্রয় নেওয়া কঠোরভাবে হারাম।

মুক্তির উপায়সমূহ:

1. আল্লাহর উপর পূর্ণ ভরসা (তাওয়াক্কুল): বিশ্বাস রাখতে হবে যে আরোগ্য কেবল আল্লাহর পক্ষ থেকেই আসে।
2. পাঁচ ওয়াক্ত সালাত নিয়মিত আদায় করা: সালাত আদায়কারীকে শয়তান সহজে প্রভাবিত করতে পারে না।
3. কুরআন তেলাওয়াত:
* বিশেষ করে সূরা ফাতিহা, আয়াতুল কুরসী, সূরা ইখলাস, সূরা ফালাক ও সূরা নাস নিয়মিত তেলাওয়াত করা।
* সম্ভব হলে প্রতিদিন সকালে ও সন্ধ্যায় সূরা বাকারার প্রথম কয়েকটি আয়াত, মধ্যভাগের আয়াতুল কুরসী এবং শেষের কয়েকটি আয়াত তেলাওয়াত করা।
* পুরো সূরা বাকারা বাড়িতে তেলাওয়াত করলে বা বাজানো হলে শয়তান তিন দিনের জন্য সেই ঘর থেকে পালিয়ে যায়।
4. সকাল-সন্ধ্যার দু'আ ও মাসনুন আমলসমূহ: ঘুমানোর আগে, ঘর থেকে বের হওয়ার সময়, বাথরুমে ঢোকার সময় এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে রাসূলুল্লাহ (সা.) থেকে বর্ণিত দু'আ ও যিকিরগুলো নিয়মিত পাঠ করা।
5. পাপ পরিহার করা ও ইস্তিগফার: গুনাহ থেকে বিরত থাকা এবং বেশি বেশি তাওবা-ইস্তিগফার করা। পাপ মানুষের উপর শয়তানের প্রভাব বাড়িয়ে তোলে।
6. শরয়ী রুকইয়াহ:
* নিজেই আক্রান্ত ব্যক্তি কুরআনের আয়াত তেলাওয়াত করে নিজের উপর ফুঁ দিতে পারেন।
* কোনো নেককার ও মুত্তাকী ব্যক্তি যার ইলম আছে এবং যিনি শুধু কুরআন ও সুন্নাহর ভিত্তিতে রুকইয়াহ করেন, তার মাধ্যমে রুকইয়াহ করানো যেতে পারে।
* রুকইয়াহ করার সময় পানি বা যয়তুনের তেলে নির্দিষ্ট আয়াতসমূহ পড়ে ফুঁ দিয়ে সেই পানি পান করা বা তেল মালিশ করা যেতে পারে।
* রুকইয়াহকারীর বিশ্বাস থাকতে হবে যে নিরাময় কেবল আল্লাহর হাতে।

গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা:



---

১ রেফারেন্স সহ:

রাসূলুল্লাহ (সা.) থেকে বর্ণিত অসংখ্য হাদীসে শরয়ী রুকইয়ার বৈধতা ও এর কার্যকারিতার প্রমাণ পাওয়া যায়।

হাদীস:
আবু সাঈদ খুদরী (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন: "রাসূলুল্লাহ (সা.) এর কিছু সাহাবী একটি আরব গোত্রের কাছে গেলেন, কিন্তু সেই গোত্র তাঁদের আতিথেয়তা করতে অস্বীকার করল। অতঃপর গোত্রের সরদারকে সাপ (বা বিচ্ছু) দংশন করল। গোত্রের লোকেরা সাহাবীদের বলল: তোমাদের কাছে কি কোনো ঔষধ বা মন্ত্র পাঠকারী (রাক্বী) আছে? সাহাবীরা বললেন: তোমরা আমাদের আতিথেয়তা করোনি, তাই আমরা তোমাদের সরদারকে চিকিৎসা করব না, যতক্ষণ না তোমরা এর বিনিময়ে কিছু দাও। তখন তারা এক পাল বকরীর উপর সম্মত হল। অতঃপর আমাদের এক সাহাবী সূরা ফাতিহা পড়তে লাগলেন এবং সরদারের উপর ফুঁ দিলেন। এতে সে যেন বন্ধনমুক্ত হয়ে সুস্থ হয়ে উঠল। গোত্রের লোকেরা তাদের প্রতিশ্রুত বকরী দিল। সাহাবীরা যখন রাসূলুল্লাহ (সা.) এর কাছে ফিরে এসে ঘটনাটি বললেন, তখন তিনি মুচকি হাসলেন এবং বললেন: "তোমরা কীভাবে জানলে যে সূরা ফাতিহা একটি রুকইয়াহ?" (সহীহ বুখারী, হাদীস নং: ২২৩৬, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং: ২২০১)

এই হাদীসটি স্পষ্ট প্রমাণ করে যে, আল্লাহর কিতাব (কুরআন) দিয়ে রুকইয়াহ করা বৈধ এবং এর মাধ্যমে রোগমুক্তি সম্ভব। সূরা ফাতিহা নিজেই একটি শক্তিশালী রুকইয়াহ।