0 votes
22 views
in Sawm (Fasting) by
আসসালামু আলাইকুম।  একজন গরীব বয়স্কা মহিলা উনার জীবনের কাযা রোজার সংখ্যা ভুলে গেছেন। কিছুতেই মনে করতে পারছেন না। কারণ হায়েজ ছাড়া ও উনি রোজা ভেংেগেছেন। এখন বয়সের জন্য কাজা আদায় করাও কষ্টকর। উনি কি কাফফারা আদায় করতে পারবেন?
কাফফারার ক্ষেত্রে ৬০ জন মিসকিন জমা করা কঠিন। ১ জন মিসকিন কে ৬০ দিন ২ বেলা খাওয়ানো যাবে? উনি এতটুকু সামর্থবান যে কাফফারা আদায় করতে পারবেন।

1 Answer

0 votes
by (2.5k points)
edited ago by

১ম পৃষ্টা-----------

জবাবঃ-

রোযার কাফ্ফারা সম্পর্কে হাদীসে বর্ণিত রয়েছে। যেমন হযরত আবু হুরায়রা রাযি থেকে বর্ণিত,তিনি বলেন

عن أبي هُرَيْرَةَ رَضِي اللَّهُ عَنْهُ قَالَ : ( بَيْنَمَا نَحْنُ جُلُوسٌ عِنْدَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذْ جَاءَهُ رَجُلٌ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ هَلَكْتُ قَالَ مَا لَكَ قَالَ وَقَعْتُ عَلَى امْرَأَتِي وَأَنَا صَائِمٌ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ هَلْ تَجِدُ رَقَبَةً تُعْتِقُهَا قَالَ لا قَالَ فَهَلْ تَسْتَطِيعُ أَنْ تَصُومَ شَهْرَيْنِ مُتَتَابِعَيْنِ قَالَ لا فَقَالَ فَهَلْ تَجِدُ إِطْعَامَ سِتِّينَ مِسْكِينًا قَالَ لا قَالَ فَمَكَثَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَبَيْنَا نَحْنُ عَلَى ذَلِكَ أُتِيَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ بِعَرَقٍ فِيهَا تَمْرٌ وَالْعَرَقُ الْمِكْتَلُ ( وهو الزنبيل الكبير ) قَالَ أَيْنَ السَّائِلُ فَقَالَ أَنَا قَالَ خُذْهَا فَتَصَدَّقْ بِهِ فَقَالَ الرَّجُلُ أَعَلَى أَفْقَرَ مِنِّي يَا رَسُولَ اللَّهِ فَوَ اللَّهِ مَا بَيْنَ لابَتَيْهَا يُرِيدُ الْحَرَّتَيْنِ أَهْلُ بَيْتٍ أَفْقَرُ مِنْ أَهْلِ بَيْتِي فَضَحِكَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَتَّى بَدَتْ أَنْيَابُهُ ثُمَّ قَالَ أَطْعِمْهُ أَهْلَكَ

আমরা রাসূলুল্লাহ সাঃ এর পাশে বসা ছিলাম,তখন একব্যক্তি এসে বলল,হে রাসূলুল্লাহ সাঃ আমি ধংস হয়ে গেছি।

রাসূলুল্লাহ সাঃ বললেন,তোমার কি হয়েছে?

তিনি বললেন, আমি রোযা অবস্থায় স্ত্রী সহবাস করে ফেলেছি।তখন রাসূলুল্লাহ সাঃ বললেন,তুমি কি কোনো গোলাম পাবে যাকে তুমি কাফ্ফারা হিসেবে আযাদ করবে?

সাহাবী বললেন,আমি সক্ষম নই।তখন রাসূলুল্লাহ সাঃ বললেন,তাহলে কি তুমি ধারাবাহিক দুই মাস রোযা রাখতে পারবে?

তিনি বললেন, না,এতে ও আমি সক্ষম নই।

তখন রাসূলুল্লাহ সাঃ আবার তাকে জিজ্ঞাসা করলেন,তাহলে কি তুমি ষাটজন মিসকিন আহার করাতে পারবে?তখন তিনি বললেন,না,এতে ও আমি সক্ষম নই।

রাসূলুল্লাহ সাঃ স্বস্থানেই নিরবে বসে থাকলেন।

রাবী আবু হুরায়রা রাযি বলেন,

আমরা এভাবেই আমরা স্ব স্ব স্থানে বসে রইলাম।

তৎক্ষনাৎ রাসূলুল্লাহ সাঃ এর নিকট এক আ'রাক্ব পরিমাণ খেজুর আসল,তখন রাসূলুল্লাহ সাঃ বললেন, প্রশ্নকারী কোথায়?

সাহাবী বললেন,জ্বী হুুজুর এই তো আমি।তুমি এগুলো নাও,এবং সদকাহ করো।

তখন ঐ সাহাবী বললেন হে রাসূলুল্লাহ সাঃ আমি কি আমার থেকে মুহতাজ ব্যক্তিকে সদকাহ করবো?

আল্লাহর কসম!মদিনা বাসীদের মধ্যে আমার থেকে গরীব লোক আর কেউ নেই।

এ কথা শুনে রাসূলুল্লাহ সাঃ হেসে ফেললেন, এমনকি উনার দাত বেড়িয়ে পড়ল।অতপর রাসূলুল্লাহ সাঃ ঐ সাহাবীকে বললেন তাহলে তুমি তোমার পরিবারবর্গকে আহার করাও।

{সহীহ বুখারী(ফতহুল বারী নসখা)-১৯৩৬ সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং-১৬৭১, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-৬৯৪৪, মুসনাদুল বাজ্জার, হাদীস নং-১১০৭, সহীহ ইবনে খুজাইমা, হাদীস নং-১৯৪৯, সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস নং-৩৫২৭}

كفارة الفطر، وكفارة الظهار واحدة ، وهي عتق رقبة مؤمنة أو كافرة فإن لم يقدر على العتق فعليه صيام شهرين متتابعين، وإن لم يستطع فعليه إطعام ستين مسكينا كل مسكين صاعا من تمر أو شعير أو نصف صاع من حنطة

রোযা এবং যিহার উভয়ের কাফ্ফারা একিই।

তা এই যে,

একটা গোলাম আযাদ করা চায় গোলাম ঈমানদ্বার হোক বা কাফির হোক।যদি গেলাম আযাদ করা অসম্ভব হয়,তাহলে লাগাতার দুই মাস রোযা রাখতে হবে। যদি রোযা রাখাও অসম্ভব হয়, তাহলে ষাটজন মিসকিন খাওয়াতে হবে। প্রত্যেক মিসকিনকে যব বা কিসমিস হলে এক সা' আর গম হলে অর্ধেক সা' করে দিতে হবে।

{ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া-১/২১৫}

প্রশ্নকারী প্রিয় দ্বীনী ভাই!

প্রথম প্রকার তথা গোলাম প্রথা যেহেতু বর্তমানে নেই,তাই দ্বিতীয় প্রকার তথা দুই মাস রোযা-ই আপনাকে রাখতে হবে।

হ্যা যদি শারিরিক অসুবিধার কারণে আপনি রোযা রাখতে অক্ষম হন,তখন সেক্ষেত্রে আপনি ষাটজন মিসকিনকে খানা খাওয়াতে পারবেন।

এক্ষেত্রে আপনার জন্য অপশন রয়েছে,

চাইলে আপনি ষাটজন মিসকিনকে একদিনে খাওয়াতে পারেন,বা একজন একজন করে ষাটদিনে ষাটজনকে খানা খাওয়াতে পারেন।

অথবা সেই পরিমাণ টাকা গরীব-মিসকিনদেরকে সদকাহ করে ও দিতে পারেন।

{ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়্যা-১০/১৭০}

২য় পৃষ্টা ------

হায়েয বা নেফাসের সময় ছুটে যাওয়া রোজার শুধুমাত্র কাযা আসে।কাফ্ফারা আসে না।

রমজান মাসে ফরয রোজা রেখে ইচ্ছাকৃত ভঙ্গ করলেই কাযার সাথে কাফ্ফারা আসে।

জীবনে যত ফরয রোযা পানাহারের মাধ্যমে ভঙ্গ করা হয়েছে,তার জন্য একটি কাফ্ফারা আসবে।এবং একটি কাফ্ফারা ই উক্ত সকল রোযার জন্য যথেষ্ট হবে।

ঠিক এভাবে যত রোজা সহবাসের মাধ্যমে ভঙ্গ করা হয়েছে তার জন্য একটি কাফ্ফারা আসবে।

আল্লাহ-ই ভালো জানেন।

Welcome to Islamic Fatwa, a siser concern of Islamic Online Madrasah(IOM), where you can ask any Islamic questions and receive answers from dedicated scholars.

Related questions

0 votes
1 answer 3 views
0 votes
1 answer 30 views
asked May 22 in Sawm (Fasting) by আব্দুস সালাম ইবনু আবি হানিফা
0 votes
1 answer 22 views
asked Apr 11 in Sawm (Fasting) by MD INZAMAMUL HAQUE
...