0 votes
32 views
in Faiths & Beliefs by (6 points)
আসসালামু আলাইকু,

 নির্দিষ্ট করে কোন সম্মানীয় ব্যাক্তিদের নামের আগে 'হযরত' ব্যাবহার করা যাবে। কিন্তু সাধারণ সামাজিক সম্মানিত ব্যক্তির ক্ষেত্রে হযরত ব্যবহার করা যাবেনা  এমন কোন নিয়ম ইসলামি শরীয়তে আছে কী?  "নবী-রাসুলগণ ও সাহাবায়ে কেরাম গণের নামের আগে 'হযরত'  ব্যবহার করা কি  বিদ'আত?

1 Answer

0 votes
by (19.3k points)
বিসমিহি তা'তা'আলা
জবাবঃ-

অনলাইন ভিত্তিক সর্বাধিক গ্রহণযোগ্য আরবী অভিধান ওয়েবসাইট 'আল-মা'আনী' তে হযরত শব্দের ব্যাখ্যা সম্পর্কে বর্ণিত রয়েছে-

ﺣﻀﺮﺓُ : ﻟﻘﺐ ﺍﺣﺘﺮﺍﻡ ﻭﺗﺸﺮﻳﻒ ﺑﻤﻌﻨﻰ : ﺳﻴِّﺪ ﻭﻧﺤﻮﻩ ﻳُﻌَﺒَّﺮ ﺑﻪ ﻋﻦ ﺫﻱ ﺍﻟﻤﻜﺎﻧﺔ ﻓﻲ ﺍﻟﻤﺮﺍﺳﻼﺕ ﻭﺍﻟﻤﺨﺎﻃﺒﺎﺕ ﺣﻀﺮﺓ ﺍﻷﺳﺘﺎﺫ / ﺍﻟﺪُّﻛﺘﻮﺭ ، ﺟﻤﻊ ﺣَﻀَﺮﺍﺕ

হযরত একটি সম্মানসূচক উপনাম বা শব্দ।যার অর্থ হল,সাইয়্যিদ/নেতা/সরদার ইত্যাদি।যাকে চিঠিপত্র এবং সম্মুহনের সময় উদ্দিষ্ট ব্যক্তির নামের প্রথমে ব্যবহার করা হয়।যেমন হযরত উস্তাদ বা হযরত ডাক্তার ইত্যাদি।

উইকিপেডিয়াতে হযরত শব্দের ব্যখ্যা এভাবে লিপিবদ্ধ রয়েছে যে,

হযরত ( Ḥaḍrah, আরবি : ﺣﻀﺮﺓ) হল সম্মানসূচক

আরবি উপাধি। এর শাব্দিক অর্থ "উপস্থিত"। উচ্চ মর্যাদার ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত পশ্চিমা সম্মানসূচক উপাধি যেমন "Your Honour" (বিচারকদের জন্য), "His/Her Majesty" (রাজকীয় ব্যক্তির জন্য) বা " তার পবিত্রতা" (ধর্মীয় ব্যক্তির জন্য) নামক উপাধির সাথে এর মিল রয়েছে। তুর্কি ও বসনিয়ান ভাষায়ও এই শব্দটি রয়েছে।

সুতরাং আমরা বুঝতে পারলাম যে, হযরত শব্দের অর্থ হল, মাননীয়,মহোদয় মহামান্য, সম্মানিত। বাংলা ভাষায় জনাব শব্দের যে অর্থ,হযরত শব্দেরও ঠিক সেই অর্থ।

সু-প্রিয় পাঠকবর্গ!

এটা একটা সম্মানসূচক শব্দ।সুতরা সম্মান বোঝানোর জন্য সম্মানী সকল ব্যক্তিবর্গের বেলায় এ শব্দকে ব্যবহার করা যাবে। বিশেষ কোনো শ্রেণীর সাথে এ শব্দ খাস নয়।অর্থাৎ যেভাবে 'সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম' এবং 'আলাইহিস-সালাম' নবী মুহাম্মদ সাঃ ও আম্বিয়ায়ে কেরামদের সাথে খাস, ঠিক সেভাবে এই হযরত শব্দ বিশেষ কোনো শ্রেণীর সাথে খাস নয়।বরং সকল প্রকার  সম্মানী ব্যক্তিবর্গের বেলায় উক্ত শব্দকে প্রয়োগ করা যাবে।

বিঃদ্রঃ

কেউ কেউ হযরত শব্দের অর্থ 'উপস্থিত' নির্ধারণ করে এটাকে রাসূলুল্লাহ সাঃ এর সাথে সীমাবদ্ধ করে দেন।তখন হযরত মুহাম্মাদ অর্থ হবে,নবী মুহাম্মাদ সাঃ আমাদের সামনে উপস্থিত।এমন আক্বীদা বিশুদ্ধ নয়,বরং এটা ভ্রান্ত আক্বিদা।এমন ভ্রান্ত আক্বিদা থেক আল্লাহ আমাদের সবাইকে হেফাজত করুক।আমীন।

আল্লাহ-ভালো জানেন।

উত্তর লিখনে

মুফতী ইমদাদুল হক

ইফতা বিভাগ, Iom.

পরিচালক

ইসলামিক রিচার্স কাউন্সিল বাংলাদেশ
by
জাযাকাল্লাহু খয়রান।

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন উত্তর পাওয়া যায় কিনা। না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনার দ্বীন সম্পর্কীয় প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য রয়েছে আমাদের  অভিজ্ঞ ওলামায়কেরাম ও মুফতি সাহেবগনের একটা টিম যারা ইনশাআল্লাহ প্রশ্ন করার ২৪-৪৮ ঘন্টার সময়ের মধ্যেই প্রশ্নের উত্তর দিয়ে থাকেন।

441 questions

431 answers

56 comments

282 users

13 Online Users
0 Member 13 Guest
Today Visits : 450
Yesterday Visits : 5963
Total Visits : 652753
...