0 votes
19 views
in Halal & Haram by (5 points)
edited by
আমাদের নিজস্ব একটা পুরানো বিল্ডিং আছে লিফট ছাড়া। পুরানো হওয়ায় আর লিফট না থাকায় অফিস ভাড়া দিতে চাইলেও চাহিদা বেশ কম। এখন চিন্তা করছি ওখানকার একটা রুমে নিজেরাই কাপড়ের ব্যবসা করব ইন শা আল্লা।  কিন্তু দোকানের ডেকোরেশন ও নতুন মালামাল তোলার মূলধন হাতেও নাই এবং দেয়ার মতোও কেউ নাই। এমতাবস্থায় আমি কি ইসলামী ব্যাংক বা অন্য ব্যাংক থেকে লোন নিতে পারব? সেটা কি জায়েয হবে?
বিঃদ্রঃ আমার হাজবেন্ড কোন চাকুরী করেননা।

1 Answer

0 votes
by (16.9k points)
বিসমিহি তা'আলা

জবাবঃ-

বিশিষ্ট হানাফি ফিকহ বিশারদ আল্লামা ইবনে নুজাইম লিখেন

ﻭَﻓِﻲ اﻟْﻘُﻨْﻴَﺔِ ﻭَاﻟْﺒُﻐْﻴَﺔِ: ﻳَﺠُﻮﺯُ ﻟِﻠْﻤُﺤْﺘَﺎﺝِ اﻻِﺳْﺘِﻘْﺮَاﺽُ ﺑِﺎﻟﺮِّﺑْﺢِ (اﻧْﺘَﻬَﻰ)

নিঃস্ব মুখাপেক্ষী মানুষের জন্য সুদের বিনিময়ে ঋণ গ্রহণ জায়েয।

আল-আশবাহ ওয়ান-নাযায়ের-১/৭৯;

বাহরুর রায়েক-৬/১৩৭;

সুদের মাধ্যমে ঋণ গ্রহণ হারাম।তবে জরুরত অনেক নিষিদ্ধ জিনিষকে প্রয়োজন পর্যন্ত সিদ্ধ/বৈধ করে দেয়।

তাই যদি কারো অন্য কোনো উপায় না থাকে,শত চেষ্টা করেও কোনো উপায় বের করতে না পারে,তাহলে বিলাশীতা পরিহার করে স্বাভাবিক জীবন পরিচালনার জন্য  ইস্তেগফারের সাথে লোন নিতে পারবে, জায়েয রয়েছে।

কিন্তু আপনাদের বেলায় সেটা আপাতত পপ্রযোজ্য হবে বলে মনে হচ্ছে না।কেননা আপনারা লোন ছাড়াও সাধারণ জীবন যাপন করতে সক্ষম আছেন।আপনাদের কে অনাহারে-অর্ধাহারে থাকতে হচ্ছে না।বরং কোনো রকম জীবনযাপন করে নিতে পারছেন।এবং আপনারদের বাসস্থান ও রয়েছে।বাড়া দেয়ার মত সম্পত্তিও রয়েছে।

তাই আপনাদের জন্য লোন গ্রহণ জায়েয হবে না।

বিঃদ্র:

এ বিধান শুধুমাত্র ঐ ব্যক্তির জন্য প্রযোজ্য, যে কিনা সাধারণ জীবনযাপন করতে পারছে না।এবং তার নিকট এছাড়া অন্য কোনো রাস্তাও নেই।

তাই সবার বেলায় তা প্রযোজ্য হবে না।

জদীদ ফেকহী মাসাঈল ৪/৫৫

আমাদেরকে স্বরণ রাখতে হবে যে,যেহেতু শরীয়ত ঐ ব্যক্তিকে প্রয়োজন পর্যন্ত অনুমতি দিয়েছে,বিধায় রুজিরোজগারের কোনো উপায় না থাকার শর্তে প্রয়োজন পর্যন্ত ই সুদের বিনিময়ে ঋণ গ্রহণ জায়েয হবে।

সুতরাং কাউকে ঋণ দিয়ে সুদ গ্রহণ করা জরুরতের আওতাভুক্ত নয়। কেননা এক্ষেত্রে তার কাছে কিছু টাকা আছে, অন্য কিছু না থাকলেও অন্ততপক্ষে মূলধন তো অবশিষ্ট রয়েছে।

ব্যাংক যদি টাকা না দিয়ে আপনাদেরকে বাকীতে পণ্য দিয়ে দেয়,যার মূল্য বাজার মূল্য থেকে বেশী থাকে, এবং ব্যাংক আপনাদের কিস্তিতে ঐ মূল্য বাবৎ টাকা প্রদানের সুযোগ দিয়ে দেয়,তাহলে এটা জায়েয হবে।

যেমন আরব বিশ্বের কিছু ব্যাংকে এমনটা রয়েছে।

আল্লাহ-ই ভালো জানেন।

উত্তর লিখনে

মুফতী ইমদাদুল হক

ইফতা বিভাগ, IOM.

পরিচালক

ইসলামিক রিচার্স কাউন্সিল বাংলাদেশ

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন উত্তর পাওয়া যায় কিনা। না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনার দ্বীন সম্পর্কীয় প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য রয়েছে আমাদের  অভিজ্ঞ ওলামায়কেরাম ও মুফতি সাহেবগনের একটা টিম যারা ইনশাআল্লাহ প্রশ্ন করার ২৪-৪৮ ঘন্টার সময়ের মধ্যেই প্রশ্নের উত্তর দিয়ে থাকেন।

402 questions

383 answers

45 comments

258 users

10 Online Users
0 Member 10 Guest
Today Visits : 4930
Yesterday Visits : 4653
Total Visits : 502168
...