আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসায় আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা ও করণীয় সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুন

0 votes
984 views
in হালাল ও হারাম (Halal & Haram) by (2 points)
edited by
আমাদের নিজস্ব একটা পুরানো বিল্ডিং আছে লিফট ছাড়া। পুরানো হওয়ায় আর লিফট না থাকায় অফিস ভাড়া দিতে চাইলেও চাহিদা বেশ কম। এখন চিন্তা করছি ওখানকার একটা রুমে নিজেরাই কাপড়ের ব্যবসা করব ইন শা আল্লা।  কিন্তু দোকানের ডেকোরেশন ও নতুন মালামাল তোলার মূলধন হাতেও নাই এবং দেয়ার মতোও কেউ নাই। এমতাবস্থায় আমি কি ইসলামী ব্যাংক বা অন্য ব্যাংক থেকে লোন নিতে পারব? সেটা কি জায়েয হবে?
বিঃদ্রঃ আমার হাজবেন্ড কোন চাকুরী করেননা।

1 Answer

0 votes
by (632,190 points)
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
আলহামদুলিল্লাহ!
সাধারণত সুদের বিনিময়ে ঋণ গ্রহণ নাজায়েয ও হারাম। হাদীসে সুদে ঋণ গ্রহণকারী ব্যক্তির উপর লা'নত এসেছে। তবে যদি কেউ টাকার অভাবে খিদায় মরতে বসে, অথবা মানসম্মান বিনষ্টের সমূহ সম্ভাবনা থাকে,এবং সুদে ঋণ গ্রহণ ব্যতিত সমস্ত চেষ্টা প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। যেমন ঐ ব্যক্তির নিকট গহেণা বা বিক্রয়যোগ্য কোনো জিনিষও না থাকে,এবং শতচেষ্টার পরও সুদ ব্যতিত ঋণ কোথাও পাওয়া না যায়,তাহলে এমতাবস্থায় ঐ ব্যক্তি মা'যুর হিসেবেই গণ্য হবে। তখন জরুরত পর্যন্ত ঐ ব্যক্তির জন্য সুদে ঋণ গ্রহণের রুখসত বা সুযোগ থাকবে।(জদীদ ফেকহী মাসাঈল ৪/৫৫)
বিশিষ্ট হানাফি ফিকহ বিশারদ আল্লামা ইবনে নুজাইম লিখেন
ﻭَﻓِﻲ اﻟْﻘُﻨْﻴَﺔِ ﻭَاﻟْﺒُﻐْﻴَﺔِ: ﻳَﺠُﻮﺯُ ﻟِﻠْﻤُﺤْﺘَﺎﺝِ اﻻِﺳْﺘِﻘْﺮَاﺽُ ﺑِﺎﻟﺮِّﺑْﺢِ (الأشباه والنظائر- ص:٧٩،الفن الأول،النوع الأول،القاعدۃ الخامسة،ط:دار الكتب العلمية)
নিঃস্ব মুখাপেক্ষী মানুষের জন্য সুদের বিনিময়ে ঋণ গ্রহণ জায়েয। (আল-আশবাহ ওয়ান-নাযায়ের-১/৭৯;,বাহরুর রায়েক-৬/১৩৭;গ)

وفي غمز عيون البصائر:
"قوله: يجوز للمحتاج الاستقراض بالربح، وذلك نحو أن يقترض عشرة دنانير مثلا، ويجعل لربها شيئا معلوما في كل يوم ربحا." (ص:٢٩٤،ج:١،الفن الأول،النوع الأول،القاعدۃ الخامسة،ط:دار الکتب العلمية)

কিন্তু যদি উপরে বর্ণিত জরুরত না হয়, বরং দুনিয়াবী কোনো সাধানণ জরুরত বা ব্যবস্যা বাণিজ্যর জন্য হয় কিংবা সুদ থেকে বাঁচার কোনো রাস্তা ঐ ব্যক্তির নিকট থাকে, তাহলে এমতাবস্থায় সুদে ঋণ গ্রহণ জায়েয হবে না। তখন সুদে ঋণ গ্রহণ কবিরা গোনাহ হিসেবে বিবেচিত হবে। 


وفي ’’فتاویٰ محمودیہ‘‘ :
’’سوال : زید کو روپیہ کی اشد ضرورت پیش آئی اور اس نے بہ امر مجبوری اپنی جائیدادرہن رکھ کرسود پر روپیہ قرض لے لیا، ایسی حالت میں جب کہ سخت مجبوری کی حالت میں سود پر روپیہ لیا جائے تو اس کے لیےحکم کیا ہے اور کیا زید بحالت مجبوری اس فعل سے گناہ گار ہوگا یا نہیں ؟‘‘

الجواب حامدا ومصلياً:
’’سود دینا حرام ہے ، ایسے شخص پر حدیث شریف میں لعنت آئی ہے، حرام کا ارتکاب اضطرار کی حالت میں معاف ہے، پس اگر جان کا قوی خطرہ ہے، یا عزت کا قوی خطرہ ہے، نیز اور کوئی صورت اس سے بچنے کی نہیں ، مثلاً: جائیداد فروخت ہو سکتی ہے، نہ روپیہ بغیر سود کے مل سکتا ہے تو ایسی حالت میں زید شرعاً معذور ہے،اور اگر ایسی ضرورت نہیں بلکہ کسی اور دنیوی کاروبار کے ليے ضرورت ہے، یا روپیہ بغیر سود کے مل سکتا ہے، یا جائیداد فروخت ہو سکتی ہے تو پھر سود پر قرض لینا جائز نہیں ، کبیرہ گناہ ہے ۔ فقط واللہ اعلم۔‘‘(ص:٣٠٥،ج:١٦،كتاب البيوع،باب الربوا،ط:ادارۃ الفاروق)

وفيه ايضا:
’’ البتہ اگر انسان کے پاس کھانے پینے کو کچھ نہ رہے اور بے حد درجے کی پریشانی ہو، اور بلا سود قرض نہ ملتا ہو تو بقد ر ضرورت سودی قرض لینے کی گنجائش ہے، ہر حالت میں خداوند قدوس کی طرف متوجہ ہونے کی ضرورت ہے، اس پر بھروسہ ہونا چاہیئے ، بجوز للمحتاج الاستقراض بالربح . كذافي الأشباه والنظائر، ص: ١١٥۔‘‘(ص:٣٠٧،ج:١٦،كتاب البيوع،باب الربوا،ط:ادارۃ الفاروق)



সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
সুদের মাধ্যমে ঋণ গ্রহণ হারাম। তবে জরুরত অনেক নিষিদ্ধ জিনিষকে প্রয়োজন পর্যন্ত সিদ্ধ/বৈধ করে দেয়। তাই যদি কারো অন্য কোনো উপায় না থাকে,শত চেষ্টা করেও কোনো উপায় বের করতে না পারে,তাহলে বিলাশীতা পরিহার করে স্বাভাবিক জীবন পরিচালনার জন্য  ইস্তেগফারের সাথে লোন নিতে পারবে, জায়েয রয়েছে।

কিন্তু আপনাদের বেলায় সেটা আপাতত প্রযোজ্য হবে বলে মনে হচ্ছে না। কেননা আপনারা লোন ছাড়াও সাধারণ জীবন যাপন করতে সক্ষম আছেন। আপনাদের কে অনাহারে-অর্ধাহারে থাকতে হচ্ছে না। বরং কোনো রকম জীবনযাপন করে নিতে পারছেন।এবং আপনারদের বাসস্থান ও রয়েছে।বাড়া দেয়ার মত সম্পত্তিও রয়েছে।
তাই আপনাদের জন্য লোন গ্রহণ জায়েয হবে না।

বিঃদ্র:
এ বিধান শুধুমাত্র ঐ ব্যক্তির জন্য প্রযোজ্য, যে কিনা সাধারণ জীবনযাপন করতে পারছে না।এবং তার নিকট এছাড়া অন্য কোনো রাস্তাও নেই।তাই সবার বেলায় তা প্রযোজ্য হবে না। (জদীদ ফেকহী মাসাঈল ৪/৫৫)
আমাদেরকে স্বরণ রাখতে হবে যে,যেহেতু শরীয়ত ঐ ব্যক্তিকে প্রয়োজন পর্যন্ত অনুমতি দিয়েছে,বিধায় রুজিরোজগারের কোনো উপায় না থাকার শর্তে প্রয়োজন পর্যন্ত ই সুদের বিনিময়ে ঋণ গ্রহণ জায়েয হবে।সুতরাং কাউকে ঋণ দিয়ে সুদ গ্রহণ করা জরুরতের আওতাভুক্ত নয়। কেননা এক্ষেত্রে তার কাছে কিছু টাকা আছে, অন্য কিছু না থাকলেও অন্ততপক্ষে মূলধন তো অবশিষ্ট রয়েছে।ব্যাংক যদি টাকা না দিয়ে আপনাদেরকে বাকীতে পণ্য দিয়ে দেয়,যার মূল্য বাজার মূল্য থেকে বেশী থাকে, এবং ব্যাংক আপনাদের কিস্তিতে ঐ মূল্য বাবৎ টাকা প্রদানের সুযোগ দিয়ে দেয়,তাহলে এটা জায়েয হবে।যেমন আরব বিশ্বের কিছু ব্যাংকে এমনটা রয়েছে।আল্লাহ-ই ভালো জানেন।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

by (1 point)
শুধু আরব বিশ্বে কেন  আমাদের দেশেও ইসলামী ব্যাংকে ইসলামী শরীয়াহ্ র বিভিন্ন বিনিয়োগ পদ্ধতিতে বিনিয়োগ করা হয়।
by (632,190 points)
জ্বী, বৈধ বিনিয়োগের মাধ্যমে হলে,ব্যাংক থেকে টাকা নেয়া জায়েয হবে।
by
আমি একটি ব্যাসাহী ঋন নিতে চাই
by (632,190 points)
যদি ব্যাংক লাভ লেকশানে শরীক থাকে,তাহলে তাদের কাছ থেকে আপনি টাকা নিয়ে মুদারাবা ব্যবসা করতে পারবেন।

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...