0 votes
19 views
in সালাত(Prayer) by (11 points)
আসসালামুআলাইকুম।
ইদানিং মহিলাদের মসজিদে স্বালাত আদায়ের ব্যবস্থা নিয়ে তথাকথিত মর্ডানিস্টদের মধ্যে জোর আন্দোলন চলছে। শরীয়াহ এটাকে কিভাবে দেখে?


আবার বাইরে গেলে অনেকসময় নামাজের ব্যবস্থা পাওয়া যায়না। ফলে ওয়াক্ত কাযা হয়ে যায় অনেক সময়। এক্ষেত্রে যদি মসজিদের পরিবর্তে জনবহুল অঞ্চলগুলোতে মহিলাদের স্বালাতের জন্য আলাদাভাবে ছোট পরিসরে নামাজঘরের ব্যবস্থা রাখা হয় নিরাপত্তাবেস্টনীতে ঢেকে শরীয়াহ এটাকে কিভাবে দেখে?


অনেকসময় দেখা যায় খুলাফায়ে রাশেদার পরবর্তী ইসলামী খিলাফতের রেফারেন্স অনেকেই টেনে আনে। এই টেনে আনাটা কতটুকু গ্রহণযোগ্য?

1 Answer

0 votes
by (59,960 points)
edited by
জবাব
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم 


★রাসুল সাঃ নিজে বলেছেন যে মসজিদ অপেক্ষা ঘরে নামাজ আদায় করা তাদের জন্য উত্তম। 

হযরত উম্মে  হুমাইদ আস সাআদী রাযি. থেকে বর্ণিত, একবার তিনি রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর নিকট এসে আরজ করলেন, হে আল্লাহর রাসুল! আমি আপনার পিছনে নামাজ আদায় করতে চাই। নবী করীম ﷺ উত্তরে বললেন,

 قَدْ عَلِمْتُ أَنَّكِ تُحِبِّينَ الصَّلاةَ مَعِي وَصَلاتُكِ فِي بَيْتِكِ خَيْرٌ لَكِ مِنْ صَلاتِكِ فِي حُجْرَتِكِ وَصَلاتُكِ فِي حُجْرَتِكِ خَيْرٌ مِنْ صَلاتِكِ فِي دَارِكِ وَصَلاتُكِ فِي دَارِكِ خَيْرٌ لَكِ مِنْ صَلاتِكِ فِي مَسْجِدِ قَوْمِكِ وَصَلاتُكِ فِي مَسْجِدِ قَوْمِكِ خَيْرٌ لَكِ مِنْ صَلاتِكِ فِي مَسْجِدِي قَالَ فَأَمَرَتْ فَبُنِيَ لَهَا مَسْجِدٌ فِي أَقْصَى شَيْءٍ مِنْ بَيْتِهَا وَأَظْلَمِهِ فَكَانَتْ تُصَلِّي فِيهِ حَتَّى لَقِيَتْ اللَّهَ عَزَّ وَجَلَّ

‘আমি ভালো করেই জানি, তুমি আমার পিছনে নামাজ আদায় করতে চাও। কিন্তু তোমার জন্য তোমার রুমে নামাজ আদায় করা অন্য রুমে আদায় করার চেয়ে উত্তম। আর তোমার ঘরের কোনো রুমে আদায় করা বাড়িতে আদায় করার চেয়ে উত্তম। আর তোমার  বাড়িতে নামাজ আদায় করা কওমের (এলাকার ) মসজিদে আদায় করার চেয়ে উত্তম। আর তোমার কওমের (এলাকার ) মসজিদে নামাজ আদায় করা আমার পিছনে নামাজ আদায় করার চেয়ে উত্তম। এরপর ঐ মহিলা তার অন্ধকার কুঠরিতে নামাজের জন্য জায়গা নির্ধারণ করে নেয়। এবং মৃত্যু পর্যমত সেখানেই নামাজ আদায় করতে থাকে।’ (মুসনাদে আহমাদ ৩৭/৪৫)
,
★শরীয়তের বিধান হলো মহিলাদের মসজিদে জামাআতের সহিত নামাজ আদায়ের জন্য যাওয়া মাকরুহে তাহরিমি। 
(কিতাবুন নাওয়াজেল ৪/২৪৮)

আল্লাহ তা'আলা বলেন,

ﻭَﻗَﺮْﻥَ ﻓِﻲ ﺑُﻴُﻮﺗِﻜُﻦَّ ﻭَﻟَﺎ ﺗَﺒَﺮَّﺟْﻦَ ﺗَﺒَﺮُّﺝَ ﺍﻟْﺠَﺎﻫِﻠِﻴَّﺔِ ﺍﻟْﺄُﻭﻟَﻰ ﻭَﺃَﻗِﻤْﻦَ ﺍﻟﺼَّﻠَﺎﺓَ ﻭَﺁﺗِﻴﻦَ ﺍﻟﺰَّﻛَﺎﺓَ ﻭَﺃَﻃِﻌْﻦَ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﻭَﺭَﺳُﻮﻟَﻪُ ﺇِﻧَّﻤَﺎ ﻳُﺮِﻳﺪُ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻟِﻴُﺬْﻫِﺐَ ﻋَﻨﻜُﻢُ ﺍﻟﺮِّﺟْﺲَ ﺃَﻫْﻞَ ﺍﻟْﺒَﻴْﺖِ ﻭَﻳُﻄَﻬِّﺮَﻛُﻢْ ﺗَﻄْﻬِﻴﺮًﺍ

তরজমাঃ তোমরা গৃহাভ্যন্তরে অবস্থান করবে-মূর্খতা যুগের অনুরূপ নিজেদেরকে প্রদর্শন করবে না। নামায কায়েম করবে, যাকাত প্রদান করবে এবং আল্লাহ ও তাঁর রসূলের আনুগত্য করবে। হে নবী পরিবারের সদস্যবর্গ। আল্লাহ কেবল চান তোমাদের থেকে অপবিত্রতা দূর করতে এবং তোমাদেরকে পূর্ণরূপে পূত-পবিত্র রাখতে।(সূরা-আহযাব-৩৩)

★আয়েশা রাযি. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
لَوْ أَدْرَكَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ مَا أَحْدَثَ النِّسَاءُ لَمَنَعَهُنَّ كَمَا مُنِعَتْ نِسَاءُ بَنِي إِسْرَائِيلَ
‘যদি রাসুলুল্লাহ ﷺ বর্তমানকালের মহিলাদের অবস্থা দেখতেন তাহলে তাদেরকে মসজিদে আসতে নিষেধ করতেন। যেমন নিষেধ করা হয়েছিল বনি ইসরাইলের মহিলাদেরকে।’ (সহীহ বুখারী ১/২৯৬)

★আবু আমর শাইবানি বলেন, আমি আব্দুল্লাহ ইবন মাসউদ রাযি.কে দেখেছি, তিনি জুমার দিন মহিলাদেরকে মসজিদ থেকে বের করে দিতেন এবং বলতেন, আপনারা বের হয়ে যান। আপনাদের ঘরই আপনাদের জন্য উত্তম। 
(আলমুজামুল কাবির ৯৪৭৫, মজমাউযযাওয়াইদ ২/৩৫) আল্লামা হাইছামি বলেন, এই রেওয়ায়তের সকল বর্ণনা কারী সিকাহ-নির্ভরযোগ্য।

★জুবাইর ইবন আওয়াম রাযি. তাঁর পরিবারের কোন নারিকে ঈদের জামাতে যেতে দিতেন না। ( মুসান্নাফ ইবন আবি শাইবাহ ৫৮৪৬)
,

عن أم سلمۃ رضي اللّٰہ عنہا عن رسول اللّٰہ صلی اللّٰہ علیہ وسلم قال: خیر مساجد النساء قعر بیوتہن۔ (مسند أحمد ۶؍۲۹۷، الترغیب والترہیب مکمل ۹۳ رقم: ۵۱۴)

সারমর্মঃ  মহিলাদের জন্য নিজ রুমের এক কোনায় নামাজ পড়া  উত্তম।

وعن عبد اللّٰہ عن النبي صلی اللّٰہ علیہ وسلم قال: صلاۃ المرأۃ في بیتہا أفضل من صلا تہا في حجرتہا، وصلا تہا في مخدعہا أفضل من صلا تہا في بیتہا۔ (سنن أبي داؤد ۱؍۸۴ / باب ما جاء في خروج النساء إلی المسجد)

সারমর্মঃ  মহিলাদের জন্য নিজ রুমের এক কোনায় নামাজ পড়া নিজ বাড়িতে নামাজ পড়া উত্তম।
আর নিজ বাড়িতে নামাজ পড়া থেকে উত্তম হলো ঘরের প্রকোষ্ঠে নামাজ পড়া।

وکرہ لہم حضور الجماعۃ إلا للعجوز في الفجر والمغرب والعشاء والفتویٰ الیوم علی الکراہیۃ في کل الصلوات لظہور الفساد کذا في الکافي۔ (الفتاوی الہندیۃ ۱؍۹۸ کوئٹہ، درمختار مع الشامي ۲؍۳۰۷ زکریا، البحر الرائق ۱؍۳۵۸ کوئٹہ، بدائع الصنائع ۱؍۳۸۸ زکریا، ہدایۃ ۱؍۱۲۶ دیوبند، العنایۃ علی ہامش فتح القدیر ۱؍۳۶۵ دار الفکر بیروت، قدوري ۳۹، فتاویٰ محمودیہ میرٹھ ۹؍۴۴۱، ڈابھیل ۶؍۴۷۵)

মহিলাদের জন্য জামাআতে উপস্থিত হওয়া মাকরুহ,তবে বৃদ্ধা মহিলাদের জন্য ফজর,মাগরিব,ইশার নামাজে  অংশগ্রহন মাকরুহ নয়।
তবে বর্তমানে ফেতনা ফাসাদের কারনে সব নামাজেই সকল মহিলাদের উপস্থিতি মাকরুহ।   

والفتویٰ الیوم علی الکراہۃ في الصلوات کلہا لظہور الفساد۔ (بذل المجہود ۱؍۳۱۹ إمدادیہ ملتان) 

বর্তমানে ফেতনা ফাসাদের কারনে সব নামাজেই সকল মহিলাদের উপস্থিতি মাকরুহ।   

أن خروجہن إلی الجماعۃ سبب الفتنۃ والفتنۃ حرام ۔( بدائع الصنائع ۱؍۳۸۸ زکریا)

মহিলাদের জন্য জামাআতে উপস্থিত হওয়া,ফিতনার কারন।
আর ফিতনা হারাম।
,
★কিন্তু প্রশ্ন আসে যে তাহলে রাসুল সাঃ, খুলাফায়ে রাশেদাহ এর যামানায় মহিলাদের মসজিদে যাওয়ার অনুমতি কেনো ছিলো?
 
শায়েখ উমায়ের আল কোব্বাদী সাহেব দাঃবাঃ বলেছেন,
মহিলাদের উপস্থিত হওয়ার মুখ্য উদ্দেশ্য ছিল, তালীম গ্রহন করা। তথা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে নিত্যনতুন আদেশ নিষেধ নাযিল হতো তা যেন পুরুষ মহিলা সকলে সমভাবে জানতে পারে সে কারণে তাদেরও উপস্থিত হওয়ার অনুমতি ছিল।

এই অনুমতিটাও ছিল অনেক কঠোর শর্ত সাপেক্ষে। 
যথা-
(ক) পরিপূর্ণ পর্দাসহ গোটা শরীর আবৃত অবস্থায় বের হবে।
 (খ) ঝনঝনানিপূর্ণ অলঙ্কার পরে বের হতে পারবে না। 
(গ) সাজগোজ ও সুগন্ধি সহ বের হতে পারবে না। 
(ঘ) অঙ্গভঙ্গি করে চলতে পারবে না। 
(ঙ) পুরুষদের ভিড় এড়িয়ে রাস্তার একপাশ হয়ে চলবে। 
(চ) অপ্রয়োজনে পরপুরুষের সঙ্গে কথা বলতে পারবে না। 
(ছ) সবচে’ বড় বিষয় হল, তাদের এ বের হওয়াটা ফেতনার কারণ হতে পারবে না। (আবু দাউদ হাদিস নং ৫৬৫, বযলুল মাজহূদ ৪/১৬১)
,
★সুতরাং  কোনো মহিলা যদি শুধুমাত্র দেখার জন্য বা বুঝার জন্য এক ওয়াক্ত নামায মসজিদে পড়তে চায়,বা সফর ইত্যাদি অবস্থায় মসজিদে নামাজ পড়তে চায়, এবং শরীয়তের সমস্ত বিধান মেনে মসজিদে যেতে চায়,তাহলে মসজিদে আদায়কৃত নামাযও আদায় হবে।এবং কোনো গোনাহ হবে না।তবে সর্বদা মসজিদে পড়া যাবে না।

আরো জানুনঃ 

★জনবহুল অঞ্চলগুলোতে মহিলাদের স্বালাতের জন্য আলাদাভাবে নিরাপত্তাবেস্টনীতে ঢেকে ছোট পরিসরে নামাজঘরের ব্যবস্থা করা হয়,
তাহলেও উপরোক্ত  শর্তের ভিত্তিতে নামাজ আদায় করতে পারবে। 
,
অর্থাৎ সর্বদায় সকলেই যেতে পারবেনা।
শুধু সফররত মহিলারা যাবে,পরিপূর্ণ পর্দা মেনে যাবে,অবস্থান করবে।
তার সাথে নিরাপত্তার জন্য মাহরাম পুরুষও থাকবে।   
জামাআতের সহিত নামাজ পড়বেনা,একাকী নামাজ পড়বে।
কোনো ফেতনার আশংকা থাকা যাবেনা।  


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

ﻓَﺎﺳْﺄَﻟُﻮﺍْ ﺃَﻫْﻞَ ﺍﻟﺬِّﻛْﺮِ ﺇِﻥ ﻛُﻨﺘُﻢْ ﻻَ ﺗَﻌْﻠَﻤُﻮﻥَ অতএব জ্ঞানীদেরকে জিজ্ঞেস করো, যদি তোমরা না জানো। সূরা নাহল-৪৩

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন উত্তর পাওয়া যায় কিনা। না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন।

Related questions

...