0 votes
160 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (58 points)
edited by
১। গিবত কোনগুলো?
২। ইমোজি ব্যবহার করা কি হারাম?

৩। এতিম সন্তান কি কাউকে বাবা মা বলে ডাকতে কি পারবেনা?
৪। এতিম সন্তান কে দুধ খাওয়ালে কি সে নিজের সন্তানের দুধ ভাই বোন হয়ে যাবে?  তখন কি তাদের উভয়ের বিয়ে হারাম হয়ে যাবে?

যদি কোনো ব্যক্তি ৩ বছর বয়সের কোনো এতিম কে পায় ও তাকে লালনপালন এর সিদ্ধান্ত নেই তখন তাকে বুকের দুধ খাওয়ালে কি গুনাহ হবে? যেহেতু শরীয়তে ২ বছরের পর দুধ খাওয়ানো নিষেধ!

৭। সামীর জন্যে কি ফেসিয়াল, চুল সোজা করা যাবে?

৮। একটা সুন্নত অনুযায়ী বিয়ে করতে গেলে তাতে সর্বোচ্চ কত বাংলাদেশি টাকা খরচ করা উচিত?
১০। রাসুল (স) ও মা আয়েশার বিয়ের মোহরানা কত টাকা ছিল বাংলাদেশি টাকায়?

১১। কোনো কথা কাউকে বললে বদনজর লেগে যাবে এটা কি সত্যি?

১২। ইসলামে নাকি মুখের উপর প্রশংসা করা উচিত না কারণ এতে অহংকার বেরে যাবে এই নিয়ে বিস্তারিত জানতে চাই
১৩। মাযহাব কি?

১৪। রব্বাতুল বাইত কি?

1 Answer

0 votes
by (283,200 points)
edited by
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
(১)কোনো মুসলমানের অগোচরে তার এমন বিষয় নিয়ে আলোচনা সমালোচনা করা, যা শুনলে সে তা অপছন্দ করবে।তবে যদি কারো সম্বন্ধে এমন কোনো আলোচনা হয়,যা তার মান-মর্যাদাকে কমাবে না এবং যা কারো মন্দ আলোচনাও হবে না।এমন আলোচনা গীবতের আওতাধীন হবে না।বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন-https://www.ifatwa.info/1715

(২)যদি emoji এর পূর্ণ অবয়ব তথা emoji তে ব্যবহৃত প্রাণীর মাথা,মুখ,চোখ,নাক,কান ইত্যাদি স্পষ্টভাবে বুঝা যায়,তাহলে সেগুলোকে ব্যবহার করা যাবে না।কেননা এগুলো হাদীসে বর্ণিত নিষিদ্ধ ছবির অন্তর্ভুক্ত। কিন্তু যদি চোখ, মুখ ইত্যাদি অঙ্গগুলো স্পষ্টত বুঝা না যায়, তাহলে সেগুলোকে ব্যবহার করা যাবে। কেননা, এগুলোকে ‘প্রাণীর ছবি’ বলা যাবে না বরং খুব বেশী এগুলোকে আঁকিবুকি, চিহ্ন বা কিছু রেখা ইত্যাদি ভাবা হবে। তবে যথাসম্ভব এ সব ব্যবহার না করাই শ্রেয়।ভিজিট করুন-https://www.ifatwa.info/974

(৩)নিজের নসবকে নিজ বাবা ব্যতীত অন্য কারো দিকে সম্বন্ধযুক্ত করা যাবে না।শরীয়তে এটা নিষিদ্ধ। তবে নিকটাত্মীয় সম্মানী বৃদ্ধকে বাবা বলে ডাকা যাবে। এক্ষেত্রে আল্লাহ তা'আলার বাণীকে পেশ করা যায়।
قَالُواْ نَعْبُدُ إِلَـهَكَ وَإِلَـهَ آبَائِكَ إِبْرَاهِيمَ وَإِسْمَاعِيلَ وَإِسْحَقَ إِلَـهًا وَاحِدًا وَنَحْنُ لَهُ مُسْلِمُونَ
তারা বললো, আমরা তোমার পিতৃ-পুরুষ ইব্রাহীম, ইসমাঈল ও ইসহাকের উপাস্যের এবাদত করব। তিনি একক উপাস্য।(সূরা বাকারা-১৩১)
 
দেখেন উক্ত আয়াতে আল্লাহ তা'আলা, ইসমাঈল আঃ কে ইয়াকুব আঃ এর পিতা বলছেন।অথচ ইসমাঈল আঃ হলেন, ইয়াকুব আঃ এর চাচা।এজন্য বলা হয় যে, প্রত্যেক সম্মানী বৃদ্ধ নিকটবর্তীকে বাবা বলে ডাকা যায়। বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন-https://www.ifatwa.info/1778

সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
শশুড়-শাশুড়িকে আব্বা-আম্মা বলে ডাকা যাবে। তবে কাউকে নিজের মা বা বলে পরিচয় দেওয়া কখনো জায়েয হবে না। 

(৪) ২.৫ বছরের এতিম বা যেকোনো শিশু বাচ্ছাকে দুধ খাওয়ালে সে শিশু উক্ত মহিলার দুধ সন্তান হয়ে যাবে। সুতরাং যে মহিলা দুধ খাওয়াবে, ঐ মহিলার সন্তানের সাথে ঐ দুধ শিশুর বিয়ে শাদি হারাম হয়ে যাবে। যদি কোনো ব্যক্তি ৩ বছর বয়সের কোনো এতিম কে পায় ও তাকে লালনপালন এর সিদ্ধান্ত নেয়, তখন তাকে বুকের দুধ খাওয়ালে গুনাহ হবে । কেননা শরীয়তে ২ বছর মতান্তর আড়াই বছর পর দুধ খাওয়ানো নিষেধ। তিন বছর পর দুধ খাওয়ালে উক্ত দুধ দ্বারা হুরমত প্রমাণিত হবে না। 

(৫) চেহারার সাথে সাথে মিলিত সামান্য চুল দেখানো যাবে। তবে ধোকা দেওয়ার পর্যায়ে যাওয়া যাবে না।  

(৬) ডাক্তারের শরণাপন্ন হন।পায়খানা নরম হওয়ার জন্য চিকিৎসা করাতে থাকুন।

(৭) স্বামীকে খুশি করার জন্য ফেসিয়াল, চুল সোজা করা যেতে পারে।

(৮) বিয়ের জন্য খরচ শুধুমাত্র মহরের টাকা। এছাড়া আর কোনো খরচ নাই। বাদবাকী খরচ পরিবেশ পরিস্থিতি অনুযায়ী হয়ে থাকে। মহরে ফাতেমি মুস্তাহাব। মহরে ফাতেমির পরিমাণ হল,১৩১ তুলা রুপার  মূল্য।

(৯) বিয়ের খরচ কমিয়ে রাখা ভালো। পরিবেশ পরিস্থিতি অনুযায়ী কমবেশ ধর্তব্য হবে। আপনার বিবরণ অনুযায়ী উল্লিখিত খরচ বেশীই মনে হচ্ছে। তাই কিছু কমিয়ে করার পরামর্শ দিবো।

(১০) রাসূলুল্লাহ সাঃ এর বিবিগণের মহর ৫০০দিরহাম তথা ১৩১তোলা রূপা ছিলো। শুধুমাত্র উম্মে হাবিবা রাযি এর মহর একটু বেশী ছিলো।
عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، أَنَّهُ قَالَ سَأَلْتُ عَائِشَةَ زَوْجَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم كَمْ كَانَ صَدَاقُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَتْ كَانَ صَدَاقُهُ لأَزْوَاجِهِ ثِنْتَىْ عَشْرَةَ أُوقِيَّةً وَنَشًّا . قَالَتْ أَتَدْرِي مَا النَّشُّ قَالَ قُلْتُ لاَ . قَالَتْ نِصْفُ أُوقِيَّةٍ . فَتِلْكَ خَمْسُمِائَةِ دِرْهَمٍ فَهَذَا صَدَاقُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لأَزْوَاجِهِ.
আবূ সালামাহ ইবনু আবদুর রহমান (রহঃ) বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণী আয়িশাহ (রাযিঃ) কে জিজ্ঞেস করলাম, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর বিবাহে মাহর কী পরিমাণ ছিল? তিনি বললেন, তার বিবিগণের মাহরের পরিমাণ ছিল বারো উকিয়্যাহ্ ও এক নাশ। তিনি বললেন, তুমি কি জান এক নাশ এর পরিমাণ কতটুকু? আমি বললাম, না। তিনি বললেন, এক নাশ এর পরিমাণ হল আধা উকিয়্যাহ। সুতরাং মোট হল পাঁচশত দিরহাম। এ ছিল রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সহধর্মিণীগণের মাহর। (ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৩৩৫৪, ইসলামীক সেন্টার ৩৩৫৩)সহীহ মসলিম-১৪২৬)

সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
আল্লাহর রাসূল সাঃ এর বিবিগণের মহর ছিলো , ৫০০ দিরহাম। যা ১৪০ রিয়ালের সমপরিমাণ। আর রাসূলুল্লাহ সাঃ এর মেয়েদের মহর ছিলো, ৪০০ দিরহাম রোপা। যা ১১০ দিরহাম রুপার সমমূ্ল্যর। 

(১১) কোনো কথা কাউকে বললে বদনজর লেগে যাবে কথাটা বিশুদ্ধ নয়।

(১২) কারো সম্মুখে তার প্রশংসা করা জায়েয হবেনা।

(১৩) মাযহাব হল,কুরআন হাদীসের আলোকে কারো শরয়ী ব্যখ্যাকে অনুসরণ করা।

(১৪) রাব্বতুল বাইত অর্থ- গৃহিণী।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করলে ভালো হয়। অন্যদিকে প্রতিমাসে একাধিকবার আমাদের মুফতি সাহেবগন জুমের মাধ্যমে সরাসরি প্রশ্নের উত্তর দিয়ে থাকেন। সেই ক্লাসগুলোতেও জয়েন করার জন্য অনুরোধ করা গেল। ক্লাসের সিডিউল: fb.com/iomedu.org

Related questions

...