0 votes
15 views
in Halal & Haram by (22 points)
edited by
কেউ যদি টাকা ছাড়া শুধু মাত্র বিনোদনের জন্য তাস খেলে তাহলে কি তা হারাম হবে?

1 Answer

0 votes
by (14.3k points)
edited by
জবাবঃ-



খেলাধুলা ও চিত্তবিনোদন সম্পর্কে শরীয়তের বিধি-বিধান একটু ব্যাখ্যা সংবলিত।

কিছু জায়েয এবং অধিকাংশই বিভিন্ন কারণে নাজায়েজ ও হারাম।

সুতরাং এ সম্পর্কে পুরোপুরি ধারণা নিতে হলে প্রথমে আমাদেরকে আনুসাঙ্গিক মৌলিক দু-একটি বিষয় অনুধাবন করতে হবে।

সময়ের গুরুত্ব ও মূল্যায়ন-

মানুষের জন্ম থেকে মৃত্যু, ও পৃথিবীর আদি থেকে
প্রথমে আমাদের স্বরণ করা দরকার যে,"সময়/টাইম" মানুষের জীবনের অত্যন্ত দামী ও মূল্যবান একটি পুঁজি।

কেউ চাইলেও সে তার সময়কে আটকে রাখতে পারে না।

এজন্য আল্লাহ তা'আলা বিভিন্ন স্থানে "সময়" এর ক্বসম খেয়ে মানুষকে সময়ের মূল্যায়নের প্রতি উৎসাহিত করেছেন।

আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ

ﻭَﺍﻟْﻌَﺼْﺮِ ﺇِﻥَّ ﺍﻟْﺈِﻧﺴَﺎﻥَ ﻟَﻔِﻲ ﺧُﺴْﺮٍ

কসম যুগের (সময়ের),নিশ্চয় মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত।

সময় যখন মানব জীবনের সর্বোৎকৃষ্ট পুঁজি, তাই এ পুঁজির ব্যবসায়ীকে অত্যন্ত চালাক ও চতুর হতে হবে।সতর্কভাবে প্রতিটা পদক্ষেপ নিতে হবে।

যেমন জনৈক বুযুর্গ বরফ বিক্রেতার দোকানে গিয়ে সূরা আছরের তাফসীর বুঝতে সক্ষম হয়েছিলেন।তিনি দেখলেন সামান্য উদাসীন হলেই তার পুঁজি পানি হয়ে বিনষ্ট হয়ে যায়।এ কারণেই আয়াতে শপথ করে বলা হয়েছে,ধ্বংসের কবল থেকে আত্মরক্ষার্থে বস্তু চতুষ্টয় সম্বলিত ব্যবস্থাপত্র ব্যবহারে মানুষ যেন সামান্য ও গাফিল না হয়।

জীবনের প্রতিটি মূহুর্তকে যেন সে সঠিকভাবে কাজে লাগায়।

একজন সফল মানুষ বলতে এমন এক ব্যক্তিকে বুঝানো হয় যে জিন্দেগির সময়গুলোকে স্বাভাবিক নিয়মে উপযোক্ত ক্ষেত্রে ব্যয় করে এবং অনর্থক কাজ থেকে বেছে থাকে।

এ মৌলিক বিষয়ের প্রতিই কুরআনুল কারীম বিভিন্ন স্থানে গুরুত্ব দিয়েছে এবং ঐ শ্রেণীর মানুষদের প্রতি নিন্দা করেছে যারা জীবনের মূল লক্ষ্যকে ভুলে গিয়ে পুরো জীবনকে খেলা ও তামাশার পাত্র বানিয়েছে......

আল্লাহ তা'লা বলেনঃ

ﻭَﻣِﻦَ ﺍﻟﻨَّﺎﺱِ ﻣَﻦ ﻳَﺸْﺘَﺮِﻱ ﻟَﻬْﻮَ ﺍﻟْﺤَﺪِﻳﺚِ ﻟِﻴُﻀِﻞَّ ﻋَﻦ ﺳَﺒِﻴﻞِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺑِﻐَﻴْﺮِ ﻋِﻠْﻢٍ ﻭَﻳَﺘَّﺨِﺬَﻫَﺎ ﻫُﺰُﻭًﺍ ﺃُﻭﻟَﺌِﻚَ ﻟَﻬُﻢْ ﻋَﺬَﺍﺏٌ ﻣُّﻬِﻴﻦٌ

একশ্রেণীর লোক আছে যারা মানুষকে আল্লাহর পথ থেকে গোমরাহ করার উদ্দেশে অবান্তর কথাবার্তা সংগ্রহ করে অন্ধভাবে এবং উহাকে নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করে। এদের জন্য রয়েছে অবমাননাকর শাস্তি।

(সূরা লুকমান-০৬)

ﻓَﺬَﺭْﻫُﻢْ ﻳَﺨُﻮﺿُﻮﺍ ﻭَﻳَﻠْﻌَﺒُﻮﺍ ﺣَﺘَّﻰ ﻳُﻠَﺎﻗُﻮﺍ ﻳَﻮْﻣَﻬُﻢُ ﺍﻟَّﺬِﻱ ﻳُﻮﻋَﺪُﻭﻥَ

অতএব, তাদেরকে বাকচাতুরী ও ক্রীড়া-কৌতুক করতে দিন সেই দিবসের সাক্ষাত পর্যন্ত, যার ওয়াদা তাদেরকে দেয়া হয়।

(সূরা যুখরুফ-৮৩)

ﻭَﻟَﺌِﻦ ﺳَﺄَﻟْﺘَﻬُﻢْ ﻟَﻴَﻘُﻮﻟُﻦَّ ﺇِﻧَّﻤَﺎ ﻛُﻨَّﺎ ﻧَﺨُﻮﺽُ ﻭَﻧَﻠْﻌَﺐُ ﻗُﻞْ ﺃَﺑِﺎﻟﻠّﻪِ ﻭَﺁﻳَﺎﺗِﻪِ ﻭَﺭَﺳُﻮﻟِﻪِ ﻛُﻨﺘُﻢْ ﺗَﺴْﺘَﻬْﺰِﺅُﻭﻥَ

আর যদি তুমি তাদের কাছে জিজ্ঞেস কর, তবে তারা বলবে, আমরা তো কথার কথা বলছিলাম এবং কৌতুক করছিলাম। আপনি বলুন, তোমরা কি আল্লাহর সাথে, তাঁর হুকুম আহকামের সাথে এবং তাঁর রসূলের সাথে ঠাট্টা করছিলে?

(সূরা:তাওবাহ,৬৫)

ﻗُﻞِ ﺍﻟﻠّﻪُ ﺛُﻢَّ ﺫَﺭْﻫُﻢْ ﻓِﻲ ﺧَﻮْﺿِﻬِﻢْ ﻳَﻠْﻌَﺒُﻮﻥَ

আপনি বলে দিনঃ আল্লাহ নাযিল করেছেন। অতঃপর তাদেরকে তাদের ক্রীড়ামূলক বৃত্তিতে ব্যাপৃত থাকতে দিন।

(সূরা আল-আনআম,৯১)

ﺃَﻓَﺄَﻣِﻦَ ﺃَﻫْﻞُ ﺍﻟْﻘُﺮَﻯ ﺃَﻥ ﻳَﺄْﺗِﻴَﻬُﻢْ ﺑَﺄْﺳُﻨَﺎ ﺑَﻴَﺎﺗﺎً ﻭَﻫُﻢْ ﻧَﺂﺋِﻤُﻮﻥَ

এখনও কি এই জনপদের অধিবাসীরা এ ব্যাপারে নিশ্চিন্ত যে, আমার আযাব তাদের উপর রাতের বেলায় এসে পড়বে অথচ তখন তারা থাকবে ঘুমে অচেতন।

(সূরা আরাফ-৯৮)

ﻣَﺎ ﻳَﺄْﺗِﻴﻬِﻢ ﻣِّﻦ ﺫِﻛْﺮٍ ﻣَّﻦ ﺭَّﺑِّﻬِﻢ ﻣُّﺤْﺪَﺙٍ ﺇِﻟَّﺎ ﺍﺳْﺘَﻤَﻌُﻮﻩُ ﻭَﻫُﻢْ ﻳَﻠْﻌَﺒُﻮﻥَ

তাদের কাছে তাদের পালনকর্তার পক্ষ থেকে যখনই কোন নতুন উপদেশ আসে, তারা তা খেলার ছলে শ্রবণ করে।

(সূরা আম্বিয়া:০২)

ﺑَﻞْ ﻫُﻢْ ﻓِﻲ ﺷَﻚٍّ ﻳَﻠْﻌَﺒُﻮﻥَ

এতদসত্ত্বেও এরা সন্দেহে পতিত হয়ে ক্রীড়া-কৌতুক করছে।

(সূরা:আদ-দোখান,০৯)

ﻓَﻮَﻳْﻞٌ ﻳَﻮْﻣَﺌِﺬٍ ﻟِﻠْﻤُﻜَﺬِّﺑِﻴﻦَ ﺍﻟَّﺬِﻳﻦَ ﻫُﻢْ ﻓِﻲ ﺧَﻮْﺽٍ ﻳَﻠْﻌَﺒُﻮﻥَ

সেদিন মিথ্যারোপকারীদের দুর্ভোগ হবে,যারা ক্রীড়াচ্ছলে মিছেমিছি কথা বানায়।

(সূরা:আত্ তুর, ১১-১২)

ﻭَﺇِﺫَﺍ ﻧَﺎﺩَﻳْﺘُﻢْ ﺇِﻟَﻰ ﺍﻟﺼَّﻼَﺓِ ﺍﺗَّﺨَﺬُﻭﻫَﺎ ﻫُﺰُﻭًﺍ ﻭَﻟَﻌِﺒًﺎ ﺫَﻟِﻚَ ﺑِﺄَﻧَّﻬُﻢْ ﻗَﻮْﻡٌ ﻻَّ ﻳَﻌْﻘِﻠُﻮﻥَ

আর যখন তোমরা নামাযের জন্যে আহবান কর, তখন তারা একে উপহাস ও খেলা বলে মনে করে। কারণ, তারা নিবোর্ধ।

(সূরা:মায়িদাহ,৫৮)

ﻗَﺎﻟُﻮﺍ ﺃَﺟِﺌْﺘَﻨَﺎ ﺑِﺎﻟْﺤَﻖِّ ﺃَﻡْ ﺃَﻧﺖَ ﻣِﻦَ ﺍﻟﻠَّﺎﻋِﺒِﻴﻦَ

তারা বললঃ তুমি কি আমাদের কাছে সত্যসহ আগমন করেছ, না তুমি কৌতুক করছ?

(সূরা:আম্বিয়া,৫৫)

আরো বর্ণিত রয়েছে.......

আনআম:৭০।আনআম ৩২।মুহাম্মদ:৩৬।আনকাবুত:৬৪।জুমুআ:১১।

আয়াত সমূহের সারাংশ

খেলাধুলা সংক্রান্ত এ আয়াত সমূহের অধিকাংশ আয়াত যদিও কাফেরদের ব্যপারে অবতীর্ণ, তথাপি এ আয়াত সমূহ থেকে এ বাস্তব সত্যটি ফুটে ওঠে যে,একটি বা মাকসাদ জিন্দেগি ও খেল তামাশায় মত্ত জিন্দেগির মাঝে আসমান জমিনের তফাৎ রয়েছে।প্রথমটি আম্বিয়ায়ে কেরাম ও সালাফে সালেহীনদের উত্তম নমুনা। আর দ্বিতীয়টি কাফের ও পাপিষ্ঠদের স্বভাবের প্রতীক।

ইসলাম এ বিষয়ে জোর দেয় যে,মানুষ তার জীবনের প্রতিটি মূহূর্ত এমন কাজে ব্যয় করবে যাতে দুনিয়া ও আখেরাতের নিশ্চিত কল্যাণ রয়েছে।কমপক্ষে যেন দুনিয়া ও আখেরাতের কোনো ক্ষতি না হয়।এ জন্যই কোরআনে কারীমে মু'মিনদের উত্তম ও প্রশংসনীয় গুনাবলীর আলোচনা করতে যেয়ে বলা হয়,

ﻭَﺍﻟَّﺬِﻳﻦَ ﻫُﻢْ ﻋَﻦِ ﺍﻟﻠَّﻐْﻮِ ﻣُﻌْﺮِﺿُﻮﻥَ

যারা অনর্থক কথা-বার্তায় নির্লিপ্ত,

(মু'মিনুন-৩)
ﻭَﺇِﺫَﺍ ﻣَﺮُّﻭﺍ ﺑِﺎﻟﻠَّﻐْﻮِ ﻣَﺮُّﻭﺍ ﻛِﺮَﺍﻣًﺎ

এবং যখন অসার ক্রিয়াকর্মের সম্মুখীন হয়, তখন মান রক্ষার্থে ভদ্রভাবে চলে যায়।

(ফুরকান-৭৩)

লাহব কাকে বলে?

اللهو: ما يشغل الإنسان عما يعنيه و يهمه (مفردات القرآن للإمام الراغب)

অর্থাৎ-যে সকল বস্তু মানুষকে লক্ষণীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াবলী থেকে অমনোযোগী করে দেয় তা হলো "লাহব"।

اللعب :لعب فلان اذا كان فعله غير قاصد به مقصدا صحيحا
অর্থাৎ- খেলাধুলা ঐ সকল কাজ যাতে সঠিক কোন উদ্দেশ্য থাকে না।

اللغو: وهو كل سقط من قول او فعل فيدخل فيه الغناء واللهو و غير ذلك مما قاربه

অর্থাৎ- লাগু ঐ সকল অনর্থক কথাবার্তা ও কাজ-কর্ম যাতে গান-বাদ্য রং তামাশা ইত্যাদি বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

(কুরতুবি:১৩/৮০)

উল্লেখিত আয়াত ও হাদীস সমূহ থেকে বুঝা গেল যে, ইসলামী শরীয়তে সময়ের প্রতি যত্নশীল হওয়া ও লক্ষস্থির জীবন গঠনের নির্দেশ হয়েছে।

খেলাধুলা ও রং তামাশা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে।কিন্তু বিনোদন নয়;বরং বললে ভুল হবে না যে,যেই বিনোদনের অর্থ হলো আনন্দ ও খুশি লাভ করা। শরয়ী আনন্দ সম্ভলিত সেই বিনোদন ইসলামে কেবল অনুমোদিতই নয়;বরং এক পর্যায়ে প্রশংসনীয় ও বটে।যাতে করে শারিরিক অলসতা ও অবসাদ কেটে যায় এবং মনোবল ও উদ্দীপনা সৃষ্টি হয় আর মানুষ প্রফুল্লতার সাথে জীবনের শ্রেষ্ঠ লক্ষ্য অর্জনে মনোযোগী হতে পারে।

অলসতা, বিষণ্ণতা ও হীনমন্যতা অপছন্দনীয় এবং বৈধ আনন্দ ফুর্তি প্রশংসনীয় ও কাম্য।

এ বিষয়ক কিছু আয়াত ও হাদীস হল......

আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ

ﻭَﻣَﺎ ﺟَﻌَﻞَ ﻋَﻠَﻴْﻜُﻢْ ﻓِﻲ ﺍﻟﺪِّﻳﻦِ ﻣِﻦْ ﺣَﺮَﺝٍ
১।

তিনি ধর্মের ব্যাপারে তোমাদের উপর কোন সংকীর্ণতা রাখেননি।

{সূরা হজ্জ্ব-৭৮}

ﻳُﺮِﻳﺪُ ﺍﻟﻠّﻪُ ﺑِﻜُﻢُ ﺍﻟْﻴُﺴْﺮَ ﻭَﻻَ ﻳُﺮِﻳﺪُ ﺑِﻜُﻢُ ﺍﻟْﻌُﺴْﺮَ
২।

আল্লাহ তোমাদের জন্য সহজ করতে চান; তোমাদের জন্য জটিলতা কামনা করেন।

{সূরা:বাকারা,আয়াত-১৮৫}

৩।

ঈদের দিন কয়েকজন হাবশি লোক ঢাল ও বর্ষা নিয়ে খেলা করছিলো।এই অবস্থায়  তারা হুজুর সাঃ কে দেখে লজ্জায় সরে গেলো তখন হুজুর সাঃ বললেনঃ
: " ﺧُﺬُﻭﺍ ﻳَﺎ ﺑَﻨِﻲ ﺃَﺭْﻓَﺪَﺓَ ﺣَﺘَّﻰ ﺗَﻌْﻠَﻢَ ﺍﻟْﻴَﻬُﻮﺩُ , ﻭَﺍﻟﻨَّﺼَﺎﺭَﻯ , ﺃَﻥَّ ﻓِﻲ ﺩِﻳﻨِﻨَﺎ ﻓُﺴْﺤَﺔً "
(كتاب:ﺇﺗﺤﺎﻑ ﺍﻟﺨﻴﺮﺓ ﺍﻟﻤﻬﺮﺓ ﺑﺰﻭﺍﺋﺪ ﺍﻟﻤﺴﺎﻧﻴﺪ ﺍﻟﻌﺸﺮﺓ-رقم الحديث;5103)

হে হাবশি বালকেরা তোমরা খেলতে থাকো যেন ইহুদি ও নাসারারা জানতে পারে যে,আমাদের ধর্মে বিস্তৃতি রয়েছে।

৪।

অন্য বর্ণনায় এসেছে হুজুর সাঃ তাদেরকে বলেন-

ﺍﻟْﻬَﻮْﺍ ﻭَﺍﻟْﻌَﺒُﻮﺍ ، ﻓَﺈِﻧِّﻲ ﺃَﻛْﺮَﻩُ ﺃَﻥْ ﻳُﺮَﻯ ﻓِﻲ ﺩِﻳﻨِﻜُﻢْ ﻏِﻠْﻈَﺔٌ
(ﺍﻟﻜﺘﺐ » ﺷﻌﺐ ﺍﻹﻳﻤﺎﻥ ﻟﻠﺒﻴﻬﻘﻲ »ﺭﻗﻢ ﺍﻟﺤﺪﻳﺚ : 6042)

অর্থাৎ খেলাধুলা করতে থাক।কেননা আমি তোমাদের ধর্মে কঠোরতা দেখতে চাই না।

৫।

ঈদের দিন কয়েকজন কিশোরীকে খেলতে দেখে হযরত আবু বকর রাযি তাদেরকে বারণ করার ইচ্ছা করলেন।তখন হুজুর সাঃ বলেন-

"دعهن يا أبا بكر فإنها أيام عيد ، لتعلم اليهود أن فى ديننا فسحة ، وإنى أرسلت بالحنيفية السمحة"
হে আবু বকর!তাদের খেলতে দাও,কেননা এটা ঈদের দিন।যেন ইহুদিরা জানতে পারে যে,আমাদের দ্বীন বিস্তৃত।কেননা আমাকে এমন দ্বীনসহ প্রেরণ করা হয়েছে,যা প্রান্তিকতামুক্ত ও সহজতর।যা বাড়াবাড়ি ও শিথিলতামুক্ত মধ্যবর্তী ও সহজ দ্বীন।

মুসনাদে আহমদ;৬/১১৬-হাদিস নং২৩৩

ফতহুল বারি;২/৪৪৪

৬।

হাদীসে এসেছে

হযরত আলী রাযি বলেনঃ

روِّحوا القلوبَ ساعةً فساعةً
'তোমরা অন্তরকে মাঝেমধ্যে আনন্দ প্রফুল্লতা দান করো'

অন্য বর্ণনায় এসেছে,আলী রাযি বলেনঃ

ﻳﺮﻭﻯ ﻋﻦ ﻋﻠﻲ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ : ( ﺃﺟﻤﻮﺍ ﻫﺬﻩ ﺍﻟﻘﻠﻮﺏ، ﻭﺍﻟﺘﻤﺴﻮﺍ ﻟﻬﺎ ﻃﺮﺍﺋﻒ ﺍﻟﺤﻜــﻤﺔ، ﻓــﺈﻧﻬﺎ ﺗﻤــﻞ ﻛﻤــﺎ ﺗﻤــﻞ ﺍﻷﺑــﺪﺍﻥ )

তোমরা অন্তরকে নিজ কাজে জমিয়ে রাখো,এবং এর জন্য হেকমতের পথ খোঁজ করো।কেননা অন্তর তেমনি ক্লান্ত হয়ে ,যেভাবে শরীর ক্লান্ত হয়।

৭।

হযরত ইবনে মসউদ রাযি থেকে বর্ণিত আছে
ﻳــﺮﻭﻯ ﻋــﻦ ﺍﺑﻦ ﻣﺴﻌﻮﺩ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﺃﻧﻪ ﻗﺎﻝ : ﺃﺭﻳﺤﻮﺍ ﺍﻟﻘﻠﻮﺏ، ﻓﺈﻥ ﺍﻟﻘﻠﺐ ﺇﺫﺍ ﺃﻛﺮﻩ ﻋﻤﻲ

তিনি বলেনঃ তোমরা অন্তরকে উৎফুল্লতা দাও,কেননা যখন অন্তর ক্লান্ত হয়ে যায় তখন সে অন্ধ হয়ে যায়।

৮।

হযরত আলী রাযি বলেন,রাসূলুল্লাহ সাঃ কোনো সাহাবীকে বিষণ্ণ দেখলে খুশী করে দিতেন।

একবার হযরত আবু-বকর রাযি রাসূলুল্লাহ সাঃ কে চিন্তিত দেখে নিজের একটি ঘটনা শুনিয়ে খুশী করে দেন।

৯।

অন্য এক বর্ণনায় এসেছে, (লম্বা হাদীসের শেষাংশ)

এবং খুশী থাকা তো আল্লাহর বিশেষ নিয়ামত সমূহের অন্যতম।

এ সকল বর্ণনা থেকে আমরা বুঝলাম সহাস্য চেহারা, প্রফুল্লতা ও উদ্যম ইসলামের দৃষ্টিতে পছন্দনীয়।আর বদমেজাজ,অলসতা,শ্রমবিমুখতা অপছন্দনীয় অভ্যাস।

এ জন্য সীমারেখার ভেতর উপযুক্ত খেলাধুলার ব্যাপারে ইসলাম অনুমতি প্রদান করেছে।

০৩-খেলাধুলা ও বিনোদন-শরয়ী সীমারেখা

হাদীসে পছন্দনীয় ও অপছন্দনীয় কয়েকটি খেলা

ﻋَﻦْ ﻋُﻘْﺒَﺔَ ﺑْﻦِ ﻋَﺎﻣِﺮٍ , ﻗَﺎﻝَ : ﻗَﺎﻝَ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ : " ﻛُﻞُّ ﺷَﻲْﺀٍ ﻳَﻠْﻬُﻮ ﺑِﻪِ ﺍﻟﺮَّﺟُﻞُ ﺑَﺎﻃِﻞٌ ﻏَﻴْﺮَ : ﺭَﻣْﻲِ ﺍﻟﺮَّﺟُﻞِ ﺑِﻘَﻮْﺳِﻪِ ، ﻭَﺗَﺄْﺩِﻳﺒِﻪِ ﻓَﺮَﺳَﻪُ ، ﻭَﻣُﻼﻋَﺒَﺘِﻪِ ﺍﻣْﺮَﺃَﺗَﻪُ ، ﻓَﺈِﻧَّﻬُﻦَّ ﻣِﻦَ ﺍﻟْﺤَﻖِّ "

অর্থাৎ-তিনটি খেলা ছাড়া মানুষের প্রত্যেক খেলাই বেকার ও অনর্থক।খেলা তিনটি হলো,১. তিরন্দাজী করা ২.ঘোড়া প্রশিক্ষণ দেয়া ৩.নিজ স্ত্রীর সাথে খেলা করা। কারণ এই খেলা তিনটি সঙ্গত তথা অর্থবহ।

(মুসনাদে আহমদ,খন্ড: ৪ পৃষ্টা:১৪৪)

কানযুল উম্মালে উক্ত হাদীসটি এভাবে বর্ণিত হয়েছে,

ﻣَﺎ ﻣِﻦْ ﺷَﻲْﺀ ﺗَﺤْﻀﺮﻩ ﺍﻟﻤﻼﺋﻜﺔ ﻣﻦ ﺍﻟﻠﻬﻮ ﺇﻻ ﺛﻼﺛﺔ ﺍﻟﺮﺟﻞ ﻣﻊ ﺇﻣﺮﺃﺗﻪ ﻭ ﺇﺟﺮﺍﺀ ﺍﻟﺨﻴﻞ ﻭ ﺍﻟﻨﻀﺎﻝ

“তিনটি ব্যতীত অন্য কোন খেলায় রহমতের ফেরেশতা অবতীর্ণ হয় না।

১. স্ত্রীর সাথে বিনোদন। ২. ঘোড়া দৌড়ান। ৩. তীরান্দাযি।”

কানযুল উম্মাল-১৫/৪১৪

কানযুল উম্মালের অপর একটি রেওয়াতে এবং জামেউস সগীরে বর্ণিত একটি হাদীসে তিনের জায়গায় চারটি খেলার কথা উল্লেখ রয়েছে রেওয়ায়েতটি হলো,

ﻛﻞ ﺷﻲﺀ ﻟﻴﺲ ﻣﻦ ﺫﻛﺮ ﺍﻟﻠﻪ ﻟﻬﻮ ﻭ ﻟﻌﺐ ﺇﻻ ﺃﻥ ﻳﻜﻮﻥ ﺃﺭﺑﻌﺔ : ﻣﻼﻋﺒﺔ ﺍﻟﺮﺟﻞ ﺇﻣﺮﺃﺗﻪ ﻭ ﺗَﺎْﺩﻳﺐ ﺍﻟﺮﺟﻞ ﻓﺮﺳﻪ ﻭ ﻣﺸﻲ ﺍﻟﺮﺟﻞ ﺑﻴﻦ ﺍﻟﻐﺮﺿﻴﻦ ﻭ ﺗﻌﻠﻴﻢ ﺍﻟﺮﺟﻞ ﺍﻟﺴﺒﺎﺣﺔ

আল্লাহ তায়ালা যিকির সম্পর্কিত নয় এমন প্রত্যেকটি জিনিস খেল-তামাশার অন্তর্ভূক্ত। তবে চারটি জিনিস ব্যতীত, ১. স্ত্রীর সাথে বিনোদন ও খেলা-ধুলা। ২. ঘোড়া দৌড়ান। ৩. লক্ষ বস্তুতে আঘাত করার জন্য যাওয়া। ৪. কাউকে সাঁতার শিখানো।”

কানযুল উম্মাল-১৫/২১১

উল্লেখিত হাদীসসমূহে যে খেলাগুলোর আলোচনা রয়েছে অন্য কয়েকটি বর্ণনায় সেগুলোর কিছুটা বিশদ বিবরণ এবং সেগুলোর প্রতি উদ্ধুদ্ধ ও করা হয়েছে।

(বিস্তারিত খেলাধুলা ও বিনোদন-শরয়ী সীমারেখা-১৮)

পূর্বোল্লিখিত খেলাসমূহে যে বৈধতার কথা বলা হয়েছে,তার অর্থ এটা নয় যে,এ সমস্ত খেলা শর্তহীন ভাবে জায়েয।বরং তা তখনই বৈধ হবে যখন তা শরয়ী সীমারেখার আওতাধীন হবে।নতুবা জায়েয হবে না।যেমন আজকালকার খেলাধুলা যা গান বাজনা সহ বেপর্দা ইত্যাদির কারণে নাজায়েয ও হারাম।

হাদীসে অপছন্দনীয় খেলাসমূহ

১। পাশা খেলা

হাদীস শরীফে রাসূলুল্লাহ সাঃ এ খেলা থেকে কঠোরভাবে নিষেধ করেছেন।

ﻋﻦ ﺳﻠﻴﻤﺎﻥ ﺑﻦ ﺑﺮﻳﺪﺓ ﻋﻦ ﺃﺑﻴﻪ ﺃﻥ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻗﺎﻝ ﻣﻦ ﻟﻌﺐ ﺑﺎﻟﻨﺮﺩﺷﻴﺮ ﻓﻜﺄﻧﻤﺎ ﺻﺒﻎ ﻳﺪﻩ ﻓﻲ ﻟﺤﻢ ﺧﻨﺰﻳﺮ ﻭﺩﻣﻪ

হযরত সুলাইমান ইবনে বুরাইদা তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন,রাসূলুল্লাহ সাঃ ইরশাদ করেন,যে ব্যক্তি পাশা খেললো,সে যেন তার হাতকে শুকুরের রক্ত মাংশ দ্বারা রাঙিয়ে নিলো।

(মুসলিম-২২৬০)

অপর এক বর্ণনায় রাসূলুল্লাহ সাঃ বলেন,

ﻭﺭﻭﻯ ﺃﺑﻮ ﺩﺍﻭﺩ ( 4938 ) ﻭﺍﺑﻦ ﻣﺎﺟﺔ ( 3762 ) ﻭﺃﺣﻤﺪ ( 19027 ) ﻭﺍﻟﺒﻴﻬﻘﻲ ( 21478 ) ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻲ ﻣُﻮﺳَﻰ ﺍﻟْﺄَﺷْﻌَﺮِﻱِّ ﺃَﻥَّ ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﻗَﺎﻝَ : ( ﻣَﻦْ ﻟَﻌِﺐَ ﺑِﺎﻟﻨَّﺮْﺩِ ﻓَﻘَﺪْ ﻋَﺼَﻰ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﻭَﺭَﺳُﻮﻟَﻪُ )
যে ব্যক্তি পাশা খেললো, সে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নাফরমানী করলো।

২.
দাবা খেলা

ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻲ ﻫُﺮَﻳْﺮَﺓَ ، ﺃَﻥّ ﺍﻟﻨَّﺒِﻲَّ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﻣَﺮَّ ﺑِﻘَﻮْﻡٍ ﻳَﻠْﻌَﺒُﻮﻥَ ﺍﻟﺸِّﻄْﺮَﻧْﺞِ ، ﻓَﻘَﺎﻝَ : " ﻣَﺎ ﻫَﺬِﻩِ ﺍﻟْﻜُﻮﺑَﺔُ ؟ ﺃَﻟَﻢْ ﺃَﻧْﻪَ ﻋَﻦْ ﻫَﺬَﺍ ؟ ﻟَﻌَﻦَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻣَﻦْ ﻓَﻌَﻞَ ﻫَﺬَﺍ "
ﺍﻟﻜﺘﺐ » ﺍﻷﻣﺮ ﺑﺎﻟﻤﻌﺮﻭﻑ ﻭﺍﻟﻨﻬﻲ ﻋﻦ ﺍﻟﻤﻨﻜﺮ ﻟﻠﺨﻼﻝ » ﺑَﺎﺏُ ﺍﻹِﻧْﻜَﺎﺭِ ﻋَﻠَﻰ ﻣِﻦْ ﻳَﻠْﻌَﺐُ ﺑِﺎﻟﺸِّﻄْﺮَﻧْﺞِ - رقم الحديث 158

হযরত আবু হুরায়রা রাযি থেকে বর্ণিত,একদা রাসূল সাঃ একটি দলের নিকট দিয়ে যাচ্ছিলেন,যারা দাবা খেলছিল।তিনি তাদেরকে লক্ষ্য করে বললেন,এ গুলো কী?

তোমাদেরকে কি এগুলো থেকে নিষেধ করিনি?

যারা এগুলো খেলে তাদেরকে আল্লাহ তা'আলা অভিসম্পাত করেন।

 ﻣَﻠْﻌُﻮﻥٌ ﻣَﻦْ ﻟَﻌِﺐَ ﺑِﺎﻟﺸِّﻄْﺮَﻧْﺞِ، ﻭَﺍﻟﻨَّﺎﻇِﺮُ ﺇِﻟَﻴْﻬَﺎ ﻛَﺎﻵﻛِﻞِ ﻟَﺤْﻢَ ﺍﻟﺨِﻨْﺰِﻳﺮِ »

ﺃﺧﺮﺟﻪ ﺍﻟﺪﻳﻠﻤﻲُّ ( ٤ / ٦٣ )

যে দাবা খেলে সে অভিশপ্ত আর এর দর্শক শুকরের গোশত ভক্ষণকারী মতো।
সাহাবায়ে কেরাম রা. দাবা খেলা থেকে স্পষ্টভাবে নিষেধ করেছেন। আর এটা সুস্পষ্ট যে, সাহাবায়ে কেরাম রা. এই নিষেধাজ্ঞা রাসূলুল্লাহ সাঃ থেকেই শুনে থাকবেন।

হযরত আলী রাযি.বলতেন, দাবা অনারবদের জুয়া। তিনি আরো বলেছেন গুনাহগার লোকেরাই দাবা খেলে। একবার তাঁর কাছে কেউ 'দাবা' সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বললেন, এ খেলা বাতিল তথা অনর্থক কাজের অন্তর্ভুক্ত।আর আল্লাহ তা'আলা বাতিলকে পছন্দ করেন না।

একদা হযরত আলী রা. দাবা খেলারত ব্যক্তিদের নিকট দিয়ে গমনকালে তাদেরকে বললেন,

 مَا هَذِهِ التَّمَاثِيلُ الَّتِي أَنْتُمْ لَهَا عَاكِفُونَ

অর্থাৎ- এ মূর্তিগুলি কী? যার পূজারী হয়ে তোমরা বসে আছো।

এ সকল হাদীস ও বর্ণনার কারণেই ইমাম আবু-হানিফা রহ. এবং অন্য কয়েকজন ইমাম দাবা খেলাকে নাজায়েয বলেছেন।যদি ও তাতে জুয়ার সংমিশ্রণ না থাকে।

আল্লামা আবু আব্দুল্লাহ কুরতুবী রহ.সূরায়ে মায়েদার ৯০নং আয়াত তথা

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنَّمَا الْخَمْرُ وَالْمَيْسِرُ وَالْأَنصَابُ وَالْأَزْلَامُ رِجْسٌ مِّنْ عَمَلِ الشَّيْطَانِ فَاجْتَنِبُوهُ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ

এর ব্যখ্যায় বলেন,

هذه الآية تدل علي تحريم اللعب بالنرد والشطرنج قمارا او غير قمار
অর্থাৎ- উক্ত আয়াত দ্বারা প্রতীয়মান হয় যে,পাশা এবং দাবা খেলা সর্বাবস্থায় হারাম।চাই তাতে জুয়া হোক বা না হোক।

৩।

তাস খেলা

এ খেলাকে ফুকাহায়ে কেরাম নিষেধ করেন।

কেননা

১.এতে ছবি থাকে

২.তা দ্বারা সাধারণত জুয়া খেলা হয়

৩.ফাসেক ফাজেরদের আ'মল

৪.এতে অস্বাভাবিক লিপ্ততা হয়

৫.বিনোদনের পরিবর্তে মানসিক অবসাদ সৃষ্টি হয়।এ খেলাটির সহীহ কোনো মাকসাদ বা উদ্দেশ্য ও থাকে না।

এতো গেলো ওই সমস্ত খেলাধুলা ও চিত্তবিনোদনের কথা, যেগুলোর আলোচনা হাদীস এবং আসারসমূহে এসেছে।কিছু "অপছন্দনীয়" এবং কিছু "পছন্দনীয়"।

সুতরাং

শরয়ী সীমারেখার ভিতরে থেকে হাদীসে পছন্দনীয় ওই সকল খেলাধুলা ও চিত্তবিনোদন জায়েয হওয়ার ব্যপারে কোনো সন্দেহ নেই।

কিন্তু এগুলো ছাড়া অন্যান্য খেলাধুলা ও বিনোদনের শরয়ী বিধান কি? এ সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা নিম্নরূপ-

১. যে খেলাধুলার ব্যপারে হাদীস বা আসারসমূহে স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা এসেছে,সেগুলো নাজায়েয।যেমন,দাবা ও পাশা খেলা,কবুতরবাজি ও প্রাণীর লড়াই ইত্যাদি।

২. যে খেলাধুলা কোন হারাম এবং গোনাহের কাজ সম্বলিত,সেই খেলাধুলা নাজায়েয হবে।এর কয়েকটি সূরত হতে পারে।যেমন,কোনো খেলায় সতর খোলা হয় বা তাতে জুয়া খেলা হয়।অথবা তাতে নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা হয়।কিংবা তাতে গান-বাদ্যর আয়োজন রয়েছে।অথবা যে খেলাধুলায় কাফেরদের অনুসরণ করা হয়।

৩. যে খেলাধুলা ফরজ ও ওয়াজিব হকের ব্যপারে উদাসীনতা সৃষ্টি করে, সে খেলাধুলা নাজায়েয হবে।কেননা যে জিনিষই মানুষকে তার ফরজ ও ওয়াজিব দায়িত্ব থেকে উদাসীন ও বেখবর রাখবে,সে জিনিষই 'লাহব'(অনর্থক কাজ) এর অন্তর্ভূক্ত হয়ে নাজায়েয হবে।

৪. যে খেলার উদ্দেশ্য নেই,উদ্দেশ্যহীন শুধু সময় কাটানোর জন্য হয় সে খেলাও নাজায়েয হবে।কেননা এতে নিজের জীবনের মহামূল্যবান সময়কে অনর্থক কাজে নষ্ট করা হয়।

(বাদায়িউস সানায়ে-৬/৪০৬)

কুরআনুল কারীমে কামিয়াব মু'মিনদের প্রশংসা করতে গিয়ে আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ ফরমান-

ﻭَﺍﻟَّﺬِﻳﻦَ ﻫُﻢْ ﻋَﻦِ ﺍﻟﻠَّﻐْﻮِ ﻣُﻌْﺮِﺿُﻮﻥ

"এরা হলো এমন লোক যারা অনর্থক কাজ থেকে বিরত থাকে"

(সূরা মু'মিনুন-৩)

অবশ্য যেসব খেলা উপরোক্ত খারাবি থেকে মুক্ত সেগুলো খেলতে শরয়ীভাবে কোনো সমস্যা নেই।যেমন ফুকাহায়ে কেরাম ও মুহাদ্দিসীনের উদ্ধৃতি থেকে স্পষ্ট বুঝে আসে।

[খেলাধুলা ও বিনোদন-শরয়ী সীমারেখা-পৃঃ৩২
শাইখুল ইসলাম তাক্বী উসমানী রাহ
ﺃﺣﮑﺎﻡ ﺍﻟﻘﺮﺁﻥ للعلامة المفتي شفيع رح 3 : -193 201

আল্লাহ-ই ভালো জানেন।

উত্তর লিখনে

মুফতী ইমদাদুল হক

ইফতা বিভাগ, IOM.

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন উত্তর পাওয়া যায় কিনা। না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনার দ্বীন সম্পর্কীয় প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য রয়েছে আমাদের  অভিজ্ঞ ওলামায়কেরাম ও মুফতি সাহেবগনের একটা টিম যারা ইনশাআল্লাহ প্রশ্ন করার ২৪-৪৮ ঘন্টার সময়ের মধ্যেই প্রশ্নের উত্তর দিয়ে থাকেন।

354 questions

332 answers

36 comments

224 users

9 Online Users
0 Member 9 Guest
Today Visits : 116
Yesterday Visits : 5511
Total Visits : 315529
...