0 votes
11 views
ago in Halal & Haram by
closed ago by
মেয়েদের জন্য পার্লারে গিয়ে সাজ গোজ করা কি জায়েয?

বিস্তারিত জানাবেন শায়েখ!
closed

1 Answer

0 votes
ago by (8.8k points)
selected ago by
 
Best answer
আল্লাহর সৃষ্টিতে পরিবর্তন-পরিবর্ধন করা হারাম।কোরআন এবং হাদীসে তাকে শয়তানের কাজ বলে সাব্যস্ত করা হয়েছে।

যা দ্বারা শয়তান মানুষদেরকে গোমরাহ করে থাকে।

যেমনঃ-

আল্লাহ তা'আলা বলেন,

ﺇِﻥ ﻳَﺪْﻋُﻮﻥَ ﻣِﻦ ﺩُﻭﻧِﻪِ ﺇِﻻَّ ﺇِﻧَﺎﺛًﺎ ﻭَﺇِﻥ ﻳَﺪْﻋُﻮﻥَ ﺇِﻻَّ ﺷَﻴْﻄَﺎﻧًﺎ ﻣَّﺮِﻳﺪًﺍ

তরজমাঃ

তারা আল্লাহকে পরিত্যাগ করে শুধুমাত্র নারীর আরাধনা করে এবং তারা শুধুমাত্র অবাধ্য শয়তানের পূজা করে।

ﻟَّﻌَﻨَﻪُ ﺍﻟﻠّﻪُ ﻭَﻗَﺎﻝَ ﻟَﺄَﺗَّﺨِﺬَﻥَّ ﻣِﻦْ ﻋِﺒَﺎﺩِﻙَ ﻧَﺼِﻴﺒًﺎ ﻣَّﻔْﺮُﻭﺿًﺎ

তরজমাঃ

আল্লাহ তা'আলা তাকে(শয়তানকে) অভিসম্পাত করেছেন।
শয়তান বললঃ আমি অবশ্যই তোমার বান্দাদের মধ্য থেকে নির্দিষ্ট অংশ গ্রহণ করব।

ﻭَﻷُﺿِﻠَّﻨَّﻬُﻢْ ﻭَﻷُﻣَﻨِّﻴَﻨَّﻬُﻢْ ﻭَﻵﻣُﺮَﻧَّﻬُﻢْ ﻓَﻠَﻴُﺒَﺘِّﻜُﻦَّ ﺁﺫَﺍﻥَ ﺍﻷَﻧْﻌَﺎﻡِ ﻭَﻵﻣُﺮَﻧَّﻬُﻢْ ﻓَﻠَﻴُﻐَﻴِّﺮُﻥَّ ﺧَﻠْﻖَ ﺍﻟﻠّﻪِ ﻭَﻣَﻦ ﻳَﺘَّﺨِﺬِ ﺍﻟﺸَّﻴْﻄَﺎﻥَ ﻭَﻟِﻴًّﺎ ﻣِّﻦ ﺩُﻭﻥِ ﺍﻟﻠّﻪِ ﻓَﻘَﺪْ ﺧَﺴِﺮَ ﺧُﺴْﺮَﺍﻧًﺎ ﻣُّﺒِﻴﻨًﺎ

তরজমাঃ

তাদপশুদেরেরকে পথভ্রষ্ট করব, তাদেরকে আশ্বাস দেব;  কর্ণ ছেদন করতে বলব এবং তাদেরকে আল্লাহর সৃষ্ট আকৃতি পরিবর্তন করতে আদেশ দেব।

(আল্লাহ তা'আলা বললেন)যে কেউ আল্লাহ-কে ছেড়ে শয়তানকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করবে,সে প্রকাশ্য ক্ষতিতে পতিত হবে।

সূরা নিসাঃ১৭-১৯।

হযরত ইবনে আব্বাস রাযি থেকে বর্ণিত ,

তিনি বলেনঃ-

ﻭﻋﻦ ﻋَﺒْﺪِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺑﻦ ﻣﺴﻌﻮﺩ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ ﻗَﺎﻝَ : ﻟَﻌَﻦَ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﺍﻟْﻮَﺍﺷِﻤَﺎﺕِ ﻭَﺍﻟْﻤُﻮﺗَﺸِﻤَﺎﺕِ ﻭَﺍﻟْﻤُﺘَﻨَﻤِّﺼَﺎﺕِ ﻭَﺍﻟْﻤُﺘَﻔَﻠِّﺠَﺎﺕِ ﻟِﻠْﺤُﺴْﻦِ ، ﺍﻟْﻤُﻐَﻴِّﺮَﺍﺕِ ﺧَﻠْﻖَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻓَﺒَﻠَﻎَ ﺫَﻟِﻚَ ﺍﻣْﺮَﺃَﺓً ﻣِﻦْ ﺑَﻨِﻲ ﺃَﺳَﺪٍ ﻳُﻘَﺎﻝُ ﻟَﻬَﺎ ﺃُﻡُّ ﻳَﻌْﻘُﻮﺏَ ، ﻓَﺠَﺎﺀَﺕْ ﻓَﻘَﺎﻟَﺖْ : ﺇِﻧَّﻪُ ﺑَﻠَﻐَﻨِﻲ ﻋَﻨْﻚَ ﺃَﻧَّﻚَ ﻟَﻌَﻨْﺖَ ﻛَﻴْﺖَ ﻭَﻛَﻴْﺖَ ، ﻓَﻘَﺎﻝَ : ﻭَﻣَﺎ ﻟِﻲ ﺃَﻟْﻌَﻦُ ﻣَﻦْ ﻟَﻌَﻦَ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢ

তরজমাঃ

“আল্লাহর অভিশাপ হোক সেই সব নারীদের উপর, যারা অন্যর দেহাঙ্গে উল্কি (ট্যাটু) অংকন করে,

এবং নিজ দেহাঙ্গে অন্যর মাধ্যমে উল্কি (ট্যাটু) করে,

এবং ভ্রু-কে চেঁছে সরু (প্লাক) করে,

ও সৌন্দর্য প্রদর্শনের মানসে দাঁতের মাঝে ফাঁক সৃষ্টি করে,অর্থাৎ এসমস্তের মাধ্যমে আল্লাহর সৃষ্টির মধ্যে পরিবর্তন আনে।(তারা অভিশপ্ত)

বনি আসাদ গোত্রীয় উম্মে ইয়াক্বুব নামী জনৈক মহিলা এ ব্যাপারে তার (ইবনে মাসউদের বর্ণনার) প্রতিবাদ করলে তিনি বলেন,

‘আমি কি তাকে অভিসম্পাত করব না, যাকে আল্লাহর রাসুল (সাঃ) অভিসম্পাত করেছেন।

এবং অন্য বর্ণনায় এসেছে........

(এবং তা আল্লাহর কিতাবে আছে?
আল্লাহ বলেছেন, "রাসুল যে বিধান তোমাদেরকে দিয়েছেন তা গ্রহন কর, আর যা থেকে নিষেধ করেছেন, তা থেকে বিরত থাকো।(-সূরা হাশরঃ৭)

[সহীহ বুখারী ৪৮৮৬নং এবং৪৬০৪নং হাদীস]

কোনো কোনো বর্ণনায় এসেছে উক্ত মহিলা ইবনে আব্বাস রাযিঃকে অভিযোগ করল, এগুলা তো আপনার স্ত্রীও করেন।

প্রতিউত্তরে ইবনে আব্বাস রাযি বললেন, ঠিক আছে তাহলে আপনি গিয়ে দেখে আসতে পারেন,ঐ মহিলা ইবনে আব্বাস রাযি এর ঘরে গিয়ে উনার স্ত্রীর কাছে তা পায়নি, তখন ইবনে আব্বাস রাযি বললেনঃ

এমন হলে আমি তার সাথে ঘর-সংসার-ই করতাম না।

ইমাম নাসাঈ রাহ নিম্নোক্ত শব্দে উক্ত হাদীস বর্ণনা করেন,

( ﻟَﻌَﻦَ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﺍﻟْﻮَﺍﺷِﻤَﺎﺕِ ﻭَﺍﻟْﻤُﺘَﻔَﻠِّﺠَﺎﺕِ ، ﻭَﺍﻟْﻤُﺘَﻨَﻤِّﺼَﺎﺕِ ﺍﻟْﻤُﻐَﻴِّﺮَﺍﺕِ ﺧَﻠْﻖَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﻋَﺰَّ ﻭَﺟَﻞَّ ) ﻭﺻﺤﺤﻪ ﺍﻷﻟﺒﺎﻧﻲ ﻓﻲ ﺻﺤﻴﺢ ﺍﻟﻨﺴﺎﺋﻲ১

তরজমাঃ-

নবীজী সাঃ অভিশাপ করেছেন
সেই সব নারীদের উপর,
যারা দেহাঙ্গে উল্কি (ট্যাটু) অংকন করে,

এবং সৌন্দর্য প্রদর্শনের মানসে দাঁতের মাঝে ফাঁক সৃষ্টি করে, এবং ভ্রু-কে চেঁছে সরু (প্লাক) করে আল্লাহর সৃষ্টির মধ্যে পরিবর্তন আনে।

[সুনানে নাসাঈ-৫২৫৩]

বিশিষ্ট হাদীস বিশারদ ইমাম নববী রাহ উক্ত হাদীসের ব্যাখ্যা করে বলেনঃ
ﻭَﺍﻟْﻤُﺮَﺍﺩ ﻣُﻔَﻠِّﺠَﺎﺕ ﺍﻟْﺄَﺳْﻨَﺎﻥ ﺑِﺄَﻥْ ﺗَﺒْﺮُﺩ ﻣَﺎ ﺑَﻴْﻦ ﺃَﺳْﻨَﺎﻧﻬَﺎ ﺍﻟﺜَّﻨَﺎﻳَﺎ ﻭَﺍﻟﺮُّﺑَﺎﻋِﻴَّﺎﺕ ... ﻭَﺗَﻔْﻌَﻞ ﺫَﻟِﻚَ ﺍﻟْﻌَﺠُﻮﺯ ﻭَﻣَﻦْ ﻗَﺎﺭَﺑْﺘﻬَﺎ ﻓِﻲ ﺍﻟﺴِّﻦّ ﺇِﻇْﻬَﺎﺭًﺍ ﻟِﻠﺼِّﻐَﺮِ ﻭَﺣُﺴْﻦ ﺍﻟْﺄَﺳْﻨَﺎﻥ , ﻟِﺄَﻥَّ ﻫَﺬِﻩِ ﺍﻟْﻔُﺮْﺟَﺔ ﺍﻟﻠَّﻄِﻴﻔَﺔ ﺑَﻴْﻦ ﺍﻟْﺄَﺳْﻨَﺎﻥ ﺗَﻜُﻮﻥ ﻟِﻠْﺒَﻨَﺎﺕِ ﺍﻟﺼِّﻐَﺎﺭ , ﻓَﺈِﺫَﺍ ﻋَﺠَﺰَﺕْ ﺍﻟْﻤَﺮْﺃَﺓ ﻛَﺒُﺮَﺕْ ﺳِﻨّﻬَﺎ ﻓَﺘَﺒْﺮُﺩﻫَﺎ ﺑِﺎﻟْﻤِﺒْﺮَﺩِ ﻟِﺘَﺼِﻴﺮَ ﻟَﻄِﻴﻔَﺔ ﺣَﺴَﻨَﺔ ﺍﻟْﻤَﻨْﻈَﺮ , ﻭَﺗُﻮﻫِﻢ ﻛَﻮْﻧﻬَﺎ ﺻَﻐِﻴﺮَﺓ , ﻭَﻳُﻘَﺎﻝ ﻟَﻪُ ﺃَﻳْﻀًﺎ ﺍﻟْﻮَﺷْﺮ , ﻭَﻣِﻨْﻪُ : ( ﻟَﻌْﻦ ﺍﻟْﻮَﺍﺷِﺮَﺓ ﻭَﺍﻟْﻤُﺴْﺘَﻮْﺷِﺮَﺓ) , ﻭَﻫَﺬَﺍ ﺍﻟْﻔِﻌْﻞ ﺣَﺮَﺍﻡ ﻋَﻠَﻰ ﺍﻟْﻔَﺎﻋِﻠَﺔ ﻭَﺍﻟْﻤَﻔْﻌُﻮﻝ ﺑِﻬَﺎ ﻟِﻬَﺬِﻩِ ﺍﻟْﺄَﺣَﺎﺩِﻳﺚ , ﻭَﻟِﺄَﻧَّﻪُ ﺗَﻐْﻴِﻴﺮ ﻟِﺨَﻠْﻖِ ﺍﻟﻠَّﻪ ﺗَﻌَﺎﻟَﻰ , ﻭَﻟِﺄَﻧَّﻪُ ﺗَﺰْﻭِﻳﺮ ﻭَﻟِﺄَﻧَّﻪُ ﺗَﺪْﻟِﻴﺲ

ভাবার্থঃ- ﻣُﻔَﻠِّﺠَﺎﺕএর দ্বারা উদ্দেশ্য হল,

দাতের মধ্যখানে রেত দ্বারা ফাক সৃষ্টি করা,

আর এ কাজ বয়স্ক মহিলারা সোন্দর্য্য প্রদর্শন ও বয়স লুকানোর জন্য করে থাকে।কেননা শুধুমাত্র ছোট অবস্থায়-ই দাতের মধ্যে ফাক-ফোকর থাকে,বড় হলে আর তা থাকে না। আর তাই কিছুসংখ্যক মহিলা যখন বড় হয়ে যায়,তখন তারা বয়স লোকানোর জন্য এ পদ্ধতিকে গ্রহণ করে থাকে।

এ পদ্ধতিকে বুঝানোর জন্য الوشر (আল-ওয়াশর)শব্দকে ও ব্যবহার করা হয়ে থাকে,

এজন্য অন্য হাদীসে বলা হয়েছে ﻟَﻌْﻦ ﺍﻟْﻮَﺍﺷِﺮَﺓ ﻭَﺍﻟْﻤُﺴْﺘَﻮْﺷِﺮَﺓ(দাত ফাককারী ও যার দাত ফাক করা হয়েছে উভয়ের উপর আল্লাহর লা'নত)।

উপরুক্ত প্রমাণাদির  ধরুণ দাত ফাক করার উক্ত পদ্ধতিকে হারাম সাব্যস্ত করা হয়েছে।

ﻭَﺃَﻣَّﺎ ﻗَﻮْﻟﻪ : ( ﺍﻟْﻤُﺘَﻔَﻠِّﺠَﺎﺕ ﻟِﻠْﺤُﺴْﻦِ ) ﻓَﻤَﻌْﻨَﺎﻩُ ﻳَﻔْﻌَﻠْﻦَ ﺫَﻟِﻚَ ﻃَﻠَﺒًﺎ ﻟِﻠْﺤُﺴْﻦِ , ﻭَﻓِﻴﻪِ ﺇِﺷَﺎﺭَﺓ ﺇِﻟَﻰ ﺃَﻥَّ ﺍﻟْﺤَﺮَﺍﻡ ﻫُﻮَ ﺍﻟْﻤَﻔْﻌُﻮﻝ ﻟِﻄَﻠَﺐِ ﺍﻟْﺤُﺴْﻦ , ﺃَﻣَّﺎ ﻟَﻮْ ﺍِﺣْﺘَﺎﺟَﺖْ ﺇِﻟَﻴْﻪِ ﻟِﻌِﻼﺝٍ ﺃَﻭْ ﻋَﻴْﺐ ﻓِﻲ ﺍﻟﺴِّﻦّ ﻭَﻧَﺤْﻮﻩ ﻓَﻼ ﺑَﺄْﺱ ، ﻭَﺍﻟﻠَّﻪ ﺃَﻋْﻠَﻢ " ﺍﻧﺘﻬﻰ .

ﻭﻫﺬﻩ ﺍﻟﺮﻭﺍﻳﺎﺕ ﺗﺪﻝ ﻋﻠﻰ ﺃﻥ ﺍﻷﻣﻮﺭ ﺍﻟﻤﺬﻛﻮﺭﺓ ﻣﻦ ﺍﻟﻮﺷﻢ ﻭﺍﻟﻨﻤﺺ ﻭﺍﻟﺘﻔﻠﺞ ﻣﻦ ﺗﻐﻴﻴﺮ ﺧﻠﻖ ﺍﻟﻠﻪ

ভাবার্থঃ- ﺍﻟْﻤُﺘَﻔَﻠِّﺠَﺎﺕ ﻟِﻠْﺤُﺴْﻦِএর অর্থ হল,তথকালিন সময়ের মহিলারা সৌন্দর্য প্রদর্শনের মানেস দাত ফাক করত।একথা দ্বারা বুঝা যায়, সৌন্দর্য প্রদর্শনের মানেসই দাত ফাক করা হারাম।

এ দ্বারা আরোও বুঝা গেল,যে চিকিৎসা বা দাতে কোনো প্রকার সমস্যা থাকলে তাতে ফাক সৃষ্টি করা যাবে।

এতে কোনো সমস্যা নেই।

এসমস্ত রেওয়াত দ্বারা বুঝা গেল,শরীরে ট্যাটু অঙ্কন করা, দাত ফাক করা ও ভ্রু কে প্ল্যাক করা সব গুলাই তাগাইয়ুরে খালকিল্লাহ

(আল্লাহর সৃষ্টিতে পরিবর্তন সাধন)এর সমতুল্য।

সু-প্রিয় পাঠকবর্গ!
আমরা উপরোক্ত আলোচনা দ্বারা বুঝতে পারলাম।আল্লাহর সৃষ্টিতে পরিবর্তন হারাম।

এখন সহসাই প্রশ্ন জাগতে পারে যে, তাহলে কোন প্রকার/ধরণের পরিবর্তন-পরিবর্ধন হারাম?

কেননা আমরা কিছু পরিবর্তন কে জায়েয বলে জানি ও দেখি।

যেমনঃ- মুছ কাটা,নক কাটা,গোপ্তস্তান পরিস্কার করা,ইত্যাদি ইত্যাদি।

এবং আল্লাহর সৃষ্টিতে পরিবর্তন করা হালাল না হারাম?
এ সম্পর্কে মূলনীতি কি?

প্রতি উত্তরে বলা যায় যে,

উলামাগণ এর অনেক কারণ বের করে থাকেন।

আল্লামা কুরতুবী রাহ বলেনঃ

ﻗﺎﻝ ﺍﻟﻘﺮﻃﺒﻲ ﺭﺣﻤﻪ ﺍﻟﻠﻪ : " ﻭﻫﺬﻩ ﺍﻷﻣﻮﺭ ﻛﻠﻬﺎ ﻗﺪ ﺷﻬﺪﺕ ﺍﻷﺣﺎﺩﻳﺚ ﺑﻠﻌﻦ ﻓﺎﻋﻠﻬﺎ ﻭﺃﻧﻬﺎ ﻣﻦ ﺍﻟﻜﺒﺎﺋﺮ ، ﻭﺍﺧﺘﻠﻒ ﻓﻲ ﺍﻟﻤﻌﻨﻰ ﺍﻟﺬﻱ ﻧﻬﻰ ﻷﺟﻠﻬﺎ ، ﻓﻘﻴﻞ : ﻷﻧﻬﺎ ﻣﻦ ﺑﺎﺏ ﺍﻟﺘﺪﻟﻴﺲ ، ﻭﻗﻴﻞ : ﻣﻦ ﺑﺎﺏ ﺗﻐﻴﻴﺮ ﺧﻠﻖ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ ﻛﻤﺎ ﻗﺎﻝ ﺍﺑﻦ ﻣﺴﻌﻮﺩ ، ﻭﻫﻮ ﺃﺻﺢ ، ﻭﻫﻮ ﻳﺘﻀﻤﻦ ﺍﻟﻤﻌﻨﻰ ﺍﻷﻭﻝ ، ﺛﻢ ﻗﻴﻞ : ﻫﺬﺍ ﺍﻟﻤﻨﻬﻲ ﻋﻨﻪ ﺇﻧﻤﺎ ﻫﻮ ﻓﻴﻤﺎ ﻳﻜﻮﻥ ﺑﺎﻗﻴﺎً ؛ ﻷﻧﻪ ﻣﻦ ﺑﺎﺏ ﺗﻐﻴﻴﺮ ﺧﻠﻖ ﺍﻟﻠﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ ، ﻓﺄﻣﺎ ﻣﺎﻻ ﻳﻜﻮﻥ ﺑﺎﻗﻴﺎً ﻛﺎﻟﻜﺤﻞ ﻭﺍﻟﺘﺰﻳﻦ ﺑﻪ ﻟﻠﻨﺴﺎﺀ ﻓﻘﺪ ﺃﺟﺎﺯ ﺍﻟﻌﻠﻤﺎﺀ ﺫﻟﻚ "

এই সমস্ত জিনিষে অভ্যস্ত লোকদেরকে হাদীসে অভিসম্পাত করা হয়েছে এবং তা কবিরা গুনাহ।কোন কারণে নিষেধ করা হয়েছে এ সম্পর্কে উলামায়ে কেরামদের মধ্যে মতবিরোধ পরিলক্ষিত হয়।

কেউ বলেন দোষ গোপন করে ধোকা দেওয়ার কারণে,আবার কেউ বলেন,আল্লাহর সৃষ্টিতে পরিবর্তন আনার কারণে যেমনটা ইবনে মসউদ রাযি বলেছেন।ইবনে মাসউদ রাযি এর উল্লিখিত কারণটাই হারাম হওয়ার বিশুদ্ধ কারণ বলে মনে হয়।এবং এই ব্যাখ্যা প্রথমোক্ত অর্থকেও শামিল রাখে।অতঃপর বলা হয়,এই নিষেধাজ্ঞা শুধুমাত্র ঐ সমস্ত বিষয়ে যাতে পরিবর্তনটা স্থায়ীভাবে থাকে, সুতরাং যে সমস্ত পরিবর্তন স্থায়ীভাবে অবশিষ্ট থাকে না,যেমন সুরমা ওমহিলাদের বিভিন্ন প্রকার সৌন্দর্যবর্ধন সামগ্রী তা জায়েয-ই হবে।

(তাফসীরে ক্বুরতুবী৫/৩৯৩)

ইমাম ক্বুরতুবী রাহ এর উপরোল্লিখিত বক্তব্যে হারাম হওয়ার একটি সুনির্দিষ্ট মূলনীতির দিকে ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

আর তা হল,স্থায়ী "তাগাইয়ুরে খালক্বিল্লাহ"

(অর্থাৎ আল্লাহর সৃষ্টিতে পরিবর্তন ও পরিবর্ধন যা স্থায়িভাবে থাকবে)

ইমাম ক্বুরতুবী রাহ এর উক্ত আলোচনা থেকে অনুধাবনকৃত মূলনীতি অত্যন্ত সুস্পষ্ট বলেই মনে হচ্ছে।কেননা উনার বর্ণনাকৃত মূলনীতির আলোকে পরস্পর বিরোধী বর্ণনা তথা হাদীসে বর্ণিত(আল্লাহর সৃষ্টিতে)হারাম পরিবর্তন এবং হালাল পরিবর্তন যেমন সুরমা ইত্যাদির মধ্যে একটা সামঞ্জস্যসাধন অদ্য সম্ভবপর হবে।

এখানে একটি ছোট প্রশ্ন উত্তাপিত হতে পারে,

চুল উপরানো তা তো স্থায়ী নয়,বরং এক চুলের পর আবার আরেক চুল এসে যায়,তাহলে তা হারাম হবে কেন?

জবাবে বলা যায়,চুল যা বারংবার উৎপাদিত হয়,তা অস্থায়ী নয়,বরং তা যেন স্থায়ীই।কেননা চুল উপরানো কখনো একবার হয় না,বরং যারা চুলকে উপড়িয়ে ফেলতে অভ্যস্ত,তারা বারংবার ই চুলকে উপড়াতে থাকবে।এ জন্য হাদীসে চুল উপড়ানোকে নিষেধ করা হয়েছে।

এবং তাকে হারাম ঘোষণা করা হয়েছে।

এবং বিভিন্ন  বিজ্ঞ মুজতাহিদ উলামাগণ এসম্পর্কে মূলনীতি উল্লেখপূর্বক অত্যন্ত গুছালো আলোচনা করেছেন।যেমনঃ প্রসিদ্ধ চার মাযহাবের যুগান্তকারী সিদ্ধান্তসমূহ।

তা নিম্নে আলোচনা উল্লেখ করা হল।

হাদীসে বর্ণিত শারীরিক পরিবর্তন-পরিবর্ধন সম্পর্কে কিছু হুকুম ও এ সম্পর্কে চার মাযহাবের সিদ্বান্ত।

★মালিকী মাযহাব★

ইমাম ক্বারাফি মালিকী রাহ বলেনঃ

ﻭﺳﺒﺐ ﺍﻟﻤﻨﻊ ﻓﻲ ﻭﺻﻞ ﺍﻟﺸﻌﺮ ﻭﻣﺎ ﻣﻌﻪ : ﺍﻟﺘﺪﻟﻴﺲ ﻭﺍﻟﻐﺮﻭﺭ . ﻗﺎﻝ ﺻﺎﺣﺐ ( ( ﺍﻟﻤﻘﺪﻣﺎﺕ ) ) : ﺗﻨﺒﻴﻪ : ﻟﻢ ﺃﺭ ﻟﻠﻔﻘﻬﺎﺀ ﺍﻟﻤﺎﻟﻜﻴﺔ ﻭﺍﻟﺸﺎﻓﻌﻴﺔ ﻭﻏﻴﺮﻫﻢ ﻓﻲ ﺗﻌﻠﻴﻞ ﻫﺬﺍ ﺍﻟﺤﺪﻳﺚ ﺇﻻ ﺃﻧﻪ ﺗﺪﻟﻴﺲ ﻋﻠﻰ ﺍﻷﺯﻭﺍﺝ؛ ﻟﻴﻜﺜﺮ ﺍﻟﺼﺪﺍﻕ، ﻭﻳﺸﻜﻞ ﺫﻟﻚ ﺇﺫﺍ ﻛﺎﻧﻮﺍ ﻋﺎﻟﻤﻴﻦ ﺑﻪ ﻭﺑﺎﻟﻮﺷﻢ؛ ﻓﺈﻧﻪ ﻟﻴﺲ ﻓﻴﻪ ﺗﺪﻟﻴﺲ .

ﻭﻣﺎ ﻓﻲ ﺍﻟﺤﺪﻳﺚ ﻣﻦ ﺗﻐﻴﻴﺮ ﺧﻠﻖ ﺍﻟﻠﻪ = ﻟﻢ ﺃﻓﻬﻢ ﻣﻌﻨﺎﻩ؛ ﻓﺈﻥ ﺍﻟﺘﻐﻴﻴﺮ ﻟﻠﺠﻤﺎﻝ ﻏﻴﺮ ﻣﻨﻜﺮ ﻓﻲ ﺍﻟﺸﺮﻉ ﻛﺎﻟﺨﺘﺎﻥ ﻭﻗﺺ ﺍﻟﻈﻔﺮ ﻭﺍﻟﺸﻌﺮ ﻭﺻﺒﻎ ﺍﻟﺤﻨﺎﺀ ﻭﺻﺒﻎ ﺍﻟﺸﻌﺮ ﻭﻏﻴﺮ ﺫﻟﻚ .

উল্লেখিত হাদীসে উপরোক্ত জিনিষ সমূহ নিষিদ্ধতার মূল কারণ হল,দোষ লুকানো এবং অহংকার।মুকাদ্দিমাত কিতাবের লিখক দ্রষ্টব্যাকারে লিখেন,আমি মালিকী ফুকাহায়ে কিরামগণ ও শা'ফী ফুকাহায়ে কিরামগণ কে দেখিছি তারা দোষত্রুটি লোকানোকেই উক্ত হাদীসে নিষিদ্ধতার কারণ উল্লেখ করেন।যাতে করে তারা তাদের স্বামীদের কাছ থেকে বেশী বেশী মহর আদায় করতে পারে।তবে স্বামী তা জানলে দোষ লুকানো হবে না।

তাগায়য়ুরে খালক্বিল্লাহ এর অর্থ আমি বুঝিনি,কেননা যে তাগায়য়ুর সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য হবে তা শরীয়তে হারাম হবে কেন? যেমন খৎনা করা, নক কাটা,চুল কাটা,মেহেদী লাগানো,চুলে মেহেদী দেওয়া।

আয যাখিরাহ-১৩/৩১৪;

★শা'ফী মাযহাব★

ইমাম শীরবীনি শা'ফী রাহ বলেনঃ

ﻭﻳﺤﺮﻡ ﺑﻐﻴﺮ ﺇﺫﻥ ﺯﻭﺝ ﺃﻭ ﺳﻴﺪ ﻭﺻﻞ ﺷﻌﺮ ﺑﻐﻴﺮﻫﻤﺎ .. ﻭﺍﻟﺘﻨﻤﻴﺺ : ﻭﻫﻮ ﺍﻷﺧﺬ ﻣﻦ ﺷﻌﺮ ﺍﻟﻮﺟﻪ ﻭﺍﻟﺤﺎﺟﺐ ﻟﻠﺤﺴﻦ ﻟﻤﺎ ﻓﻲ ﺫﻟﻚ ﻣﻦ ﺍﻟﺘﻐﺮﻳﺮ .

ﺃﻣﺎ ﺇﺫﺍ ﺃﺫﻥ ﻟﻬﺎ ﺍﻟﺰﻭﺝ ﺃﻭ ﺍﻟﺴﻴﺪ ﻓﻲ ﺫﻟﻚ = ﻓﺈﻧﻪ ﻳﺠﻮﺯ؛ ﻷﻥ ﻟﻪ ﻏﺮﺿﺎ ﻓﻲ ﺗﺰﻳﻴﻨﻬﺎ ﻟﻪ، ﻭﻗﺪ ﺃﺫﻥ ﻟﻬﺎ ﻓﻴﻪ .

স্বামী বা মালিক ব্যতীত অতিরিক্ত চুল নিজ চুলে প্রতিস্থাপন হারাম।

তানমীস অর্থাৎ মূখ বা ভ্রু থেকে চুলে উফড়ে ফেলা হারাম,কেননা এতে ধোঁকা রয়েছে।

কিন্তু যদি স্বামী বা মালিক তাতে অনুমিত দিয়ে দেয়,তাহলে জায়েয হবে।কেননা এসময় স্বামীর জন্য সৌন্দর্য গ্রহণ হবে যা বৈধ।

মুগনিউল মুহতাজ-১/১৯১

★হাম্বলী মাযহাব★

ইমাম মুরদাওয়ী হাম্বলী রাহ বলেনঃ

ﻭﻳﺤﺮﻡ ﻧﻤﺺ ﻭﻭﺷﺮ ﻭﻭﺷﻢ ﻋﻠﻰ ﺍﻟﺼﺤﻴﺢ ﻣﻦ ﺍﻟﻤﺬﻫﺐ : ﻭﻗﻴﻞ : ﻻ ﻳﺤﺮﻡ ... ﻭﺃﺑﺎﺡ ﺍﺑﻦ ﺍﻟﺠﻮﺯﻱ ﺍﻟﻨﻤﺺ ﻭﺣﺪﻩ ﻭﺣﻤﻞ ﺍﻟﻨﻬﻲ ﻋﻠﻰ ﺍﻟﺘﺪﻟﻴﺲ ﺃﻭ ﺃﻧﻪ ﺷﻌﺎﺭ ﺍﻟﻔﺎﺟﺮﺍﺕ . ﻭﻓﻲ ( ( ﺍﻟﻐﻨﻴﺔ ) ) ﻭﺟﻪ ﻳﺠﻮﺯ ﺍﻟﻨﻤﺺ ﺑﻄﻠﺐ ﺍﻟﺰﻭﺝ

মুখের চুল উফড়ে ফেলা,ট্যাটু অঙ্কন বিশুদ্ধ মতানুযায়ী হারাম।কেউ কেউ বলেনঃ তা হারাম হবে না।ইবনুল জাওযী শুধুমাত্র নামস অর্থাৎ মুখের চুল উফড়ে ফেলাকে বৈধ ঘোষণা করে বলেন হাদীসে উপরোক্ত নিষিদ্ধতার মূলকারণ হল,দোষত্রুটি লোকানো বা তা গুনাহগার মহিলাদের নিদর্শন।

গুনয়া নামক কিতাবে বর্ণিত আছে,মুখের চুল উফড়ানো বৈধতার কারণ হল,স্বামীর চাহিদা।

আল ইনসাফ-১/৯৯

★হানাফী মাযহাব★

ইবনে আবেদীন শামী রাহ বলেনঃ

ﺍﻟﻨﻤﺺ ﻧﺘﻒ ﺍﻟﺸﻌﺮ ﻭﻣﻨﻪ ﺍﻟﻤﻨﻤﺎﺹ ﺍﻟﻤﻨﻘﺎﺵ .

ﻭﻟﻌﻠﻪ ﻣﺤﻤﻮﻝ ﻋﻠﻰ ﻣﺎ ﺇﺫﺍ ﻓﻌﻠﺘﻪ ﻟﺘﺘﺰﻳﻦ ﻟﻸﺟﺎﻧﺐ، ﻭﺇﻻ ﻓﻠﻮ ﻛﺎﻥ ﻓﻲ ﻭﺟﻬﻬﺎ ﺷﻌﺮ ﻳﻨﻔﺮ ﺯﻭﺟﻬﺎ ﻋﻨﻬﺎ ﺑﺴﺒﺒﻪ = ﻓﻔﻲ ﺗﺤﺮﻳﻢ ﺇﺯﺍﻟﺘﻪ ﺑُﻌﺪ؛ ﻷﻥ ﺍﻟﺰﻳﻨﺔ ﻟﻠﻨﺴﺎﺀ ﻣﻄﻠﻮﺑﺔ ﻟﻠﺘﺤﺴﻴﻦ، ﺇﻻ ﺃﻥ ﻳﺤﻤﻞ ﻋﻠﻰ ﻣﺎ ﻻ ﺿﺮﻭﺭﺓ ﺇﻟﻴﻪ ﻟﻤﺎ ﻓﻲ ﻧﺘﻔﻪ ﺑﺎﻟﻤﻨﻤﺎﺹ ﻣﻦ ﺍﻹﻳﺬﺍﺀ .

নামস্ মানে চুলকে উফড়ানো।

তা হারাম হওয়ার তাৎপর্য হল,যদি তা গায়রে মাহরাম কাউকে দেখানোর জন্য এ সৌন্দর্যকে গ্রহণ করা হয়।নতুবা যদি স্ত্রীর মুখে কোনো চুল থাকে যেজন্য স্বামী তাকে নফরত করে, তাহলে উক্ত চুলকে উফড়ানো হারাম হবে না।

কেননা মহিলাকে সৌন্দর্য গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় জিনিষের ব্যবহার করতে হবে।নতুবা অপ্রয়োজনীয় সৌন্দর্য গ্রহণকে হারাম সাব্যস্ত করা হবে।যেমন মুছনা দিয়ে চুল উফড়ানো যেখানে অনেক কষ্ট হয়।

রদ্দুল মুহতার-৬/৩৭৩;

>>মহিলাদের সৌন্দর্য গ্রহণের মূলনীতি<<

বিজ্ঞ উলামায়ে কেরাম জায়েয পরিবর্তন ও নাজায়েয পরিবর্তন সম্পর্কে মূলনীতি উল্লেখপূর্বক বলেনঃ

ﻭﻣﻨﻬﺎ ﻣﺎ ﻳﺠﻮﺯ، ﻭﻫﻮ ﻣﺎ ﻳﺤﺘﺎﺝ ﺇﻟﻴﻪ ﺍﻟﺸﺨﺺ ﻹﺯﺍﻟﺔ ﺿﺮﺭ ﺃﻭ ﺃﻟﻢ ﺃﻭ ﺷﻴﻦ، ﺳﻮﺍﺀ ﺧﻠﻖ ﺑﻪ ﺍﻟﺸﺨﺺ ﺃﻭ ﻧﺘﺞ ﻋﻦ ﺣﺎﺩﺙ ﺃﻭ ﻣﺮﺽ،
(ক)

জায়েয শারীরিক পরিবর্তনঃ

যদি কোনো মানুষ কষ্ট দূরীকরণার্তে বা কোনো দোষ দূরীকরণার্তে চায় উক্ত দোষ নিজের মাধ্যমে আসুক বা কোনো অসুস্থতা বা দুর্ঘটনাজনিত হোক তাহলে এমতাবস্থায় শারীরিক পরিবর্তন জায়েয।

যেমন উরফুজা ইবনে আস'আদ রাযি থেকে বর্ণিত
عن ﻋﺮﻓﺠﺔ ﺑﻦ ﺃﺳﻌﺪ ﺃﻧﻪ ﻗﻄﻊ ﺃﻧﻔﻪ ﻳﻮﻡ ﺍﻟﻜُﻼﺏ، ﻓﺎﺗﺨﺬ ﺃﻧﻔﺎً ﻣﻦ ﻓﻀﺔ ﻓﺄﻧﺘﻦ ﻋﻠﻴﻪ، ﻓﺄﻣﺮﻩ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻓﺎﺗﺨﺬ ﺃﻧﻔﺎً ﻣﻦ ﺫﻫﺐ . ﺭﻭﺍﻩ

ﺍﻟﺘﺮﻣﺬﻱ في سننه -ﻛﺘﺎﺏ ﺍﻟﻠﺒﺎﺱ ﻋﻦ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ-ﺑﺎﺏ ﻣﺎ ﺟﺎﺀ ﻓﻲ ﺷﺪ ﺍﻷﺳﻨﺎﻥ ﺑﺎﻟﺬﻫﺐﻭﺣﺴﻨﻪ،

 ﻭرواه ﺃﺑﻮ ﺩﺍﻭﺩ ﻭﺍﻟﻨﺴﺎﺋﻲ ﻭﺃﺣﻤﺪ،
কিলাবের যুদ্ধে উনার নাক কর্তিত হয়ে যায়,তখন তিনি রূপার নাক তৈরী করে লাগিয়ে নেন।কিন্তু উক্ত নাকে দুর্গন্ধ হয়ে যায়,যে জন্য নবীজী সাঃ উনাকে সর্ণের নাক বাধার অনুমিত প্রদান করেন।অতঃপর তিনি সর্ণের নাক বেধে নেন।

সুনানে তিরমিযি-১৭৭০;

(খ)

নিষিদ্ধ শারীরিক পরিবর্তন

তা কয়েক ধাপে বিভক্ত।যেমনঃ

(১)

শারীরিক পরিবর্তন-পরিবর্ধনের যেসমস্ত পদ্ধতিতে কোরআন-হাদীসে নিষেধ এসেছে,তা সর্বদাই নিষিদ্ধ,তা নিষিদ্ধ হওয়ার  কোনো কারণ খোজা যাবে না বরং তা সবসময়ই নিষিদ্ধ থাকবে।যেমনঃ

ভ্রু-কে চেঁছে সরু (প্লাক) করা,বা দেহাঙ্গে ট্যাটু অংকন করা ইত্যাদি।

এবং প্রত্যেক ঐ সমস্ত শারীরিক পরিবর্তন-পরিবর্ধন যা কোরআন-হাদীসে বর্ণিত তা বিনা দ্বিধায় জায়েয।যেমনঃখৎনা করা,নক কাটা,নাভীর নীচ পরিস্কার করা,ইত্যাদি।

(২)

ঐ সমস্ত শারীরিক পরিবর্তন-পরিবর্ধন যা শরয়ী দলীল দ্বারা সরাসরি প্রমাণিত নয়,

তা দু-প্রকার।

হয়তো তা বাস্তবিক পরিবর্তন হবে নতুবা বাহ্যিক পরিবর্তন হবে।

যদি তা বাস্তবিক পরিবর্তন-পরিবর্ধন হয় তাহলে তাও উপরোক্ত দালিলিক চাহিদায় হারাম সাব্যস্ত হবে।যেমনঃ দাড়ী সেভ করা।

আর যদি বাহ্যিক পরিবর্তন হয়,কিন্ত দেখতে বাস্তবিক পরিবর্তন-ই মনে হয়,তাহলে তাও বাস্তবিক পরিবর্তনের ন্যায় হারাম হবে।

3 ـ ﺃﻥ ﻳﻜﻮﻥ ﺍﻟﺘﻐﻴﻴﺮ ﻧﺎﺗﺠﺎ ﻋﻦ ﺍﻟﺘﺪﺧﻞ ﺍﻟﺨﺎﺭﺟﻲ ﻋﻦ ﺟﺴﻢ ﺍﻹﻧﺴﺎﻥ، ﻓﺈﺫﺍ ﻛﺎﻥ ﺍﻟﺘﻐﻴﻴﺮ ﻧﺎﺗﺠﺎ ﻋﻦ ﺃﺟﻬﺰﺓ ﺍﻟﺠﺴﻢ ﻋﻦ ﻃﺮﻳﻖ ﺗﻨﺸﻴﻂ ﺑﻌﺾ ﺍﻟﻐﺪﺩ ﺃﻭ ﺗﺤﻔﻴﺰﻫﺎ، ﺑﺎﺳﺘﺨﺪﺍﻡ ﺑﻌﺾ ﺍﻷﺩﻭﻳﺔ ﺍﻟﺘﻲ ﺗﺴﺎﻋﺪ ﺑﻌﺾ ﺃﺟﻬﺰﺓ ﺍﻟﺠﺴﻢ ﺃﻭ ﺧﻼﻳﺎﻩ ﻋﻠﻰ ﺍﻟﻘﻴﺎﻡ ﺑﻮﻇﺎﺋﻔﻬﺎ ﺍﻟﻤﻌﺘﺎﺩﺓ ﻋﻠﻰ ﺍﻟﻨﺤﻮ ﺍﻟﻤﻌﺮﻭﻑ، ﻓﺈﻥ ﺍﻟﺘﻐﻴﻴﺮ ﺍﻟﻨﺎﺗﺞ ﻋﻦ ﻋﻤﻞ ﻫﺬﻩ ﺍﻷﺟﻬﺰﺓ ﺃﻭ ﺍﻟﺨﻼﻳﺎ ﺃﻭ ﺍﻟﻐﺪﺩ ﺑﻌﺪ ﺗﻨﺸﻴﻄﻬﺎ ﻟﺘﺆﺩﻱ ﻭﻇﺎﺋﻔﻬﺎ ﺍﻟﻤﻌﻬﻮﺩﺓ ﻓﺈﻥ ﻫﺬﺍ ﻻ ﻳﻌﺪ ﺩﺍﺧﻼ ﻓﻲ ﺍﻟﺘﻐﻴﻴﺮ ﺍﻟﻤﻨﻬﻲ ﻋﻨﻪ .

(৩)

শারীরিক পরিবর্তন-পরিবর্ধন বাহিরের কোনো জিনিষ দ্বারা শরীরের বহির্ভাগে হতে হবে,

সুতরাং যদি কোনো খাদ্য খাওয়ার দরুন অথবা হাটাচলা বা ব্যায়ামের ধরুন স্বাভাবিক নিয়মে শরীরে কোনো পরিবর্তন ও পরিবর্ধন ঘটে,

তাহলে তা নিষিদ্ধতার আওতাধীন হবে না।

*"বিউটি পার্লারে সাজগোছ করা অত্যন্ত ক্ষতিকর।"

খাওয়াতিন কে লিয়ে জাদীদ মাসাঈল-৮৬;মুফতী ইহসানুল্লাহ শাঈক্ব-দারুল এশা'আত,করাচী কর্তৃক ২০০৭সালে প্রকাশিত।

*"স্বামীর জন্য সাজগোছ জায়েয হলেও বিউটি পার্লারে সাজা কখনো কোনো মুসলমানের জন্য কাম্য হতে পারেনা।"

তোহফায়ে খাওয়াতিন-৮৫৫;মুফতী আশেকে এলাহী বুলন্দশরী-মাকতাবু মা'রিফুল কোরআন করাচী কর্তৃক ১৪৩০মুতাবেক২০০৯সালে প্রকাশিত।

"ইনজেকশনের মাধ্যমে চুল কালো করাও হারাম।"

লিভিস্টিক দেয়া স্বামীর জন্য জায়েয,অন্যথায় হারাম।তবে তা ফাসিকাহ মহিলাদের নিদর্শন।
ক্রিম,লোশন,আতর,আরো অন্যান্য হালাল সামগ্রী মহিলাদের জন্য ব্যবহার জায়েয।

খাওয়াতিনকে যেব ও জিনত-৮৬-১০৬-১০৭-মুফতী জিয়াউর রহমান-মাকতাবাতুস সাঈদ, করাচী কর্তৃক ২০০৯সালে প্রকাশিত।

সু-প্রিয় পাঠকবর্গ!

উপরোক্ত আলোচনা দ্বার বুঝতে পারলাম।

যদি শরীয়ত সম্মত বিউটি পার্লার হয় তাহলে শুধুমাত্র স্বামীকে খুশী করার জন্য বিউটি পার্লার থেকে বৈধ অস্থায়ী সাজগোছ যেমন ক্রিম ইত্যাদি দিয়ে সাজা বৈধ আছে।

এক্ষেত্রে ৩টি জিনিষ অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে লক্ষ্য রাখতে হবে।

১/বিউটি পার্লার শরীয়ত সম্মত হতে হবে।

২/বৈধ সাজগোছ করতে হবে।

৩/শুধুমাত্র স্বামীকে সন্তুষ্টি করার জন্য হতে হবে।

ক্রিম,লোশন ইত্যাদি হালাল কসমেটিক সামগ্রী ব্যবহার করা যাবে।

আল্লাহ-ই ভালো জানেন।

উত্তর লিখনে

মুফতী ইমদাদুল হক

ইফতা বিভাগ, IOM.

পরিচালক

ইসলামিক রিচার্স কাউন্সিল বাংলাদেশ
ইসলামিক ফতোয়া ওয়েবসাইটটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত। যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন উত্তর পাওয়া যায় কিনা। না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনার দ্বীন সম্পর্কীয় প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য রয়েছে আমাদের অভিজ্ঞ ওলামায়কেরাম ও মুফতি সাহেবগনের একটা টিম যারা ইনশাআল্লাহ প্রশ্ন করার ২৪-৪৮ ঘন্টার সময়ের মধ্যেই প্রশ্নের উত্তর দিয়ে থাকেন।
...