0 votes
16 views
in হালাল ও হারাম (Halal & Haram) by (28 points)
আসসালামু আলাইকুম,

অনেক সময়, এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় যখন হারাম কাজ না করেও পারা যায় না আবার তা থেকে বাচার জন্য হঠাৎ করে তাওরিয়ার (সত্য কথা ঘুরিয়ে বলার) বিষয়বস্তু মাথায় আসে না, তখন সরাসরি মিথ্যা কথা বলে পাশ কাটিয়ে যাওয়া লাগে।

যেমন: কলেজ-ভার্সিটির কোনো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে বাধ্যতামূলক  অংশগ্রহণ করা লাগবে যেখানে বেপর্দা হবে নিশ্চিত এবং নানা নাচ-গানে সাহায্য করা লাগবে।
এমন অবস্থায় স্যারদের সরাসরি নাও বলতে পারি না আবার হঠাৎ করে কি তাওরিয়া করব তাও মনে আসে না।
তখন ডিরেক্ট একটি মিথ্যা কথা বলে দেই যে স্যার আমি কয়েকদিনের জন্য গ্রামে যাবো তাই অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবো না।


প্রশ্ন: আমার জন্য এরকম মিথ্যা কথা বলা জায়েজ হবে?

1 Answer

0 votes
by (60,680 points)

ওয়া আলাইকুম আসসালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহ

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ
আবুল ফরয ইবনুল জাওযী রাহ বলেনঃ
ﻭﺿﺎﺑﻄﻪ ﺃﻥ ﻛﻞ ﻣﻘﺼﻮﺩ ﻣﺤﻤﻮﺩ ﻻ ﻳﻤﻜﻦ ﺍﻟﺘﻮﺻﻞ ﺇﻟﻴﻪ ﺇﻻ ﺑﺎﻟﻜﺬﺏ، ﻓﻬﻮ ﻣﺒﺎﺡ ﺇﻥ ﻛﺎﻥ ﺍﻟﻤﻘﺼﻮﺩ ﻣﺒﺎﺣﺎ، ﻭﺇﻥ ﻛﺎﻥ ﻭﺍﺟﺒﺎ، ﻓﻬﻮ ﻭﺍﺟﺐ 
প্রত্যেক ঐ ভালো উদ্দেশ্য যে পর্যন্ত মিথ্যার আশ্রয় ব্যতীত পৌছা  প্রায় অসম্ভব, সেখানে মিথ্যা বলা বৈধ।মাকসাদ(উদ্দেশ্য) মুবাহ হলে,মিথ্যা বলা মুবাহ।মাকসাদ ওয়াজিব হলে মিথ্যা বলা ওয়াজিব
(ফাতাওয়া দারাল ইফতা আল-মিচরিয়্যাহ)

আল্লামা ইবনূল কাইয়ূম রাহ বলেনঃ
ﻳﺠﻮﺯ ﻛﺬﺏ ﺍﻹﻧﺴﺎﻥ ﻋﻠﻰ ﻧﻔﺴﻪ، ﻭﻋﻠﻰ ﻏﻴﺮﻩ ﺇﺫﺍ ﻟﻢ ﻳﺘﻀﻤﻦ ﺿﺮﺭ ﺫﻟﻚ ﺍﻟﻐﻴﺮ ﺇﺫﺍ ﻛﺎﻥ ﻳﺘﻮﺻﻞ ﺑﺎﻟﻜﺬﺏ ﺇﻟﻰ ﺣﻘﻪ،
একমাত্র মিথ্যার মাধ্যমে হক্ব(অধিকার রক্ষা)পর্যন্ত পৌছা নির্দিষ্ট হলে নিজের উপর বা অন্যর উপর মিথ্যা বলা জায়েয যখন এতে অন্যর কোনোপ্রকার ক্ষতি হয় হবে না।(যাদুল মা'আদ-২/১৪৫)...............এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানুন- 644


সু-প্রিয় পাঠকবর্গ ও প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
প্রথমে তাওরিয়াহ করার চেষ্টা করবেন।তথা এমন কোনো বাক্য বলবেন যে,আপনি কিছু একটা বলতে চাচ্ছেন,আর শ্রুতাগণ অন্যকিছু বুঝবে।

যদি তাওরিয়ায়াহ করা সম্ভবপর না হয়,তাহলে এমন মুহুর্তে নিজেকে গোনাহ ও বেহুদা কাজ থেকে বাঁচাতে প্রয়োজনে মিথ্যাও বলতে পারবেন।এতে কোনো প্রকার গোনাহ হবে না।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

ﻓَﺎﺳْﺄَﻟُﻮﺍْ ﺃَﻫْﻞَ ﺍﻟﺬِّﻛْﺮِ ﺇِﻥ ﻛُﻨﺘُﻢْ ﻻَ ﺗَﻌْﻠَﻤُﻮﻥَ অতএব জ্ঞানীদেরকে জিজ্ঞেস করো, যদি তোমরা না জানো। সূরা নাহল-৪৩

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন উত্তর পাওয়া যায় কিনা। না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন।

Related questions

...