0 votes
7 views
in Halal & Haram by
টেস্টটিউব সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চাই।

1 Answer

0 votes
by (8.8k points)

বিসমিহি তা'আলা

টেস্টটিউব বেবি এবং ইসলাম

টেস্টটিউব বিভিন্ন ভাবে হতে পারে।সে হিসেবে তার হুকুমে ও কিছুটা তারতম্য হবে।

টেস্টটিউব কাকে বলে?

টেস্টটিউব হল,পুরুষ এবং মহিলা থেকে কৃত্রিম উপায়ে বীর্য বের করে একটি টিউবের মধ্যে বার সাপ্তাহ রেখে দেওয়া।যাকে পরিভাষায় EGGS ও SPERMS বলা হয়ে থাকে।

এই টিউবে বীর্যকে এমন উপায়ে সংরক্ষণ করা হয়,যেমন প্রকৃতিগতভাবে জরায়ুতে সংরক্ষিত থাকে।অত:পর এই বীর্যকে ইনজেকশনের মাধ্যমে জরায়ুতে পৌছানো হয়।যা নয় মাস পর্যন্ত তথায় থাকার পর একটি সন্তান ভুমিষ্ট হয়।

এই অাধুনিক পদ্ধতির বিভিন্ন প্রদ্ধতি হতে পারে।যথা-

প্রথম পদ্ধতিঃ-

কোনো মহিলা নিজ গর্ভে সন্তান ধারণ করতে চায় না(ঝামেলা ইত্যাদির ধরুণ)।সে এবং তার স্বামী উভয় মিলে তাদের উভয়ের বীর্যকে গর্ভধারণ পিপাসিতা কোনো মহিলার জরায়ুতে টাকার বিনিময়ে রাখবে।অতঃপর ঐ গর্ভধারিণী মহিলা নয় মাস পর তাদের বীর্যে উৎপাদিত সন্তানকে আবার তাদের নিকট ফিরিয়ে দিবে।

শরয়ী বিধানঃ

কোরআন-হাদীসের দৃষ্টিতে উক্ত পদ্ধতি সম্পূর্ণ হারাম।চায় উক্ত বীর্যকে স্বামী-স্ত্রী থেকে ইনজেকশনের মাধ্যমে বের করা হোক বা হস্তমৈথুনের মাধ্যমে বের করা হোক অথবা আ'যলের মাধ্যমে বের করা হোক।

জাওয়াহিরুল ফিকহ-১/১৯১-১৯৯

যদি উক্ত গর্হিত কাজ কেউ করে নেয়, তাহলে শরীয়তের দৃষ্টিতে উক্ত ভূমিষ্ঠ সন্তানের পিতা সে ব্যক্তিই সাব্যস্ত হবে যে উক্ত গর্ভধারিণীর স্বামী যদি তার স্বামী থাকে।এবং গর্ভধারিণী হবে সেই সন্তানের মাতা।যদি গর্ভধারিণীর স্বামী না থাকে তাহলে শুধুমাত্র তার থেকেই বংশধারা সাব্যস্ত হবে।

যাদের বীর্যে সন্তান হয়েছে তারা উক্ত ভূমিষ্ঠ সন্তানের মাতা-পিতা হবে না।

কেননা হাদীস শরীফে এসেছে,

الولد للفراش وللعاهر الحجر

ভাবার্থঃ-
বিছানা যার সন্তান তার,এবং ব্যভিচারীকে দন্ডারোপ করা হবে।

قال في الدرالمختار :  و ينسب ولد الزناء واللعان بجهة الأم مما قدمنا انه لا اب له -ج٥ ص٧٠٠

ভাবার্থঃ-

যিনা ব্যভিচারে সন্তানকে,এবং স্বামী কর্তৃক  অস্বিকার করা সন্তানকে মায়ের দিকেই নিসবত করা হবে।অর্থাৎ শরীয়তের দৃষ্টিতে শুধুমাত্র তার মা-ই থাকবে,তার কোনো বাবা থাকবে না।

যে মহিলার জরায়ুতে বীর্য পৌছানো হবে তার উপর গোসল ফরয হবে না।কেননা এতে সহবাসের পূর্ণ সজ্ঞা পাওয়া যায় নি।(বাংলা জাদীদ ফেকহী মাসাঈল-পৃষ্টাঃ ৮৬)

و في الشامية :ولا عند إدخال إصبع و نحوه كذكر غير آدمي-ج١ص١٥٣
و في 'المغني' اذا وطي الرجل امرأته دون الفرج ،فدب ماء الي فرجها ثم خرج،او وطئها فى الفرج فاغتسلت ثم خرج ماء الرجل من فرجها فلا غسل عليه-ج١ ص ١٣٠

দ্বিতীয় প্রদ্ধতিঃ-

স্বামী-স্ত্রী বহুদিন যাবৎ বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ, কিন্তু তাদের যেকোনো একজনের বীর্যে ত্রুতি থাকার ধরুণ আপাতত তাদের সন্তান হচ্ছে না।

এমতাবস্থায়  তারা আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি 'টেস্টটিউব' এর আশ্রয় নিয়ে উক্ত স্ত্রীর গর্ভে উক্ত স্বামীর বীর্যকে  প্রতিস্থাপন করতে চায়।

শরয়ী হুকুমঃ

এই পদ্ধতিটি ব্যাখ্যা সাপেক্ষ্য।

যদি স্বামী-স্ত্রী উভয় কর্তৃক উক্ত 'টেস্টটিউব' পদ্ধতি আঞ্জাম দেয়া হয়,এবং এতে তৃতীয় কোনো ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতা না থাকে,(তথা যদি স্বামী-স্ত্রী উভয়ই ডাক্তার বা এ বিষয়ে অভিজ্ঞ থাকেন) তাহলে মাকরুহে তানযিহির সাথে তা জায়েয হবে।

আর যদি তাতে তৃতীয় কোনো ব্যক্তির সংশ্লিষ্টতা প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়,এভাবে যে, ঐ ব্যক্তির সামনে গোপন অঙ্গ দেখানো বা স্পর্শ করার জরুরত দেখা দেয়,তাহলে সেটা নাজায়েয ও হারাম হবে।

তবে উভয় অবস্থায়ই উক্ত স্বামী থেকে সন্তানের বংশধারা প্রমাণিত হবে।

প্রামাণ্যগ্রন্থঃ-

জাওয়াহিরুল ফিকহ-১/২২৬

ফাতাওয়ায়ে রহিমিয়্যাহ-৬/২৮০

আহসানুল ফাতাওয়া-৮/২১৫

রদ্দুল মহতার-৫/২৩৭

তৃতীয় পদ্ধতি

কোনো পুরুষ বিবাহ(পারিবারিক জীবন) ব্যতীত সন্তানের জনক হতে আগ্রহী।তাই সে গর্ভধারণের জন্য কোনো মহিলাকে ভাড়া করল।এবং টেস্টটিউব এর মাধ্যমে উক্ত মহিলার জরায়ুতে বীর্য পৌছাল,

শরীয়তে দৃষ্টিতে তা নাজায়েয ও হারাম।

চতুর্থ পদ্ধতি

কোনো মহিলা বিবাহ(পারিবারিক জীবন) ব্যতীত সন্তানের জনক হতে আগ্রহী,এজন্য সে কোনো পুরুষের বীর্যকে খরিদ করল,এবং ঐ পুরুষের বীর্যকে টেস্টটিউব এর মাধ্যমে নিজের জরায়ুতে প্রবেশ করাল।

শরীয়তের দৃষ্টিতে এই পদ্ধতি নাজায়েয ও হারাম।

পঞ্চম পদ্ধতি

স্বামী-স্ত্রী উভয়ই সন্তানের জনক হতে আগহী,কিন্তু তাদের বীর্যে ত্রুটি থাকায় সন্তান হয় না। এজন্য তারা অন্য কোনো পুরুষের বীর্য দ্বারা সন্তান নিতে আগ্রহী।শরীয়তের দৃষ্টিতে এ পদ্ধতিও পূর্বের ন্যায় হারাম বলে গণ্য হবে।

প্রমাণ্যগ্রন্থঃ-

জাওয়াহিরুল ফিকহ-১/২২৭

ষষ্ট পদ্ধতি

বৈজ্ঞানিকভাবে আজ প্রমাণিত যে একজন মহিলার শরীরে ডিম্বাণু এর উপস্থিতির সাথে সাথে শুক্রাণু র ও উপস্থিতি রয়েছে।এখন কোনো মহিলা যদি চায় যে সে তার শরীরের ডিম্বাণু এবং শুক্রাণু দ্বারাই সন্তান জন্ম দিবে তাহলে সেটাও হারাম বলে পরিগণিত হবে।কেননা তা আল্লাহর সৃষ্ট প্রকৃতির বিরুদ্ধতা। যা সর্বসম্মতিক্রমে হারাম।

আল্লাহ-ই ভালো জানেন।

ইসলামিক ফতোয়া ওয়েবসাইটটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত। যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন উত্তর পাওয়া যায় কিনা। না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনার দ্বীন সম্পর্কীয় প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য রয়েছে আমাদের অভিজ্ঞ ওলামায়কেরাম ও মুফতি সাহেবগনের একটা টিম যারা ইনশাআল্লাহ প্রশ্ন করার ২৪-৪৮ ঘন্টার সময়ের মধ্যেই প্রশ্নের উত্তর দিয়ে থাকেন।
...