0 votes
12 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (30 points)
আসসালামু আলাইকুম শায়েখ।
অনেক সময় মহিলাদের হাতের বাহুতে টিকা দিতে হয় এবং রক্ত পরীক্ষা করতে হয়। এক্ষেত্রে তার হাত অর্থাৎ সতর উন্মুক্ত করতে হয়। এখন যদি মহিলা ডাক্তার পাওয়া না যায় সে ক্ষেত্রে করণীয় কি? কিছু টিকা আছে যেগুলো না দিলে শরীরের বড় ক্ষতি হয়ে যেতে পারে। যেমন বালেগা হওয়ার পর বাধ্যতামূলক পাচটি টিকা দিতে হয়। দেখা যায় বেশিরভাগ সময় মহিলা ডাক্তার পাওয়া যায় না। এখন করণীয় কি?

1 Answer

+1 vote
by (52,200 points)

ওয়া আলাইকুম আসসালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহ

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।

জবাবঃ-
যেহেতু আমাদের দেশে পুরুষ-মহিলার পৃথক পৃথক  কোনো শিক্ষা ব্যবস্থা নেই,যদিও সরকারের উপর  পৃথক শিক্ষা ব্যবস্থা করা ও পুরুষ-মহিলাদের পৃথক মেডিকেল/চিকিৎসা কেন্দ্র স্থাপন করা ওয়াজিব ছিলো।
অপরদিকে আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে সরকারকে পৃথক পৃথক শিক্ষা ব্যবস্থা ও চিকিৎসা কেন্দ্র স্থাপন করার আকুল আবেদন জানানো ও সাংবিধানিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা।


চিকিৎসা বিদ্যা শিক্ষা করার ক্ষেত্রে চলমান পরিস্থিতিতে  কর্তৃপক্ষের উপর ওয়াজিব, পুরুষকে পুরুষ রোগী ও মহিলাকে মহিলা রোগী দেখাশোনা করার দায়িত্ব দেওয়া।
তারপরও যদি কর্তৃপক্ষ না দেয় তাহলে এমতাবস্থা করণীয় কি?
তা বুঝতে হলে ইবনে আবেদীন শামী রাহ, এর নিম্নোক্ত আলোচনা অতিলক্ষণীয়................. 
إذا كان المرض في سائر بدنها غير الفرج يجوز النظر إليه عند الدواء، لأنه موضع ضرورة، وإن كان في موضع الفرج، فينبغي أن يعلم امرأة تداويها فإن لم توجد وخافوا عليها أن تهلك أو يصيبها وجع لا تحتمله يستروا منها كل شيء إلا موضع العلة ثم يداويها الرجل ويغض بصره ما استطاع إلا عن موضع الجرح اهـ فتأمل والظاهر أن " ينبغي " هنا للوجوب
যদি কোনো মহিলার স্ত্রী লিঙ্গ ব্যতীত সমস্ত শরীরে রোগ হয়ে যায়, তাহলে পুরুষ ডাক্তারের জন্য উক্ত মহিলার সমস্ত শরীরে দৃষ্টি দেয়া জায়েয আছে।কেননা তখন চিকিৎসার স্বার্থে দেখাটা অতি প্রয়োজনীয় হয়ে যায়।আর যদি রোগ স্ত্রী লিঙ্গে(লজ্জাস্থানে) থাকে,তখন ওয়াজিব হয়ে যায়, কোনো মহিলাকে ডাক্তারি শিক্ষা দেওয়া, যে মহিলা পরবর্তিতে উক্ত মহিলার চিকিৎসা করবে।কিন্তু যদি কোনো মহিলা না পাওয়া যায় বা দেরী হলে উক্ত মহিলার রোগ বেড়ে যাবে বা মহিলা মারা যাবে,তখন রোগাক্রান্ত লজ্জাস্থান ব্যতীত উক্ত মহিলার সমস্ত শরীর ঢেকে দেওয়া হবে,অতঃপর  পুরুষ ডাক্তার উক্ত মহিলার রোগাক্রান্ত লজ্জাস্থানের চিকিৎসা করবে।তবে চিকিৎসা করার সময় রোগাক্রান্ত স্থান ব্যতীত অন্যান্য সমস্ত অঙ্গ থেকে নিজ চক্ষুকে হেফাজত করবে।(রদ্দুল মুহতার;৬/৩৭০--৩৭১)


যেহেতু বিশেষ প্রয়োজনে সহশিক্ষাতে ও মুসলমানদেরকে শিক্ষা গ্রহণের রখসত(অনুমিত) দেওয়া হয়েছে,........(বিস্তারিত জানুন-434)  তাই যথাসম্ভব পুরুষ পুরুষ রোগীর দেখাশোনা এবং মহিলা মহিলা রোগীর দেখাশোনা করবে।কিন্ত যদি ব্যতিক্রম হয়ে যায় তাহলে রোগীর সমস্ত শরীর না খোলে শুধুমাত্র আক্রান্ত স্থানকেই খুলতে হবে।এবং রোগীর শরীরের অন্যান্য স্থান থেকে নিজ চক্ষুকে হেফাজতে রাখতে হবে।
এ হল শিক্ষাকালিন সময়ের বিধি-বিধান।

পরবর্তিতে শিক্ষা দেওয়ার সময় বা রোগী দেখার সময় পুরুষ পুরুষকেই শিক্ষা দেবে ও দেখবেএবং মহিলা মহিলাকেই শিক্ষা দিবে ও দেখবে।
তবে বিজ্ঞ পরুষ শিক্ষক না পাওয়া গেলে মহিলা পুরুষদের কে পর্দার সাথে শিক্ষা দিতে পারবে।
এবং বিজ্ঞ মহিলা শিক্ষক না পাওয়া গেলে পুরুষ শিক্ষক মহিলাদেরকে শিক্ষা দিতে পারবে।
ঠিকতেনিভাবে রোগী দেখার বিষয়টা আমাদের বুঝতে হবে।

বিস্তারিত জানতে............
★ফাতাওয়ায়ে উসমানী-মুফতী তাক্বী উসমানী-১/১৭০;
"মাকতাবাতু মা'রিফুল কোরআন" করাচী, কর্তৃক ১৪৩৩হিঃ-২০১২ইংরেজীে প্রকাশিত।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

by (30 points)
জাযাকাল্লাহ খায়ের শায়েখ। অনেক কিছু জানতে পারলাম।

ﻓَﺎﺳْﺄَﻟُﻮﺍْ ﺃَﻫْﻞَ ﺍﻟﺬِّﻛْﺮِ ﺇِﻥ ﻛُﻨﺘُﻢْ ﻻَ ﺗَﻌْﻠَﻤُﻮﻥَ অতএব জ্ঞানীদেরকে জিজ্ঞেস করো, যদি তোমরা না জানো। সূরা নাহল-৪৩

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন উত্তর পাওয়া যায় কিনা। না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন।

Related questions

...