0 votes
23 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (38 points)
edited by
আমার এক দ্বীনি বোন প্রথমে খুবি নিজের দ্বীনের পথে খুবি আমলদার ছিলো।তাকে দেখে আমি ইন্সপায়ার হতাম অন্যকে নসিহা করতো যাতে হারামের পথে না যায়।ও কঠোর প্র‍্যাক্টিজিং হতে চলছিলো বলা যায়।কিন্তু ওর ফেমিলি প্র‍্যাক্টিজিং ছিলো না।ওকে মেডিকালে পড়ার জন্য পড়াশোনা করতে বলতো।কিন্তু সেইখানে তো যাওয়া আসার জন্য ও মাহরাম লাগবে।এছাড়া মেডিকালে যদি ছেলেদের সাথে কথা বলতে হয় সেইটাও ও চাচ্ছিলো না।তাই ও বিয়ে করতে চাচ্ছিলো।কিন্তু ওর ফেমিলি রাজি হবেনা বা ওর জন্য ও পাত্র খুঁজবেনা।এরপর ও ডিসিশন নিলো ও নিজেই খুঁজবে।এখন ওকে ওর বাসায় একটা স্যার পড়াতে আসতো।সেই স্যার এর জন্য সে ইস্তেখারা করেছিলো।ওর থেকে জানা মতে ইস্তেখারা নাকি পজিটিভ এসেছিলো।স্যার এর প্রতি ও আকৃষ্ট হয়েছিলো এই কারণে যে ও ভেবেছিলো স্যার টাও প্র‍্যাক্টিজিং।এরপর স্যারকে জানানোর পর স্যার না করে দেয়।ও ও মানসিকভাবে ভেঙ্গে যায়।দুয়া করে প্রচুর।এরপর স্যার হ্যাঁ বলে।কিন্তু স্যারটা প্র‍্যাক্টিজিং ছিল না।খারাপ ছেলে ছিলো।সে আরেকটা মেয়ের সাথে রিলেশ্নে ছিলো আছে।আমার ফ্রেন্ডটাকে দ্বিতীয় বিয়ে করবে বলছিলো।তাও আমার ফ্রেন্ড মেনে নেয়।ও তাও দুয়া করতে থাকে।এখন স্যারটা তো বাসায় পড়াতে আসতো।এভাবে করে সে আসতে আসতে রিলেশনে চলে যায়।কারণ বিয়ে তো হবেনা আর আমার বোনটা আবেগগত ভাবেও ছেলেটার সাথে থাকছিলো।এভাবে করে ও যিনায় পড়ে যায়।খুব খারাপভাবে।আমরা ওকে নসিহাহ করতাম ও শুনতো, শুনতো না এমন হয়ে গিয়েছিলো।পরে জানতে পারি আমার বোনটাকে কেউ যাদু করেছে কারণ যাদুর ১৮টা লক্ষণের মধ্যে ১৬টা মিলে গিয়েছিলো।এখন ও বুঝাতে চায় ওকে কে যাদু করবে?ও রুকিয়া করেনা।মূলত ওর দ্বীনের থেকে এভাবে ছিটকে পড়াটা হয়তো যাদুর প্রভাবেই হয়েছে।ও এখন মন থেকে, আবেগ থেকে খুব দুর্বল হয়ে আছে।ছেলেটা তাকে অনেক অত্যাচার করে মানসিকগত দিক থেকে।যখন ছেলেটা আমার ফ্রেন্ডকে এভোয়েড করে তাকে সময় দেয় না তখন ও ছেলেটাকে ছেড়ে দিতে চায় কিন্তু যখনি ছেলেটা আবার সময় দেয়,বা ছেলেটা মেয়েটাকে আবেগগত ভাবে মেয়েটাকে আবার নিজের কাছে নিয়ে যায়।ও আবার কনভিন্স হয়ে আবার বলে ছেলেটা ভালো।সব দোষ ওর মানে আমার বোনটার।মোট কথা এখন ওর পরিস্থিতি এমন যে ছেলেটার থেকে সময় পেলেই ও আবার হারামে চলে যায় নাহয় ছেলেটা থেকে দূরে থাকলে আবার রিপেন্ট ফিল করে আল্লাহর পথে যেতে চায়।ও কিন্তু রিপেন্ট ফিল করে,গুনাহ করে যে আমাদের বলও।ওর ফেমিলি তো ওতো দ্বীন বুঝেনা।যাইহোক,এখন ওকে সময় দিতে গিয়ে আমাদের নিজ লাইফে ইফেক্ট পড়ছে।আমরা আমাদের ডেইলি লাইফে ফোকাস করতে পারছিনা।আমলে কমতি হচ্ছে,এছাড়া মানুষের হক।এখন ওকে যদি সময় নআ দি ও গুনাহের পথে চলে যাবে।এখন আমাদের অবস্থাও তো ঠিক না।মোবাইল নিয়ে থাকতে হয়। এছাড়া মানসিকভাবে কষ্ট পাচ্ছি আমরা কারণ এতো নসিহা করছি,ওর জন্য মানুষ কান্না করতেছে তাও সে বুঝেনা।বুঝলেও আবার ছেলেটার কাছে চলে যায়।এইছাড়া ও যাতে আমাদের থেকে দূরে না যায় আমরা তাকে স্ট্রিক্ট ভাবেও না বলতে পারছিনা।কারণ আমাদের স্ট্রিক্ট নসিহা শুনলে ও আর আমাদের সাথে কথা বলেনা।যেমন বললাম ছেলেটা খারাপ,গুনাহ হবে,হারাম।এগুলা বললে ও আর আমাদের সাথে কিছু শেয়ার করেনা।গুনাহের সামিল হয়ে যেতে হচ্ছে।এইক্ষেত্রে আমরা কি করব?ওকে যদি সময় না দি আমাদের কি গুনাহ হবে?সময় দিলেও কিভাবে বুঝাবো?কারণ ওর সাথে শান্তিপূর্ণ ভাবে থাকতে হয়।কঠোর হতে গেলেই সমস্যা। আবার শান্ত হয়ে কথা বললে দেখা যায় ও গুনাহ আর ও করতেছে।এছাড়া আজ ও সুইসাইড এটেম্প নিয়েছিলো।এমতাবস্থায় ওর পাশে থাকা প্রয়োজন। কারণ ও কোন মূহুর্তে কি যে করে ফেলে!

নিজের লাইফে ফোকাস করবো নাকি তাকে বুঝাবো?

1 Answer

0 votes
by (15,000 points)
edited by

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।

জবাবঃ

আল্লাহ তায়ালা বলেন-

الزَّانِيَةُ وَالزَّانِي فَاجْلِدُوا كُلَّ وَاحِدٍ مِّنْهُمَا مِائَةَ جَلْدَةٍ ۖ وَلَا تَأْخُذْكُم بِهِمَا رَأْفَةٌ فِي دِينِ اللَّهِ إِن كُنتُمْ تُؤْمِنُونَ بِاللَّهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ ۖ وَلْيَشْهَدْ عَذَابَهُمَا طَائِفَةٌ مِّنَ الْمُؤْمِنِينَ

ব্যভিচারিণী নারী ব্যভিচারী পুরুষ; তাদের প্রত্যেককে একশ’ করে বেত্রাঘাত কর। আল্লাহর বিধান কার্যকর কারণে তাদের প্রতি যেন তোমাদের মনে দয়ার উদ্রেক না হয়, যদি তোমরা আল্লাহর প্রতি ও পরকালের প্রতি বিশ্বাসী হয়ে থাক। মুসলমানদের একটি দল যেন তাদের শাস্তি প্রত্যক্ষ করে। (সূরা নূর, আয়াত ২)

 

কেউ কাউকে গুনাহ করতে দেখলে তার সামর্থ্য অনুযায়ী তাকে বাধা প্রদান করবে।

 হাদীস শরীফে এসেছে-

عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ " مَنْ رَأَى مُنْكَرًا فَاسْتَطَاعَ أَنْ يُغَيِّرَهُ بِيَدِهِ فَلْيُغَيِّرْهُ بِيَدِهِ فَإِنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَبِلِسَانِهِ فَإِنْ لَمْ يَسْتَطِعْ فَبِقَلْبِهِ وَذَلِكَ أَضْعَفُ الإِيمَانِ " .

আবূ সাঈদ আল-খুদরী (রাঃ) থেকে বর্ণিতঃ তিনি বলেন- আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে বলতে শুনেছিঃ কেউ কোন গর্হিত (শারী’আত বিরোধী) কাজ সংঘটিত হতে দেখলে তাকে হাত দিয়ে প্রতিরোধ করবে। এরূপ করতে অক্ষম হলে তা কথার দ্বারা প্রতিহত করবে। যদি এতেও অক্ষম হয় তাহলে সে তা অন্তরে ঘৃণা করবে (বা তা দূর করার উপায় অন্বেষনে চিন্তা-ভাবনা করবে) তবে এটি হচ্ছে দুর্বলতম ঈমানের পরিচায়ক। সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং- ১১৪০

 

 সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!

 

১. প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে যেহেতু তার জন্য যিনা থেকে বিরত থাকা আবশ্যক। যিনার কারণে তাকে জাহান্নামে কঠিন শাস্তির সম্মুখিন হতে হবে। আর যেহেতু হাদীস শরীফে এসেছে কেউ কাউকে গুনাহ করতে দেখলে বা জানলে তার সামর্থ্য অনুযায়ী তাকে বাধা প্রদান করার নির্দেশ করা হয়েছে। সুতরাং প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রেও আপনার তার উপর শক্তি প্রয়োগ করার ক্ষমতা থাকলে (যিনা থেকে বিরত রাখার জন্য) তা করবেন এবং তাকে আরোও বুঝাবেন। একেবারে তার উপর ছেড়ে দেওয়া ঠিক হবে না। তবে যদি তাও সে না মানে তাহলে সে গুনাহগার হবেআপনি নন।

 

২. আপনার সামর্থ্য অনুযায়ী তার উপর কঠোর হবেন। প্রয়োজনে তার পিতা মাতাকেও জানাবেন। আর সে যদি কোনো কারণ বশত সুইসাইড করে তাহলে গুনাহ তার হবে, আপনার নয়।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী আব্দুল ওয়াহিদ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)
by
আর তাকে সময় দেওয়ার ক্ষেত্রে? আমাদের লাইফের প্রয়োজন মিটাবো নাকি তাকে সময় দিব?
by (15,000 points)
তার জন্য মাঝে মধ্যে দশ বিশ মিনিট  সময় দিলে হয়তো আপনার কোনো সমস্যা হওয়ার কথা না। তাই পারলে কিছু সময় তাকে একটু বুঝাবেন এবং যিনার ভয়াবহতা ও শাস্তি সম্পর্কেও বলবেন।

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করলে ভালো হয়। অন্যদিকে প্রতিমাসে একাধিকবার আমাদের মুফতি সাহেবগন জুমের মাধ্যমে সরাসরি প্রশ্নের উত্তর দিয়ে থাকেন। সেই ক্লাসগুলোতেও জয়েন করার জন্য অনুরোধ করা গেল। ক্লাসের সিডিউল: fb.com/iomedu.org

Related questions

...