0 votes
42 views
in পরিবার,বিবাহ,তালাক (Family Life,Marriage & Divorce) by (2 points)
edited by
আসসালামু আলাইকুম।

১)একটা লোক  তালাকের  মাসআলা কোন কিছুই জানতো না।সে মনে করেছিল শর্তযুক্ত তালাক  দিয়ে স্ত্রী কে ভয় দেখিয়ে ,  পরে শর্ত তুলে নিলেই  হয়ে যাবে।
তাই সে তার  স্ত্রীকে ভয় দেখানোর জন্য,  রাগ করে,তালাকের নিয়ত ছাড়া,  শর্তের সাথে  যুক্ত  করে  তালাক  দিয়েছিল এবং  পরে রাগ কমে গেলে শর্ত তুলেও নিয়েছিল, খুব  কম সময়ের ব্যবধানেই শর্ত তুলে নিয়েছিলো।

শর্তযুক্ত বাক্য ছিলঃ ফোন- ম্যাসেজ দিবা না, দিলে তালাক।

স্ত্রী ও তালাকের  মাসআলা  সম্পর্কে  কিছুই জানতো  না।
স্ত্রী  ভেবেছিলো,যেহেতু  তালাকের শর্ত উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে, তাই  সেই কাজ করলে কোন সমস্যা  নাই। তাই স্ত্রী  সেই কাজ  করেছিল।

মুহতারাম, স্বামী- স্ত্রী  তালাক বিষয়ক মাসআলা  দুইজনের একজনেও  জানতো না,কিছুই জানতো না।

 দুইজনেই, না জেনে ভুল  করে ফেলছে।
এতে ও কি তালাক  হয়ে  যাবে????এক জায়গা থেকে  বলা হয়েছে এক  তালাক হয়ে গেছে।

 তারা তো জানতো না।

না জেনে করেছে।

২) নিম্নে যেই প্রশ্নটা করতেছি,  এটা আমাদের জীবনে ঘটে নাই,জানার জন্য জানতে চেয়েছি,দয়া করেে বলবেন।

কেউ যদি  তার স্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে   বলেঃ

অমুক কাজ  করবা না, করলে ডির্ভোস।

স্ত্রী  ঐ  কাজ  করলে  কি তিন তালাক  হয়ে  যায়? নাকি এক তালাক???

ডির্ভোসের আগে কোন সংখ্যা  উল্লেখ  করে  নাই, তিন তালাককের নিয়ত ও করে নাই।

ডির্ভোস শব্দটা মানেই কি তিন  তালাক  বোঝায়?

৩) নিম্নে যেই প্রশ্নটা করতেছি,  এটা আমাদের জীবনে ঘটে নাই,জানার জন্য জানতে চেয়েছি,দয়া করে বলবেন।

শর্তের সাথে যখন- তখন এই শব্দটা  যুক্ত  করলে কি সেই শর্ত বারবার  ফিরে  আসে???  নাকি একবার  তালাক  হয়েই সেই শর্ত শেষ  হয়ে  যায়, পুনরায়  আর ফিরে  আসে  না?????


যখন- তখন  এই শব্দটা কি যতবার- ততবার  শব্দের মতই?

1 Answer

0 votes
by (12,000 points)
edited by

 

بسم الله الرحمن الرحيم

জবাব,

 * জুমহুর বা অধিকাংশ উলামায়ে কেরাম বলেন, শর্ত সাপেক্ষে তালাকের ক্ষেত্রে বিধান হল, কয় তালাক পতিত করার শর্ত করেছে সেই শর্ত অনুপাতে তালাক পতিত হবে। তথা কেউ যদি এক তালাক পতিত করার শর্ত করে তাহলে এক তালাক, যদি দুই তালাকের শর্ত করে তাহলে দুই তালাক, আর যদি তিন তালাকের শর্ত করে তাহলে তিন তালাক পতিত হবে।

যদি শুধুমাত্র একথা বলে যে, ওমুক কাজ করলে তুমি তালাক। তাহলে স্ত্রী উক্ত কাজ করলে এক তালাকে রেজয়ী প্রাপ্তা হবে। তথা ইদ্দত শেষ হবার আগে ইচ্ছে করলে স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনতে পারবে বিবাহ ছাড়াই। তালাককে শর্তের সাথে সংযুক্ত করলে সেই শর্ত আর ফিরিয়ে আনা যায় না। শর্ত পাওয়া গেলেই বক্তব্য অনুপাতে তালাক পতিত হয়ে যাবে।

উদাহরণ স্বরুপ, যদি কেউ রাগের মাথায় তার স্ত্রীকে বলে, তুমি যদি বাবার বাড়ি যাও, তাহলে তোমার সাথে আমার তালাক হয়ে যাবে।এমন অবস্থায় স্ত্রী যদি কখনো তার বাবার বাড়ি যায় তাহলে শর্ত অনুযায়ী তালাক পতিত হয়ে যাবে।

ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়ায় বর্ণিত রয়েছে,

وَزَوَالُ الْمِلْكِ بَعْدَ الْيَمِينِ بِأَنْ طَلَّقَهَا وَاحِدَةً أَوْ ثِنْتَيْنِ لَا يُبْطِلُهَا فَإِنْ وُجِدَ الشَّرْطُ فِي الْمِلْكِ انْحَلَّتْ الْيَمِينُ بِأَنْ قَالَ لِامْرَأَتِهِ: إنْ دَخَلْت الدَّارَ فَأَنْت طَالِقٌ فَدَخَلَتْ وَهِيَ امْرَأَتُهُ وَقَعَ الطَّلَاقُ وَلَمْ تَبْقَ الْيَمِينُ وَإِنْ وُجِدَ فِي غَيْرِ الْمِلْكِ انْحَلَّتْ الْيَمِينُ بِأَنْ قَالَ لِامْرَأَتِهِ: إنْ دَخَلْت الدَّارَ فَأَنْت طَالِقٌ فَطَلَّقَهَا قَبْلَ وُجُودِ الشَّرْطِ وَمَضَتْ الْعِدَّةُ ثُمَّ دَخَلَتْ الدَّارَ تَنْحَلُّ الْيَمِينُ وَلَمْ يَقَعْ شَيْءٌ كَذَا فِي الْكَافِي.

শর্তের সাথে তালাক প্রদাণের পর যদি স্ত্রীর উপর স্বামীর কর্তৃত্ব ছুটে যায়,যেমন শর্তের সাথে তালাক প্রদাণের পর স্বামী যদি স্ত্রীকে এক তালাক বা দুই তালাক দিয়ে দেয়,অতঃপর উক্ত স্বামীর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ থাকাবস্থায় যদি শর্ত পাওয়া যায়,তাহলে শর্ত অনুযায়ী তালাক পতিত হবে।যেমন কেউ একজন তার স্ত্রীকে বলল,যদি তুমি ঘরে প্রবেশ করো,তাহলে তুমি তালাক।ঐ মহিলা উক্ত ব্যক্তির স্ত্রী থাকাবস্থায় ঘরে প্রবেশ করল,তাহলে তালাক পতিত হয়ে যাবে,এবং শর্তও নিঃশেষ হয়ে যাবে।

আর যদি স্ত্রী না থাকাবস্থায় ঐ শর্ত পাওয়া যায়,তাহলে শর্ত নিঃশেষ হয়ে যাবে,তবে তালাক পতিত হবে না।যেমন কেউ তার স্ত্রীকে বলল,তুমি যদি ঐ ঘরে প্রবেশ করো তাহলে তালাক।অতঃপর ঐ ব্যক্তি তার স্ত্রীকে তালাক প্রদান করল,এবং ইদ্দতও শেষ হয়ে গেল।অতঃপর ঐ মহিলা সেই ঘরে প্রবেশ করল,তাহলে শর্ত নিঃশেষ হয়ে যাবে ঠিকই,কিন্তু তালাক পতিত হবে না।(ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া-১/৪১৬)

সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!

* কেউ শর্তের সাথে তালাক দিলে,সেই শর্ত প্রথম বার পাওয়া যাওয়ার সময়েই মূলত তালাকের সম্পর্ক থাকে।দ্বিতয়বার পাওয়া গেলে সেই শর্তের আলোকে আর তালাক পতিত হবে না।সুতরাং কেউ যদি তার স্ত্রীকে এমন তালাক দিয়ে দেয় তাহলে প্রথমবার এক তালাক পতিত হওয়ার পর আর তালাক পতিত হবে না।কিন্তু যদি কেউ বলে,"যখনই তুমি তোমার বাবার বাড়ি যাবে,তখনই তালাক" তাহলে এমন কথা দ্বারা দ্বিতয়বার তৃতীয়বারও তালাক পতিত হবে।

যদি কেউ এমনটা বলে ফেলে,তাহলে সে যেন তার স্ত্রীকে প্রথমে এক তালাক দিয়ে দেয় এবং ইদ্দত যেন শেষ হয়ে স্ত্রী বায়েনা হয়ে যায়।অতঃপর স্ত্রী যেন বাবার বাড়ি চলে যায়,তাহলে আর তালাক পতিত হবে না।কেননা তখন সে আর ঐ স্বামীর স্ত্রী নয়।এভাবে যখন ঐ মহিলা প্রথমবার বাবার বাড়ি যাবে,তখন যেহেতু সে ঐ স্বামীর স্ত্রী নয়,সেজন্য কোনো তালাক পতিত হবে না।এখন পরবর্তীতে ঐ স্ত্রীকে স্বামী আবার নতুনকরে বিয়ে করলে,এবং স্ত্রী তার বাবার বাড়ি গেলে,তালাক পতিত হবে না।কেননা যেহেতু প্রথম বার তালাক পতিত হচ্ছে না,তাই দ্বিতীয়বারও তালাক পতিত হবে না।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী মুজিবুর রহমান
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করলে ভালো হয়। অন্যদিকে প্রতিমাসে একাধিকবার আমাদের মুফতি সাহেবগন জুমের মাধ্যমে সরাসরি প্রশ্নের উত্তর দিয়ে থাকেন। সেই ক্লাসগুলোতেও জয়েন করার জন্য অনুরোধ করা গেল। ক্লাসের সিডিউল: fb.com/iomedu.org

Related questions

...