+1 vote
25 views
in কুরবানী (Slaughtering) by (3 points)
আমাদের বাসায় গরু রাখার জায়গা নাই, আমি আমাদের গরু আমার মামার বাসায় রেখেছিলাম। প্রতি বছরই রাখি, শুধু কোরবানি দেওয়ার ঠিক আগের মুহূর্তে নিয়ে আসতাম। এই বছর আমাদের বাসায় কোন কাজের লোক নাই, তাই আমার ভাই ডিসিশন নেয়, যে মামার বাড়ীতেই কোরবানি দিবে। মাংস কেটে বাসায় নিয়ে আসবে। কিন্তু আমার ভাই ঈদের নামাজ পড়ার জন্য মসজিদে গিয়েছিল। আমার মামার কাসাই, আমার মামার গরু জবাই করার পর আমাদের গরুও জবাই করে ফেলে। আমার ভাই তখন নামাজে। মোটকথা আমাদের পারমিশন ছাড়াই আমার মামা উনার গরুর সাথে আমাদের গরুও কসাইকে দিয়ে জবাই করে ফেলে। একজন হুজুর ছিলেন দোয়া পড়ার জন্য। কিন্তু কার কার নামে কোরবানি দিলাম, ঐ নামগুলো দেয়া হয় নাই। প্রতিবছর আমার ভাই দোয়া পড়ে, নাম বলে জবাই করে। এইবার মামা কেন এমন করলো, তা জানি না। উনাকে প্রশ্ন করা হয়েছে, কিন্তু কোন উত্তর পাই না।
আমার প্রশ্ন হচ্ছে, আমাদের কোরবানি কি কবুল হবে?

1 Answer

0 votes
by (4,280 points)
edited by
উত্তর
بسم الله الرحمن الرحيم 
.
শরীয়তের বিধান হলো কুরবানীর ক্ষেত্রে যেই জায়গায় কুরবানী  হবে,সব হুকুমের ক্ষেত্রে সে জায়গাই ধর্তব্য। 
যার পক্ষ থেকে কুরবানী দেওয়া হচ্ছে,তার জায়গার ধর্তব্য নেই।
,
অর্থাৎ যেই এলাকায় কুরবানী দেওয়া হচ্ছে,সেই এলাকায় ঈদের নামাজ হয়ে গেলেই সেখানে কুরবানী দেওয়া যাবে যদিও কুরবানী দাতা যেই এলাকায় আছে,সেই এলাকায় নামাজ শেষ না হোক।
সুতরাং আপনাদের পশু যখন জবেহ করা হয়েছে,তখন যদি আপনার মামার মহল্লায় ঈদের নামাজ শেষ হয়ে থাকে,
তাহলে আপনাদের কুরবানী আদায় হয়ে যাবে,কোনো সমস্যা নেই।

ফাতাওয়ায়ে আলমগীরীতে আছেঃ
    فی العالمگیریۃ: ج؍۶،ص؍۲۰۲۔ إذا ضحی بشاۃ نفسہ من غیرہ بأمر ذلک الغیر أو بغیر أمرہ لا تجوز لأنہ لا یمکن تجویز التضحیۃ عن الغیر إلا بإثبات الملک لذلک الغیر فی الشاۃ ، ولن یثبت الملک لہ فی الشاۃ إلا بالقبض ، ولم یوجد قبض الآمر ہٰہنا لا بنفسہ ولا بنائبہ ، کذا فی الذخیرۃ 
যার সারমর্ম হলো যদি কাহারো অনুমতি ছাড়াই কুরবানীর পশু জবাই করা হয়,তাহলে যদি এই পশুতে তার মালিকানা (যার পক্ষ থেকে আদায় করা হচ্ছে) থাকে,তাহলে এই কুরবানী ছহীহ হবে। 

 এখানে সেই কসাইদের দিয়েই কুরবানীর কাজ করানোর ইচ্ছা আপনাদের আগে  থেকেই ছিলো,বা তারা মনে করতো যে তাদের দিয়েই কাজ করানো হবে,সুতরাং তারা মনে করেছে যে আমরা জবেহ করে কাজ একটু  এগিয়ে নেই,তাই আপনার মামার কুরবানী করতে গিয়ে আপনাদের টাও জবাই করে ফেলেছে।
,
 জবেহ করার সময় শরীক কুরবানী দাতা বা শরীকদের নাম বলার কোনো প্রয়োজনীয়তা নেই,বরং অন্তরে  নিয়ত থাকলেই যথেষ্ট। 
মুখে নাম বলা কোনো প্রয়োজনীয়তা নেই।  
(কিতাবুল ফাতওয়া ৪/১১৪)
۔
ফাতাওয়ায়ে শামীতে আছেঃ  
کانت في السواد والمضحي في المصر، جازت قبل الصلاۃ، وفي العکس لم تجز۔ (شامي / کتاب الأضحیۃ ۶؍۳۱۸ کراچی)
যার সারমর্ম হলো যদি কুরবানীর পশু গ্রামে থাকে,আর কুরবানী দাতা শহরে থাকে, তাহলে যেহেতু গ্রাম বাসীদের উপর ঈদের নামাজ নেই,তাই নামাজের পূর্বেই জবাই করলে কুরবানী আদায় হয়ে যাবে।  
(★উল্লেখ্য আমাদের বাংলাদেশের সকল গ্রামই শরয়ী পরিভাষায় শহর,তাই সকল গ্রামেই ঈদের নামাজ পড়্রে হবে।   ) 
বাহরুর রায়েক গ্রন্থে আছেঃ
والمعتبر في ذٰلک مکان الأضحیۃ، حتی لو کانت في السواد والمضحي في المصر، یجوز کما انشق الفجر، في العکس لا یجوز، إلا بعد الصلاۃ۔ (البحر الرائق / کتاب الأضحیۃ ۸؍۳۲۱ زکریا، وکذا في تبیین الحقائق / کتاب الأضحیۃ ۶؍۴۷۷ دار الکتب العلمیۃ بیروت، وکذا في مجمع الأنہر / کتاب الأضحیۃ ۴؍۱۷۰ مکتبۃ فقیہ الأمۃ دیوبند، وکذا في بدائع الصنائع، کتاب الأضحیۃ / فصل في شروط جواز إقامۃ الواجب ۵؍۳۰۵ دار الکتب العلمیۃ بیروت، ۴؍۲۱۳ زکریا)
যার সারমর্ম হলো জবাই এর ক্ষেত্রে যেখানে জবাই হচ্ছে,সেই জায়গাই ধর্তব্য।  
,
★আর যদি আপনার মামার এলাকায় ঈদের নামাজ শেষ হওয়ার আগেই কুরবানী করা হয়ে থাকে,তাহলে আপনাদের এবং  আপনার মামার কুরবানী আদায় হয়নি।
আপনাদের আবার কুরবানী আদায় করতে হবে।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

ﻓَﺎﺳْﺄَﻟُﻮﺍْ ﺃَﻫْﻞَ ﺍﻟﺬِّﻛْﺮِ ﺇِﻥ ﻛُﻨﺘُﻢْ ﻻَ ﺗَﻌْﻠَﻤُﻮﻥَ অতএব জ্ঞানীদেরকে জিজ্ঞেস করো, যদি তোমরা না জানো। সূরা নাহল-৪৩

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন উত্তর পাওয়া যায় কিনা। না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন।

Related questions

...