+1 vote
37 views
in Halal & Haram by (16 points)
আমাদের সরকার কি তাগুব ? তার আইন মানা কি হারাম ?
by (18 points)
মাশআল্লাহ! ভাল প্রশ্ন। এর উত্তর দেয়াটা অনেক কঠিন বর্তমান প্রেক্ষাপটে। জানার উদ্দেশ্যে করে থাকলে ভাল। কিন্তু, জেনেও কাউকে ঠেকানোর জন্য করে থাকলে ঠিক নয়।

1 Answer

0 votes
by (8.8k points)
বিসমিহি তা'আলা

সমাধানঃ-

তাগুত শব্দের শাব্দিক বিশ্লেষণ

তাগুত-- তুগয়ান শব্দ থেকে রূপান্তরিত হয়েছে।তুগয়ান এর শাব্দিক অর্থ হল,সীমালঙ্ঘন।
পরিভাষায় তাগুত অর্থ হল,মা'বুদ বা অনুসরণীয় ব্যক্তির অবাধ্য কারীর নামই হল,তাগুত।

তাগুতের প্রকারভেদঃ

তাগুত মৌলিকভাবে পাঁচ প্রকারঃ

(নতুবা শাখা-প্রশাখাগত অনেক প্রকার হতে পারে)

[উইকিপেডয়ার তত্বমতে তাগুতের প্রকারবেদ নিম্নে প্রদত্ত হল]

প্রথম প্রকারঃ

ﺍﻷﻭﻝ : ﺍﻟﺸﻴﻄﺎﻥ ﺍﻟﺪﺍﻋﻲ ﺇﻟﻰ ﻋﺒﺎﺩﺓ ﻏﻴﺮ ﺍﻟﻠﻪ . ﺍﻟﺪﻟﻴﻞ ﻗﻮﻟﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ ﺃَﻟَﻢْ ﺃَﻋْﻬَﺪْ ﺇِﻟَﻴْﻜُﻢْ ﻳَﺎ ﺑَﻨِﻲ ﺁَﺩَﻡَ ﺃَﻥْ ﻟَﺎ ﺗَﻌْﺒُﺪُﻭﺍ ﺍﻟﺸَّﻴْﻄَﺎﻥَ ﺇِﻧَّﻪُ ﻟَﻜُﻢْ ﻋَﺪُﻭٌّ ﻣُﺒِﻴﻦٌ

ঐ শয়তান কে তাগুত বলে,যে গায়রুল্লাহর ইবাদতের দিকে লোকদিগকে দাওয়াত প্রদান করে।যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেন-

হে বনী-আদম! আমি কি তোমাদেরকে বলে রাখিনি যে, শয়তানের এবাদত করো না, সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু?

সূরা-ইয়াসিন-৬০

দ্বিতীয় প্রকারঃ

ﺍﻟﺜﺎﻧﻲ : ﺍﻟﺤﺎﻛﻢ ﺍﻟﺠﺎﺋﺮ ﺍﻟﻤﻐﻴﺮ ﻷﺣﻜﺎﻡ ﺍﻟﻠﻪ . ﺍﻟﺪﻟﻴﻞ ﻗﻮﻟﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ ﺃَﻟَﻢْ ﺗَﺮَ ﺇِﻟَﻰ ﺍﻟَّﺬِﻳﻦَ ﻳَﺰْﻋُﻤُﻮﻥَ ﺃَﻧَّﻬُﻢْ ﺁﻣَﻨُﻮﺍْ ﺑِﻤَﺎ ﺃُﻧﺰِﻝَ ﺇِﻟَﻴْﻚَ ﻭَﻣَﺎ ﺃُﻧﺰِﻝَ ﻣِﻦ ﻗَﺒْﻠِﻚَ ﻳُﺮِﻳﺪُﻭﻥَ ﺃَﻥ ﻳَﺘَﺤَﺎﻛَﻤُﻮﺍْ ﺇِﻟَﻰ ﺍﻟﻄَّﺎﻏُﻮﺕِ ﻭَﻗَﺪْ ﺃُﻣِﺮُﻭﺍْ ﺃَﻥ ﻳَﻜْﻔُﺮُﻭﺍْ ﺑِﻪِ ﻭَﻳُﺮِﻳﺪُ ﺍﻟﺸَّﻴْﻄَﺎﻥُ ﺃَﻥ ﻳُﻀِﻠَّﻬُﻢْ ﺿَﻼَﻻً ﺑَﻌِﻴﺪًﺍ

ঐ জালিম সরকারকে তাগুত বলে, যে অল্লাহ প্রদত্ত বিধি-বিধানে পরিবর্তন নিয়ে আসতে চায়।

যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেন-
আপনি কি তাদেরকে দেখেননি, যারা দাবী করে যে, যা আপনার প্রতি অবর্তীর্ণ হয়েছে আমরা সে বিষয়ের উপর ঈমান এনেছি এবং আপনার পূর্বে যা অবর্তীণ হয়েছে। তারা বিরোধীয় বিষয়কে শয়তানের দিকে নিয়ে যেতে চায়, অথচ তাদের প্রতি নির্দেশ হয়েছে, যাতে তারা ওকে মান্য না করে। পক্ষান্তরে শয়তান তাদেরকে প্রতারিত করে পথভ্রষ্ট করে ফেলতে চায়।[সূরা-নিসা;৬০]

তৃতীয় প্রকারঃ

ﺍﻟﺜﺎﻟﺚ : ﺍﻟﺬﻱ ﻳﺤﻜﻢ ﺑﻐﻴﺮ ﻣﺎ ﺃﻧﺰﻝ ﺍﻟﻠﻪ . ﺍﻟﺪﻟﻴﻞ ﻗﻮﻟﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ

ﺇِﻧَّﺎ ﺃَﻧﺰَﻟْﻨَﺎ ﺍﻟﺘَّﻮْﺭَﺍﺓَ ﻓِﻴﻬَﺎ ﻫُﺪًﻯ ﻭَﻧُﻮﺭٌ ﻳَﺤْﻜُﻢُ ﺑِﻬَﺎ ﺍﻟﻨَّﺒِﻴُّﻮﻥَ ﺍﻟَّﺬِﻳﻦَ ﺃَﺳْﻠَﻤُﻮﺍْ ﻟِﻠَّﺬِﻳﻦَ ﻫَﺎﺩُﻭﺍْ ﻭَﺍﻟﺮَّﺑَّﺎﻧِﻴُّﻮﻥَ ﻭَﺍﻷَﺣْﺒَﺎﺭُ ﺑِﻤَﺎ ﺍﺳْﺘُﺤْﻔِﻈُﻮﺍْ ﻣِﻦ ﻛِﺘَﺎﺏِ ﺍﻟﻠّﻪِ ﻭَﻛَﺎﻧُﻮﺍْ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﺷُﻬَﺪَﺍﺀ ﻓَﻼَ ﺗَﺨْﺸَﻮُﺍْ ﺍﻟﻨَّﺎﺱَ ﻭَﺍﺧْﺸَﻮْﻥِ ﻭَﻻَ ﺗَﺸْﺘَﺮُﻭﺍْ ﺑِﺂﻳَﺎﺗِﻲ ﺛَﻤَﻨًﺎ ﻗَﻠِﻴﻼً ﻭَﻣَﻦ ﻟَّﻢْ ﻳَﺤْﻜُﻢ ﺑِﻤَﺎ ﺃَﻧﺰَﻝَ ﺍﻟﻠّﻪُ ﻓَﺄُﻭْﻟَـﺌِﻚَ ﻫُﻢُ ﺍﻟْﻜَﺎﻓِﺮُﻭﻥَ

ঐ বিচারক-কে তাগুত বলে, যে আল্লাহ প্রদত্ত বিধি-বিধানকে উপেক্ষা করে ভিন্ন আইনের আদলে বিচার করে।

যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেন,

আমি তওরাত অবর্তীর্ন করেছি। এতে হেদায়াত ও আলো রয়েছে। আল্লাহর আজ্ঞাবহ পয়গম্বর, দরবেশ ও আলেমরা এর মাধ্যমে ইহুদীদেরকে ফয়সালা দিতেন। কেননা, তাদেরকে এ খোদায়ী গ্রন্থের দেখাশোনা করার নির্দেশ দেয়া হয়েছিল এবং তাঁরা এর রক্ষণাবেক্ষণে নিযুক্ত ছিলেন। অতএব, তোমরা মানুষকে ভয় করো না এবং আমাকে ভয় কর এবং আমার আয়াত সমূহের বিনিময়ে স্বল্পমূল্যে গ্রহণ করো না, যেসব লোক আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন, তদনুযায়ী ফায়সালা করে না, তারাই কাফের।[আল-মায়েদা;৪৪]

চতুর্থ প্রকারঃ

ﺍﻟﺮﺍﺑﻊ : ﺍﻟﺬﻱ ﻳﺪﻋﻲ ﻋﻠﻢ ﺍﻟﻐﻴﺐ ﻣﻦ ﺩﻭﻥ ﺍﻟﻠﻪ . ﺍﻟﺪﻟﻴﻞ ﻗﻮﻟﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ ﻭَﻋِﻨﺪَﻩُ ﻣَﻔَﺎﺗِﺢُ ﺍﻟْﻐَﻴْﺐِ ﻻَ ﻳَﻌْﻠَﻤُﻬَﺎ ﺇِﻻَّ ﻫُﻮَ ﻭَﻳَﻌْﻠَﻢُ ﻣَﺎ ﻓِﻲ ﺍﻟْﺒَﺮِّ ﻭَﺍﻟْﺒَﺤْﺮِ ﻭَﻣَﺎ ﺗَﺴْﻘُﻂُ ﻣِﻦ ﻭَﺭَﻗَﺔٍ ﺇِﻻَّ ﻳَﻌْﻠَﻤُﻬَﺎ ﻭَﻻَ ﺣَﺒَّﺔٍ ﻓِﻲ ﻇُﻠُﻤَﺎﺕِ ﺍﻷَﺭْﺽِ ﻭَﻻَ ﺭَﻃْﺐٍ ﻭَﻻَ ﻳَﺎﺑِﺲٍ ﺇِﻻَّ ﻓِﻲ ﻛِﺘَﺎﺏٍ ﻣُّﺒِﻴﻦٍ

ঐ ব্যক্তিকে তাগুত বলে,যে ব্যক্তি আল্লাহ তা'আলা ব্যতীত ভিন্ন কারো জন্য ইলমে গায়েব জানার দাবী করে বা এমন মতবাদে বিশ্বাস করে।

যেমনঃ আল্লাহ তা'আলা বলেন-  ;

তাঁর কাছেই অদৃশ্য জগতের চাবি রয়েছে। এ গুলো তিনি ব্যতীত কেউ জানে না। স্থলে ও জলে যা আছে, তিনিই জানেন। কোন পাতা ঝরে না; কিন্তু তিনি তা জানেন। কোন শস্য কণা মৃত্তিকার অন্ধকার অংশে পতিত হয় না এবং কোন আর্দ্র ও শুস্ক দ্রব্য পতিত হয় না; কিন্তু তা সব প্রকাশ্য গ্রন্থে রয়েছে।[সূরা-আন'আম;৫৯]

পঞ্চম প্রকার

ﺍﻟﺨﺎﻣﺲ : ﺍﻟﺬﻱ ﻳﻌﺒﺪ ﻣﻦ ﺩﻭﻥ ﺍﻟﻠﻪ ﻭﻫﻮ ﺭﺍﺽ ﺑﺎﻟﻌﺒﺎﺩﺓ . ﺍﻟﺪﻟﻴﻞ ﻗﻮﻟﻪ ﺗﻌﺎﻟﻰ ﻭَﻣَﻦْ ﻳَﻘُﻞْ ﻣِﻨْﻬُﻢْ ﺇِﻧِّﻲ ﺇِﻟَﻪٌ ﻣِﻦْ ﺩُﻭﻧِﻪِ ﻓَﺬَﻟِﻚَ ﻧَﺠْﺰِﻳﻪِ ﺟَﻬَﻨَّﻢَ ﻛَﺬَﻟِﻚَ ﻧَﺠْﺰِﻱ ﺍﻟﻈَّﺎﻟِﻤِﻴﻦَ

ঐ ব্যক্তিকে তাগুত বলে,যে আল্লাহ তা'আলা  ব্যতীত ভিন্ন কারো ইবাদতে লিপ্ত রয়েছে।এবং সে ঐ গায়রুল্লাহর ইবাদত নিয়ে সন্তুষ্ট।

যেমন অাল্লাহ তা'আলা বলেন-
তাদের মধ্যে যে বলে যে, তিনি ব্যতীত আমিই উপাস্য, তাকে আমি জাহান্নামের শাস্তি দেব। আমি জালেমদেরকে এভাবেই প্রতিফল দিয়ে থাকি।[সূরা-আম্বিয়া-২৯]

মুসলিম দেশ সমূহ এবং মুসলিম বিচারকবৃন্দ সহ সমাজ ও ব্যক্তি পর্যায়ের কে কে তাগুত হতে পারে তা একটু চিন্তা করলেই বুঝতে পারবেন।আল্লাহ আমাদের সবাইকে হেফাজত করুক।আমীন।

জাযাকুমুল্লাহ।

আল্লাহ-ই ভালো জানেন।
ইসলামিক ফতোয়া ওয়েবসাইটটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত। যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন উত্তর পাওয়া যায় কিনা। না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনার দ্বীন সম্পর্কীয় প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য রয়েছে আমাদের অভিজ্ঞ ওলামায়কেরাম ও মুফতি সাহেবগনের একটা টিম যারা ইনশাআল্লাহ প্রশ্ন করার ২৪-৪৮ ঘন্টার সময়ের মধ্যেই প্রশ্নের উত্তর দিয়ে থাকেন।
...