0 votes
35 views
in miscellaneous Fiqh by
কখন সালাম দেওয়া যাবে না  হানাফি মতে?

1 Answer

0 votes
by (9.5k points)
বিসমিহি তা'আলা

সমাধানঃ-

ভাত খাওয়ার সময় সালাম দেয়া নিষেধ এ মর্মে কোন হাদীস নেই!

ﻗﺎﻝ ﺍﻟﻌﺠﻠﻮﻧﻲ ﺭﺣﻤﻪ ﺍﻟﻠﻪ ﻓﻲ " ﻛﺸﻒ ﺍﻟﺨﻔﺎﺀ ﻭﻣﺰﻳﻞ ﺍﻻﻟﺒﺎﺱ ﻋﻤﺎ ﺍﺷﺘﻬﺮ ﻣﻦ ﺍﻻﺣﺎﺩﻳﺚ ﻋﻠﻰ ﺃﻟﺴﻨﺔ ﺍﻟﻨﺎﺱ " : " ( ﻻ ﺳﻼﻡ ﻋﻠﻰ ﺃﻛﻞ ) ﻟﻴﺲ ﺑﺤﺪﻳﺚ،

তরজমাঃ- ইমাম আজলুনী রহঃ বলেনঃ

'খাওয়ার সময় সালাম নেই' এই কথাটা হাদীস নয়।এরকম কোনো হাদিস পাওয়া যায় নি।

কাশফুল খিফা ও মুযিলুল ইলবাস;(২/৩৬২)

তবে মুখে খাবারের লোকমা থাকা অবস্থায় সালাম দেয়া যাবে না।কেননা তখন উক্ত ব্যক্তির জন্য জবাব দেয়াটা কষ্টকর হবে।

যেমন ইমাম নববী রহ বলেন.....

ﻗﺎﻝ ﺍﻟﻨﻮﻭﻱ ﺭﺣﻤﻪ ﺍﻟﻠﻪ ﻓﻲ " ﺍﻷﺫﻛﺎﺭ " : " ﻭﻣﻦ ﺫﻟﻚ ﺇﺫﺍ ﻛﺎﻥ ﻳﺄﻛﻞُ ﻭﺍﻟﻠﻘﻤﺔ ﻓﻲ ﻓﻤﻪ ، ﻓﺈﻥ ﺳﻠَّﻢ ﻋﻠﻴﻪ ﻓﻲ ﻫﺬﻩ ﺍﻷﺣﻮﺍﻝ ﻟﻢ ﻳﺴﺘﺤﻖّ ﺟﻮﺍﺑﺎً ، ﺃﻣﺎ ﺇﺫﺍ ﻛﺎﻥ ﻋﻠﻰ ﺍﻷﻛﻞ ﻭﻟﻴﺴﺖ ﺍﻟﻠﻘﻤﺔُ ﻓﻲ ﻓﻤﻪ ﻓﻼ ﺑﺄﺱَ ﺑﺎﻟﺴﻼﻡ ،
ﻭﻳﺠﺐُ ﺍﻟﺠﻮﺍﺏ
তরজমাঃ-
ইমাম নববী রহ কোন সময় সালাম দেয়া উচিৎ এবং কোন সময় অনুচিৎ তার বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেনঃ

ঐ সময় সালাম দেয়া মাকরুহ যখন কেউ খাওয়ার মধ্যে থাকে এবং খাদ্য তার মুখে থাকে, যদি এমতাবস্থায় কাউকে সালাম দেয়া হয়,তাহলে তার উপর সালামের উত্তর দেয়া ওয়াজিব হবে না।কিন্তু যদি কেউ খাবার টেবিলে বা খাদ্য খেতে থাকে, এবং তার মূখের খাবার নয় এমন অবস্থায় কেউ তাকে সালাম প্রদান করে তাহলে সালামের উত্তর দেয়া তার উপর ওয়াজিব।

আল-মিনহাজ(১/২৫১)

অথবা কেউ কেউ এ দৃষ্টিকোণেও খাবের সময় সালাম না দেয়ার কথা বলে থাকেন যে,সালামের অর্থ হল মুসাফাহা অর্থাৎ খাবার সময় মুসাফাহা করা যাবে না।

চার মাযহাব সম্বলীত সর্ব বৃহৎ ফেক্বাহী গ্রন্থ
"আল-মাওসু'আতুল ফেক্বহিয়্যায় " রয়েছে,

ولا يسلم على من كان منشغلا بالأكل واللقمة في فمه، فإن سلم لم يستحق الجواب، أما إذا سلم عليه بعد البلع أو قبل وضع اللقمة في فمه فلا يتوجه المنع ويجب الجواب،

ভাবার্থঃ

খাবার মূখে রয়েছে এমন অবস্থায় সালাম দেয়া যাবে না।যদি কেউ এমতাবস্থায় সালাম দেয় তাহলে সে সালামের জবাব পাওয়া যোগ্য নয়।

খাবার গিলে ফেলার পর অথবা মুখে খাবার দেয়ার পূর্বে যদি কেউ তাকে সালাম করে তাহলে এমতাবস্থায় সালামের জবাব দেয়া তার উপর ওয়াজিব।{২৫/১৬৫}

হাকিমুল উম্মত থানভী রাহ আদাবুল মু'আশারাত গ্রন্থে খাবার সময় সালাম প্রদাণ কে এ দৃষ্টিকোনে মাকরুহ বলেছেন যে, এমতাবস্থায় আহারকারীর নিকট খাবার গ্রহণের জন্য সওয়াল করা হয়ে যায়।

তখন অর্থ হয়তো এই দাড়াবে যে,যে ব্যক্তি সালাম করল,সে যেন সালামকৃত ব্যক্তির নিকট খাবারের সুওয়াল করছে।

ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়াতে কাকে কাকে সালাম দেয়া মাকরুহ গণনা করেছেন, কিন্তু তাতে আহার গ্রহণকারী ব্যক্তির আলোচনা নেই।

يكره السلام عند قراءة القرآن جهرا، وكذا عند مذاكرة العلم، وعند الأذان والإقامة، والصحيح أنه لا يرد في هذه المواضع أيضا، كذا في الغياثية.

ولا يسلم عند الخطبة يوم الجمعة والعيدين واشتغالهم بالصلاة ليس فيهم أحد إلا يصلي كذا في الخلاصة.

ফাতাওয়ায়ে হিন্দিয়া;৫/৩২৫

সু-প্রিয় পাঠক ও দ্বীনী ভাই!

সুওয়ালের আশংকা না থাকলে সালাম দেয়া যাবে।

আল্লাহ-ই ভালো জানেন।

উত্তর লিখনে

মুফতী ইমদাদুল হক

ইফতা বিভাগ, IOM.

পরিচালক

ইসলামিক রিচার্স কাউন্সিল বাংলাদেশ
ইসলামিক ফতোয়া ওয়েবসাইটটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত। যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন উত্তর পাওয়া যায় কিনা। না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনার দ্বীন সম্পর্কীয় প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য রয়েছে আমাদের অভিজ্ঞ ওলামায়কেরাম ও মুফতি সাহেবগনের একটা টিম যারা ইনশাআল্লাহ প্রশ্ন করার ২৪-৪৮ ঘন্টার সময়ের মধ্যেই প্রশ্নের উত্তর দিয়ে থাকেন।
...