+1 vote
59 views
in পরিবার,বিবাহ,তালাক (Family Life,Marriage & Divorce) by (8 points)
edited by
আসসালামু আলাইকুম।

৬ বছর আগে, মেয়ের বয়স তখন ১৬ বছর ৫ মাস; দ্বীনের তেমন কোন জ্ঞান ই ছিলনা। প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ায় গোনাহ হচ্ছিল তাই বিয়ে করে নেয়। বিয়ে টা মোবাইল ফোনে হয়েছিল এবং কাজী অফিসে সাক্ষীরা এবং সেই ছেলে ছিল। মেয়ের কবুল বলা তারা মোবাইলের লাউড স্পিকারে শুনে। বিয়েটা রেজিস্ট্রি করানো হয়নি এখনো। পরবর্তীতে তারা শারীরিকভাবে এমনিতে ঘনিষ্ঠ হলেও তাদের মধ্যে ওইরকম কিছু অর্থাৎ সহবাস হয়নি। তারা যার যার নিজ বাসায়ই থাকে এখনো।

বর্তমানে তারা ২ জনই আলহামদুলিল্লাহ দ্বীন প্র্যাক্টিসে সিরিয়াস। ছেলেটা একটি স্বনামধন্য সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স পর্যন্ত কমপ্লিট করেছে। এখন হালাল চাকুরীর জন্য চেষ্টা করছে। তবে অন্যদিকে যেমন -ছেলের পরিবারের আর্থিক অবস্থা+সামাজিক স্ট্যাটাস মেয়ের পরিবারের চেয়ে নিচে। আর মেয়ের বাবা এই বিয়েতে রাজি না। উল্লেখ্য, মেয়ের বাবা দ্বীনের ব্যাপারে এখনো অতটা সিরিয়াস না বরং টাকা-পয়সা, স্ট্যাটাস মাত্রাতিরিক্ত গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। মেয়ের মা এই বিয়েতে রাজি।

এদিকে মেয়ে ও এই ছেলে ছাড়া অন্য কোত্থাও বিয়ে করতে একদমই রাজি না। যদি এই ছেলে কে বিয়ে করতে শরয়ী বাধা থাকে তাহলে এই মেয়ে আর বিয়েই করতে রাজি না।

এমতাবস্থায় তার জন্য শরয়ী বিধান কি হবে? বাংলাদেশে তো শারীয়াহ কোর্ট নেই তাহলে বাবা কিভাবে আদালতের মাধ্যমে বিয়ে ভাংতে পারবে?

1 Answer

0 votes
by (14,480 points)
উত্তরঃ 
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم 
۔
মোবাইলের মাধ্যমে ৬ বছর আগে যে মেয়ের বিবাহ হয়েছিলো,শরীয়তের বিধান অনুযায়ী তাদের সেই বিবাহ ছহিহ হয়নি।
তাদের মাঝে যদিও সহবাস  হয়নি,তারপরেও তারা যে শারীরিকভাবে এমনিতে ঘনিষ্ঠ হয়েছে,কথাবার্তা বলেছে,সবই নাজায়েজ হয়েছে।
,
বিবাহ সহীহ হওয়ার জন্য শর্ত হল দু’জন আযাদ প্রাপ্ত বয়স্ক বিবেকবান দুই জন মুসলিম স্বাক্ষের সামনে পাত্র/পাত্রি প্রস্তাব দিবে আর অপরপক্ষে পাত্র/পাত্রি তা কবুল করবে। আর সাক্ষিগণ উভয়ের কথা সুষ্পষ্টভাবে শুনবে। আর শরয়ী এ শর্তাবলী পরিপূর্ণভাবে টেলিফোনে পাওয়া সম্ভব নয়। তাই টেলিফোন বা মোবাইলে বিবাহ করা জায়েজ নয়। {ফাতওয়ায় উসমানী-২/৩০৪,৩০৫}


فى الدر المختار- ( و ) شرط ( حضور ) شاهدين ( حرين ) أو حر وحرتين ( مكلفين سامعين قولهما معا ) (الدر المختار ، كتاب النكاح،-3/9)

অনুবাদ-বিবাহ সহীহ হওয়ার শর্ত হল শরীয়তের মুকাল্লাফ [যাদের উপর শরীয়তের বিধান আরোপিত হয়] এমন দুইজন আযাদ পুরুষ সাক্ষি বা একজন আযাদ পুরুষ ও দুইজন মহিলা সাক্ষি হতে হবে, যারা প্রস্তাবনা ও কবুল  বলার উভয় বক্তব্য স্বকর্ণে উপস্থিত থেকে শুনতে পায়। {আদ দুররুল মুখতার-৩/৯, ফাতওয়ায়ে হিন্দিয়া-১/২৬৮}

,
সুতরাং যেহেতু তাদের বিবাহই ছহিহ হয়নি,তাই  বিবাহ ভেঙে দেওয়ার কোনো প্রশ্নই আসছেনা। 
,
তবে  মেয়ের জন্য উচিত সে যেনো তার বাবার সিদ্ধান্তই মেনে নেই,এতেই তার সবদিক দিয়েই ফায়দা।
বাবাকে যে যেনো কোনোভাবেই কষ্ট না দেয়। 
তারপরেও মেয়ে যদি কোনোভাবেই বাবার সিদ্ধান্ত না মানে, অন্যত্রে বিবাহ বসতে রাজী না হয়,(আর তাদের আগের বিবাহও ছহীহ হয়নি,) মেয়ে যদি উক্ত ছেলের সাথেই সঠিক পদ্ধতিতে পুনরায় বিবাহ করে নিতে চায়,  

তাহলে অভিভাবকের অনুমতি ছাড়া বিবাহ এর মাসয়ালা জেনে নিয়ে তাদেরকে বিবাহ  সম্পন্ন করতে হবে।
,

★মাসয়ালাঃছেলে মেয়ে যদি প্রাপ্ত বয়স্ক হয়, তাহলে তাদের বিয়ে শুদ্ধ হবার জন্য অভিভাবকের অনুমতি বা উপস্থিতি জরুরী নয়।

তবে যদি মেয়ে কুফু তথা মেয়ে থেকে বংশীয় দিক থেকে অনেক নিম্নমানের কাউকে বিয়ে করে, তাহলে মেয়ের বাবা আদালতের মাধ্যমে উক্ত বিয়ে বিচ্ছেদ করাতে পারে।

কিন্তু কুফুতে বিয়ে করলে সেই বিয়ে কোন নৈতিক কারণ ছাড়া বিচ্ছেদ ঘটাতে পারে না।

عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عَبَّاسٍ؛ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم، قَالَ: «الْأَيِّمُ أَحَقُّ بِنَفْسِهَا مِنْ وَلِيِّهَا.

হযরত আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন, মেয়ে তার ব্যক্তিগত বিষয়ে অভিভাবকের চেয়ে অধিক হকদার। {মুয়াত্তা মালিক, হাদীস নং-৮৮৮, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং-১৪২১, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-১৮৮৮, সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং-২০৯৮, সুনানে দারেমী, হাদীস নং-২২৩৪, সুনানে তিরমিজী, হাদীস নং-১১০৮, সুনানে নাসায়ী, হাদীস নং-৩২৬০, সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস নং-৪০৮৪, সুনানে দারাকুতনী, হাদীস নং-৩৫৭৬}

عَنْ أَبِي سَلَمَةَ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ قَالَ: ” جَاءَتِ امْرَأَةٌ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَتْ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، إِنَّ أَبِي وَنِعْمَ الْأَبُ هُوَ، خَطَبَنِي إِلَيْهِ عَمُّ وَلَدِي فَرَدَّهُ، وَأَنْكَحَنِي رَجُلًا وَأَنَا كَارِهَةٌ. فَبَعَثَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِلَى أَبِيهَا، فَسَأَلَهُ عَنْ قَوْلِهَا، فَقَالَ: صَدَقَتْ، أَنْكَحْتُهَا وَلَمْ آلُهَا خَيْرًا. فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «لَا نِكَاحَ لَكِ، اذْهَبِي فَانْكِحِي مَنْ شِئْتِ

হযরত সালামা বিনতে আব্দুর রহমান রাঃ থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা এক মেয়ে রাসূল সাঃ এর কাছে এল। এসে বলল, হে আল্লাহর রাসূল! আমার পিতা! কতইনা উত্তম পিতা! আমার চাচাত ভাই আমাকে বিয়ের প্রস্তাব দিল আর তিনি তাকে ফিরিয়ে দিলেন। আর এমন এক ছেলের সাথে বিয়ে দিতে চাইছেন যাকে আমি অপছন্দ করি। এ ব্যাপারে রাসূল সাঃ তার পিতাকে জিজ্ঞাসা করলে পিতা বলে, মেয়েটি সত্যই বলেছে। আমি তাকে এমন পাত্রের সাথে বিয়ে দিচ্ছি যার পরিবার ভাল নয়। তখন রাসূল সাঃ মেয়েটিকে বললেন, “এ বিয়ে হবে না, তুমি যাও, যাকে ইচ্ছে বিয়ে করে নাও”। {সুনানে সাঈদ বিন মানসূর, হাদীস নং-৫৬৮, মুসন্নাফে আব্দুর রাজ্জাক, হাদীস নং-১০৩০৪, মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস নং-১৫৯৫৩, দিরায়া ফী তাখরীজি আহাদিসীল হিদায়া, হাদীস নং-৫৪১}

হযরত ইবনে আব্বাস রাঃ থেকে বর্ণিত। কুমারী মেয়ে রাসূল সাঃ এর কাছে এসে বলল, আমার পিতা আমার অপছন্দ সত্বেও বিয়ে দিয়েছে, তখন রাসূল সাঃ সে মেয়েকে অধিকার দিলেন, [যাকে ইচ্ছে বিয়ে করতে পারে বা এ বিয়ে রাখতেও পারে]। {মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-২৪৬৯, সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং-১৮৭৫, সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং-২০৯৬, সুনানুল কুবরা নাসায়ী, হাদীস নং-৫৩৬৬, সুনানে দারা কুতনী, হাদীস নং-৩৫৬৬}


والله اعلم بالصواب
উত্তর লিখনে
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ IOM    


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

ﻓَﺎﺳْﺄَﻟُﻮﺍْ ﺃَﻫْﻞَ ﺍﻟﺬِّﻛْﺮِ ﺇِﻥ ﻛُﻨﺘُﻢْ ﻻَ ﺗَﻌْﻠَﻤُﻮﻥَ অতএব জ্ঞানীদেরকে জিজ্ঞেস করো, যদি তোমরা না জানো। সূরা নাহল-৪৩

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন উত্তর পাওয়া যায় কিনা। না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন।

Related questions

...