0 votes
208 views
in Halal & Haram by
আসসালামু আলাইকুম।।।

আমি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করি।।।আমার মা আড়াই বছর আগে ওয়াশ রুমে স্লিপ খেয়ে পড়ে যায়।।।উনার কোমড়ের হাড্ডি ভেনংে যায়।।।তাই তার সেবা করার জন্য আমি অফিস থেকে ৫মাস এর মেডিকেল ছুটি কাটিয়েছি।।।উল্লেখ্য এখানে যে সার্টিফিকেট এর মাধ্যমে আমি ছুটি কাটাইসি সেখানে আমাকে অসুস্থ শো করানো হইসে।।।কারণ এছাড়া অন্য কারো মেডিকেল সার্টিফিকেট দিয়ে ছুটি গ্রহণযোগ্য নয়।।।

মেডিকেল ছুটি তে পুরো বেতন কাটেনা।।।বেসিক টা নেয়া যায়।।।কিন্তু আমি এখানে কনফিউজড যে এই টাকা টা আমার নেয়া বা নিজের জন্য খরচ করা টা জায়েজ কিনা???যেহেতু আমার ছুটি না নিয়েও উপায় ছিলনা আমার মায়ের দেখাশুনার ব্যাপার ,আবার আমার অসুস্থতা শো না করে ছুটি ও নেয়া সম্ভব ছিল না।।।

আমি এখনো পর্যন্ত টাকা টা নেইনি।।।অফিসিয়াল কিছু কাজকর্ম আছে এখানে সিভিল সার্জন দ্বারা সার্টিফিকেট ভ্যারিফাই করবে।।।

এখন আমার করণীয় কি??টাকা টা কি নিব???

1 Answer

0 votes
by (6.7k points)
edited by
বিসমিহি তা'আলা

১ম পৃষ্টা

মিথ্যা বলা প্রসঙ্গে শরীয়তের বিধান

তিন অবস্থায় মিথ্যা বলা জায়েয।

যেমনঃ-হযরত আসমা বিনতে ইয়াযিদ রাঃ থেকে বর্ণিত,

 ﻋَﻦْ ﺃَﺳْﻤَﺎﺀَ ﺑِﻨْﺖِ ﻳَﺰِﻳﺪَ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻬﺎ ﻗَﺎﻟَﺖْ : ﻗَﺎﻝَ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ :

 ( ﻟَﺎ ﻳَﺤِﻞُّ ﺍﻟْﻜَﺬِﺏُ ﺇِﻟَّﺎ ﻓِﻲ ﺛَﻠَﺎﺙٍ : ﻳُﺤَﺪِّﺙُ ﺍﻟﺮَّﺟُﻞُ ﺍﻣْﺮَﺃَﺗَﻪُ ﻟِﻴُﺮْﺿِﻴَﻬَﺎ ، ﻭَﺍﻟْﻜَﺬِﺏُ ﻓِﻲ ﺍﻟْﺤَﺮْﺏِ ، ﻭَﺍﻟْﻜَﺬِﺏُ ﻟِﻴُﺼْﻠِﺢَ ﺑَﻴْﻦَ ﺍﻟﻨَّﺎﺱِ)

তরজমাঃ

নবীজী সাঃ বলেনঃ

তিনস্থান ব্যতীত অন্য কোথাও মিথ্যা বলা জায়েয নয়,

১/স্ত্রীর সাথে ভালবাসার অভিব্যক্তি প্রকাশ করতে।

২/যুদ্ধের ময়দানে কাফিরের সাথে যুদ্ধ বিষয়ে।

৩/দু-ভাইয়ের মধ্যে সন্ধি স্থাপন করতে।

তিরমিযি-১৯৩৯,আবু-দাউদ-৪৯২১।

উম্মে কুলছুম রাযি থেকে বর্ণিত,তিনি রাসূলুল্লাহ সাঃ কে বলতে শুনেছেন,

ﻭﺭﻭﻯ ﻣﺴﻠﻢ ( 2065 ) ﻋﻦ ﺃُﻡَّ ﻛُﻠْﺜُﻮﻡٍ ﺑِﻨْﺖِ ﻋُﻘْﺒَﺔَ ﺑْﻦِ ﺃَﺑِﻲ ﻣُﻌَﻴْﻂٍ ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻬﺎ ، ﺃَﻧَّﻬَﺎ ﺳَﻤِﻌَﺖْ ﺭَﺳُﻮﻝَ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﻭَﻫُﻮَ ﻳَﻘُﻮﻝُ : ( ﻟَﻴْﺲَ ﺍﻟْﻜَﺬَّﺍﺏُ ﺍﻟَّﺬِﻱ ﻳُﺼْﻠِﺢُ ﺑَﻴْﻦَ ﺍﻟﻨَّﺎﺱِ ﻭَﻳَﻘُﻮﻝُ ﺧَﻴْﺮًﺍ ﻭَﻳَﻨْﻤِﻲ ﺧَﻴْﺮًﺍ ) . ﻗَﺎﻝَ ﺍﺑْﻦُ ﺷِﻬَﺎﺏٍ : ﻭَﻟَﻢْ ﺃَﺳْﻤَﻊْ ﻳُﺮَﺧَّﺺُ ﻓِﻲ ﺷَﻲْﺀٍ ﻣِﻤَّﺎ ﻳَﻘُﻮﻝُ ﺍﻟﻨَّﺎﺱُ ﻛَﺬِﺏٌ ﺇِﻟَّﺎ ﻓِﻲ ﺛَﻠَﺎﺙٍ : ﺍﻟْﺤَﺮْﺏُ ، ﻭَﺍﻟْﺈِﺻْﻠَﺎﺡُ ﺑَﻴْﻦَ ﺍﻟﻨَّﺎﺱِ ، ﻭَﺣَﺪِﻳﺚُ ﺍﻟﺮَّﺟُﻞِ ﺍﻣْﺮَﺃَﺗَﻪُ ﻭَﺣَﺪِﻳﺚُ ﺍﻟْﻤَﺮْﺃَﺓِ ﺯَﻭْﺟَﻬَﺎ

রাসূলুল্লাহ সাঃ বলেন-

ﻭﻗﺎﻝ ﺍﻟﻨﻮﻭﻱ ﺭﺣﻤﻪ ﺍﻟﻠﻪ ﻓﻲ " ﺷﺮﺡ ﻣﺴﻠﻢ :"

ﻭَﺃَﻣَّﺎ ﻛَﺬِﺑﻪ ﻟِﺰَﻭْﺟَﺘِﻪِ ﻭَﻛَﺬِﺑﻬَﺎ ﻟَﻪُ : ﻓَﺎﻟْﻤُﺮَﺍﺩ ﺑِﻪِ ﻓِﻲ ﺇِﻇْﻬَﺎﺭ ﺍﻟْﻮُﺩّ ، ﻭَﺍﻟْﻮَﻋْﺪ ﺑِﻤَﺎ ﻟَﺎ ﻳَﻠْﺰَﻡ ، ﻭَﻧَﺤْﻮ ﺫَﻟِﻚَ ؛ ﻓَﺄَﻣَّﺎ ﺍﻟْﻤُﺨَﺎﺩَﻋَﺔ ﻓِﻲ ﻣَﻨْﻊ ﻣَﺎ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﺃَﻭْ ﻋَﻠَﻴْﻬَﺎ , ﺃَﻭْ ﺃَﺧْﺬ ﻣَﺎ ﻟَﻴْﺲَ ﻟَﻪُ ﺃَﻭْ ﻟَﻬَﺎ : ﻓَﻬُﻮَ ﺣَﺮَﺍﻡ ﺑِﺈِﺟْﻤَﺎﻉِ ﺍﻟْﻤُﺴْﻠِﻤِﻴﻦَ . ﻭَﺍَﻟﻠَّﻪ ﺃَﻋْﻠَﻢ " ﺍﻧﺘﻬﻰ

ভাবার্থঃ

ইমাম নববী রাহ বলেনঃস্বামী-স্ত্রী পরস্পর মিথ্যা বলা দ্বারা উদ্দেশ্য হল,ভালবাসা প্রকাশের মধ্যে এবং ঐ সমস্ত প্রতিজ্ঞার ক্ষেত্রে যা পূর্ণ করা অত্যাবশ্যকীয় হয় না।তবে মিথ্যা বলার মাধ্যমে কাউকে ধোকা দেওয়া অথবা কারো মাল ছিনিয়ে নেয়া সর্বসম্মতিক্রমে হারাম।

শরহে মুসলিম-নববী-১৬/১৪৮।

কিছু সংখ্যক উলামায়ে কেরাম মিথ্যা বলাকে হাদীসে বর্ণিত তিনটি বিষয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখেন।কিন্ত বিদগ্ধ গবেষক উলামায়ে কেরাম ঐ সমস্ত বিষয়ের মধ্যেও অনুমিত প্রদান করেছেন যেথায় অন্যর ক্ষতি ব্যতীত নিজের মঙ্গল নিহিত রয়েছে।

ﻳﻘﻮﻝ ﺍﺑﻦ ﺍﻟﺠﻮﺯﻱ ﻣﺎ ﻧﺼﻪ : ﻭﺿﺎﺑﻄﻪ ﺃﻥ ﻛﻞ ﻣﻘﺼﻮﺩ ﻣﺤﻤﻮﺩ ﻻ ﻳﻤﻜﻦ ﺍﻟﺘﻮﺻﻞ ﺇﻟﻴﻪ ﺇﻻ ﺑﺎﻟﻜﺬﺏ، ﻓﻬﻮ ﻣﺒﺎﺡ ﺇﻥ ﻛﺎﻥ ﺍﻟﻤﻘﺼﻮﺩ ﻣﺒﺎﺣﺎ، ﻭﺇﻥ ﻛﺎﻥ ﻭﺍﺟﺒﺎ، ﻓﻬﻮ ﻭﺍﺟﺐ .

ﺍﻟﻜﺘﺎﺏ : ﻓﺘﺎﻭﻯ ﺩﺍﺭ ﺍﻹﻓﺘﺎﺀ ﺍﻟﻤﺼﺮﻳﺔ

আবুল ফরয ইবনুল জাওযী রাহ বলেনঃ প্রত্যেক ঐ ভালো উদ্দেশ্য যে পর্যন্ত মিথ্যার আশ্রয় ব্যতীত পৌছা  প্রায় অসম্ভব, সেখানে মিথ্যা বলা বৈধ।মাকসাদ(উদ্দেশ্য) মুবাহ হলে,মিথ্যা বলা মুবাহ।মাকসাদ ওয়াজিব হলে মিথ্যা বলা ওয়াজিব

আল্লামা ইবনূল কাইয়ূম রাহ বলেনঃ

ﻭﻗﺎﻝ ﺍﺑﻦ ﺍﻟﻘﻴﻢ ﻓﻲ " ﺯﺍﺩ ﺍﻟﻤﻌﺎﺩ " ﺝ 2 ﺹ :145

ﻳﺠﻮﺯ ﻛﺬﺏ ﺍﻹﻧﺴﺎﻥ ﻋﻠﻰ ﻧﻔﺴﻪ، ﻭﻋﻠﻰ ﻏﻴﺮﻩ ﺇﺫﺍ ﻟﻢ ﻳﺘﻀﻤﻦ ﺿﺮﺭ ﺫﻟﻚ ﺍﻟﻐﻴﺮ ﺇﺫﺍ ﻛﺎﻥ ﻳﺘﻮﺻﻞ ﺑﺎﻟﻜﺬﺏ ﺇﻟﻰ ﺣﻘﻪ،

একমাত্র মিথ্যার মাধ্যমে হক্ব(অধিকার রক্ষা)পর্যন্ত পৌছা নির্দিষ্ট হলে নিজের উপর বা অন্যর উপর মিথ্যা বলা জায়েয যখন এতে অন্যর কোনোপ্রকার ক্ষতি হয় হবে না।

যাদুল মা'আদ-২/১৪৫।

২য় পৃষ্টা

ইমাম বাগাবী রাহ লিখেন,

ﻗﺎﻝ ﺍﻟﺒﻐﻮﻱ ﺭﺣﻤﻪ ﺍﻟﻠﻪ ﻓﻲ " ﺷﺮﺡ ﺍﻟﺴﻨﺔ " ( /13 119 ) : " ﻗﺎﻝ ﺃﺑﻮ ﺳﻠﻴﻤﺎﻥ ﺍﻟﺨﻄﺎﺑﻲ : ﻫﺬﻩ ﺃﻣﻮﺭ ﻗﺪ ﻳﻀﻄﺮ ﺍﻹﻧﺴﺎﻥ ﻓﻴﻬﺎ ﺇﻟﻰ ﺯﻳﺎﺩﺓ ﺍﻟﻘﻮﻝ ، ﻭﻣﺠﺎﻭﺯﺓ ﺍﻟﺼﺪﻕ ﻃﻠﺒﺎً ﻟﻠﺴﻼﻣﺔ ﻭﺭﻓﻌﺎً ﻟﻠﻀﺮﺭ ،ﻭﻗﺪ ﺭﺧﺺ ﻓﻲ ﺑﻌﺾ ﺍﻷﺣﻮﺍﻝ ﻓﻲ ﺍﻟﻴﺴﻴﺮ ﻣﻦ ﺍﻟﻔﺴﺎﺩ ، ﻟﻤﺎ ﻳﺆﻣﻞ ﻓﻴﻪ ﻣﻦ ﺍﻟﺼﻼﺡ ،

আবু সুলাইমান খাত্তাবী রাহ বলেছেনঃ

কিছু বিষয় এমন রয়েছে যেথায় অনেক সময়

ক্ষতি দূরকরণার্তে ও সুষ্ঠ সমাধান তলব করতে

মানুষ কিছু বাড়িয়ে ও সত্য-মিত্যার সংমিশ্রণে কথা বলতে বাধ্য হয়, ।এমন পরিস্থিতিতে ইসলাহের আশা কিছু বিষয়ে সামান্য বেশকম করে মিথ্যা বলা জায়েয আছে।

ﻓﺎﻟﻜﺬﺏ ﻓﻲ ﺍﻹﺻﻼﺡ ﺑﻴﻦ ﺍﺛﻨﻴﻦ : ﻫﻮ ﺃﻥ ﻳَﻨﻤﻲ [ ﺃﻱ : ﻳﺒﻠﻎ ] ﻣﻦ ﺃﺣﺪﻫﻤﺎ ﺇﻟﻰ ﺻﺎﺣﺒﻪ ﺧﻴﺮﺍً ، ﻭﻳﺒﻠﻐﻪ ﺟﻤﻴﻼً ، ﻭﺇﻥ ﻟﻢ ﻳﻜﻦ ﺳﻤﻌﻪ ﻣﻨﻪ ، ﻳﺮﻳﺪ ﺑﺬﻟﻚ ﺍﻹﺻﻼﺡ .

দুজনের মধ্যে ইসলাহের নিয়্যাতে মিথ্যা বলা জায়েয। এভাবে যে একজনের কাছে অন্যজনের পক্ষ্য থেকে উত্তম উত্তম সংবাদ বা সংবাদকে সুন্দর করে সাজিয়ে উপস্থাপন করা।যদি সে ঐ ব্যক্তির কাছ থেকে তা শুনেনি।কিন্তু সে শুধুমাত্র ইসলামের নিয়্যাতেই তা করেছে।

ﻭﺍﻟﻜﺬﺏ ﻓﻲ ﺍﻟﺤﺮﺏ : ﻫﻮ ﺃﻥ ﻳﻈﻬﺮ ﻣﻦ ﻧﻔﺴﻪ ﻗﻮﺓ ، ﻭﻳﺘﺤﺪﺙ ﺑﻤﺎ ﻳﻘﻮﻱ ﺃﺻﺤﺎﺑﻪ ، ﻭﻳﻜﻴﺪ ﺑﻪ ﻋﺪﻭﻩ ، ﻭﻗﺪ ﺭُﻭﻱ ﻋﻦ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺃﻧﻪ ﻗﺎﻝ : " ﺍﻟﺤﺮﺏ ﺧﺪﻋﺔ ."

এবং যুদ্ধে মিথ্যা বলা,এভাবে যে নিজের মধ্যে শক্তি(যা বাস্তবে নেই) প্রদর্শন করা।এবং এমন কথাবার্তা বলা যাতে তার সাথীবর্গকে শক্তিশালী বুঝায়।এদ্ধারা শত্রুবাহিনীকে ধোকা দেয়া যে আমরা তোমাদের চেয়ে অনেক শক্তিশালী। নবীজী সাঃ থেকে বর্ণিত আছে যে,যুদ্ধের অপর নাম ধোকা।

ﻭﺃﻣﺎ ﻛﺬﺏ ﺍﻟﺮﺟﻞ ﺯﻭﺟﺘﻪ ﻓﻬﻮ ﺃﻥ ﻳﻌﺪﻫﺎ ﻭﻳﻤﻨﻴﻬﺎ ، ﻭﻳﻈﻬﺮ ﻟﻬﺎ ﻣﻦ ﺍﻟﻤﺤﺒﺔ ﺃﻛﺜﺮ ﻣﻤﺎ ﻓﻲ ﻧﻔﺴﻪ ، ﻳﺴﺘﺪﻳﻢ ﺑﺬﻟﻚ ﺻﺤﺒﺘﻬﺎ ، ﻭﻳﺴﺘﺼﻠﺢ ﺑﻬﺎ ﺧﻠﻘﻬﺎ ، ﻭﺍﻟﻠﻪ ﺃﻋﻠﻢ .

ﻭﻗﺎﻝ

স্বামী কর্তৃক নিজ স্ত্রীর সাথে মিথ্যা বলা এভাবে যে,স্বামী স্ত্রীর সাথে কোনো কিছুর ওয়াদা করবে এবং এবং আশা দিবে,(কিন্তু বর্তমানে ক্ররিদ করে দেয়ার ইচ্ছা নেই) এবং স্বামীর অন্তরে যে ভালবাসা রয়েছে,স্বামী তা থেকেও বেশী স্ত্রীর সামনে প্রকাশ করবে।এর দ্বারা উক্ত স্ত্রীর সাথে  সম্পর্ক চিরস্থায়ী

ও চরিত্র সংশোধন উদ্দেশ্য হবে।

শরহুস সুন্নাহ-১৩/১১৯।

ইমাম নববী রাহ বলেনঃ

ﻓﻜﻞ ﻣﻘﺼﻮﺩ ﻣﺤﻤﻮﺩ ﻳﻤﻜﻦ ﺗﺤﺼﻴﻠﻪ

ﺑﻐﻴﺮ ﺍﻟﻜﺬﺏ ﻳﺤﺮﻡ ﺍﻟﻜﺬﺏ ﻓﻴﻪ، ﻭﺇﻥ ﻟﻢ ﻳﻤﻜﻦ ﺗﺤﺼﻴﻠﻪ ﺇﻻ ﺑﺎﻟﻜﺬﺏ ﺟﺎﺯ ﺍﻟﻜﺬﺏ، ﺛﻢ ﺇﻥ ﻛﺎﻥ ﺗﺤﺼﻴﻞ ﺫﻟﻚ ﺍﻟﻤﻘﺼﻮﺩ ﻣﺒﺎﺣﺎ ﻛﺎﻥ ﺍﻟﻜﺬﺏ ﻣﺒﺎﺣﺎ، ﻭﺇﻥ ﻛﺎﻥ ﻭﺍﺟﺒﺎ ﻛﺎﻥ ﺍﻟﻜﺬﺏ ﻭﺍﺟﺒﺎ

প্রত্যেক ঐ প্রশংসনীয় মাকসাদ(উদ্দেশ্য)যাতে মিথ্যা ব্যতীত পৌছা সম্ভব, সেখানে মিথ্যা বলা হারাম।কিন্তু যদি তাতে মিথ্যা ব্যতীত পৌছা সম্ভব না হয়,তাহলে সেথায় মিথ্যা বলা জায়েয। যদি উক্ত মাকসাদ অর্জন করা মুবাহ হয় তাহলে মিথ্যা বলে উক্ত মাকসাদ অর্জন করা মুবাহ।আর যদি মাকসাদ অর্জন করা ওয়াজিব হয় তাহলে মিথ্যা বলে তা অর্জন করা ওয়াজিব।

রিয়াযুস সালেহিন-২৫৯।

৩য় পৃষ্টা

সু-প্রিয় পাঠকবর্গ!

উপরোক্ত আলোচনা- হাদীসও উলামায়ে কেরামদের সুচিন্তিত মতামতের মাধ্যমে আমরা নিম্নোক্ত সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারব।

সত্য বলে নিজ মাকসাদকে অর্জন করা ও ক্ষতি থেকে বাচা যতক্ষণ পর্যন্ত সম্ভব হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত  মিথ্যা বলার কোনো অবকাশ শরীয়তে নেই বরং মিথ্যা বলা হারাম ও জগন্যতম গর্হিত কাজ।

কিন্তু চুরান্ত পর্যায়ের অপারগ হয়ে গেলে মিথ্যা বলা জায়েয।এমনকি সময়বেধে ওয়াজিবও হয়ে যায়।

জবাবঃ-

মিথ্যা বলা ক্ষেত্রভেদে জায়েয।

আপনি যে পরিস্থিতির স্বীকার, তাতে মিথ্যা বলা আপনার জন্য হয়তো জায়েয,যদি আপনার মাকে দেখভালের জন্য অন্যকেউ না থাকে।

এখন আসা যাক বেতনের বিষয়ে,

কাজ না করে মিথ্যা বলে বেতন নেয়া কখনো জায়েয হবে না।এটা স্পষ্টত ধোকা। আর ধোকা দেয়া কখনো কোনো মুসলমানের জন্য জায়েয হবে না।মুসলমান কখনো কাউকে ধোকা দিতে পারেনা।

ঐ বেতন এখন আপনি না এনে পারবেন না।কেননা বিধি অনুযায়ী আপনাকে বেতন নিতে হবে।নতুবা আপনার মিথ্যা প্রকাশ হয়ে যাবে।

তাই আপনি বেতন নিয়ে সম্ভব হলে সরকারকে আবার কোনো ছলে ফিরিয়ে দেন।নতুবা গরীব-মিসকিনদের কে সওয়াবের নিয়্যাত ব্যতীত সদকাহ করে দেন।

আল্লাহ-ই ভালো জানেন।

উত্তর লিখনে

মুফতী ইমদাদুল হক

ইফতা বিভাগ, iom



পরিচালক

ইসলামিক রিচার্স কাউন্সিল বাংলাদেশ
ইসলামিক ফতোয়া ওয়েবসাইটটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত। যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন উত্তর পাওয়া যায় কিনা। না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনার দ্বীন সম্পর্কীয় প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য রয়েছে আমাদের অভিজ্ঞ ওলামায়কেরাম ও মুফতি সাহেবগনের একটা টিম যারা ইনশাআল্লাহ প্রশ্ন করার ২৪-৪৮ ঘন্টার সময়ের মধ্যেই প্রশ্নের উত্তর দিয়ে থাকেন।
...