0 votes
22 views
in সালাত(Prayer) by (61 points)
আসসালামু আলাইকুম। আমি ফজরের সলাতে প্রথম রাকাত শেষ করে দ্বিতীয় রাকাতের জন্য দাড়ানোর পর মনে করতে পারছিলাম না যে সিজদা 2 টি করেছি নাকি 1 টি। তাই আমি শেষ বৈঠকের পর সাহু সিজদা করি। আমার সলাত কি সঠিক হয়েছে?

1 Answer

0 votes
by (41.1k points)
বিসমিহি তা'আলা

জবাবঃ-
নামাযে রা'কাত বা সেজদা সংখ্যা নিয়ে সন্দেহ হলে,যে ঐ ব্যক্তির কি এটা প্রথম হয়েছে না মাঝেমধ্যে এমন হয়।যদি প্রথমবার বা কদাচিৎ হয়ে তাহলে উনি আবার প্রথম থেকে শুরু করে নতুনভাবে পড়ে নিবেন।কিন্তু যদি কারো প্রায় এরকম সন্দেহ হয়,তাহলে উনার বিধান হলো,
"وإن كثر الشك" تحرى و "عمل" أي أخذ "بغالب ظنه" لقوله صلى الله عليه وسلم: "إذا شك أحدكم فليتحر الصواب فليتم عليه" وحمل على ما إذا كثر الشك للرواية السابقة "فإن لم يغلب له ظن أخذ بالأقل" لقوله صلى الله عليه وسلم: "إذا سها أحدكم في صلاته فلم يدر واحدة صلى أو اثنتين فليبن على واحدة فإن لم يدر اثنتين صلى أو ثلاثا فليبن على اثنتين فإن لم يدر ثلاثا صلى أو أربعا فليبن على ثلاث ويسجد سجدتين قبل أن يسلم"
যদি কারো নামাযে সংখ্যা নিয়ে প্রায় সন্দেহ হয়,তাহলে উনি তাহাররি(সঠিক বিষয়ে পৌছার জন্য চিন্তাভাবনা করা) করে গালিবে যান্ন(প্রবল ধারণা) এর উপর আ'মল করবেন।কেননা রাসূলুল্লাহ সাঃ বলেন,যদি কেউ নামাযে সংখ্যা নিয়ে সন্দেহ করে,তাহলে সে যেন সঠিক বিষয়ে পৌছার চেষ্টা করে সে হিসেবে নামাযকে সম্পন্ন করে।তবে যদি চিন্তাভাবনার পরও কোনো সংখ্যার দিকে মনে প্রবল ধারণা না জন্মে, তাহলে সে যেন,কম সংখ্যাকে ধরে নিয়ে সেই হিসেবে নামাযকে সম্পন্ন করে।কেননা রাসূলুল্লাহ সাঃ বলেন,যদি কেউ নামাযে সন্দেহ করে,এক রা'কাত পড়েছে না দুই রা'কাত পড়েছে? তাহলে সে যেন এক রা'কাত ধরে নিয়ে সেই হিসেবে নামাযকে সম্পন্ন করে।এভাবে দুই/তিন বা তিন/চার নিয়ে সন্দেহ হলে কম সংখ্যাকে ধরে নিয়ে সে দদধনামাযকে সম্পন্ন করবে।এবং শেষে যেন সে সেজদায়ে সাহু দেয়।(মারাকিল ফালাহ-১/৪৭৭)

প্রত্যেক রা'কাতের কয়টি সেজদা ফরয?এ সম্পর্কে বর্ণিত রয়েছে-
والمراد من السجود: السجدتان فأصله ثابت بالكتاب والسنة والإجماع وكونه مثنى في كل ركعة بالسنة والإجماع،
ভাবার্থ-রা'কাতে সেজদা দ্বারা উদ্দেশ্য হল,দু'টি সেজদা।সেজদা মূলত কিতাব সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত রয়েছে।প্রত্যেক রা'কাতে দু'টি সেজদা সুন্নত এবং ইজমায়ে উম্মত দ্বারা নির্ধারিত।(বাহরুর রায়েক-১/৩১০)

নামাযে যদি কেউ একটা সেজদা ছেড়ে দেয়,এবং সেজদায়ে সাহু করে,তাহলেও নামায ফাসিদ হয়ে যাবে।নামাযকে আবার দোহরিয়ে পড়তে হবে।কেননা প্রত্যেক রাকা'আতের দু'টি সেজদাই ফরয।(ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়্যাহ-৭/৪২০)

তিন তাসবিহ পরিমাণ নামাযে চুপ থাকা সেজদায়ে সাহুকে ওয়াজিব করে দেয়।(আহসানুল ফাতাওয়া-৪/৪৭)আরো বর্ণিত রয়েছে-(কিতাবুন-নাওয়াযিল-০৩/৬১৭)(আহসানুল ফাতওয়া-৪/৪৪)

সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই বোন!
যেহেতু আপনার সন্দেহ ছিলো সেজদার সংখ্যাকে নিয়ে।তাই আপনার জন্য তাহাররি করা উচিৎ ছিল।সর্বশেষ কম সংখ্যা তথা একটি সেজদা দিয়েছেন,সেটাকে ধরে নিয়ে আরেকটি সেজদা দিয়ে সাহু সেজদার মাধ্যমে নামাযকে সম্পন্ন করা আপনার উচিৎ ছিলো।কিন্তু আপনি সেটা করেননি।তাই বুঝা গেল আপনার ফরয সেজদা আদায় হয়নি।কেননা দু'টি সেজদাই ফরয ছিলো।নামাযের কোনো ফরয ছুটে গেলে সাহু সেজদা দ্বারা ক্ষতিপূরণ হবে না।বরং নামাযকে আবার দোহরিয়ে পড়তে হবে।সুতরাং আপনি উক্ত নামাযকে আবার পড়ে নিবেন।জাযাকুমুল্লাহ।আল্লাহ-ই ভালো জানেন।

উত্তর লিখনে

মুফতী ইমদাদুল হক

ইফতা বিভাগ, Iom.

ﻓَﺎﺳْﺄَﻟُﻮﺍْ ﺃَﻫْﻞَ ﺍﻟﺬِّﻛْﺮِ ﺇِﻥ ﻛُﻨﺘُﻢْ ﻻَ ﺗَﻌْﻠَﻤُﻮﻥَ অতএব জ্ঞানীদেরকে জিজ্ঞেস করো, যদি তোমরা না জানো। সূরা নাহল-৪৩

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন উত্তর পাওয়া যায় কিনা। না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনার দ্বীন সম্পর্কীয় প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য রয়েছে আমাদের  অভিজ্ঞ ওলামায়কেরাম ও মুফতি সাহেবগনের একটা টিম যারা ইনশাআল্লাহ প্রশ্ন করার ২৪-৪৮ ঘন্টার সময়ের মধ্যেই প্রশ্নের উত্তর দিয়ে থাকেন।

...