+1 vote
30 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (15 points)

ٱلسَّلَامُ عَلَيْكُمْ وَرَحْمَةُ ٱللَّٰهِ وَبَرَكَاتُهُ
بِسْمِ ٱللَّٰهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ

এই ifatwa থেকে আমি জানতে পারিঃ

 ১ঃ যেসব অয়েবসাইট এ মহিলার ছবি যুক্ত বিজ্ঞাপন আছে সেগুলা ভিজিট করা প্রসঙ্গে:  https://ifatwa.info/8955/ আপনারা বলেছেন, "ঐ সমস্ত বিজ্ঞাপনের প্রচার প্রসারে কোনো প্রকার সহযোগিতা করা কখনো জায়েয হবে না।"

২ঃ যেসব সংবাদ পত্রিকাতে মহিলার ছবিযুক্ত বিজ্ঞাপন আছে তা ক্রয় প্রসংগে: https://ifatwa.info/16098/ আপনারা বলেছেন, "যেহেতু আমাদের এই পত্রিকা ক্রয় তাদেরকে ছবি-ভিডিওর প্রতি বেশী আগ্রহী করে তুলবে, তাই আমাদের সংবাদ আদন প্রদান ও গ্রহণের অন্য কোনো মাধ্যম থাকাবস্থায় এরকম ছবিযুক্ত পত্রিকা ক্রয় করা কখনো জায়েয হবে না।"

এখন আসি ইউটিউব নিয়েঃ

এরা মেইনলি ইনকাম করে বিজ্ঞাপন দিয়ে। যেহুতু তাদের কম্পানি বেধর্মীদের তাই তারা সাধারণত শরিয়ত সম্মত বিজ্ঞাপন এর তোয়াক্কা করেনা, অর্থাৎ তাদের বিজ্ঞাপনে মহিলাদের ছবি আছে।
এখানে যাদের চ্যানেলে ভিউয়ার সংখ্যা বেশি তারা অর্থাৎ ভিডিও এর আসল মালিক চাইলে তার ভিডিওতে এডসেন্স-বিজ্ঞাপন দেখিয়ে কিছু ইনকাম করতে পারে(এখানে কিছু অংশ ইউটিউবও পায়)।
 কিন্তু যেসব চ্যানেলএর মালিক বিজ্ঞাপন দিতে চাইনা( যা বেশিরভাগ আলেমরা শুধু দ্বীন প্রচারের জন্য দেইনা) তাদের ভিডিওতে হয়ত বিজ্ঞাপন সরাসরি দেইনা(আবার ইউটিউব চাইলে দিতেও পারে), কিন্তু ভিডিও এর আসে পাশে বিজ্ঞাপন থাকে(যার লাভাংশ ইউটিউব নিয়ে থাকে) এর একটা উদাহরণ এই লিংক এ দিলামঃ https://rafiz001.github.io/arabic-on-avro/azhari-ads.png
এখানে বিজ্ঞাপনে পর্দাহীন মহিলাও ছিলো তা আমি ধারন করিনি, এটা মিজানুর রহমান আজহারি সাহেবের একটি অয়াজের ভিডিও ছিলো। 
তার মানে এটা বুঝা গেলো যে ভিডিওএর মালিক না চাইলেও যেহুতু ইউটিউবে রাখা হয়েছে তাই ইউটিউব নিজেরাই হারাম বিজ্ঞাপন দিতে পারে । তাই আমি এসব ওয়াজ দেখলে তাদের হারাম ইনকামে আমি নিজেই সাহায্য করছি।


এখন যদি আমি আমার অপর কনো মুসলিম ভাইকে বলি যে ইউটিউব খারাপ যাইগা, বিজ্ঞাপনের ঝামেলা আছে, আমার দ্বারা ইউটিউবের হারাম ইনকাম হচ্ছে, ভাই তুমি দেখো না। সে তো সহসাই বলতে পারে "বড় বড় আলেমরাই ইউটিউব চালাই তো আমি চালাবো না কেনো?".
 এমতাবস্থাই কি করনীয়??? আমাদের কি ইউটিউব পুরোপুরিভাবে বাদ দেওয়া আবশ্যক নয়???

1 Answer

+1 vote
by (170,760 points)
edited by

ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। 

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।

জবাবঃ-

https://www.ifatwa.info/7551 নং ফাতাওয়ায় আমরা উল্লেখ করেছি যে,

তাসবীর বা ফটো হারাম।এ সম্পর্কে অসংখ্য হাদীস রয়েছে।তন্মধ্যে একটি হাদীস উল্লেখ করছি-

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর(রা.)থেকে বর্ণিত,তিনি বলেন,

عَنْ نَافِعٍ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عُمَرَ، رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُمَا أَخْبَرَهُ: أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: " إِنَّ الَّذِينَ يَصْنَعُونَ هَذِهِ الصُّوَرَ يُعَذَّبُونَ يَوْمَ القِيَامَةِ، يُقَالُ لَهُمْ: أَحْيُوا مَا خَلَقْتُمْ "

রাসূলুল্লাহ ﷺ ইরশাদ করেছেন,যারা ফটো বানায়, কিয়ামতের দিন তাদের শাস্তি দেয়া হবে এবং তাদের উদ্দেশ্যে বলা হবে,যা তোমরা বানিয়েছ তাতে জীবন দাও।[সহীহ বুখারী-৫৯৫১]

বিস্তারিত জানুন-২২৫৩


লাইভ সম্প্রচার জায়েয, এটা নিয়ে কোনো মতবিরোধ নেই।রেকর্ড ভিডিও নিয়ে উলামাদের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে।মুফতী তাক্বী উসমানী রেকর্ড ভিডিওকে তাসবীর(যা সর্বসম্মতিক্রমে হারাম)এর আওতাধীন করতে ইতস্ততাবোধ করেছেন।উনি উনার অমরগ্রন্থ তাকমিলাতু ফাতহিল মুলহিমে লিখেন,

ﻭﺍﻣﺎ ﺍﻟﺼﻮﺭﺓ ﺍﻟﺘﻰ ﻟﻴﺲ ﻟﻬﺎ ﺛﺒﺎﺕ ﻭﺍﺳﺘﻘﺮﺍﺭ، ﻭﻟﻴﺴﺖ ﻣﻨﻘﻮﺷﺔ ﻋﻠﻰ ﺷﻴﺊ ﻳﺼﻔﺔ ﺩﺍﺋﻤﺔ ﻓﺈﻧﻬﺎ ﺑﺎﻟﻈﻞ ﺍﺷﺒﻪ (ﺍﻟﻰ ﻗﻮﻟﻪ) ﻓﺎﻥ ﺍﻟﺼﻮﺭﺓ ﻻ ﺗﺴﺘﻘﻮ ﻋﻠﻰ ﺍﻟﻜﻴﺴﺮﺍ ﺍﻟﻰ ﺍﻟﺸﺎﺷﺔ ﻭﺗﻈﻬﺮ ﻋﻠﻴﻬﺎ ﺑﺘﺮﺗﻴﺒﻬﺎ ﺍﻷﺻﻠﻰ ﺛﻢ ﺗﻔﺘﻰ ﻭﺗﺰﻭﻝ،

ভাবার্থ-ঐ ছবি যার কোনো স্থায়িত্ব বা দীর্ঘতা নেই, এবং যা কোনো জিনিষের উপর স্থায়ী অঙ্কিত ও নয়।সেটা ছায়ার অধিকতম নিকটবর্তী। কেননা ছবি স্কীনে অবশিষ্ট থাকে না বরং তা মেমোরি বা রিলে সংরক্ষিত ধারাবাহিকার সাথে স্কীনে আসে আবার তা দূতই চলে যায়।(তাকমিলাতু ফাতহিল মুলহিম-৪/১৬৪)


দ্বীনী প্রচার প্রসার এর উদ্দেশ্যে কোনো ফিল্ম তৈরী হলে এবং তাতে কোনো প্রকার হারাম জিনিষ যেমন গান-বাদ্য, নারী দৃশ্য ইত্যাদি না থাকলে, অনুমোদন দেয়া যেতে পারে।(জাদীদ ফেকহী মাসাঈল;১/২৩৬) বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন-https://www.ifatwa.info/361


সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন

চ্যানেল মালিক না চাইলেও যদি ইউটিউব চায়, তাহলে তারা বিজ্ঞাপন দিতে পারে, অথবা আশেপাশে বিজ্ঞাপন থাকে, এ বিজ্ঞাপন গুলিতে ক্লিক না করলে ইউটিউব টাকা পাবে না বা তার লাভ হবে না। সে হিসেবে, এখানে চ্যানেল কর্তৃপক্ষের কোনো দোষ পরিলক্ষিত হচ্ছে না। যিনি ক্লিক করবেন, সম্পূর্ণ দায়ভাড় তার। যেহেতু ইউটিউবের মাধ্যমে দ্বীনের কিছু ফয়দা হচ্ছে, তাই কিছু সংখ্যক উলামায়ে কেরাম ইউটিউবের অনুমোদন দিয়েছেন। 

হ্যা অবশ্যই ইউটিউব থেকে দূরে থাকা উত্তম হবে। বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুনhttps://www.ifatwa.info/669


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

by (170,760 points)
সংযোজন ও সংশোধন করা হয়েছে। 
by (15 points)
https://ifatwa.info/16914 এই লিংকে এই উত্তরের আরো বিস্তারিত আছে

ﻓَﺎﺳْﺄَﻟُﻮﺍْ ﺃَﻫْﻞَ ﺍﻟﺬِّﻛْﺮِ ﺇِﻥ ﻛُﻨﺘُﻢْ ﻻَ ﺗَﻌْﻠَﻤُﻮﻥَ অতএব জ্ঞানীদেরকে জিজ্ঞেস করো, যদি তোমরা না জানো। সূরা নাহল-৪৩

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন উত্তর পাওয়া যায় কিনা। না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন।

Related questions

...