0 votes
12 views
in সালাত(Prayer) by (55 points)
১। ফর‍য সালাতের সিজদায় কি আরবিতে কুরআনের দুয়া ও বিভিন্ন দুয়া কি করা যাবে? যেমন- সূরা ফুরকান এর ৭৪, কাসাস এর ২৪ নং আয়াত তিলাওয়াত করা যাবে কি?
তারপর শাহাদাত, সুন্দর মৃত্যুর জন্য আরবিতে যেসব দুয়া আছে সেসব করা যাবে কি?
২।সুন্নত নামাজের সিজদায় কি বাংলায় বা উপরোক্ত বর্ণিত দুয়া করা যাবে কি?

৩।নামাজে এক টা চুল তিন তাসবিহ সমপরিমান সময় বের হয়ে থাকলে কি সালাত ভেংগে যাবে?

1 Answer

0 votes
by (170,760 points)
ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। 
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
https://www.ifatwa.info/185 নং ফাতাওয়ায় আমরা বলেছি যে,
উপরোক্ত আলোচনা থেকে নিম্নোক্ত বিষয়াদি বুঝতে পারলাম।
নফল নামাযের সেজদা বা অন্যান্য তাসবীহাতের রুকুনে কোরআন-সুন্নাহে বর্ণিত দু'আ অথবা তার সমার্থক আরবী দু'আ করা যাবে। আখেরাতের জন্য দু'আ করতে হবে। যেমনঃ-হে আল্লাহ তুমি আমাকে মাফ করে দাও। দুনিয়াবি দু'আ করা যাবেনা।যেমনঃ- হে আল্লাহ আমাকে এক লক্ষ টাকা দাও।অর্থ্যাৎ নফল নামাযে অতিরিক্ত দু'আ পড়া যাবে এতে কোনো সমস্যা নাই।এবং তা সুন্নাতে মুআক্কাদার খেলাফ হবে না।তবে ফরয নামাযে অতিরিক্ত দু'আ না পড়াই উত্তম।বরং এক্ষেত্রে নির্দিষ্ট দু'আ -ই পড়া সুন্নাতে মুআক্কাদা। যদিও অন্যান্য/অতিরিক্ত দু'আ সুন্নাত,তবে সুন্নাতে যায়েদা,সুন্নাতে মুআক্কাদা নয়।অর্থ্যাৎ সুন্নাত দ্বারা প্রমাণিত কিন্তু সুন্নাতে মুআক্কাদা নয়।

যেহেতু ফরয নামায জামাতে পড়াটাই আসল এবং ওয়াজিব।তাই এক্ষেত্রে যদি নির্দিষ্ট তাসবীহাত ব্যতীত অন্যান্য দু'আ সমূহ পড়া হয়,তাহলে নামায বেশ দীর্ঘ হয়ে যাবে,এজন্য দু'আ না পড়াই উত্তম। তবে নফল নামাযি ব্যক্তি (জামাত ব্যতীত) বা মুনফারিদ (একলা নামাযি)এর জন্য নির্দিষ্ট তাসবীহাত ব্যতীত কোরআন-হাদীসে বর্ণিত পরকালীন দু'আ করতে পারবেন।

পরকালিন দু'আ না দুনিয়াবি দু'আ এ সম্পর্কে আরো স্পষ্ট করে ফাতাওয়ায়ে ক্বাযিখানে উল্লেখ করা হয় যে, 
فالحاصل انه دعا في الصلوة بما جاء في الصلوة أو في القرآن أو في الماثور لا تفسد صلاته ،وإن لم يكن في القرآن ولا في الماثور ولايستحيل سواله من العباد تفسد صلاته ،وإن كان يستحيل سواله من العباد لاتفسد صلاته ،
قاضي خان ،اولين ص;٦٨
حافظ كتب خانه،كوئته
মোটকথাঃ যদি কেউ নামাযে ঐ সমস্ত দু'আ দ্বারা দু'আ করে যা নবীজী সাঃ থেকে নামাযে বর্ণিত,বা কোরআনে কারীমে এসেছে,অথবা হাদীসের কোনো কিতাবে এসেছে,তাহলে উক্ত দু'আ করা বৈধ রয়েছে এবং এমন দু'আর কারণে তার নামায ফাসেদ হবে না। কিন্তু যদি উক্ত দু'আ কোরআন বা হাদীসের কোথাও না আসে।এমতাবস্তায় যদি সে এমন (বাক্যসমূহ দ্বারা) দু'আ করে যা বান্দার কাছে চাওয়া যায়,অসম্ভব নয়, তথা বন্দা সেই হাজত পূর্ণ করার সামর্থ্য রাখে,তাহলে এমতাবস্থায় উক্ত দু'আ করা যাবে না।করলে নামায ফাসেদ হয়ে যাবে। কিন্তু যদি এমন বাক্যাবলী দ্বারা দু'আ করে যা বান্দার কাছে চাওয়া অসম্ভব(যেমন হে আল্লাহ আমার নাতীর হায়াত বাড়িয়ে দাও ইত্যাদি)অর্থীৎ যা বন্দার সামর্থ্যর বাইরে,তাহলে এমতাবস্থায় উক্ত দু'আ (কোরআন হাদীসে বর্ণিত না থাকা সত্বেও) করা যাবে।নামায ফাসিদ হবে না।(ফাতাওয়ায়ে ক্বাযিখান-প্রথম ৬৮)
আরবী ব্যতীত অন্যান্য ভাষায় নামাযে দু'আ করা মাকরুহে তাহরিমী(আহসানুল ফাতাওয়া-৩/৪৩২)

(২)ফরয সুন্নত নফল কোনো নামাযেই আরবী ব্যতীত অন্যান্য ভাষায় দু'আ করা যাবে না। তবে যদি কেউ নফল নামাযে দু'আর রুকুন সমূহে নিজ মাতৃভাষায় আখেরাতমূখী দু'আ করে নেয়, তাহলে তার নামায ফাসিদ হবে না।
(৩) জ্বী ভেঙ্গে যাবে। 


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

ﻓَﺎﺳْﺄَﻟُﻮﺍْ ﺃَﻫْﻞَ ﺍﻟﺬِّﻛْﺮِ ﺇِﻥ ﻛُﻨﺘُﻢْ ﻻَ ﺗَﻌْﻠَﻤُﻮﻥَ অতএব জ্ঞানীদেরকে জিজ্ঞেস করো, যদি তোমরা না জানো। সূরা নাহল-৪৩

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন উত্তর পাওয়া যায় কিনা। না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন।

Related questions

...