আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত জীন ও শয়তানের প্রভাবে হয়, যার জন্য রুকিয়া করা প্রয়োজন। রুকইয়াহ ফ্রি সেশনের জন্য… এখানে ক্লিক করুন

0 votes
37 views
in ঈমান ও বিশ্বাস (Faith and Belief) by (10 points)
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লহি ওয়া বারকাতুহ উস্তায।

রসূলুল্লহ সল্লাল্লহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ নিয়্যাতের উপরই কাজের ফলাফল নির্ভরশীল। মানুষ তার নিয়্যাত অনুযায়ী ফল পাবে।
উস্তায, আমার সমস্যা হলো না চাইতেও আমার মনে একেক অনাকাঙ্ক্ষিত নিয়ত চলে আসে।
কোনো একটি কাজ আমি ভাবি ৫বার করতে হবে।
১বার করলে মনেহয় ঠিক হয়নি।

২ বার করলে মনেহয় ২বার করলে অমুক কাজটি হবে। যা একদমই আমার কাল্পনিক তাও নিয়ত হয়ে যায়। যেমন এই কাজটি আমি ২বার করেছি মানে ওমুক মারা যাবে অথবা এটা বা ওটা হবে৷ বা কিছু ঘটবে এই ২বার করার কারনে। মাথায় এসব আসে। তখন ভাবি এটা নিয়ত করে ফেললাম। (না চাইতেও)।

৩বার করলে মনেহয় এতে তালাক হয়।

৪বার করলে মনেহয় এটাতে কোনো দূর্ঘটনা হতে পারে কারন ৪ তারিখ আমার জন্য একটা খারাপ দিন ছিলো এরপর থেকে কোনো কাজ ৪ বার হলে আমার অসস্তি লাগে এরপর ৫ বার পূর্ণ করি বা তার বেশি।

আমি জানি এগুলো আমার মনের ভ্রান্ত ধারণা। কিন্তু আমি এর থেকে বের হতে পারিনা।

কারন আমি ভাবি নিয়্যাতের উপরই কাজের ফলাফল নির্ভরশীল। মানুষ তার নিয়্যাত অনুযায়ী ফল পাবে।

এর থেকে বের হওয়ার জন্য আমি সবটা আল্লাহর ওপর ছেড়ে দিতে যাই। যে ২বার বা ৩বার করার কিছু নেই। এটা আমার মনের ভুল। আল্লাহ ভরসা।

ঠিক ওই মুহুর্তে আমার মনেহয় যে আসলে এটা আমি নিয়ত করে ফেলছি যে ২বার করলে এটা হবে, ৩বার করলে এটা হবে, ৪বার করলে এটা হবে। মনেহয় যে এটা নিয়ত করে ফেলছি প্রতিবার।
তখন আবার ভাবি যে, যে যেমন নিয়ত করে তার সাথে তেমনটাই হয়।
তাই আমার হয়তো এটা নিয়ত হয়ে গেছে যে ২বার করলে এটা হবে ৩বার করলে এটা হবে ৪ বার করলে এটা হবে। তাই এই নিয়ত ভাঙার জন্য আমি ৫ বার বা ১০বার এক কাজই বার বার করি। ভাবি যে আমার ভাবনাটা নিয়ত হয়ে গেছে। এখন আল্লাহ হয়তো কবুল করে নিবে। না চাইলেও নিয়ত হয়ে যায়। মনে মনে ভাবি যে এটা নিয়ত করলাম। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে আমি তা চাইনা।

১। উপরে উল্লেখিত এমন অনিচ্ছাকৃত নিয়ত কি আল্লাহ কবুল করে নেন?

২। কোনো কাজের ক্ষেত্রেও কোনো বিষয়ের দিকে তাকালে মনেহয় আমি এইদিকে তাকিয়েছি তখন অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো নিয়ত মাথায় চলে আসে। যেমন আমি ফোনে একটা ছবি দেখলাম যেকোনো কিছুর। দেখার পর ভাবি এই ছবিটা দেখলাম তাহলে এখন এই জন্য এটা হবে। তাই আমাকে এখন অন্য আরেকটি ছবি দেখতে হবে। তখন আবার অন্য একটি ছবি (যেকোনো ছবি যেমন প্রাকৃতিক ছবি) দেখি।

আবার কোনো একটা ছবি দেখে ফোনের স্ক্রিন অফ করলে ভাবি এটা দেখে অফ করলে এটা হবে তাই মাথায় পজিটিভ চিন্তা না আসা পর্যন্ত লক করা অর্থাৎ স্ক্রিন অফ করা যাবেনা। (অনিচ্ছাকৃত নিয়ত চলে আসে যে এটা করলে ওটা হবে, ওটা করলে সেটা হবে এমন নিয়ত চলে আসে।) - এমন নিয়ত কি আল্লাহ কবুল করেন?

এসব নিয়ত কি কবুল হয়?

৩। অনেক সময় অনেক কাজ এর ক্ষেত্রে বা কিছু করার ক্ষেত্রে মনে হয় যে এটা করলে এটা হবে, ওটা করলে ওটা হবে। এক্ষেত্রেও অনিচ্ছাকৃত নিয়ত চলে আসে। যেমন কোনো কাজ করতে গেলে ভাবি এই কাজটা করলে আমার ক্যান্সার হবে। ওই কাজের সাথে ক্যান্সারের কোনো সম্পর্ক নেই। কিন্তু মাথায় এমন নিয়ত না চাইতে চলে আসে।

এমন নিয়ত করে ফেলি যা আসলে আমি চাইনা। তাও নিয়ত হয়ে যায়। এমন নিয়ত কি আল্লাহ কবুল করেন?

৪। কোনো কাজ ৩বার করলে ভাবি তালাক হবে। ৪ বার করলে আবার অন্য কিছু হবে ভাবি। অকল্যাণ চিন্তা করলে কি অকল্যাণ হয়ে যায়?এগুলো না চাইতে নিয়ত হলেকি কবুল হয়ে যাবে?

৫। নিয়ত আর ওয়াসওয়াসা ২টাইতো অন্তর থেকে আসে। বুঝবো কীভাবে যে কোনটা নিয়ত হয়ে গেলো আর কোনটা ওয়াসওয়াসা? ওয়াসওয়াসা বার বার নিয়তে পরিনত হতে চাইলে বা না চাইতেও নিয়ত হয়ে গেলে করনীয় কি?

৬। এসব থেকে বাঁচার উপায় কি উস্তায?

৭। খাবারের শুরুতে বিসমিল্লাহ বলতে ভুলে গেলে খাবারের মাঝে মনে হলে তখন বলতে হয় 'বিসমিল্লাহি আউওয়ালাহু ওয়া আখিরহ'।
কিন্তু খাবার ব্যতিত অন্য কোনো কাজের শুরুতে বিসমিল্লাহ বলতে ভুলে গেলে তখন কি করতে হবে? তখন কি ওই কাজটি আবার পুনরায় বিসমিল্লাহ বলে প্রথম থেকে শুরু করতে হবে? নাকি কি করতে হবে?

আফওয়ান উস্তায প্রশ্ন এতো বড় হওয়ার জন্য।
জাযাকাল্লহু খইরন উস্তায।

1 Answer

0 votes
by (769,290 points)
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم 

ওয়াসওয়াসা হল এমন এক মানসিক রোগ যা একজন মুসলিমকে বিভ্রান্ত করার জন্য শয়তানের পক্ষ থেকে মনে আসা  কুমন্ত্রনার ফাঁদ। এই রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা এখন কম নয়।  কিন্তু এই রোগ সম্পর্কে ধারনা বা ইলমে জ্ঞান না থাকার ফলে একজন সাধারন ব্যক্তি ধীরে ধীরে মানসিক রোগীতে পরিণত করতে পারে। কারণ শুরুতেই যদি এর চিকিৎসা না করা হয়, তাহলে এটি বাড়তে থাকে।

আমরা আমাদের বিগত সহস্রাধিক প্রশ্ন রিসার্চ করে দেখেছি যে ওয়াসওয়াসা আক্রান্ত ব্যক্তি বিভিন্ন মাসলা মাসায়েল বা ফতোয়ার প্রশ্নের উত্তর ঘাটাঘাটি করে আরও বেশি ওয়াসওয়াসাতে আক্রান্ত হয়ে যায়। এবং প্রশ্নের উত্তর হল একজন ওয়াসওয়াসা আক্রান্ত রোগীদের রোগ বৃদ্ধির খোরাক। এবং একটা প্রশ্ন উত্তর পাওয়ার পর একজন ওয়াসওয়াসা আক্রান্ত ব্যক্তি ক্রমাগত একই প্রশ্ন বারবার ঘুরিয়ে পেচিয়ে শতাধিকবার করতে থাকেন।  যেটা উনাকে বরং ক্রমাগত অধিকতরও খারাপের দিকে নিয়ে যেতে থাকে। 

বিষয়গুলো পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসা মূলত শয়তান ও জ্বীন থেকে হয়,যার জন্য রুকইয়াহ প্রয়োজন।  রুকইয়া ট্রেনিংয়ের জন্য ক্লিক করুন 

রুকইয়াহ সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রশ্ন এবং ফ্রি সেশনের জন্য নিচের গ্রুপে জয়েন করুন 
⤵ গ্রুপ লিংক:
✅ শুধুমাত্র ভাইয়েরা এই গ্রুপে জয়েন করবেন:
(এই গ্রুপটি শুধুমাত্র ভাইদের জন্য। মেয়ে আইডি দিয়ে কেউ জয়েন করলে তাকে রিমুভ করা হবে।)
✅ শুধুমাত্র বোনেরা এই গ্রুপে জয়েন করবেন:
(এই গ্রুপটি শুধুমাত্র বোনদের জন্য। পুরুষ আইডি দিয়ে কেউ জয়েন করলে তাকে রিমুভ করা হবে।)


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...