0 votes
52 views
in পরিবার,বিবাহ,তালাক (Family Life,Marriage & Divorce) by (2 points)
আসসালামু আলাইকুম। আমার স্বামীকে আমি ঝগড়ার সময়  বলেছিলাম তুমি বলো যে - "আমি অমুক কাজটি না করার চেষ্টা করব এবং যদি করেও ফেলি তবে আমার স্ত্রীকে জানাবো, লুকাবো না, যদি লুকাই তাহলে তালাক।" আমার জোরাজোরির জন্য আমার স্বামী তা বলে।
এখানে কতদিনের মধ্যে আমাকে জানাতে হবে তা নিয়ে কিছু বলা হয়নি।
ঘটনাটিতে তালাকের উদ্দেশ্য আসলে কিছু বলা হয়নি। এখানে আমার স্বামী যেনো অমুক কাজটি না করে এবং আমার কাছে না লুকায় সেই উদ্দেশ্যে বলেছিলাম।  আমার স্বামীও আমার রাগ থামাতে আমার কথা মত তা বলেছিল।

১.এটা কি শর্তাধীন তালাক হবে? হয়ে থাকলে এটা কি কোনোভাবে  তুলে নেয়া যাবে?
২. এখন আমার স্বামীর ওই কাজ নিয়ে বা আমার কাছে লুকানো নিয়ে যদি কোনো সমস্যা না থাকে তার পরেও কি এই শর্তাধীন তালাক বহাল থাকবে?
৩. আমার স্বামী যদি কাজটি করার পরে ভুলবশত ভুলে যান আমাকে  বলতে, এবং  কয়েক বছর পরে হঠাৎ মনে হল যে আমাকে জানাতে ভুলে গেসে সেই ক্ষেত্রে কি হবে?

1 Answer

0 votes
by (170,760 points)
ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। 
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
«" وإذا أضافه إلى شرط وقع عقيب الشرط مثل أن يقول لامرأته إن دخلت الدار فأنت طالق " وهذا بالاتفاق لأن الملك قائم في الحال والظاهر بقاؤه إلى وقت وجود الشرط فيصح يمينا أو إيقاعا "» - «الهداية في شرح بداية المبتدي» (1/ 244)
মর্মার্থ-তালাককে যদি স্বামী কোনো শর্তের সাথে সম্বন্ধযুক্ত করে,তাহলে শর্ত পাওয়া গেলেই সাথে সাথে তালাক পতিত হবে।যেমন স্বামী তার স্ত্রীকে বলল,যদি তুমি ঘরে প্রবেশ করো,তাহলে তালাক।এই তালাক পতিত হওয়াটা সর্বসম্মতিক্রমে সাব্যস্ত হয়েছে।

«ولنا أن صحة الكلام بأهلية المتكلم إلا أن الملك يشترط حالة التعليق ليصير الجزاء غالب الوجود لاستصحاب الحال فتصح اليمين وعند تمام الشرط لينزل الجزاء لأنه لا ينزل إلا في الملك» - «الهداية في شرح بداية المبتدي» (1/ 246)
মর্মার্থ- তালাককে যে জিনিষের সাথে সম্বন্ধযুক্ত করা হবে,সেই জিনিষ যখন পাওয়া যাবে,তখন সাথে সাথেই তালাক পতিত হবে।

«" ولو قال لامرأته إذا جامعتك فأنت طالق ثلاثا فجامعها فلما التقى الختانان طلقت ثلاثا وإن لبث ساعة لم يجب عليه المهر وإن أخرجه ثم أدخله وجب عليه المهر "» - «الهداية في شرح بداية المبتدي» (1/ 246)
স্বামী যদি তার স্ত্রীকে বলে,যদি আমি তোমার সাথে সহবাসে লিপ্ত হই,তাহলে সাথে সাথেই তুমি তিন তালাক, অতঃপর যদি স্বামী তার স্ত্রীর সাথে সহবাসে লিপ্ত হয়, যখনই পুরুষ লিঙ্গ স্ত্রী লিঙ্গের সাথে মিলিত হবে,তখন সাথে সাথেই তিন তালাক পতিত হবে,স্ত্রী লিঙ্গের ভিতর পুরুষ লিঙ্গ কিছু সময় অবস্থান নিলে কোনো মহর বা(যিনার উকর) ওয়াজিব হবে না,কিন্তু যদি পুরুষ লিঙ্গকে বের করে তারপর আবার প্রবেশ করায়,তাহলে যিনা ব্যভিচারের উকর ওয়াজিব হবে।

সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি ভাই/বোন!
স্বামী নিজের কোনো কাজের উপর শর্ত দিয়ে যদি তালাক দেয়,তাহলে ঐ শর্ত কার্যকর হবে,এবং শর্ত পাওয়া গেলে তালাক পতিত হবে।যেহেতু এখানে তালাকের সংখ্যার উল্লেখ নাই,তাই এক তালাক পতিত হবে।
একবার শর্ত পাওয়া যাওয়ার পর দ্বিতীয়বার ঐ শর্ত পাওয়া গেলে দ্বিতীয়বার আর কোনো তালাক পতিত হবে না।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

ﻓَﺎﺳْﺄَﻟُﻮﺍْ ﺃَﻫْﻞَ ﺍﻟﺬِّﻛْﺮِ ﺇِﻥ ﻛُﻨﺘُﻢْ ﻻَ ﺗَﻌْﻠَﻤُﻮﻥَ অতএব জ্ঞানীদেরকে জিজ্ঞেস করো, যদি তোমরা না জানো। সূরা নাহল-৪৩

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন উত্তর পাওয়া যায় কিনা। না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন।

Related questions

...