আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসায় আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা ও করণীয় সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুন

0 votes
22 views
in যাকাত ও সদকাহ (Zakat and Charity) by (17 points)
আসসালামু আলাইকুম।
আমার শ্বাশুড়ির কাছে আমার স্বামী কিছু কাজের জন্য প্রায় ৩ লাখ টাকা ধার নিয়েছিলো। আমার শ্বাশুড়ি এই টাকা নাকি দাবি করবে না যদি আমার স্বামী টাকা পরিশোধ করতে না পারে সেক্ষেত্রে। কিন্তু আমার স্বামীর নিয়ত যে তিনি তার মাকে এই টাকা গুলো পরিশোধ করে দিবেন, সেই নিয়তে ৫-১০ হাজার করে শোধ করে এখন ২ লাখ টাকার মতো ঋণ বাকি আছে। আমার শ্বাশুড়ি টাকা দাবি করেন না,  যখন পরিশোধ করা হয় তখনও তিনি নিতে চান না কিন্তু আমার স্বামী তাও দিয়ে দেন।
প্রতি বছর আমার শ্বাশুড়ির যাকাতের টাকার জন্য এই টাকা যোগ করে হিসাব করে যাকাত আদায় করা হয়। আমার শ্বাশুড়ি যদি এই টাকার দাবি না করেন তাহলেও কি এই টাকার জন্য যাকাত আদায় করতে হবে?
উল্লেখ্য, আমার এবং শ্বশুর-শ্বাশুড়ির সব যাকাত আমার স্বামীই আদায় করেন।

1 Answer

0 votes
by (720,840 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

★অন্যকে যে টাকা কর্জ হিসেবে দেওয়া হয়েছে বা ব্যবসায়ী কোনো পণ্য বাকিতে বিক্রয় করেছে এই পাওনা টাকা পৃথকভাবে বা অন্য যাকাতযোগ্য সম্পদের সাথে মিলিতভাবে নিসাব পূর্ণ করলে তারও যাকাত দিতে হবে। (মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক হাদীস ৭১১১-৭১১৩,৭১২১,৭১২৩,৭১২৮; মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা ৬/৪৮৪-৪৮৬)

★পাওনা উসূল হওয়ার পর ওই টাকার যাকাত আদায় করা ফরয হয়। তার আগে আদায় করা জরুরি নয়, তবে আদায় করলে যাকাত আদায় হয়ে যাবে।(মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা হাদীস ১০৩৪৭, ১০৩৫৬)

★উপরোক্ত ক্ষেত্রে পাওনা উসূল হতে যদি কয়েক বছর সময় অতিবাহিত হয়ে যায় তাহলে উসুল হওয়ার পর বিগত সকল বছরের যাকাত আদায় করা ফরয হয়। (মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক হাদীস ৭১১৬,৭১২৯,৭১৩১; মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা হাদীস ১০৩৪৬,১০৩৫৬)

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
প্রশ্নের বিবরণ মতে আপনার স্বামীকে আপনার শাশুড়ি সেই টাকা মূলত ঋণ হিসেবেই দিয়েছিলেন তাই সে টাকার যাকাত আপনার শাশুড়িকে আদায় করতে হবে।

আপনার স্বামীকে আপনার শাশুড়ি যেই টাকা ধার দিয়েছেন,এই টাকার যাকাত আপনার শাশুড়ির এখনই আদায় করতে হবেনা।

পাওনা টাকা পাওয়ার পর আপনার শাশুড়ির যাকাত আদায় করতে হবে,এক্ষেত্রে পাওনা টাকা পেতে কয়েক বছর লেগে গেলে টাকা উসুলের পর এই বছর সহ পূর্ববর্তী বছর গুলোরও যাকাত আদায় করতে হবে।

উল্লেখ্য আপনার শাশুড়ি যদি আপনার স্বামী থেকে এই টাকা কোনক্রমে নিতে না চান, সেক্ষেত্রে তারা একত্রে বসে বিষয়টি নিয়ে চূড়ান্তভাবে মীমাংসা করবেন যে টাকা মূলত তার শাশুড়ি আপনাকে স্বামীকে একেবারেই দিয়ে দিয়েছে।

এর উপর যদি চূড়ান্ত ফায়সালা হয়ে যায়, তাহলে আর সেই টাকার যাকাত আপনার শাশুড়ির উপর আবশ্যক হবে না।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...