আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসায় আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা ও করণীয় সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুন

0 votes
23 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (2 points)
আমি খুবই অদ্ভুত স্বপ্ন দেখছি কিছুদিন যাবৎ। এগুলো কি আল্লাহর কোনো ইশারা নাকি শয়তানের ওয়াসওয়াসা আমি বুঝতে পারছি না । স্বপ্ন গুলো সকাল ৬-৭ টার ভিতর দেখেছি সম্ভবত।তাই আমি নিচে দুটো স্বপ্ন উল্লেখ করছি, ইসলামের বিধান অনুসারে আমাকে ব্যাখ্যা জানাবেন ইনশাআল্লাহ।

১ম স্বপ্ন: আমি খুবই অদ্ভুত জায়গায় ছিলাম, সেখানে পরিচিত মানুষ ছিলো কিছু, পরিচিত কেউ একজন বিশাল এক গর্তে পড়ে গেছে, বিশাল পুকুরের মতো জায়গা কিন্তু কোনো পানি নেই,আমি বুঝতে পারছিলাম এটা আল্লাহর ইচ্ছায় ঘটছে । আমরা অনেকে তাকে উঠানোর চেষ্টা করছি,তখনই আকাশ থেকে বিশাল কিছু এসে সেখানে পড়লো, সেখানে ওটা পড়ে গর্তের চারপাশের সবকিছু আকাশের রঙের ন্যায় বা নীল পানির মতো রঙ ধারণ করছিলো । আমি বুঝতে পারছিলাম আল্লাহর আযাব নাজিল হয়েছে । এবং আমি মনে মনে তখন ভাবছিলাম যে আমাদের সময় শেষ হয়ে এসেছে,তওবার সুযোগ শেষ, আ‌র মনে পড়লো আমি সেদিন সকালের ফজর পড়তে পারিনি,আমি তখন কালিমা পড়া শুরু করলাম, আর দেখলাম সব ধ্বংস হওয়া শুরু হয়েছে, তারা নক্ষত্র খসে পড়ছে, মানুষ ভয় পেয়ে ছুটাছুটি করছে ,সমুদ্রের পানি উতলে যাচ্ছে। আমরা সবাই পানিতে ডুবে গেলাম, আমি পানির গভীরে সাঁতরাচ্ছিলাম তখন মনে পড়লো আমি সাঁতরাচ্ছি কেন, আমাদের সময় শেষ, সবকিছু শেষ হয়ে গেছে , আর আল্লাহর কাছে দোয়া করছিলাম কিন্তু আমি সাঁতরাচ্ছিলাম । অনেকক্ষণ পর (জানি না কত সময়)পানি মুছে গেলো, সবকিছু খুব সুন্দর হয়ে সৃষ্টি হওয়া শুরু করলো আল্লাহর হুকুমে ।আমার সাথের অনেকজন যারা ছিলো ওদের অনেকজনকে আমি দেখতে পেলাম। তখন আমি ভাবছিলাম এটা যদি কেয়ামত না হয়ে থাকে,এটা কি ছিলো? আল্লাহ কেন আবার সব সৃষ্টি করে দিলেন? তারপর ঘুম ভেঙ্গে যায়.....

২য় স্বপ্ন: আমি না গতকাল স্বপ্নে আফগানিস্তান চলে গেসিলাম,খুবই খুবই অদ্ভুত!

কারণ কখনো আমি এরকম কিছু ভাবিনি। কখনোই কল্পনা করিনি আফগান কীরকম, মাঝেমধ্যে ফেসবুক পোস্টে পড়েছি কিছু ছবি দেখেছি। আফগানিস্তানের ইতিহাস আর সবকিছু জেনে আফগানে যাওয়ার যে স্বাভাবিক ইচ্ছে ওটা সাধারণভাবে ছিলো কিন্তু সম্ভব হবে না তাই এসব ভাবিনা‌। অনেক অদ্ভুত আর আশ্চর্য জনক ছিলো সবকিছু, আমি মুসলিম আর আমার হিজাবের জন্য ইউরোপ আমেরিকার কিছু মানুষ আমাকে হত্যা করতে চাচ্ছিলো। উল্লেখ্য আমি অবিবাহিতা কিন্তু স্বপ্নে দেখলাম আমি ইউরোপের কোথাও স্বামী এবং আমার কোলের বাচ্চার সাথে স্বচ্ছল জীবন যাপন করছিলাম। আমার স্বামী ছিলেন বীর এমন কেউ । আমাদের খুবই বিলাসবহুল জীবন থাকলেও আমি এবং উনি ছিলেন আল্লাহর অনুগত,সব বিধিবিধান মেনে চলতাম। আমাদের খাদেম, আত্মীয় স্বজন ও মেনে চলতেন, হঠাৎ একদিন আমি আর উনি ধরতে পারি আমাদের আত্মীয়রাই চরম শত্রু,তারা আমাদের সহ বাকি মুসলিমদের হত্যা করতে চায়। আমার উনি সেখান থেকে বাচ্চাকে বাঁচানোর জন্য বাচ্চাকে নিয়ে আমাকে পালিয়ে যেতে বাধ্য করে। আমি বাচার জন্য ইউরোপ থেকে ছুটতে ছুটতে আফগানে গিয়ে পৌঁছলাম। তারপর ছুটতে ছুটতে কোনোভাবে আমি সেখানে চলে যাই, সীমান্তে আফগানের আর্মিরা আমাকে প্রোটেকশন দিয়ে দেশের ভিতরে নিয়ে যায়। (সীমান্তের গার্ড হলেও আফগানিস্তানের সাধারণ যেই পোশাক, ওদের স্টাইলে পাঞ্জাবি (জানি না কী বলে) আর মাথায় পাগড়ী পড়া ছিলো) ইভেন ওখানের সবাই ওরকম পোশাকে ছিলো ।

আমার কোলে আমার বেবি ছিল। আমি বাচ্চাকে নিয়ে দেশের ভিতরে যাই, সেখানে সবাই আমাকে সাদরে গ্রহণ করে, ওখানের মহিলারাও অনেক পরিশ্রম করে,কোনো বিলাশবহুল জীবন নেই, মেয়েদের পোশাক গুলো বোরকা নিকাব অনেক সুন্দর! আমিও ওদের পোশাক পড়ি । আমি বিলাসবহুল জীবনে থাকায় এতো পরিশ্রমে অভ্যস্ত না থাকলেও ওদের সাথে পরিশ্রম করে বাচ্চাকে টেইক কেয়ার করছিলাম।

অনেক দিন পর যখন ইউরোপ থেকে সেসব বাহিনী আমাকে খুঁজতে আফগানে প্রবেশ করে তখন সেখানে একটা মেয়ে আমাকে সাহায্য করেছিলো,ওই মেয়েটার চেহারা আমি স্পষ্ট দেখেছিলাম, ওর চেহারা এখনো মনে আছে এবং আমি স্বপ্নেই মনে মনে ভাবছিলাম কে ও?ওকে আমি আগেও দেখেছি,চিনি! মানে অনেক কাছের কেউ! কোনো সাধারণ সাহায্য নয়, আমি বিস্তারিত বর্ননা করতে পারছি না কিন্তু ওই মেয়েটা ....

মেয়েটার এতো সুন্দর নূরানী চেহারা, স্বপ্নে আমার বয়স ছিলো আরো বেশি,এবং মেয়েটার থেকে আমি বড় ছিলাম । আমি মা হয়ে গিয়েছি,আর সে মেয়েটা আমার বর্তমান বয়সী । তাই স্নেহ করে মেয়েটাকে আমি জড়িয়ে ধরে ছিলাম কতক্ষণ,কৃতজ্ঞতায় কথা বলতে পারছিলাম না কোনো,সে আমাকে কি কি যেন বলছিলো মনে নেই। সেই আফগানিস্তানে, আফগানিস্তানের পাহাড়,সেই পরিবেশে,আফগানের পোশাক পড়া ছিলো সবাই,আমিও!

খুবই অদ্ভুত, আশ্চর্য,ভয়, বেঁচে থাকার যুদ্ধ আর সৌন্দর্যের মিশেল।

শায়েখ,আমি বিস্তারিত বর্ননা করেছি কারণ আমি আসলেই বুঝতে পারছি না এসব স্বপ্নের আদৌও কোনো মিনিং আছে? না এমনিতেই দেখছি । বা কেন আমার স্বপ্নে এগুলো আসে যখন আমি এমন কিছু চিন্তা করি না।

1 Answer

0 votes
by (737,820 points)
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
আলহামদুলিল্লাহ!
خير لنا و شر علي أعدائنا والحمدلله رب العالمين
(ভালো আমাদের জন্য,খারাপ আমাদের শত্রুদের জন্য,সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ তা'আলার।)
আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্ণিত
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّه عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَال: (الرُّؤْيَا ثَلاثٌ : فَبُشْرَى مِنَ اللَّهِ ، وَحَدِيثُ النَّفْسِ ، وَتَخْوِيفٌ مِنَ الشَّيْطَانِ فَإِنْ رَأَى أَحَدُكُمْ رُؤْيَا تُعْجِبُهُ فَلْيَقُصَّ إِنْ شَاءَ وَإِنْ رَأَى شَيْئًا يَكْرَهُهُ فَلا يَقُصَّهُ عَلَى أَحَدٍ وَلْيَقُمْ يُصَلِّي ) 
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ স্বপ্ন তিনি প্রকার। (১) আল্লাহর পক্ষ থেকে সুসংবাদ, (২) বান্দার মনের খেয়াল এবং (৩)শয়তানের পক্ষ থেকে ভীতি প্রদর্শনমূলক কিছু। অতএব তোমাদের কেউ পছন্দনীয় কিছু স্বপ্নে দেখলে তা ইচ্ছা করলে অপরের কাছে ব্যক্ত করতে পারে। আর সে অপছন্দনীয় কিছু স্বপ্নে দেখলে যেন তা ব্যক্ত না করে এবং উঠে নামায পড়ে।( সহীহ বুখারী-৭০১৭) এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন- https://www.ifatwa.info/734

সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
আপনার স্বপ্নগুলো কল্যাণকর মনে হচ্ছে। 


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...