আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসায় আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা ও করণীয় সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুন

0 votes
28 views
in পরিবার,বিবাহ,তালাক (Family Life,Marriage & Divorce) by (1 point)

আসসালামু আলাইকম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ। আপনার কাছে দুটি বিষয়ে পরামর্শ জানতে চাই।

১. প্রথম প্রশ্নঃ
একজন মুসলিম বোন বাংলাদেশে বসবাস করেন। তার বয়স বাড়ছে এবং পরিবার-সমাজের পক্ষ থেকে বিয়ের অনেক চাপ আছে । কিন্তু স্থানীয়ভাবে একজন অনুশীলনকারী, নামাজ ও ফরজ ইবাদতে স্থিরপ্রতিজ্ঞ উপযুক্ত জীবনসঙ্গী পাওয়া তার জন্য কঠিন হয়ে গেছে।

এ সময় একজন অনুশীলনকারী মুসলিমের প্রস্তাব এসেছে। তিনি বর্তমানে যুক্তরাজ্যে থাকেন এবং সেখানেই স্থায়ীভাবে থাকতে চান। তিনি একজন ডাক্তার, এবং চাকরির পাশাপাশি দাওয়াহ কাজও করছেন।  স্থানীয় মুসলিমদের মাঝে দীন শেখানো-বোঝানোর কিছু কার্যক্রমে যুক্ত আছেন। তিনি সামনে এই কাজ আরও বাড়াতে চান এবং যুক্তরাজ্যে থাকা একজন সিনিয়র আলেমের সহায়ক হয়ে সেখানকার মুসলিমদের উপকারে আসতে চান। তিনি চান যে তার স্ত্রী ও ভবিষ্যৎ পরিবারও এই নেক কাজে অংশ নেবে।

ভাইটির পরিবার: বাবা-মা ও নিকট আত্মীয়স্বজন, সবাই যুক্তরাজ্যেই থাকেন, তাই তাদের খেদমতের জন্যও তিনি সেখানে থাকতে চান।

এদিকে, বোনটির কিছু দ্বিধা-দ্বন্দ্ব আছে। তিনি সারাজীবন বাংলাদেশে, মুসলিম পরিবেশে থেকেছেন। যদিও পড়াশুনার কারণে যুক্তরাজ্যে যাওয়া হয়েছ। তিনি এখন বাংলাদেশে আছেন এবং  দীন শেখার চেষ্টা করছেন, ইনশাআল্লাহ । 

তার মূল প্রশ্ন হলো— মুসলিম প্রধান দেশ (যদি বাংলাদেশকে সত্যিই এমন হিসেবে ধরা হয়) ছেড়ে যুক্তরাজ্যের মতো অমুসলিম দেশে যাওয়া কি শরীয়তের দৃষ্টিতে বৈধ? এতে কি কোন হারাম বা নিষিদ্ধ বিষয়ের আশঙ্কা আছে?
তিনি হারামের মধ্যে পড়তে চান না ইনশাআল্লাহ।

এছাড়া আরেকটি চিন্তা হলো—যদি তিনি বিয়ের পর যুক্তরাজ্যে চলে যান, তাহলে তার নিজের বাবা-মা বাংলাদেশেই থাকবেন। এতে তাদের খেদমত ও হক আদায়ের সুযোগ কমে যেতে পারে। যদি যুক্তরাজ্যে যাওয়া শরীয়তসম্মত হয়, তাহলে বাবা-মায়ের হক ও দাম্পত্য জীবনের দায়িত্ব—এই দুটিকে কীভাবে অগ্রাধিকার দিতে হবে, এ বিষয়ে পরামর্শ চান।

২. দ্বিতীয় (সম্পর্কিত) প্রশ্নঃ
যুক্তরাজ্যের মতো দেশের ইসলামি দৃষ্টিকোণ থেকে শ্রেণিবিভাগ কী?
এগুলো কি দারুল কুফর গণ্য হয়, নাকি খ্রিস্টান-প্রধানতার কারণে আহলে কিতাবের দেশ হিসাবে বিবেচিত হয়?
খ্রিস্টানরা যদি আহলে কিতাব হন এবং তাদের যবাই নির্দিষ্ট শর্তে বৈধ হয়—তাহলে কি এটি ঐ দেশের শ্রেণিবিভাগ বা সেখানে বসবাসের হুকুমকে প্রভাবিত করে?

প্রশ্ন হলো—
ইসলামী শ্রেণিবিভাগের দৃষ্টিতে যুক্তরাজ্যের মতো পশ্চিমা দেশে বসবাসের বিষয় একজন মুসলিম কীভাবে বুঝবে? এবং এই শ্রেণিবিভাগ কি সেখানে থাকা বৈধ বা অবৈধ হওয়ার ক্ষেত্রে কোনো প্রভাব ফেলে, বিশেষ করে কেউ যদি দীন মেনে চলে এবং দাওয়াহের কাজে যুক্ত থাকে?
এছাড়াও, এ ধরনের দেশে থাকা কি “মুশরিকদের মাঝে বসবাস” হিসেবে গণ্য হয়?

প্রশ্নকারী আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে স্পষ্ট ও নির্ভরযোগ্য ব্যাখ্যা আশা করছেন।

জাযাকুমুল্লাহু খাইরান।

1 Answer

0 votes
by (737,820 points)
ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। 
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
আলহামদুলিল্লাহ!
কোনো ব্যক্তি যদি মুসলিম দেশে হন্যে হয়ে খোঁজাখোঁজি করা সত্ত্বেও জীবিকা উপার্জনের কোন সোর্স ব্যবস্থা করতে না পারে, এমনকি নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসের ব্যাপারে অন্যের মুখাপেক্ষী হয়ে যায়, এমন পরিস্থিতিতে যদি কোনো অমুসলিম দেশে জায়েয কোনো চাকরি পেয়ে যায়,তাহলে দু’টি শর্ত সাপেক্ষে তার জন্য সেখানে যাওয়া এবং বসবাস করা জায়েয হবে।
যথাঃ- 
এক. সেখানে আমলী জিন্দিগী তথা, ইসলামী বিধি-বিধান পরিপালনে সম্পূর্ণ নিরাপদ থাকতে হবে। দুই. সেখানকার প্রচলিত অশ্লীলতা, বেহায়াপনা-বেলেল্লাপনা থেকে নিজেকে সংযত রাখতে হবে।
কেননা, হালাল জীবিকা অন্বেষণ করাও ফরজ ইবাদতসমূহের পর একটি অন্যতম ফরজ কাজ। আর জীবিকা উপার্জনের জন্য ইসলাম কোনো জায়গাকে নির্দিষ্ট করে দেয়নি। বরং জীবিকা উপার্জনের ব্যাপারে ইসলামের ব্যাপক অনুমতি রয়েছে যে, যেখান থেকে ইচ্ছা করবে সেখান থেকে জীবিকা উপার্জন করতে পারবে।  যেমন কুরআনে কারীমে ইরশাদ হয়েছে :
ﻫﻮ ﺍﻟﺬﻱ ﺟﻌﻞ ﻟﻜﻢ ﺍﻻﺭﺽ ﺫﻟﻮﻻ ﻓﺎﻣﺸﻮﺍ ﻓﻲ ﻣﻨﺎﻛﺒﻬﺎ ﻭﻛﻠﻮﺍ ﻣﻦ ﺭﺯﻗﻪ ﻭﺍﻟﻴﻪ ﺍﻟﻨﺸﻮﺭ-
“আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের জন্য পৃথিবীকে করেছেন সুগম, সুতরাং তোমরা তাতে ভ্রমণ কর এবং তার দেয়া জীবিকা থেকে আহার কর, তোমাদেরকে তার দিকেই প্রত্যাবর্তন করতে হবে”। (সূরা মুল্ক ঃ আয়াত, ১৫)

তবে বিনা প্রয়োজনে সেখানে চাকরী এবং বসবাসের কোনো অনুমিত শরীয়তে নেই।এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন- https://www.ifatwa.info/3447


সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
(১)শুধুমাত্র দাওয়াত ও তাবলীগের উদ্দেশ্যে অমুসলিম দেশে পাড়ি জমানো জায়েয। এমনকি অমুসলিমদের মধ্যে দ্বীনের পৌছানো ফরযে কেফায়া বিধানের অন্তর্ভুক্ত। প্রশ্নের বিবরণমতে যেহেতু পাত্রের মধ্যে দ্বীনের বুঝ ও সমঝ রয়েছে, তাই এমন পাত্রের সাথে অমুসলিম দেশে দাওয়াত ও তাবলীগের নিয়তে পাড়ি জমানো রুখসতযোগ্য হবে,ইনশাআল্লাহ। মাতাপিতার কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে যাওয়া যাবে। 
(২) যুক্তরাজ্য দারুল কুফর। এবং মাঝেমধ্যে দারুল হারব রূপে আবির্ভূত হয়।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

by (1 point)
edited by

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ,

আপনার উত্তরটির জন্য জাযাকাল্লাহু খাইরান। তবে, প্রশ্নকারী এখনও বাবা-মায়ের খিদমতের বিষয়ে চিন্তিত আছেন, কারণ তিনি জানেন যে, ইহসানের মাধ্যমে বাবা-মায়ের সেবা ইসলামিক দৃষ্টিতে এক গুরুত্বপূর্ণ কর্তব্য। তিনি তিনটি "আমিন"-এর হাদীস সম্পর্কেও জানেন, এবং তিনি চিন্তিত যে, যদি তিনি তাদেরকে একা রেখে চলে যান, তবে তার এ কর্তব্যে কোনো ত্রুটি হতে পারে।তিনি যদি একটানা অনেক সময় দেশের বাইরে থাকেন তাহলে বাবা-মায়ের কাছে সহজলভ্য থাকা হবে না, এবং তিনি চিন্তিত যে ইহসান এ ঘাটতি হবে. 

যেহেতু প্রস্তাবকারী ব্যক্তি একজন প্র্যাকটিসিং মুসলিম এবং তার সাথে বিয়ে করার মাধ্যমে দীন ও দাওয়াহ সম্পর্কে অনেক ভালো সুযোগ আসতে পারে ইনশা'আল্লাহ, তিনি চিন্তিত যে এই প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করা উচিত হবে কি না । তার বাবা-মায়ের হক পালনও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, এখন তিনি বিভ্রান্ত. 

তিনি মিশ্রিত অনুভূতি এবং দ্বিধায় আছেন যে এই দুই দায়িত্বের মধ্যে কীভাবে ভারসাম্য রক্ষা করবেন। 

জাযাকুমুল্লাহু খাইরান

by (737,820 points)
যেহেতু ফিকহ দৃষ্টিতে শর্তসাপেক্ষে অমুসলিম দেশে পাড়ি জমানো রুখসতযোগ্য। এখন প্রশ্ন হল, মাতাপিতার খেদমত নিয়ে। তাই এই বিষয়ে মাতাপিতার সাথে পরামর্শ করে তাদের দিকনির্দেশনা মোতাবেক সিদ্ধান্ত গ্রহণই যুক্তিযুক্ত হবে। যদি মাতাপিতার অনুমতি দিয়ে দেন, তাহলে মাতাপিতার বদ দু'আর যোগ্য আপনি হবেন না।

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...