আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসায় আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা ও করণীয় সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুন

0 votes
22 views
in পবিত্রতা (Purity) by (8 points)
edited by
আসসালামু আলাইকুম ওয়ারহমাতুল্লাহি ওয়াবারকাতুহ।
১.হায়েজের সময় সীমা ৮-১০ দিন। গতমাসে ১০ তারিখ থেকে এই মাসের ৩ তারিখ পর্যন্ত ছিল। এই কয়েক দিন মাঝে মাঝে টানা রক্ত আসতো আবার কয়েক দিন হালকা আসতো। আমার সাধারণত হায়েজের ডেটা থাকে ১৯ তারিখ। ১০ দিন হায়েজ ধরে বাকিগুলো ইস্তেহাজা হিসেবে নামাজ পরছি
২.এই মাসে আবার হায়েজ ১৬ তারিখে হইছে।  এখন প্রথম কয়েক দিন রক্ত খুব এসেছিল কিন্তু ২২ তারিখ থেকে হালকা মাঝে সাদা স্রাব ও আসতো। তো এটা দেখার পরে সহবাস হয়ে যায়। তারপরের দিন ২৩ তারিখ ও দেখি লাল না তবে হালকা একটু ময়লার মতো লাগতেছিল। ২৩ তারিখ রাতে আদার স্বাভাবিক লাগছিল কয়েক বার দেখার পরে ওই রাথে আবার সহবাস হয় কিন্তু ২৪ তারিখ আবার একটু হালকা সামান্য মনে হয়। একদম সামান্য। এখন আমার করণীয় কি?
৩.এর আগেও এমন হয়েছিল ইস্তেহাজা মনে করে সহবাস হইছিল তারপর দেখি হায়েজ। কাফফারা দিলে কি সব একসাথে একটা দিলে হবে? নাকি আলাদা আলাদা?
৪.আর এ দুই দিন সলাত ও পরা হয়নি।
৫.আর অনেক সাবধান থাকার পরেও এরকম হারাম কাজ হয়ে যাচ্ছে এখন করণীয় কি?  উপদেশ বা পরামর্শ দিলে ভালো হতো।
৬.আর ফরজ গোসলে বিড়ম্বনা করা কি গোনাহর কাজ? বিস্তারিত জানতে চাচ্ছি ইন শা আল্লাহ।
জাযাকাল্লাহ খইরন।

1 Answer

0 votes
by (701,580 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

https://ifatwa.info/13832/ নং ফাতাওয়াতে আমরা বলেছি যে,

হায়েজ অবস্থায় স্ত্রী সহবাস করলে এক নাম্বার ক্ষতি হল, আল্লাহ ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিধানকে লঙ্ঘণ করা হয়। এর চেয়ে বড় ক্ষতি আর কিছুই হতে পারে না। যে কর্মের মাধ্যমে মহান রাব্বুল আলামীন অসন্তুষ্ট হোন। তার বিধান লঙ্ঘিত হয়। এর চেয়ে ক্ষতি আর কী হতে পারে?

হায়েজ অবস্থায় স্ত্রী সহবাস করা হারাম।

পবিত্র কুরআন ও হাদীসে এ সময়ে সহবাস করতে পরিস্কার নিষেধাজ্ঞা আসছেঃ

وَيَسْأَلُونَكَ عَنِ الْمَحِيضِ ۖ قُلْ هُوَ أَذًى فَاعْتَزِلُوا النِّسَاءَ فِي الْمَحِيضِ ۖ وَلَا تَقْرَبُوهُنَّ حَتَّىٰ يَطْهُرْنَ ۖ فَإِذَا تَطَهَّرْنَ فَأْتُوهُنَّ مِنْ حَيْثُ أَمَرَكُمُ اللَّهُ ۚ إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ التَّوَّابِينَ وَيُحِبُّ الْمُتَطَهِّرِينَ [٢:٢٢٢]

আর তোমার কাছে জিজ্ঞেস করে হায়েয (ঋতু) সম্পর্কে। বলে দাও,এটা অশুচি। কাজেই তোমরা হায়েয অবস্থায় স্ত্রীগমন থেকে বিরত থাক। তখন পর্যন্ত তাদের নিকটবর্তী হবে না,যতক্ষণ না তারা পবিত্র হয়ে যায়। যখন উত্তম রূপে পরিশুদ্ধ হয়ে যাবে,তখন গমন কর তাদের কাছে, যেভাবে আল্লাহ তোমাদেরকে হুকুম দিয়েছেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ তওবাকারী এবং অপবিত্রতা থেকে যারা বেঁচে থাকে তাদেরকে পছন্দ করেন। [সূরা বাকারা-২২২]

হাদীস শরীফে এসেছেঃ- 

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: مَنْ أَتَى حَائِضًا، أَوِ امْرَأَةً فِي دُبُرِهَا، أَوْ كَاهِنًا، فَقَدْ كَفَرَ بِمَا أُنْزِلَ عَلَى مُحَمَّدٍ.

 হযরত আবূ হুরায়রা রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোন ঋতুবতীর সাথে মিলিত হয় কিংবা কোন মহিলার পশ্চাৎদ্বারে সঙ্গম করে অথবা কোন গণকের নিকটে যায়, নিশ্চয়ই সে মুহাম্মাদের উপর যা অবতীর্ণ হয়েছে তা অস্বীকার করে’। [তিরমিযী, হাদীস নং-১৩৫, সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং-৬৩৯, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-৯২৯০]

এছাড়া ডাক্তারদের মতেও এ সময় স্ত্রী সহবাস করা অনুচিত। কারণ এ সময় নারীরা অসুস্থ্য বোধ করে। স্রাবের রক্তের সাথে বিভিন্ন রোগের জীবানো বের হয়ে থাকে। যা সহবাসের মাধ্যমে পরস্পরের মাঝে ছড়িয়ে পড়ার সমূহ সম্ভাবনা দেখা দেয়। তাই শরীয়তের বিধানের পাশাপাশি ডাক্তারী মতেও এ সময় সহবাস করা থেকে বিরত থাকাই কর্তব্য।

★ সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী বোন,
হায়েয অবস্থায় সহবাস করা কবিরা গোনাহ। তবে এজন্য কোনো কাফফারা আদায় করতে হবে না। বরং খালেস দিলে তাওবাহ করতে হবে।

★প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে আপনার হায়েজ যেহেতু আট দিনও হয় মাঝে মাঝে ১০ দিনও হয়, সেজন্য ৭-৮ দিনের মাথায় ব্লিডিং বন্ধ হওয়ার দরুন এভাবে সহবাস করা কোনভাবেই উচিত হয়নি। আপনার জন্য সর্বদা ১০ দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করা উচিত। 

★তবে ৮ম দিনে ব্লিডিং বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর যদি আপনি নিশ্চিত থাকেন যে আর কোনভাবেই ব্লিডিং হবে না, সেক্ষেত্রে আপনি সহবাস করতে পারেন।

★প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে ওই দুইদিন যেহেতু হায়েজের অন্তর্ভুক্ত, তাই সেই দুই দিনের নামাজের কাজা আদায় করতে হবে না।

★ফরজ গোসলে বিড়ম্বনা করা গোনাহর কাজ নয়।
তবে এর দরুন কোনো নামাজ কাজা হয়ে গেলে শক্ত গুনাহ হবে।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...