জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته
بسم الله الرحمن الرحيم
হায়েজ অবস্থায় স্ত্রী সহবাস করলে এক নাম্বার ক্ষতি হল, আল্লাহ ও রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিধানকে লঙ্ঘণ করা হয়। এর চেয়ে বড় ক্ষতি আর কিছুই হতে পারে না। যে কর্মের মাধ্যমে মহান রাব্বুল আলামীন অসন্তুষ্ট হোন। তার বিধান লঙ্ঘিত হয়। এর চেয়ে ক্ষতি আর কী হতে পারে?
হায়েজ অবস্থায় স্ত্রী সহবাস করা হারাম।
পবিত্র কুরআন ও হাদীসে এ সময়ে সহবাস করতে পরিস্কার নিষেধাজ্ঞা আসছেঃ
وَيَسْأَلُونَكَ عَنِ الْمَحِيضِ ۖ قُلْ هُوَ أَذًى فَاعْتَزِلُوا النِّسَاءَ فِي الْمَحِيضِ ۖ وَلَا تَقْرَبُوهُنَّ حَتَّىٰ يَطْهُرْنَ ۖ فَإِذَا تَطَهَّرْنَ فَأْتُوهُنَّ مِنْ حَيْثُ أَمَرَكُمُ اللَّهُ ۚ إِنَّ اللَّهَ يُحِبُّ التَّوَّابِينَ وَيُحِبُّ الْمُتَطَهِّرِينَ [٢:٢٢٢]
আর তোমার কাছে জিজ্ঞেস করে হায়েয (ঋতু) সম্পর্কে। বলে দাও,এটা অশুচি। কাজেই তোমরা হায়েয অবস্থায় স্ত্রীগমন থেকে বিরত থাক। তখন পর্যন্ত তাদের নিকটবর্তী হবে না,যতক্ষণ না তারা পবিত্র হয়ে যায়। যখন উত্তম রূপে পরিশুদ্ধ হয়ে যাবে,তখন গমন কর তাদের কাছে, যেভাবে আল্লাহ তোমাদেরকে হুকুম দিয়েছেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ তওবাকারী এবং অপবিত্রতা থেকে যারা বেঁচে থাকে তাদেরকে পছন্দ করেন। [সূরা বাকারা-২২২]
হাদীস শরীফে এসেছেঃ-
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: مَنْ أَتَى حَائِضًا، أَوِ امْرَأَةً فِي دُبُرِهَا، أَوْ كَاهِنًا، فَقَدْ كَفَرَ بِمَا أُنْزِلَ عَلَى مُحَمَّدٍ.
হযরত আবূ হুরায়রা রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোন ঋতুবতীর সাথে মিলিত হয় কিংবা কোন মহিলার পশ্চাৎদ্বারে সঙ্গম করে অথবা কোন গণকের নিকটে যায়, নিশ্চয়ই সে মুহাম্মাদের উপর যা অবতীর্ণ হয়েছে তা অস্বীকার করে’। [তিরমিযী, হাদীস নং-১৩৫, সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং-৬৩৯, মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-৯২৯০]
এছাড়া ডাক্তারদের মতেও এ সময় স্ত্রী সহবাস করা অনুচিত। কারণ এ সময় নারীরা অসুস্থ্য বোধ করে। স্রাবের রক্তের সাথে বিভিন্ন রোগের জীবানো বের হয়ে থাকে। যা সহবাসের মাধ্যমে পরস্পরের মাঝে ছড়িয়ে পড়ার সমূহ সম্ভাবনা দেখা দেয়। তাই শরীয়তের বিধানের পাশাপাশি ডাক্তারী মতেও এ সময় সহবাস করা থেকে বিরত থাকাই কর্তব্য।
★ সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী বোন,
হায়েয অবস্থায় সহবাস করা কবিরা গোনাহ। তবে এজন্য কোনো কাফফারা আদায় করতে হবে না। বরং খালেস দিলে তাওবাহ করতে হবে।
★প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে আপনার হায়েজ যেহেতু আট দিনও হয় মাঝে মাঝে ১০ দিনও হয়, সেজন্য ৭-৮ দিনের মাথায় ব্লিডিং বন্ধ হওয়ার দরুন এভাবে সহবাস করা কোনভাবেই উচিত হয়নি। আপনার জন্য সর্বদা ১০ দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করা উচিত।
★তবে ৮ম দিনে ব্লিডিং বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর যদি আপনি নিশ্চিত থাকেন যে আর কোনভাবেই ব্লিডিং হবে না, সেক্ষেত্রে আপনি সহবাস করতে পারেন।
★প্রশ্নে উল্লেখিত ছুরতে ওই দুইদিন যেহেতু হায়েজের অন্তর্ভুক্ত, তাই সেই দুই দিনের নামাজের কাজা আদায় করতে হবে না।
★ফরজ গোসলে বিড়ম্বনা করা গোনাহর কাজ নয়।
তবে এর দরুন কোনো নামাজ কাজা হয়ে গেলে শক্ত গুনাহ হবে।