আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসায় আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা ও করণীয় সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুন

0 votes
31 views
in পরিবার,বিবাহ,তালাক (Family Life,Marriage & Divorce) by (7 points)
edited by
আস সালামু আলাইকুম। খুব ছোট থাকতেই বয়স যখন আনুমানিক ৬-৭ বছর তখন কাজের মেয়ে দাড়া শারীরিক,মানসিক ও যৌন নির্যাতনের শিকার হয়ে ছিলাম। আবার যখন আরেকটু বড় হই, আনুমানিক সাড়ে ৯/১০ তখন আবার ও একজন পুরুষ দাড়া যৌন নির্যাতনের শিকার হই। সব মিলিয়ে আমার শৈশব, কৈশোর কেটেছে অনেক বেশি ট্রমার মধ্য দিয়ে। ছোট থেকেই আমি খুবই চুপ চাপ, শান্ত ও চাপা সভাবের, হয়তো এতো টাই যে কখনও বাবা মা তেমন কিছু আচ করতে পারেনি, যদিও বুঝ আসার পড়ে আম্মু কে অনেক কিছু খুলে বলতাম, কিন্তু কেনো জানি বিষয় গুলো গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হতো না। ছোট থেকেই ভয়ংকর রকম একাকিত্বে ভুক্তাম। আনুমানিক ২০১২ সাল থেকে এখনো আমি নির্জনে নিজের সাথে একা একাই কথা বলি। কেমন যেনো নিজের সাথে আওয়াজ না করে কথা বললে আত্ত তৃপ্তি পাই না! এই বিষয়টা শুধু আমার আম্মু লক্ষ্য করে ছিলো, যখন তিনি দেখে ফেলতেন, বড়জোর সে একটু অবাক হতো আর কিছুই না।

আম্মুর শাসনের শব্দ চয়নের মধ্যে যেটা সব থেকে আমাকে ভেতর থেকে ভেঙে দিতো সেটা হলো "abnormal" আমি নিজেকে নিয়ে দ্বিধায় পড়ে যেতাম, আমি কী সত্যই পাগল হয়ে যাচ্ছি, বা কখনো কী সত্যি পাগল হয়ে যাবো! স্কুল জীবনের শেষের দিকে আমি খিট খিটে সভাবের হয়ে গিয়ে ছিলাম। ছোট থেকেই মানুষের সামনে খুব কঠোর ভাবে সংযত থাকতে অভ্যস্ত। কিন্তু একাকীত্বে আমি নিজের উপর নিয়ত্রণ হারিয়ে ফেলি। যেমন, যখন অত্যন্ত পরিমাণে রাগ ও কষ্ট লাগে তখন আমি দেয়ালের সাথে ইচ্ছা মতো নিজের হাত ঘুষাতে থাকি, মুখের ভিতর আঙ্গুল চিবিয়ে রাখি যাতে কোনো ভাবে কান্নার আওয়াজ বাহিরে না যায়। নিজেই নিজেকে কষ্ট দেই। যদিও দ্বীনের বুঝ আসার পড়ে আমি আগের থেকে অনেকটাই পরিবর্তন হয়েছি আলহামদুলিল্লাহ আরো চেষ্টা করছি আল্লাহ আমার জন্য সহজ করুক। জীবন নিয়ে আমার কোনো অভিযোগ নেই, আমি সব সময়ই চাই আল্লাহর শুকরিয়া করতে যেমন পরিস্থিতিতেই থাকি না কেনো।

আমার এই ২৩ বছর জীবনে জানি না কেনো ইদানিং, অন্তর টা অনেক বেশি ভারী অনুভব হয়। আমি পাগলের মতো একাই কাঁদি আবার একাই হাসতে থাকি, নিজের সাথে নিজেই কথা বলি।
এমন পরিস্থিতিতে আমার আসলে কী করা উচিত? আমাকে কিছু উত্তম পরামর্শ দিয়ে উপকৃত করবেন ইন শা আল্লাহ।

1 Answer

0 votes
by (701,580 points)
জবাবঃ-
وعليكم السلام ورحمة الله وبركاته 
بسم الله الرحمن الرحيم

ইহ-পরকালীন সকল বিষয়ে ধৈর্য ও ছালাতের মাধ্যমে সাহায্য চাওয়ার হুকুম প্রদান করা হয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন,
يَا أَيُّهَا الَّذِيْنَ آمَنُوْا اسْتَعِينُوْا بِالصَّبْرِ وَالصَّلَاةِ إِنَّ اللهَ مَعَ الصَّابِرِيْنَ، 
‘হে বিশ্বাসীগণ! তোমরা ধৈর্য ও ছালাতের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা কর। নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে থাকেন’ (বাক্বারাহ ২/১৫৩)। 

অনুরূপ রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) আব্দুল্লাহ ইবনু আববাস (রাঃ)-কে আদেশ করেন, ‘জেনে রেখো অবশ্যই সাহায্য ধৈর্যের সাথে রয়েছে’।

ইসতিক্বামাত তথা দ্বীনের উপর অটল থাকার ব্যাপারে ধৈর্য বিশেষ গুরুত্ব রাখে। ছাহাবায়ে কেরাম যে ঈমান ও আমলের ক্ষেত্রে দ্বীনের উপর অটল থাকতে সক্ষম হয়েছিলেন, তার বড় কারণ ছিল ধৈর্য।

মহান আল্লাহ বলেন,

يَا أَيُّهَا الَّذِيْنَ آمَنُوْا اصْبِرُوْا وَصَابِرُوْا وَرَابِطُوْا وَاتَّقُوا اللهَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُوْنَ، 

‘হে বিশ্বাসীগণ! তোমরা ধৈর্যধারণ কর। পরস্পরে দৃঢ় থাক এবং সদা প্রস্ত্তত থাক। আর আল্লাহকে ভয় কর, যাতে তোমরা সফলকাম হ’তে পার’ (আলে ইমরান ৩/২০০)।

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
পূর্বের সমস্ত স্মৃতি ভুলে গিয়ে নতুনভাবে জীবন শুরু করুন। পূর্ণ দিনের উপর অটল অবিচল থাকুন। মহান আল্লাহ তায়ালাকে সবচেয়ে মহব্বতের স্থানে রাখুন। এ পৃথিবীতে সবচেয়ে আপন আমাদের মহান আল্লাহ তা'আলাই। সুতরাং তাকে সন্তুষ্ট করার লক্ষ্যপানে মূলত এগিয়ে চলতে হবে।

আপনি ধৈর্যধারণ করবেন,আল্লাহর উপর পূর্ণ ভরসা করবেন,নিয়মিত নামাজ শরীয়তের বিধান মেনে চলবেন, আপনার এলাকায় দাওয়াত ও তাবলিগের মেহনতের উদ্যোগে মহিলাসের তা'লিম হলে নিরাপদ হলে সেখানে নিয়মিত যাবেন,নেককার মহিলাদের সাথে বেশি বেশি উঠাবসা করবেন,সম্ভব হলে মাহরাম পুরুষ নিয়ে মাস্তুরাত জামাতে যেতে পারেন।

হতাশ হবেননা।
ধৈর্যধারণ করবেন,ইনশাআল্লাহ সফলতা আপনার পদচুম্বন করবে।

★বাবা মায়ের সাথে পরামর্শ করে দ্বীনদার পাত্রের সাথে দ্রুত বিবাহের পরামর্শ থাকবে। 
এতে পূর্বের সমস্ত স্মৃতি ভুলে গিয়ে নতুনভাবে জীবন শুরু করতে অনেক বড় সহায়ক এর ভূমিকা পালন করবে,ইনশাআল্লাহ। 

নিম্নোক্ত দোয়া করতে পারেনঃ-
ক্বাতাদাহ (রহঃ) বলেন, হাসান বাছরী (রহঃ) দো‘আ করতেন,
 اللهم أنت ربنا، فارزقنا الاستقامة
 ‘হে আল্লাহ! তুমি আমাদের রব। তুমি আমাদেরকে তোমার অটল থাকার তাওফীক দাও’।
(ইবনু কাছীর, তাফসীর সূরা হা-মীম সাজদা ৩০ আয়াত।)
,
★আলী (রাঃ) বলেন, রাসূল (ছাঃ) আমাকে বলেন, তুমি বল,
اللَّهُمَّ اهْدِنِىْ وَسَدِّدْنِىْ  

‘হে আল্লাহ! তুমি আমাকে সুপথ প্রদর্শন কর এবং আমাকে সরল পথে পরিচালিত কর। আর তুমি সুপথের সংকল্প কর এবং সঠিক পথে স্থির থাক, যেভাবে তীর তার লক্ষ্যে স্থির থাকে।
(মুসলিম হা/২৭২৫; মিশকাত হা/২৪৮৫।)

আপনার মন অশান্তিতে আছে।এ জন্য আপনি নিয়মিত ধারাবাহিক আল্লাহর যিকির করতে থাকুন-দেখবেন মন শান্ত হবে।
الَّذِينَ آمَنُواْ وَتَطْمَئِنُّ قُلُوبُهُم بِذِكْرِ اللّهِ أَلاَ بِذِكْرِ اللّهِ تَطْمَئِنُّ الْقُلُوبُ
যারা বিশ্বাস স্থাপন করে এবং তাদের অন্তর আল্লাহর যিকির দ্বারা শান্তি লাভ করে; জেনে রাখ, আল্লাহর যিকির দ্বারাই অন্তর সমূহ শান্তি পায়।(সূরা রা'দ-২৮)

আরো করনীয় জানুনঃ- 


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...