আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসায় আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা ও করণীয় সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুন

0 votes
21 views
in পবিত্রতা (Purity) by (9 points)
আমার প্রেগ্ন্যাসির পর হায়েজ ১০ দিন পরও বন্ধ হতো না  এখন গত ৩/৪ মাস আমার ৭ দিনেই হায়েজ শেষ হয়ে যেত ইদানীং ২ মাস ধরে ৭ দিন পর হায়েজ বন্ধ হয়ে যায় টিস্যু দিয়ে চেক করলেও সাদা দেখা যায় আমি ফরজ গোসল করে নামাজ পড়ি এমনও হয় রাতে বা সন্ধ্যার পর গোসল করি। ১/২ ওয়াক্ত পর আবার হালকা কালারের স্রাব দেখি তখব আবার বন্ধ করি আবার অর্ধেক বেলা পর সাদা দেখা যায় তখন আবার গোসল করি এমনও হ স্বামীর চাহিদার জন্য এই হাফেজ টা শেষ হওয়া জরুরি হয়ে যায় যার জন্য আমি বারবার চেক করে গোসল করি কিন্তু এমন হালকা কালার সাদার মতোই দেখা যায় কিন্তু সাদা না আমি সহবাস করতে বাধ্য হই চেক করে যখন সাদা দেখি কিন্তু আবার ১ বেলার পর হালকা কালারের স্রাব দেখি এমন করে ৮&৯ দিনের আমার ৩/৪ বার গোসল করা + নামাজ পরাও হয়ে যায় আমি খুব বিপদে আছি ২ মাস ধরে আমার একটু বলবে ৭ দিন পর্যন্ত হায়েজ ধরবো যেহেতু এর আগে ৩/ মাসের মতো আমার হায়েজ ৭ দিনে ঠিক হয়ে যেত।
কারন থেমে থেমে এভাবে স্রাব আসা গোসল লরা আবার স্বামীর চাহিদা নামাজ সব মিলিয়ে আমি খুব কনফিউজড + চিন্তায় থাকি।

1 Answer

0 votes
by (701,880 points)
জবাবঃ-
بسم الله الرحمن الرحيم 

শরীয়তের বিধান অনুযায়ী হায়েযের সর্বোচ্চ সময়সীমা ১০দিন।
এ ১০দিনের ভিতর লাল,হলুদ,সবুজ,লাল মিশ্রিত কালো বা নিখুত কালো যে কালারের-ই পানি বের হোক না কেন তা হায়েয হিসেবেই গণ্য হবে।যতক্ষণ না নেপকিন সাদা নজরে আসবে। (বেহেশতী জেওর-১/২০৬)  

হায়েজের দিন গুলোতে যেই কালারেরই রক্ত হোক,সেটি হায়েজের রক্ত বলেই গন্য হবে। 
উক্ত সময় নামাজ রোযা ইত্যাদি আদায় করা যাবেনা।
(কিতাবুল ফাতওয়া ২/৭৬)

তবে স্পষ্ট সাদা কালারের কিছু বের হলে সেটাকে হায়েজ বলা যাবেনা।
(ফাতাওয়ায়ে হক্কানিয়াহ ২/৮৩৩)

উম্মে আলক্বামাহ তথা মার্জনা (مَوْلاَةِ عَائِشَةَ) হইতে বর্ণিত,

عن أم علقمة أَنَّهَا قَالَتْ : " كَانَ النِّسَاءُ يَبْعَثْنَ إِلَى عَائِشَةَ أُمِّ الْمُؤْمِنِينَ بِالدُّرْجَةِ فِيهَا الْكُرْسُفُ فِيهِ الصُّفْرَةُ مِنْ دَمِ الْحَيْضَةِ يَسْأَلْنَهَا عَنْ الصَّلَاةِ فَتَقُولُ لَهُنَّ لَا تَعْجَلْنَ حَتَّى تَرَيْنَ الْقَصَّةَ الْبَيْضَاءَ تُرِيدُ بِذَلِكَ الطُّهْرَ مِنْ الْحَيْضَةِ "

তিনি বলেনঃ (ঋতুমতী) স্ত্রীলোকেরা আয়েশা (রাঃ)-এর নিকট ঝোলা বা ডিবা (دُرْجَة) পাঠাইতেন, যাহাতে নেকড়া বা তুলা (كُرْسُفْ) থাকিত। উহাতে পাণ্ডুবৰ্ণ ঋতুর রক্ত লাগিয়া থাকিত। তাহারা এই অবস্থায় নামায পড়া সম্পর্কে তাহার নিকট জানিতে চাহিতেন। তিনি [আয়েশা (রাঃ)] তাহাদিগকে বলিতেনঃ তাড়াহুড়া করিও না, যতক্ষণ পর্যন্ত পূর্ণ সাদা (বর্ণ) দেখিতে না পাও। তিনি ইহা দ্বারা ঋতু হইতে পবিত্রতা (طُهْر) বুঝাইতেন।(মুয়াত্তা মালিক-১২৭)
,

أن النساء کن یبعثن بالکرسف إلی عائشۃ رضی اللہ تعالیٰ عنھا فکانت تقول : لا حتی ترین القصۃ البیضاء‘‘ ( المؤطأ للإمام مالک : ۱/۵۹۱ ،  : مصنف ابن عبد الرزاق، حدیث نمبر : ۱۱۵۹ )
সারমর্মঃ আয়েশা সিদ্দিকা রাঃ সেই সমস্ত মহিলাদের বলিতেনঃ তাড়াহুড়া করিও না, যতক্ষণ পর্যন্ত পূর্ণ সাদা দেখিতে না পাও। 
,
আরো জানুনঃ

★সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনি বোন,
প্রশ্নের বিবরণ মতে ব্লিডিং বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরেও আবারও যে আপনার বিল্ডিং হচ্ছে এটিও হায়েজের অন্তর্ভুক্ত।

সুতরাং এর মাঝের সময়ে সহবাস এর দরুন  গুনাহ হচ্ছে।

তাই ১০ দিন পর্যন্ত বা পুরোপুরি হায়েজ বন্ধ হওয়ার অপেক্ষা করবেন।


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

------------------------
মুফতী ওলি উল্লাহ
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

by (9 points)
৭ দিন পর সাদা স্রাব দেখেই তো নামাজ সহবাস করা হয় কি আবার,১ দিন পর হালকা কালারের স্রাব দেখি এমন ২/৩ দিন চলে সাদা স্রাব আসে গোসল করি আবার ২/৩ ওয়াক্ত পর হালকা কালারের স্রাব দেখি এমন চললে আমার কি করনীয় আগে তো ৩/৪ মাস টানা ৭ দিনই শেষ হয়ে যেত এখন এমন সমস্যা হচ্ছে? 
by (701,880 points)
প্রশ্নের বিবরণ মতে ব্লিডিং বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরেও আবারও যে আপনার বিল্ডিং হচ্ছে,১০ দিন অতিক্রম না করলে এটিও হায়েজের অন্তর্ভুক্ত।

এক্ষেত্রে আপনি আপনার প্রবল ধারণার উপর আমল করবেন অর্থাৎ সপ্তম দিনে আপনার ব্লিডিং বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর আপনার যদি প্রবল ধারণা হয় যে আর ব্লাড আসবে না সেক্ষেত্রে আপনি নামাজ আদায় করবেন এবং সহবাস করতে পারবেন।

আর যদি আপনার প্রবল ধারণা হয়, যে আবার ব্লাড আসবেই, তাহলে আপনি এমতাবস্থায় সহবাস করবেন না অপেক্ষা করবেন।

প্রথম ছুরতে ব্লাড আসবে না এমন প্রবল ধারণা রেখে যদি আপনি নামাজ আদায় করেন, সহবাস করেন, এরপর যদি ধারণার বিপরীতে আবার ব্লাড চলে আসে, সেক্ষেত্রে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চেয়ে নিবেন।

আল্লাহ তায়ালা আপনার অনিচ্ছাকৃত এই গুনাহ মাফ করে দিবেন।

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...