আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসায় আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা ও করণীয় সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুন

0 votes
24 views
in সালাত(Prayer) by (3 points)
১. আমি সব নামাজের সিজদায় দোয়া করতাম। কখনো বাংলায়, কখনো আরবীতে। কুরআন হাদীসে বর্নিত দোয়াগুলোর পাশাপাশি অন্যান্য দোয়াও পড়া হতো এবং নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী গুগল ট্রান্সলেটর দিয়ে আরবীতে দোয়া বানিয়ে পড়তাম। রিসেন্টলি জানতে পেরেছি ফরজ নামাজে কুরআন হাদীস বহির্ভূত দোয়া করা যায় না বা দুনিয়াবী দোয়া করা যায় না। এমতাবস্থায় এতদিন যে নামাজগুলো আদায় করেছি সেগুলো কি বাতিল হয়ে গেছে?  আমাকে কি এগুলো কাজা আদায় করে দিতে হবে?
২. এভাবে আরবীতে দোয়া করলে কি তা  নামাজে দুনিয়াবী দোয়া হবে-
اللهم حَقَّقْ لِي مَا اَتَمَنَّى بخيرٍ و بركةٍ يا ارحم الرحمين
اللهم تقبّل دُعَاىٕي

৩. নামাজে দাড়ানোর পর আল্লাহকে অনুভব করার কারণে বা দুনিয়াবী পেরেশনীর কারণে যদি কান্না করা হয় ( শব্দ না করে) তাহলে কি নামাজ ফাসেদ হয়ে যাবে? যেসব নামাজে এরূপ হয়েছে পুনরায় তা কাজা করে নিতে হবে?
৪. নামাজে মনোযোগ ছুটে গেলে আমি মনে মনে নিজেকে স্মরণ করিয়ে দিই " আমি নামাজে আছি",  কখনো কখনো চোখ বন্ধ করে মনোযোগ ফেরানোর চেষ্টা করি, কখনো পায়ের পাতা বা হাতের তালু শক্ত করে ফেলি এবং মনোযোগ আনার চেষ্টা করি। এটা কি নামাজকে ত্রুটিযুক্ত করবে?
নামাজে মনোযোগ রাখার জন্য সুরা -তাসবীহ পড়ার সময় সেগুলোর অর্থ মনে মনে আওড়ালে নামাজ অশুদ্ধ হবে?
৫. নাতে রাসুলে অনেক সময় সাল্লি আলা মুহাম্মাদ বা মুস্তাফা ইত্যাদি শব্দ উল্লেখ থাকে যা রাসূল (সা) এর নামকে উদ্দেশ্য করে। সেক্ষেত্রে নাতে রাসূল শোনার সময় কি প্রতিবার দরুদ পড়তে হবে?
৬. নামাজে ওয়াজিব তরক হয়েছে সন্দেহের কারণে যদি সাহু সিজদা দিই, এবং নামাজ শেষের পরে মনে পড়লো তরক হয়নি তখন কি ঐ নামাজ আবার পড়তে হবে?

1 Answer

0 votes
by (737,820 points)
ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। 
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম।
জবাবঃ-
আলহামদুলিল্লাহ!
(১) ফরয নামাযে বাংলাতে দু'আ করলে নামায ফাসিদ। যতগুলো নামায পড়া হয়েছে, সবগুলো নামাযকে আবার পড়তে হবে। এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন- https://www.ifatwa.info/185

(২) জ্বী, এটা দুনিয়াবী দোয়া হিসেবে বিবেচিত হবে।

(৩) নামাজে দাড়ানোর পর আল্লাহকে অনুভব করার কারণে বা দুনিয়াবী পেরেশনীর কারণে যদি কান্না করা হয় ( শব্দ না করে) তাহল নামাজ ফাসেদ হবে কি না?
এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ক্লিক করুন- https://www.ifatwa.info/431

(৪) প্রশ্নের বিবরণমতে উক্ত পদ্ধতি নামাজকে ত্রুটিযুক্ত করবে না।
নামাজে মনোযোগ রাখার জন্য সুরা -তাসবীহ পড়ার সময় সেগুলোর অর্থ মনের কল্পনাতে নিয়ে আসা যাবে তবে তিন তাসবিহ পরিমাণ চুপ থেকে কল্পনা করা যাবে না। 

(৫) জ্বী, দুরুদ পড়তে হবে।প্রথমবার ওযাজিব।পরেরবার মুস্তাহাব । 

(৬) 
যদি সন্দেহের ভিত্তিতে সাহু সিজদা (যা ওয়াজিব হয়নি) দুই সালাম ফিরিয়ে দেয়া হয়ে থাকে, তাহলে নামায হয়ে যাবে।আর যদি এক সালাম ফিরিয়ে দেয়া হয়, তাহলে উক্ত নামাযকে দোহড়াতে হবে (কিতাবুন-নাওয়যিল-৩/৬৩৯)"


সু-প্রিয় প্রশ্নকারী দ্বীনী ভাই/বোন!
নামাজে ওয়াজিব তরক হয়েছে সন্দেহের কারণে যদি সাহু সিজদা দেয়া হয়, এবং এক সালামের পর সাহু সিজদা দেয়া হয়,তাহলে এমনিতেই নামাযকে দোহড়াতে হবে।

যদি দুই সালাম ফিরানোর পর সাহু সিজদা দেয়া হয়, 
এবং পরবর্তীতে পরে মনে পড়ে যে, তরক হয়নি তখন  ঐ নামাজকে আবার পড়তে হবে না। 


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী ইমদাদুল হক
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

by
reshown
আলহামদুলিল্লাহ বুঝতে পেরেছি, কিছু সংশয় রয়েছে,তা দূর করার জন্য বিস্তারিত জিজ্ঞেস করছি-
১. ফরজ নামাজে আরবীতে বা বাংলায় কোনো দোয়াই করা যাবেনা, এমনকি তা কুরআন হাদীসে বর্নিত দোয়া হলেও? নফল ও সুন্নাত সালাতে নামাজের সূরা তাসবীহ ব্যতিত অন্য দুয়া করা যাবে কুরআন হাদীসে পাওয়া বা কুরআন হাদীস বহির্ভূত? দুই সিজদার মাঝে ও দুয়া মাসুরার আগে যে দোয়া পড়ার জন্য হাদীসে বলা হয়েছে তা কি নফল ও সুন্নতের জন্য? বিতিরের দোয়ায় কুনুতেও কি অতিরিক্ত দোয়া করা যাবে না? রুকুতে হামদান কাছিরান তায়্যিবান মুবারাকান ফিহি - এটাও কি শুধু নফল নামাজে পড়ব?
২. নামাজে কান্না করার ব্যাপারে হরফের যে পরিমাণ বুঝানো হয়েছে তা সঠিকভাবে বুঝতে পারিনি, অনুগ্রহ করে বিস্তারিত বলবেন কি? নামাজের সূরা তাসবীহ কখনো একটু জোর দিয়ে সহীহ করে  পড়ার সময়ও অনিয়ন্ত্রিতভাবে ছোট করে আওয়াজ হয়ে যায় "আ" বা "ই" এরূপ স্বরের। একদম নিকটবর্তী না হলে শোনা যাবে না এত স্বল্প আওয়াজ।  সেক্ষেত্রেও কি একই বিধান হবে? 
৩. আমাদের পরিবারে সাধারণত শাফেয়ী মাজহাব অনুসরণ করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে যেসব প্রশ্ন আমার মনে আসে বা বিভিন্ন ফিকহি সমস্যার সম্মুখীন হই সেগুলো  ifatwa থেকে জেনে নিই। এমতাবস্থায় আমার তো দুই রকম মাজহাব মানা হচ্ছে, আমার করনীয় কি? শাফেয়ী মাজহাব অনুযোয়ী মাসআলা জানতে পারব এমন কোনো বই বা ওয়েবসাইট থাকলে সাজেস্ট করবেন মিন ফাদ্বলিক।

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...