আইফতোয়াতে ওয়াসওয়াসা সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে না। ওয়াসওয়াসায় আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা ও করণীয় সম্পর্কে জানতে এখানে ক্লিক করুন

0 votes
46 views
in বিবিধ মাস’আলা (Miscellaneous Fiqh) by (1 point)
আসসালামু আলাইকুম ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারকাতুহু।
 আমি প্রথম রমজানের আগের রাতে অনেক বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ি, সারা শরীর মনে হচ্ছিল অন্য কেউ নিয়ন্ত্রণ করছে, এবং মাথা অসম্ভব ঘুরাচ্ছিল, ভেবেছিলাম আর বাঁচবো না, সবার কাছে মাফ চাইছিলাম আর আবোলতাবোল কথা বলছিলাম।  আমিই নাকি বলছিলাম আমাকে কবিরাজ এর কাছে নিয়ে যেতে, আমার কিছু মনে নেই। রাত ২:৩০ টার দিকে আমাকে সেখানে নিলে কবিরাজ ঝাঁড়ফুক করেন এবং ঔষধ খাওয়ান, সেখানেই আমার অনেক বমি হয়, তারপর আর কি যেন করে, বাড়িতে এনে গোসল করিয়ে আমাকে ঘুম পাড়িয়ে দেয়া হয়, পরেরদিন অভিভাবককে যেতে বলে, যাওয়ার পর জানায় আমাকে আরো অনেক আগেই কেউ কিছু খাইয়েছে নষ্ট করার জন্য, সেটা সারা শরীরে ছড়িয়ে গেছে, এর প্রভাবে হয়তো পাগল হয়ে যেতাম নয়তো স্ট্রোক হয়ে প্যারালাইজড হয়ে যেতাম। আমার আসলেই গত কয়েকবছর ধরে মাথায় যন্ত্রনা হতো, ডাক্তার বলেছিলো মাইগ্রেন।  এখন কবিরাজ কিছু ঔষধ এর পাশাপাশি কতগুলো তাবিজ দিয়েছে, দুইটা শরীরে, একটা ঘুমানোর বালিশে, একটা কলাগাছে, একটা বাড়ির দক্ষিনের গাছে, আর একটা মাটির পাতিলে দিয়ে পানিতে দিতে বলেছে। কথা মতো সবগুলো দেয়া হয়েছে, আমার শরীরে তাবিজ দেয়ার সময় আমি বাঁধা দেইনি, পরে মন না মানায় শরীরের তাবিজ আমি খুলে ফেলছি, বালিশেরটা আমি খুঁজে পাচ্ছিনা। শরীরের এবং বালিশেরটা পেলেও বাকিগুলো না পাওয়া গেলে সেক্ষেত্রে কি করবো?

এখন আমি কিভাবে এই অসুস্থতা থেকে রক্ষা পেতে পারি? আর তাবিজগুলো আমি কি করবো? এগুলো কি ফেলে দিবো? নাকি মাটিতে পুঁতে দিবো?

1 Answer

0 votes
by (70,170 points)

ওয়া আলাইকুমুস-সালাম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু

বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম

জবাব,

https://ifatwa.info/2218/ নং ফাতওয়াতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তাবিজে কুরআনের আয়াত, আল্লাহর নাম, দুআয়ে মাসুরা বা শিরকমুক্ত অর্থবোধক থাকলে তা  জায়িজ।  কেননা এসব তাবিজের ক্ষেত্রে মুয়াসসার বিজজাত তথা আরোগ্যের ক্ষমতা আল্লাহ তাআলাকেই মনে করা হয়।

হাদীস শরীফে এসেছেঃ-

عَنْ عَمْرِو بْنِ شُعَيْبٍ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ جَدِّهِ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ يُعَلِّمُهُمْ مِنَ الْفَزَعِ كَلِمَاتٍ: «أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّةِ، مِنْ غَضَبِهِ وَشَرِّ عِبَادِهِ، وَمِنْ هَمَزَاتِ الشَّيَاطِينِ وَأَنْ يَحْضُرُونِ» وَكَانَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ يُعَلِّمُهُنَّ مَنْ عَقَلَ مِنْ بَنِيهِ، وَمَنْ لَمْ يَعْقِلْ كَتَبَهُ فَأَعْلَقَهُ عَلَيْهِ

আমর ইবনে শুআইব তাঁর পিতা ও তিনি তাঁর দাদা থেকে বর্ণনা করেন যে,রাসূল (সঃ) ইরশাদ করেন,তোমাদের কেউ যখন ঘুম অবস্থায় ঘাবড়িয়ে উঠে, সে যেন

  أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّةِ، مِنْ غَضَبِهِ وَشَرِّ عِبَادِهِ، وَمِنْ هَمَزَاتِ الشَّيَاطِينِ وَأَنْ يَحْضُرُونِ

দো’আটি পাঠ করে। আব্দুল্লাহ ইবনে আমর তাঁর উপযুক্ত সন্তানদের তা শিক্ষা দিতেন এবং ছোটদের গলায় তা লিখে লটকিয়ে দিতেন।{সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং-৩৮৯৫}

এ হাদীস স্পষ্টভাষায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, আব্দুল্লাহ বিন আমর বিন আস রাঃ তাঁর অবুঝ সন্তানদের জন্য তাবীজ লিখে তা লটকিয়ে দিতেন।

حَدَّثَنِي أَبُو الطَّاهِرِ، أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي مُعَاوِيَةُ بْنُ صَالِحٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، بْنِ جُبَيْرٍ عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَوْفِ بْنِ مَالِكٍ الأَشْجَعِيِّ، قَالَ كُنَّا نَرْقِي فِي الْجَاهِلِيَّةِ فَقُلْنَا يَا رَسُولَ اللَّهِ كَيْفَ تَرَى فِي ذَلِكَ فَقَالَ " اعْرِضُوا عَلَىَّ رُقَاكُمْ لاَ بَأْسَ بِالرُّقَى مَا لَمْ يَكُنْ فِيهِ شِرْكٌ " .

আবূ তাহির (রহঃ) ..... আওফ ইবনু মালিক আশজা'ঈ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা জাহিলী (মূর্খতার) যুগে (বিভিন্ন) মন্ত্র দিয়ে ঝাড়ফুঁক করতাম। এজন্যে আমরা রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর নিকট আবেদন করলাম- হে আল্লাহর রসূল! এক্ষেত্রে আপনার মতামত কি? তিনি বললেন, তোমাদের মন্ত্রগুলো আমার নিকট উপস্থাপন করো, ঝাড়ফুঁকে কোন দোষ নেই- যদি তাতে কোন শিরক (জাতীয় কথা) না থাকে। (মুসলিম ৫৬২৫ ইসলামিক ফাউন্ডেশন ৫৫৪৪, ইসলামিক সেন্টার ৫৫৬৯)

আল্লামা ইবনে আবেদীন শামী রহঃ উল্লেখ করেন-

إنما تكره العوذة إذا كانت بغير لسان العرب ، ولا يدرى ما هو ولعله يدخله سحر أو كفر أو غير ذلك ، وأما ما كان من القرآن أو شيء من الدعوات فلا بأس به

নিশ্চয় নিষিদ্ধ তাবীজ হল যা আরবী ছাড়া অন্য ভাষায় লিখা হয়, বুঝা যায় না তাতে কি আছে? অথবা যাতে জাদু, কুফরী ইত্যাদি কথা থাকে। আর যেসব তাবীজে কুরআন বা দুআ সম্বলিত হয় তা ব্যবহারে কোন সমস্যা নেই। {ফাতওয়ায়ে শামী- এইচ এম সায়ীদ ৬/৩৬৩}

শরীয়তের বিধান অনুযায়ী সাবালক আর নাবালেগ, উভয়ের ক্ষেত্রে তাবিজ বাধার হুকুম একই।

বিজ্ঞ উলামায়ে কেরামগন বলেছেন যে শরীয়তের বিধান অনুযায়ী কয়েক প্রকার তাবিজ জায়েজ নয়। কুরআন হাদীস দ্বারা ঝাড়ফুক দেয়া ছাড়া শুধু তামা, পিতল বা লোহা দ্বারা তাবিজ বানিয়ে লটকিয়ে রাখা। অর্থাৎ শুধু এগুলো লটকানো দ্বারাই রোগমুক্ত হওয়া যাবে বিশ্বাস করে তা লটকানো নাজায়িজ।

এমন তাবিজ যাতে আল্লাহর নাম, কুরআনের আয়াত, দুআয়ে মাসূরা ব্যতিত শিরকী কথা লিপিবদ্ধ থাকে। তাবীজকে মুয়াসসার বিজজাত তথা তাবীজ নিজেই আরোগ্য করার ক্ষমতার অধিকারী মনে করে তাবিজ লটকানো। এ বিশ্বাস জাহেলী যুগে ছিল, বর্তমানেও ইসলাম সম্পর্কে কিছু অজ্ঞ ব্যক্তিরা তা মনে করে থাকে।

যে কালামের অর্থ জানা যায় না এমন শব্দ দ্বারা তাবিজ লেখা। আরবী ছাড়া অন্য কোন ভাষায় তাবিজ লেখা। এ সকল সুরতে সর্বসম্মত মতানুসারে নাজায়িজ ও হারাম এবং শিরক। এতে কোন সন্দেহ নেই। (কিছু অংশ সংগৃহীত)

তাবিজ গলা,বাহুতে,,,ইত্যাদি স্থানে লটকানো যাবে।

 তবে কুরআনের আয়াত, আল্লাহর নাম সম্বলিত তাবিজ   এমন জায়গায় লটকানো যাবেনা,যেখানে লটকানোর দ্বারা কুরআন বা আল্লাহর নামের মর্যাদা হানী হয়।

★★★আহলে হাদিসের উলামায়ে কেরাম এবং আরো কিছু উলামায়ে কেরামগন তাবীজ কবচকে পুরোপুরি ভাবে না জায়িজ বলেন।

তারা যেসব হাদীস দলিল হিসেবে উপস্থাপন করে থাকেন,সেসব হাদীসের মাঝে একটি হাদীস হল-

إن الرقى والتمائم والتولة شرك

অবশ্যই ঝাড়ফুঁক, তাবীজ ও জাদু শিরক। {সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং-৩৮৮৬}

সুতরাং তাদের অনুসারীদের এই মতের উপর আমল করাও ছহীহ আছে। তবে আপনি কোন একজন রুক্বইয়্যাহ শরইয়্যাহ স্পেশালিস্টের পরামর্শ নিতে পারেন। 


(আল্লাহ-ই ভালো জানেন)

--------------------------------
মুফতী মুজিবুর রহমান
ইফতা বিভাগ
Islamic Online Madrasah(IOM)

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন। উত্তর না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনি প্রতিমাসে সর্বোচ্চ ৪ টি প্রশ্ন করতে পারবেন। এই প্রশ্ন ও উত্তরগুলো আমাদের ফেসবুকেও শেয়ার করা হবে। তাই প্রশ্ন করার সময় সুন্দর ও সাবলীল ভাষা ব্যবহার করুন।

বি.দ্র: প্রশ্ন করা ও ইলম অর্জনের সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হলো সরাসরি মুফতি সাহেবের কাছে গিয়ে প্রশ্ন করা যেখানে প্রশ্নকারীর প্রশ্ন বিস্তারিত জানার ও বোঝার সুযোগ থাকে। যাদের এই ধরণের সুযোগ কম তাদের জন্য এই সাইট। প্রশ্নকারীর প্রশ্নের অস্পষ্টতার কারনে ও কিছু বিষয়ে কোরআন ও হাদীসের একাধিক বর্ণনার কারনে অনেক সময় কিছু উত্তরে ভিন্নতা আসতে পারে। তাই কোনো বড় সিদ্ধান্ত এই সাইটের উপর ভিত্তি করে না নিয়ে বরং সরাসরি স্থানীয় মুফতি সাহেবদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

Related questions

...