0 votes
20 views
in Family Life,Marriage & Divorce by (34 points)

بِسْمِ الّٰلهِ الرَّحْمٰنِ الرَحِيْمِ

আসসালামুয়ালিকুম মুহতারাম,

আজ আমি এমন একটা সমস্যার কথা জানাবো ওস্তাদ, যা আমি কোনদিন আশা করিনি। হয়তো আল্লাহ তায়ালার পরীক্ষা। গত ১ বছর যাবত আমার পরিবারের সদস্য/ মুরুব্বী , উনারা আমার জন্য পাত্রী খুঁজছেন। এর মধ্যে কয়েকজন প্রত্যাখ্যান করেছেন দাড়ি আছে শুনে। 

CASE:01

আর দাড়িওয়ালা জেনেও পাত্রিপক্ষ পাত্রিকে দেখার জন্য আমাদের জানান। কিন্তু, পাত্রী দেখার পর তারাও প্রত্যাখ্যান করেছেন দাড়ি আছে তাই। মেয়ের মা অন্যদের কাছে আমার দাড়ি নিয়ে সমালোচনা করেছেন।

CASE:02

আর দাড়িওয়ালা জেনেও আরেক পাত্রিপক্ষ পাত্রিকে দেখার জন্য আমাদের জানান। কিন্তু, পাত্রী দেখার পর তারাও প্রত্যাখ্যান করেছেন, নানান ওজুহাত দেখিয়ে। আমি ও বুঝলাম, দাড়িতে সমস্যা।

(উল্লেখ্য, ওই পরিবারগুলোর বাবারা রাজি ছিল, কিন্তু মেয়েদের মা, এবং মেয়েদের অমত ছিল, যা আমি পরে জানতে পারি)

 ওস্তাদ, কোরআন হাদিসের কথা এখন শুধু মুখে মুখে। কিন্তু বাস্তবায়নের কথা বলে দেখেন অধিকাংশ মুসল্লি খুঁজে পাবেন না। ধার্মিক ছেলে খুঁজে, অথচ মুখে দাড়ি মেনে নিতে পারে না। মেয়ের বাবা মাশাআল্লাহ মসজিদে ৫ ওয়াক্ত, মেয়ের মা তালিম করেন, তারপরও কেন জানি ছেলের মুখে দাড়ি দেখে আমতা আমতা করে। আবার মেয়ের নানীজান যার কিনা বেলা ডুবে গেছে সেই নানী বলেন, সবই ঠিক আছে দাড়ি না থাকলে ভাল হত। আবার অনেকে বলেন, দাড়ি ছোট করতে। মেয়েরা দাড়ি পছন্দ করেনা। অথচ দেখেন, বিয়ে নিয়ে রাসূল (স:) কত হাদিস আছে, দাড়ি রাখার কত ফজিলত বর্ণিত হয়েছে। সব কিছুতেই পাশ করি কিন্তু দাড়ির কারণে ফেল ওস্তাদ, হতাশা নিয়ে বলছি, আগে ভাবতাম বিয়ে অনেক সহজ, কিন্তু না। বড়ই কঠিন। কঠিন বাস্তবতা হল, কোরআন হাদিসের কথা অধিকাংশ মানুষ মেনে চলে না। তাহলে বিয়ে সহজ হবে কিভাবে?

আমার কিছু প্রশ্নঃ
১. আমার পরিবারের মুরুব্বিরা বলছেন, দাড়ি কিছুটা ছোট করতে, বিয়ের পর আবার বড় করতে। কিন্তু আমি বলে দিয়েছি, "আমার যদি দাড়ির কারণে বিয়ে নাও হয়, তবুও আমি দাড়িতে হাত দিব না। তারপর জানতে চাই, আমি যদি দাড়ি ছোট করি আমার কি গুনাহ হবে?

২. বিয়ের ব্যাপারে আমার আগ্রহ হারিয়ে যাচ্ছে। আল্লাহ যদি আমার ভাগ্যে বিয়ে না রাখেন, আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আমি আমার পুরো যৌবনকাল নফল রোজা রাখবো। এতে আমার কোন শারীরিক ক্ষতি হবে কিনা। 

৩. রোজা রাখা আর না রাখার সময় / দিন গুলো কোনগুলো?

৪. বিয়ে বহির্ভূত জেনা ব্যাভিচার থেকে বাচার দুয়া বা উপায় কি (বিয়ে ব্যতিত)?

আমি আল্লাহর এক নগণ্য বান্দা ও IOM এর ছাত্র। দোয়া করবেন আমার জন্য।

জাজাকুমুল্লাহ

1 Answer

0 votes
by (22.8k points)

বিসমিহি তা'আলা

জবাবঃ-

(১)

রাখি রাখা সুন্নাতে ওয়াজিব।দেখুন- 1093515 । সুতরাং কারো কথায় বা নির্দেশে দাড়িকে ছোট করতে পারবেন না।শরীয়ত বিরোধী কাজে কারো পরামর্শ বা নির্দেশের কোনো তোয়াক্কা করা যাবে না।দেখুন-১৮

বিয়ে হবে না কেন? দ্বীনদ্বার পাত্রী হলে এমনটা বলার কথা না।আপনি দ্বীনদ্বার পাত্রী খুজুন।এক্ষেত্রে মহিলা মাদরাসার ছাত্রী বা আলেম ফ্যামিলির পাত্রী খুজতে পারেন।

(২)

বিয়ে রাসূলুল্লাহ সাঃ এর সুন্নাত।নফল রোযা এবং ইবাদত করার চেয়েও বিয়ে করা অনেক অনেক উত্তম।রাসূলুল্লাহ সাঃ উম্মতকে বিয়ে করার প্রতি অনেক উৎসাহ দিয়েছেন।

(৩)

নফল রোযা যেকোনো সময় রাখা যায়।দুই ঈদ এবং তাশরীকের তিন দিন ব্যতীত যেকোনো সময় নফল রোযা রাখা যায়।

(৪)

বিয়ে ব্যতীত যিনা ব্যভিচার থেকে বাঁচার মাধ্যম হলো,রোযা। তবে সামর্থ্যবানদের উপর বিয়ে করা অবস্থাভেদে ফরয বা ওয়াজিব কিংবা সুন্নাত।সুতরাং বিকল্প চিন্তা না করে বিয়ে করাই উচিৎ ও উত্তম।

আল্লাহ-ই ভালো জানেন।

পরামর্শ  প্রদাণে

মুফতী ইমদাদুল হক

ইফতা বিভাগ, Iom.

পরিচালক

ইসলামিক রিচার্স কাউন্সিল বাংলাদেশ

আই ফতোয়া  ওয়েবসাইট বাংলাদেশের অন্যতম একটি নির্ভরযোগ্য ফতোয়া বিষয়ক সাইট। যেটি IOM এর ইফতা বিভাগ দ্বারা পরিচালিত।  যেকোন প্রশ্ন করার আগে আপনার প্রশ্নটি সার্চ বক্সে লিখে সার্চ করে দেখুন উত্তর পাওয়া যায় কিনা। না পেলে প্রশ্ন করতে পারেন। আপনার দ্বীন সম্পর্কীয় প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য রয়েছে আমাদের  অভিজ্ঞ ওলামায়কেরাম ও মুফতি সাহেবগনের একটা টিম যারা ইনশাআল্লাহ প্রশ্ন করার ২৪-৪৮ ঘন্টার সময়ের মধ্যেই প্রশ্নের উত্তর দিয়ে থাকেন।

506 questions

501 answers

70 comments

331 users

13 Online Users
0 Member 13 Guest
Today Visits : 4720
Yesterday Visits : 5518
Total Visits : 930444

Related questions

...